
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০২
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, জাতীয় সরকার গঠন হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গলাচিপা হাই স্কুল মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ দিনের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দশমিনা ও গলাচিপাকে আর পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। এই জনপদকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বহুদিন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনে যদি ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে আগামী ১২ তারিখ ট্রাক মার্কায় ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের হাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যৎ শুধু দুর্ভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং তরুণদের চাকরি-বাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
ভিপি নুর আরও বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দশমিনা ও গলাচিপাকে একটি পরিকল্পিত ও উন্নত জনপদে রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
জনসভায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নূরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, জাতীয় সরকার গঠন হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গলাচিপা হাই স্কুল মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ দিনের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দশমিনা ও গলাচিপাকে আর পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। এই জনপদকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বহুদিন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনে যদি ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে আগামী ১২ তারিখ ট্রাক মার্কায় ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের হাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যৎ শুধু দুর্ভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং তরুণদের চাকরি-বাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
ভিপি নুর আরও বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দশমিনা ও গলাচিপাকে একটি পরিকল্পিত ও উন্নত জনপদে রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
জনসভায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নূরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:১৬
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দশমিনা উপজেলার অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল গভীর রাতে দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়। এতে অফিসের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, “গতকাল মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪২

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৫
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
জামায়াতের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সড়কের পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেয়। অনেক নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে সড়কে বসে পড়ে।
কয়েকদিন আগে বাউফল উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে জামায়াত বাউফল থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছিল।
পরে রোববার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনি মিছিলে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে বিপুল সংখ্যক জামায়াতের কর্মী-সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে ওসির অপসারণ দাবি করে।
খবর পেয়ে বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে তারা তা মানেনি।
এ সময় দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। একপর্যায়ে ওসির অপসারণের বিষয়ে আশ্বাস পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দশমিনা উপজেলার অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল গভীর রাতে দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়। এতে অফিসের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, “গতকাল মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লিমা জাহান (২৫) নামের অন্তঃসত্ত্বা একজনকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। বাউফল পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। পরে তারা ওই কলেজের মূল ফটকের সামনে সমাবেশ করেন।
এর আগে রোববার বেলা দেড়টার দিকে আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ এলাকায় পৌঁছালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (৩০) নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে লিমাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী লিমা জাহান জামায়াতের রোকন ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী।
এদিকে সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারীদের ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা দেশের শত্রু। বিএনপি একদিকে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে নারীর ওপর হামলা করছে। এটা নারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মীসমর্থকেরা গত রোববার সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরছিলেন। বেলা ১টার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের দুজন নেতার নেতৃত্বে মিছিলে হামলা হয়। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লিমা জাহানের স্বামী জামায়াত নেতা আমিনুলও ছিলেন।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে একটি মোটরসাইকেলে লিমা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ এলাকায় পৌঁছালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (৩০) নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লিমাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করেন। ওই সময় মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিমাকে উদ্ধার করে ট্রলারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
তবে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তিনি (লিমা) আহত হয়েছেন। তিনি কোনো হামলা কিংবা লাথি মেরে আহত করেননি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বেল্লাল ব্যাপারী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিএনপির কোনো নেতাকর্মীও এর সঙ্গে জড়িত না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, যেহেতু তিনি (লিমা) অন্তঃসত্ত্বা, তাই অধিকতর গুরুত্ব সহকারে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় লিমা জাহান সোমবার দুপুরে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবশ্যই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বরিশাল টাইমস
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লিমা জাহান (২৫) নামের অন্তঃসত্ত্বা একজনকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। বাউফল পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। পরে তারা ওই কলেজের মূল ফটকের সামনে সমাবেশ করেন।
এর আগে রোববার বেলা দেড়টার দিকে আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ এলাকায় পৌঁছালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (৩০) নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে লিমাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী লিমা জাহান জামায়াতের রোকন ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী।
এদিকে সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারীদের ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা দেশের শত্রু। বিএনপি একদিকে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে নারীর ওপর হামলা করছে। এটা নারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের কর্মীসমর্থকেরা গত রোববার সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরছিলেন। বেলা ১টার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের দুজন নেতার নেতৃত্বে মিছিলে হামলা হয়। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লিমা জাহানের স্বামী জামায়াত নেতা আমিনুলও ছিলেন।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে একটি মোটরসাইকেলে লিমা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে আ স ম ফিরোজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ এলাকায় পৌঁছালে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (৩০) নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লিমাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করেন। ওই সময় মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিমাকে উদ্ধার করে ট্রলারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
তবে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তিনি (লিমা) আহত হয়েছেন। তিনি কোনো হামলা কিংবা লাথি মেরে আহত করেননি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বেল্লাল ব্যাপারী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিএনপির কোনো নেতাকর্মীও এর সঙ্গে জড়িত না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, যেহেতু তিনি (লিমা) অন্তঃসত্ত্বা, তাই অধিকতর গুরুত্ব সহকারে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় লিমা জাহান সোমবার দুপুরে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবশ্যই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বরিশাল টাইমস
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
জামায়াতের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সড়কের পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেয়। অনেক নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে সড়কে বসে পড়ে।
কয়েকদিন আগে বাউফল উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে জামায়াত বাউফল থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছিল।
পরে রোববার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনি মিছিলে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে বিপুল সংখ্যক জামায়াতের কর্মী-সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে ওসির অপসারণ দাবি করে।
খবর পেয়ে বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে তারা তা মানেনি।
এ সময় দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। একপর্যায়ে ওসির অপসারণের বিষয়ে আশ্বাস পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০৬
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০২
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৮