Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৬ জুন, ২০২৬ ১৬:৪৩
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সেই ডুপ্লেক্স বাড়ির কেয়ারটেকার রতন মিয়া মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দুই বছর ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অভাবে দিন কাটছে।
আদালত কর্তৃক বাড়িটি জব্দ থাকলেও ৬ মাস ধরে সরকার পক্ষের কোনো নিরাপত্তা কর্মী নেই। ভয়ে ছাড়তেও পারছেন না দায়িত্ব। এককালীন পারিশ্রমিক পাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রতন মিয়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার হরিরামপুর গ্রামের খাইরুল বাশারের ছেলে। তার পরিবার পার্শ্ববর্তী গুতিয়াব এলাকায় বসবাস করেন।
জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে কাজের সন্ধানে রূপগঞ্জে চলে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় চার বছর আগে এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি নির্মাণকাল থেকে এখানে কাজে যোগ দেন।
তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়।
২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়েছে।
এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। ২০২৪ সালে আদালত কর্তৃক বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পরে পুরোপুরি রাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাড়িটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে কিছুদিন কেয়ারটেকার রতনের সঙ্গে সরকারিভাবে বাড়িটি দেখভালের জন্য একজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়।
এভাবে কিছুদিন চললেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে রিসিভার কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে বিশাল আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটি সরকারি হেফাজতেই রয়েছে।
কেয়ারটেকার রতন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২২ সালের দিকে তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তার বেতন আটকে যায়। এরই মধ্যে ২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি আদালত ক্রোক করা করে।
এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। সেই থেকে কিছুদিন আমার সঙ্গে একজন সরকার পক্ষের নিরাপত্তা কর্মী ছিল।
কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি ভাবে নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি একাই এ বাড়িটি দেখভাল করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছরের বেশি হলো আমি বেতন পাই না। আমাদের তিনজনের সংসার। ছেলেটা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আমার স্ত্রী বাড়িতে কুটির শিল্পের কাজ করে। সেই আয় দিয়েই সংসার কোন মতো চলে।
পরিবার নিয়ে কষ্ট করে চললেও ভয়ে এ বাড়িটি ছাড়তে পারছি না। কারণ মালিকের সম্পদ নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর এই বাড়িতে দুদকের লোকজন এসেছেন, আমার ছবি ও আইডি কার্ড নিয়েছেন। আমি চলে গেলে এ বাড়িতে যদি কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয় সেই ভয় থেকে ছেড়ে যাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজ কে বলেন, ‘বাংলো বাড়িটিতে আদালত থেকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে এটি দেখাশোনা করছি। কোর্ট তো আর টাকা দেয়নি, কোর্ট বলেছে ম্যানেজমেন্ট করেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এখানে দেখাশোনা করছে। তাদের জন্য তো আমরা এক্সট্রা কোনো ফেসিলিটি কিংবা স্যালারি দিতে পারছি না। কোর্ট যেভাবে বলেছে সেভাবে কাজ করছি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সেই ডুপ্লেক্স বাড়ির কেয়ারটেকার রতন মিয়া মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দুই বছর ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অভাবে দিন কাটছে।
আদালত কর্তৃক বাড়িটি জব্দ থাকলেও ৬ মাস ধরে সরকার পক্ষের কোনো নিরাপত্তা কর্মী নেই। ভয়ে ছাড়তেও পারছেন না দায়িত্ব। এককালীন পারিশ্রমিক পাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রতন মিয়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার হরিরামপুর গ্রামের খাইরুল বাশারের ছেলে। তার পরিবার পার্শ্ববর্তী গুতিয়াব এলাকায় বসবাস করেন।
জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে কাজের সন্ধানে রূপগঞ্জে চলে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় চার বছর আগে এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি নির্মাণকাল থেকে এখানে কাজে যোগ দেন।
তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়।
২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়েছে।
এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। ২০২৪ সালে আদালত কর্তৃক বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পরে পুরোপুরি রাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাড়িটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে কিছুদিন কেয়ারটেকার রতনের সঙ্গে সরকারিভাবে বাড়িটি দেখভালের জন্য একজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়।
এভাবে কিছুদিন চললেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে রিসিভার কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে বিশাল আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটি সরকারি হেফাজতেই রয়েছে।
কেয়ারটেকার রতন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২২ সালের দিকে তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তার বেতন আটকে যায়। এরই মধ্যে ২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি আদালত ক্রোক করা করে।
এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। সেই থেকে কিছুদিন আমার সঙ্গে একজন সরকার পক্ষের নিরাপত্তা কর্মী ছিল।
কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি ভাবে নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি একাই এ বাড়িটি দেখভাল করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছরের বেশি হলো আমি বেতন পাই না। আমাদের তিনজনের সংসার। ছেলেটা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আমার স্ত্রী বাড়িতে কুটির শিল্পের কাজ করে। সেই আয় দিয়েই সংসার কোন মতো চলে।
পরিবার নিয়ে কষ্ট করে চললেও ভয়ে এ বাড়িটি ছাড়তে পারছি না। কারণ মালিকের সম্পদ নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর এই বাড়িতে দুদকের লোকজন এসেছেন, আমার ছবি ও আইডি কার্ড নিয়েছেন। আমি চলে গেলে এ বাড়িতে যদি কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয় সেই ভয় থেকে ছেড়ে যাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজ কে বলেন, ‘বাংলো বাড়িটিতে আদালত থেকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে এটি দেখাশোনা করছি। কোর্ট তো আর টাকা দেয়নি, কোর্ট বলেছে ম্যানেজমেন্ট করেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এখানে দেখাশোনা করছে। তাদের জন্য তো আমরা এক্সট্রা কোনো ফেসিলিটি কিংবা স্যালারি দিতে পারছি না। কোর্ট যেভাবে বলেছে সেভাবে কাজ করছি।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৭:০১

