জনবল সংকটে ভুগছে বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষা বরগুনার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার শেষ আস্থা ও ভরসার স্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে। অথচ ৪১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। সংকট রয়েছে অন্যান্য পদেও। হয় না কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে সাতজন চিকিৎসক ও পাঁচজন নার্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু হয়। পরে ২০২২ সালে কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে কাগজ-কলমে শয্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রসূতি, শিশু, সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগসহ ৪১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। বাকি ৩৭ জনের পদ শূন্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ রয়েছে ৬৪টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন আটজন। বাকি ৫৬ জনের পদ শূন্য। এ ছাড়া নার্সের পদ রয়েছে ২৯টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ছয়জন। বাকি ২৩ জনের পদ শূন্য।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে লম্বা লাইন। রোগীরা এসেছেন সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অসুস্থতা নিয়ে। অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
কিন্তু হাসপাতালে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে, যেতে হচ্ছে বরগুনা জেলা সদর ও পটুয়াখালী সদর হাসপাতালসহ অন্য কোথাও। এতে কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
জরুরি ওষুধের অভাবে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের পরীক্ষাও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করাতে হচ্ছে। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় বিকল হয়ে পড়ে আছে।
এতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আসা রোগীরা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর থাকলেও তেলের অভাবে তা চালানো সম্ভব হয় না। ফলে হাসপাতাল অন্ধকারে নেমে আসে। ওয়ার্ডগুলোতে পানির সংকট ও পরিবেশ খুবই নোংরা আর টয়লেটে গেলে দমবন্ধ অবস্থা হয়। এমন নোংরা অবস্থায় রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতি পাড়া গ্রাম থেকে আসা এ কে এম নাসির উদ্দীন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভুগছি তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দুটো টেস্ট দিয়েছে একটি হাসপাতাল থেকে করিয়েছি, আর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে হচ্ছে। এতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হয়েছে।
বড়বগী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. ছালাম হাওলাদার বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমার ছোট ভাইয়ের হাত ভাঙা নিয়ে হাসপাতালে যাই। কিন্তু হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বেশি টাকায় গাড়ি ভাড়া করে বরিশালে চিকিৎসার জন্য যাই।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তবু আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি বিভাগ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, জনবল সংকট নিরসনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সংকট নিরসন হবে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৩০
জনবল সংকটে ভুগছে বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষা বরগুনার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার শেষ আস্থা ও ভরসার স্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়েই চলছে। অথচ ৪১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। সংকট রয়েছে অন্যান্য পদেও। হয় না কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে সাতজন চিকিৎসক ও পাঁচজন নার্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু হয়। পরে ২০২২ সালে কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে কাগজ-কলমে শয্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রসূতি, শিশু, সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগসহ ৪১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। বাকি ৩৭ জনের পদ শূন্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ রয়েছে ৬৪টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন আটজন। বাকি ৫৬ জনের পদ শূন্য। এ ছাড়া নার্সের পদ রয়েছে ২৯টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ছয়জন। বাকি ২৩ জনের পদ শূন্য।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে লম্বা লাইন। রোগীরা এসেছেন সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অসুস্থতা নিয়ে। অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
কিন্তু হাসপাতালে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে, যেতে হচ্ছে বরগুনা জেলা সদর ও পটুয়াখালী সদর হাসপাতালসহ অন্য কোথাও। এতে কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
জরুরি ওষুধের অভাবে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের পরীক্ষাও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করাতে হচ্ছে। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় বিকল হয়ে পড়ে আছে।
এতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আসা রোগীরা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর থাকলেও তেলের অভাবে তা চালানো সম্ভব হয় না। ফলে হাসপাতাল অন্ধকারে নেমে আসে। ওয়ার্ডগুলোতে পানির সংকট ও পরিবেশ খুবই নোংরা আর টয়লেটে গেলে দমবন্ধ অবস্থা হয়। এমন নোংরা অবস্থায় রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতি পাড়া গ্রাম থেকে আসা এ কে এম নাসির উদ্দীন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভুগছি তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দুটো টেস্ট দিয়েছে একটি হাসপাতাল থেকে করিয়েছি, আর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে হচ্ছে। এতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হয়েছে।
বড়বগী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. ছালাম হাওলাদার বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমার ছোট ভাইয়ের হাত ভাঙা নিয়ে হাসপাতালে যাই। কিন্তু হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বেশি টাকায় গাড়ি ভাড়া করে বরিশালে চিকিৎসার জন্য যাই।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তবু আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি বিভাগ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, জনবল সংকট নিরসনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সংকট নিরসন হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