সাধারণ পরিবারের সন্তান মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান অপু ওরফে অপু চাকলাদার অবৈধ পন্থায় হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগের বহু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় দুর্নীতি, প্রতারণা ও অর্থ পাচার করে তিনি অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তিনি এবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা করেছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, প্রতারণাসহ আরো ২৭টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। তবে এখানেই শেষ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ভয়াবহ জালিয়াতি ও শুল্ক ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’-এ প্রবেশ করে তিন হাজার ৬৬১টি চালান অবৈধভাবে খালাস করা হয়। এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড।
আর এই জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে অনুসন্ধানে নাম আসে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অপুর মালিকানাধীন ‘মেসার্স চাকলাদার সার্ভিস’-এর। এর বাইরে ‘এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বোতাম ও সেফটিপিন আমদানির নামে এলসি খুলে বেনসন ব্র্যান্ডের সিগারেট আমদানি করা হয়। এর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয় ‘এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’। বিতর্কিত এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক অপু ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমান দীপু।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চুরি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় খালাস ব্যবস্থায় বারবার ঢুকে সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে শত শত কনটেইনার অবৈধভাবে খালাস করেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্য খালাসের অনুমতিপত্র ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক দুই কর্মকর্তার ইউজার আইডি ব্যবহার করে দুই বছরে তিন হাজার ৭৭৭টি চালান অবৈধভাবে খালাসের তথ্য-প্রমাণ এনবিআরের হাতে রয়েছে। সূত্র জানায়, এই অপরাধ সংঘটনে একজন প্রভাবশালী শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকর্তা শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এবং ‘হাসিনার মাফিয়াতন্ত্রের’ সুবিধা নিয়েই অপু-দীপুরা যেমন রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তেমনি আওয়ামী মাফিয়াদের অর্থপাচার ও লুটের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
অপু চাকলাদার বিএনপির রাজনীতি এবং তাঁর ভাই মিজানুর রহমান দীপু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক দল ভিন্ন হলেও তাঁদের দুর্নীতির জোট ‘এক’। অভিযোগ আছে, তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ‘মাফিয়ারাজ্য’ গড়েছেন। জানা গেছে, শেখ পরিবারের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অপু ও দীপু বর্তমানে ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ও দামি গাড়ির মালিক। দেশে-বিদেশে রয়েছে বিপুল অর্থ ও বিনিয়োগ। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদকের অনুসন্ধানেও তাঁদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের বৃহত্তম আইনজীবী সংগঠন ঢাকা বারের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী অপু চাকলাদারের জামিন করাতে গিয়ে আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূরে আলমের আদালতে অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান দীপুর নেতৃত্বে একদল আইনজীবী অপু চাকলাদারের জামিন আবেদন করেন।
কিন্তু মামলার বিষয়বস্তু ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় জামিন নামঞ্জুর করেন বিচারক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই আইনজীবীরা এজলাসে হট্টগোল করেন। বিচারককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন এবং এজলাস ছাড়ার জন্য চাপ দেন।
বিচারকের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির ব্যানারে সপ্তাহজুড়ে আদালত বর্জন করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে সময় বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ ওই বিচারকের পক্ষে পাল্টা বিবৃতি দেয়।
জুলাই গণহত্যা মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমান দীপু চাকলাদার অসংখ্য মামলার আসামি। তিনি পলাতক আছেন। তাঁকেও গোপনে আশ্রয় দিচ্ছেন হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদার। অভিযোগ আছে, অপু ও দীপু মিলে রাষ্ট্রের অর্থ লুট ও পাচারের সমন্বিত চক্র গড়ে তুলেছেন, যারা প্রভাব বিস্তার করে দেশের রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার একাধিক স্তরে। লৌহজং উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপু চাকলাদারের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি শেখ পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে মেগাদুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লৌহজং উপজেলা বিএনপির ওই নেতারা আরো বলেন, এ রকম আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ একজন দুর্নীতিবাজ লোক উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। নতুন প্রজন্ম দুর্নীতিমুক্ত ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব দেখতে চায়। অপু চাকলাদারের মতো ব্যক্তিদের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কোনো ইতিবাচক কমিটমেন্ট নেই। এদিকে বারবার যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত অপুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?

