রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭
বরিশালে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্বঃ প্রত্যাশা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত বিডিএস মিলনায়তনে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বরিশাল জেলার বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক।
বেলা ১১টায় সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক ফারহানা তিথি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী উইং-মহিলা শাখার মহানগর সেক্রেটারি তানিয়া রশিদ নিপু এবং গণঅধিকার পরিষদ মহানগর কমিটির প্রচার সম্পাদক মাহফুজ নুসরাত মুনা।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের বরিশাল জেলা সম্পাদক সাধনা রাণী ব্যাপারী।
গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্লাস্ট বরিশাল ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহিদা তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, ডেইলি স্টারের বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, সুজনের বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম, ঝালকাঠি জেলা সম্পাদক সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির, বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন সভাপতি সেলিম রেজা, সুজন সম্পাদক ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার লিপি, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী হাদিউজ্জামান সুজন, ইয়ুথ লিডার শুভ চৌধুরী, মালিহা আক্তার প্রমুখ। দিনব্যাপী প্রাণবন্ত ওই গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, এনজিও, তরুণ প্রতিনিধি ছাড়াও বরিশাল এবং ঝালকাঠি জেলার বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচটি কাঠামোতে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে নির্বাচন হয়। কিন্তু তাতে নারীর অংশগ্রহণের চিত্র হতাশাজনক। ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য ৩টি সংরক্ষিত সদস্যপদ এবং উপজেলা পরিষদে একটি নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদ সংরক্ষিত রাখা হলেও চেয়ারম্যান পদে নারীরা আসছে না। আসলেও তারা টাকা এবং পেশিশক্তির কাছে অসহায় হয়ে নির্বাচিত হতে পারছে না। ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত নারীরা ন্যায্য বরাদ্দ এবং প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ইশতেহার দেওয়া হলেও দলীয় কমিটিতে তারা নারীদের রাখছে না। দলের জেলা উপজেলা বা মহানগরের মূল কমিটিতে শুধু নারী সম্পাদকের একটি পদ ছাড়া আর কোনো পদেই তারা নারীদের জায়গা দিচ্ছে না।'
বক্তারা আরো বলেন, 'সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষাসহ বিগত বছরগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের ফলাফল অনেক ভালো। সব ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বাড়ছে। পড়াশোনা, চাকুরি এবং ব্যবসাক্ষেত্রে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। কেবল রাজনীতিতে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে পিছিয়ে থাকবে কেন নারীরা? সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হলেও তাদের দেওয়া হয় না প্রাপ্য সম্মান কিংবা বাজেট বরাদ্দ। নারীদের পেশিশক্তি এবং টাকার ক্ষমতা কম থাকায় তারা রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে। দলীয় কোনো পদ-পদবি পাচ্ছে না। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারছে না। রাজনীতিতে নারীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা প্রয়োজন। নাহলে কখনোই দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।'
বরিশালে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্বঃ প্রত্যাশা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত বিডিএস মিলনায়তনে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বরিশাল জেলার বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক।
বেলা ১১টায় সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক ফারহানা তিথি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী উইং-মহিলা শাখার মহানগর সেক্রেটারি তানিয়া রশিদ নিপু এবং গণঅধিকার পরিষদ মহানগর কমিটির প্রচার সম্পাদক মাহফুজ নুসরাত মুনা।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের বরিশাল জেলা সম্পাদক সাধনা রাণী ব্যাপারী।
গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্লাস্ট বরিশাল ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহিদা তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, ডেইলি স্টারের বরিশাল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, সুজনের বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম, ঝালকাঠি জেলা সম্পাদক সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির, বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন সভাপতি সেলিম রেজা, সুজন সম্পাদক ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার লিপি, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী হাদিউজ্জামান সুজন, ইয়ুথ লিডার শুভ চৌধুরী, মালিহা আক্তার প্রমুখ। দিনব্যাপী প্রাণবন্ত ওই গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, এনজিও, তরুণ প্রতিনিধি ছাড়াও বরিশাল এবং ঝালকাঠি জেলার বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচটি কাঠামোতে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে নির্বাচন হয়। কিন্তু তাতে নারীর অংশগ্রহণের চিত্র হতাশাজনক। ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য ৩টি সংরক্ষিত সদস্যপদ এবং উপজেলা পরিষদে একটি নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদ সংরক্ষিত রাখা হলেও চেয়ারম্যান পদে নারীরা আসছে না। আসলেও তারা টাকা এবং পেশিশক্তির কাছে অসহায় হয়ে নির্বাচিত হতে পারছে না। ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত নারীরা ন্যায্য বরাদ্দ এবং প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ইশতেহার দেওয়া হলেও দলীয় কমিটিতে তারা নারীদের রাখছে না। দলের জেলা উপজেলা বা মহানগরের মূল কমিটিতে শুধু নারী সম্পাদকের একটি পদ ছাড়া আর কোনো পদেই তারা নারীদের জায়গা দিচ্ছে না।'
বক্তারা আরো বলেন, 'সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষাসহ বিগত বছরগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের ফলাফল অনেক ভালো। সব ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বাড়ছে। পড়াশোনা, চাকুরি এবং ব্যবসাক্ষেত্রে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। কেবল রাজনীতিতে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে পিছিয়ে থাকবে কেন নারীরা? সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হলেও তাদের দেওয়া হয় না প্রাপ্য সম্মান কিংবা বাজেট বরাদ্দ। নারীদের পেশিশক্তি এবং টাকার ক্ষমতা কম থাকায় তারা রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে। দলীয় কোনো পদ-পদবি পাচ্ছে না। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারছে না। রাজনীতিতে নারীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা প্রয়োজন। নাহলে কখনোই দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।'

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে প্রায় চার কিলোমিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত সড়কের কুমার বাড়ি-জোরপোলসংলগ্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। পরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।
তবে সংস্কারের পর তিন মাস না পেরোতেই কুমার বাড়ি-জোরপোল সংলগ্ন এলাকায় সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় কাজের মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন ভেঙে পড়বে? সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের পাশাপাশি সংস্কারকাজের মান যাচাই করা হোক। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
এদিকে, সংস্কারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে সড়কের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা— দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো সড়কের কাজ যেন অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি করবে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার রবীন্দ্র চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যায়। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।’
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে প্রায় চার কিলোমিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত সড়কের কুমার বাড়ি-জোরপোলসংলগ্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। পরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।
তবে সংস্কারের পর তিন মাস না পেরোতেই কুমার বাড়ি-জোরপোল সংলগ্ন এলাকায় সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় কাজের মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন ভেঙে পড়বে? সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের পাশাপাশি সংস্কারকাজের মান যাচাই করা হোক। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
এদিকে, সংস্কারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে সড়কের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা— দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো সড়কের কাজ যেন অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি করবে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার রবীন্দ্র চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যায়। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।’

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩০
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১