
১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:১৪
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালার বিরুদ্ধে টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সিমা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে ইউপি সদস্য টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে সিমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দুই বছরেও টিউবওয়েল না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানার পর ২০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ। এছাড়া সিমার প্রতিবন্ধী স্বামী মিরাজের ভাতার ১২ হাজার ৩০০ টাকাও ইউপি সদস্যের মোবাইল সিম নম্বর ব্যবহার করে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিমা বেগম বলেন, “টিউবওয়েল পাইনি, টাকা ফেরতও দেননি। স্বামীর ভাতার টাকাও দিচ্ছেন না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে ভাতার কার্ডের নামে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালা ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বরাদ্দ না পাওয়ায় টিউবওয়েল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টাকা ফেরত দিয়েছি। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাও যথাসময়ে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, “অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান সোহরাব বলেন, “পক্ষদ্বয়কে ডাকা হয়েছে। গ্রাম আদালতের নির্ধারিত তারিখে উভয়ের বক্তব্য শুনে অভিযোগের সুরাহার চেষ্টা করা হবে।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালার বিরুদ্ধে টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সিমা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে ইউপি সদস্য টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে সিমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দুই বছরেও টিউবওয়েল না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানার পর ২০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ। এছাড়া সিমার প্রতিবন্ধী স্বামী মিরাজের ভাতার ১২ হাজার ৩০০ টাকাও ইউপি সদস্যের মোবাইল সিম নম্বর ব্যবহার করে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিমা বেগম বলেন, “টিউবওয়েল পাইনি, টাকা ফেরতও দেননি। স্বামীর ভাতার টাকাও দিচ্ছেন না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে ভাতার কার্ডের নামে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালা ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বরাদ্দ না পাওয়ায় টিউবওয়েল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টাকা ফেরত দিয়েছি। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাও যথাসময়ে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, “অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান সোহরাব বলেন, “পক্ষদ্বয়কে ডাকা হয়েছে। গ্রাম আদালতের নির্ধারিত তারিখে উভয়ের বক্তব্য শুনে অভিযোগের সুরাহার চেষ্টা করা হবে।

০১ মে, ২০২৬ ০০:২৩

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৩
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ডিসট্রেসড চিলড্রেন এন্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই) ও রাইটস এন্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আরএসসি) যৌথ ভাবে এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে মোট ৬৮৪ জন অসহায় মানুষ চিকিৎসা সেবা নেন।
এর মধ্যে ৮৩ জন ছানি রোগী, ২৭ জন নেত্রনালী সমস্যায় আক্রান্ত এবং ৩১৯ জনকে চশমার জন্য শনাক্ত করে চশমা দেওয়া হয়েছে, এছাড়া ৩১৪ জনকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
ছানি আক্রান্ত রোগীদের আগামী ২মে বরিশালের ইস্পাহানী আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। ক্যাম্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে শাহান শাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজ ভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. এহসান হক বলেন, “ডিসিআই-আরএসসি চক্ষুক্যাম্পের উদ্দেশ্য হলো সুবিধা বঞ্চিতদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়ে তোলা।

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২৩
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারি বৃষ্টিতে মুগ ডালসহ বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার শতাধিক কৃষক চরম ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের পর টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার নিচু জমিগুলোতে পানি জমে যায়। ফলে মুগ ডালের ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে যায়।
পাশাপাশি মরিচ, আলু, চিনাবাদাম ও অন্যান্য রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মস্তফা, আমির হোসেন মৃধা ও সোহরাব মৃধা জানান, মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশায় মুগ ডালের আবাদ করেছিলেন। কিছু কৃষক আংশিক ফসল তুলতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেতেই ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। আকস্মিক দুর্যোগে তাদের সেই আশা ভেস্তে যেতে বসেছে। দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গাবতলী এলাকার কৃষক গাফফার হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন কোনো কৃষক নেই, যার অন্তত ৫০ হাজার টাকার মুগডাল নষ্ট হয়নি। গ্রামের সবাই এখন দিশেহারা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কৃষকরা নালা কেটে পানি নামানোর চেষ্টা করছেন। তবে স্লুইস গেট খোলা থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, একটি স্লুইস গেটের কপাট খোলা থাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
মুগ ডালের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হলেও সূর্যমুখী ক্ষেতেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পকেট কমিটি মানি না, মানবো না স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী।
তাদের আরও অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ শিকদার দাবি করেন, ছাত্রলীগের পদে থাকা শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজ খানকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি ও মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে দল চাইলে যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। এছাড়া অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বহিষ্কৃতও রয়েছেন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পকেট কমিটি মানি না, মানবো না স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী।
তাদের আরও অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ শিকদার দাবি করেন, ছাত্রলীগের পদে থাকা শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজ খানকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি ও মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে দল চাইলে যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। এছাড়া অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বহিষ্কৃতও রয়েছেন।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ডিসট্রেসড চিলড্রেন এন্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই) ও রাইটস এন্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আরএসসি) যৌথ ভাবে এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে মোট ৬৮৪ জন অসহায় মানুষ চিকিৎসা সেবা নেন।
এর মধ্যে ৮৩ জন ছানি রোগী, ২৭ জন নেত্রনালী সমস্যায় আক্রান্ত এবং ৩১৯ জনকে চশমার জন্য শনাক্ত করে চশমা দেওয়া হয়েছে, এছাড়া ৩১৪ জনকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
ছানি আক্রান্ত রোগীদের আগামী ২মে বরিশালের ইস্পাহানী আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। ক্যাম্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে শাহান শাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজ ভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. এহসান হক বলেন, “ডিসিআই-আরএসসি চক্ষুক্যাম্পের উদ্দেশ্য হলো সুবিধা বঞ্চিতদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়ে তোলা।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারি বৃষ্টিতে মুগ ডালসহ বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার শতাধিক কৃষক চরম ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের পর টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার নিচু জমিগুলোতে পানি জমে যায়। ফলে মুগ ডালের ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে যায়।
পাশাপাশি মরিচ, আলু, চিনাবাদাম ও অন্যান্য রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মস্তফা, আমির হোসেন মৃধা ও সোহরাব মৃধা জানান, মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশায় মুগ ডালের আবাদ করেছিলেন। কিছু কৃষক আংশিক ফসল তুলতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেতেই ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। আকস্মিক দুর্যোগে তাদের সেই আশা ভেস্তে যেতে বসেছে। দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গাবতলী এলাকার কৃষক গাফফার হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন কোনো কৃষক নেই, যার অন্তত ৫০ হাজার টাকার মুগডাল নষ্ট হয়নি। গ্রামের সবাই এখন দিশেহারা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কৃষকরা নালা কেটে পানি নামানোর চেষ্টা করছেন। তবে স্লুইস গেট খোলা থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, একটি স্লুইস গেটের কপাট খোলা থাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
মুগ ডালের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হলেও সূর্যমুখী ক্ষেতেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।