৩০ জুলাই, ২০২৫ ১২:১৭
সাধারণ পরিবারের সন্তান মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান অপু ওরফে অপু চাকলাদার অবৈধ পন্থায় হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগের বহু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় দুর্নীতি, প্রতারণা ও অর্থ পাচার করে তিনি অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তিনি এবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা করেছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, প্রতারণাসহ আরো ২৭টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। তবে এখানেই শেষ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ভয়াবহ জালিয়াতি ও শুল্ক ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’-এ প্রবেশ করে তিন হাজার ৬৬১টি চালান অবৈধভাবে খালাস করা হয়। এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড।
আর এই জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে অনুসন্ধানে নাম আসে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অপুর মালিকানাধীন ‘মেসার্স চাকলাদার সার্ভিস’-এর। এর বাইরে ‘এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বোতাম ও সেফটিপিন আমদানির নামে এলসি খুলে বেনসন ব্র্যান্ডের সিগারেট আমদানি করা হয়। এর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয় ‘এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’। বিতর্কিত এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক অপু ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমান দীপু।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চুরি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় খালাস ব্যবস্থায় বারবার ঢুকে সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে শত শত কনটেইনার অবৈধভাবে খালাস করেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্য খালাসের অনুমতিপত্র ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক দুই কর্মকর্তার ইউজার আইডি ব্যবহার করে দুই বছরে তিন হাজার ৭৭৭টি চালান অবৈধভাবে খালাসের তথ্য-প্রমাণ এনবিআরের হাতে রয়েছে। সূত্র জানায়, এই অপরাধ সংঘটনে একজন প্রভাবশালী শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকর্তা শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এবং ‘হাসিনার মাফিয়াতন্ত্রের’ সুবিধা নিয়েই অপু-দীপুরা যেমন রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তেমনি আওয়ামী মাফিয়াদের অর্থপাচার ও লুটের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
অপু চাকলাদার বিএনপির রাজনীতি এবং তাঁর ভাই মিজানুর রহমান দীপু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক দল ভিন্ন হলেও তাঁদের দুর্নীতির জোট ‘এক’। অভিযোগ আছে, তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ‘মাফিয়ারাজ্য’ গড়েছেন। জানা গেছে, শেখ পরিবারের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অপু ও দীপু বর্তমানে ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ও দামি গাড়ির মালিক। দেশে-বিদেশে রয়েছে বিপুল অর্থ ও বিনিয়োগ। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদকের অনুসন্ধানেও তাঁদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের বৃহত্তম আইনজীবী সংগঠন ঢাকা বারের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী অপু চাকলাদারের জামিন করাতে গিয়ে আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূরে আলমের আদালতে অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান দীপুর নেতৃত্বে একদল আইনজীবী অপু চাকলাদারের জামিন আবেদন করেন।
কিন্তু মামলার বিষয়বস্তু ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় জামিন নামঞ্জুর করেন বিচারক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই আইনজীবীরা এজলাসে হট্টগোল করেন। বিচারককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন এবং এজলাস ছাড়ার জন্য চাপ দেন।
বিচারকের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির ব্যানারে সপ্তাহজুড়ে আদালত বর্জন করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে সময় বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ ওই বিচারকের পক্ষে পাল্টা বিবৃতি দেয়।
জুলাই গণহত্যা মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমান দীপু চাকলাদার অসংখ্য মামলার আসামি। তিনি পলাতক আছেন। তাঁকেও গোপনে আশ্রয় দিচ্ছেন হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদার। অভিযোগ আছে, অপু ও দীপু মিলে রাষ্ট্রের অর্থ লুট ও পাচারের সমন্বিত চক্র গড়ে তুলেছেন, যারা প্রভাব বিস্তার করে দেশের রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার একাধিক স্তরে। লৌহজং উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপু চাকলাদারের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি শেখ পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে মেগাদুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লৌহজং উপজেলা বিএনপির ওই নেতারা আরো বলেন, এ রকম আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ একজন দুর্নীতিবাজ লোক উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। নতুন প্রজন্ম দুর্নীতিমুক্ত ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব দেখতে চায়। অপু চাকলাদারের মতো ব্যক্তিদের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কোনো ইতিবাচক কমিটমেন্ট নেই। এদিকে বারবার যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত অপুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩০
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১