রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’