১৬ জুন, ২০২৬ ১৫:০৫
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী চলছে উন্মাদনা। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচেও ছড়িয়ে পড়েছে এর রেশ। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অভিনব পন্থা। তারই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীতে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা।
জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার দুধ দিয়ে গোসল করে নিজের দীর্ঘদিনের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানের সমর্থক হয়েছেন এক কৃষক। তার নাম আলাল মোল্লা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করেন আলাল। তিনি গোয়ালন্দের চর দৌলতদিয়ার হামেদ মৃধার হাট এলাকার ছোরাপ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক আলাল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত ছিলেন। আর্জেন্টিনার সাদা-আকাশি জার্সির প্রতি তার টান ছিল অন্যরকম।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের ওপর অমুসলিম দেশের নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ব্যথিত হন। একপর্যায়ে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইরান ফুটবল দলের সমর্থকদের অনুরোধে তিনি ইরানকে সমর্থন জানান।
কৃষক আলাল মোল্লা জানান, কৃষিকাজ করলেও ফুটবল তার প্রিয় খেলা। জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসতেন।
কিন্তু চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বিশ্বকাপে ইরান ভালো কিছু করবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ইরানের সমর্থক শওকত জামান জানান, এবার তাদের এলাকায় ইরান দলের সমর্থক অনেক। এর মধ্যে কৃষক আলাল মোল্লা একজন ফুটবলপাগল মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছেন তারা।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৪:৪৮
গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মাজহারুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার অমিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অমি গাজীপুর মহানগরের ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সোমবার ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার অমির চাঁদাবাজির একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে সুস্পষ্টভাবে চাঁদা চেয়ে একজনকে হুমকি দিতে শোনা যায়। পরে এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেডিং ফ্যাডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাতুলসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুর সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক ফেডারেশন অফিসে বিভিন্ন সময় তারা চাঁদা নিতে আসতেন। এক পর্যায়ে ওই অফিস অন্যত্র সরিয়ে নিলে সেখানেও গিয়ে তারা চাঁদা আদায় করছেন।
প্রত্যাশা অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় কয়েক মাস পূর্বে শ্রমিকনেতা মাজহারুলকে আটক করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ৬৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা গ্রহণ করতেন ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার। আর চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হতো। এমনি একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয় গতকাল সোমবার।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে রাতুল শিকদার বলেন, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচশ টাকা। আজকা ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না।
অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা সাড়ে-পাঁচটা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই বা ব্যাকও করলেন না। আমারে বুঝান ফোন ধরেন নাই কেন।
আপনার এত বড় ক্ষমতা, ফোন ধরেন দেহি। ফোন ধরেন না, আবার আরেকজনের নাম ভাঙ্গান মিয়া। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া।
আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইবো না। বুঝেন নাই, এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইবো না, বুঝেন নাই। এইডা সবই আমার জানা আছে, ফাঁপরে আছে কাম কাজে নাই, আমি ফাঁপরে ডরাই না। আপনি পাপ্পু সরকার, সুমন লস্কর আর কেডা কেডা আছে লইয়া বসেন এবং কন আমি আইতাছি।’
এ বিষয়ে জানতে ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার অমির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মাজহারুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার অমিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অমি গাজীপুর মহানগরের ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সোমবার ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার অমির চাঁদাবাজির একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে সুস্পষ্টভাবে চাঁদা চেয়ে একজনকে হুমকি দিতে শোনা যায়। পরে এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেডিং ফ্যাডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাতুলসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুর সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক ফেডারেশন অফিসে বিভিন্ন সময় তারা চাঁদা নিতে আসতেন। এক পর্যায়ে ওই অফিস অন্যত্র সরিয়ে নিলে সেখানেও গিয়ে তারা চাঁদা আদায় করছেন।
প্রত্যাশা অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় কয়েক মাস পূর্বে শ্রমিকনেতা মাজহারুলকে আটক করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ৬৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা গ্রহণ করতেন ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদার। আর চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হতো। এমনি একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয় গতকাল সোমবার।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে রাতুল শিকদার বলেন, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচশ টাকা। আজকা ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না।
অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা সাড়ে-পাঁচটা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই বা ব্যাকও করলেন না। আমারে বুঝান ফোন ধরেন নাই কেন।
আপনার এত বড় ক্ষমতা, ফোন ধরেন দেহি। ফোন ধরেন না, আবার আরেকজনের নাম ভাঙ্গান মিয়া। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া।
আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইবো না। বুঝেন নাই, এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইবো না, বুঝেন নাই। এইডা সবই আমার জানা আছে, ফাঁপরে আছে কাম কাজে নাই, আমি ফাঁপরে ডরাই না। আপনি পাপ্পু সরকার, সুমন লস্কর আর কেডা কেডা আছে লইয়া বসেন এবং কন আমি আইতাছি।’
এ বিষয়ে জানতে ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার অমির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী চলছে উন্মাদনা। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচেও ছড়িয়ে পড়েছে এর রেশ। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অভিনব পন্থা। তারই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীতে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা।
জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার দুধ দিয়ে গোসল করে নিজের দীর্ঘদিনের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানের সমর্থক হয়েছেন এক কৃষক। তার নাম আলাল মোল্লা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করেন আলাল। তিনি গোয়ালন্দের চর দৌলতদিয়ার হামেদ মৃধার হাট এলাকার ছোরাপ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক আলাল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত ছিলেন। আর্জেন্টিনার সাদা-আকাশি জার্সির প্রতি তার টান ছিল অন্যরকম।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের ওপর অমুসলিম দেশের নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ব্যথিত হন। একপর্যায়ে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইরান ফুটবল দলের সমর্থকদের অনুরোধে তিনি ইরানকে সমর্থন জানান।
কৃষক আলাল মোল্লা জানান, কৃষিকাজ করলেও ফুটবল তার প্রিয় খেলা। জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসতেন।
কিন্তু চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বিশ্বকাপে ইরান ভালো কিছু করবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ইরানের সমর্থক শওকত জামান জানান, এবার তাদের এলাকায় ইরান দলের সমর্থক অনেক। এর মধ্যে কৃষক আলাল মোল্লা একজন ফুটবলপাগল মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে গত ৫২ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি।
দুই শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্তে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তাদের কাঁটাতারের এপাড়ে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখন্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেই ঠাঁই মেলেনি তাদের।
গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার একদিকে বিএসএফ, আরেক দিকে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় বসে আছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। সুমির কোলে ৬ মাসের শিশু সন্তান ফাইমা আর বেলালের কোলে ৪ বছরের ফাতেমা। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সয়ে ৫২ ঘণ্টা ধরে এভাবে বসে আছেন তারা।
সুমি আক্তার ও বেলালের বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান।
পরে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে গত রোববার ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুই সীমান্তপথে ৯ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপাড়ে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। এদিকে বিজিবিও তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি।
বিজিবি আরও জানায়, পুশইন চেষ্টার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করেছে বিএসএফ।
ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছে। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। একই সঙ্গে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর্যন্ত অবস্থানেই আছেন। তারা শূন্যরেখার কাছে ভারতের প্রান্তে রয়েছেন। ওই প্রান্তে বিএসএফ এবং আমাদের প্রান্তে বিজিবি রয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থানকারীদের বিএসএফ কম্বল ও পলিথিন, খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের এখানকার লোকজন খাবার ও ছাতা দিয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে খাবার দেওয়াসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয়রা বিজিবিকে সহায়তা করছে।
সীমান্তে জড়ো করা নারী-শিশুসহ অন্যান্যরা পূর্বের স্থানেই অবস্থান করছে। ইন্ডিয়া পুশ করেছে, আমরা আসতে দেইনি। আপাতত আসতে দেব না যতক্ষণ পর্যন্ত না একটা ভালো সমাধানে আসছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে গত ৫২ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি।
দুই শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্তে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তাদের কাঁটাতারের এপাড়ে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখন্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেই ঠাঁই মেলেনি তাদের।
গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার একদিকে বিএসএফ, আরেক দিকে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় বসে আছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। সুমির কোলে ৬ মাসের শিশু সন্তান ফাইমা আর বেলালের কোলে ৪ বছরের ফাতেমা। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সয়ে ৫২ ঘণ্টা ধরে এভাবে বসে আছেন তারা।
সুমি আক্তার ও বেলালের বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান।
পরে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে গত রোববার ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুই সীমান্তপথে ৯ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপাড়ে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। এদিকে বিজিবিও তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি।
বিজিবি আরও জানায়, পুশইন চেষ্টার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করেছে বিএসএফ।
ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছে। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। একই সঙ্গে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর্যন্ত অবস্থানেই আছেন। তারা শূন্যরেখার কাছে ভারতের প্রান্তে রয়েছেন। ওই প্রান্তে বিএসএফ এবং আমাদের প্রান্তে বিজিবি রয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থানকারীদের বিএসএফ কম্বল ও পলিথিন, খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের এখানকার লোকজন খাবার ও ছাতা দিয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে খাবার দেওয়াসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয়রা বিজিবিকে সহায়তা করছে।
সীমান্তে জড়ো করা নারী-শিশুসহ অন্যান্যরা পূর্বের স্থানেই অবস্থান করছে। ইন্ডিয়া পুশ করেছে, আমরা আসতে দেইনি। আপাতত আসতে দেব না যতক্ষণ পর্যন্ত না একটা ভালো সমাধানে আসছে।