
০৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:২১
বাজারে খুবই অপরিচিত ‘মথ’ ডাল নিয়ে এখন অনেকের কৌতূহল। এই ডালে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মুগ ডাল নামে বিক্রি হচ্ছিল। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে নমুনা পরীক্ষা করে তার প্রমাণও পেয়েছে। এরপরই ক্রেতাদের সচেতন করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংস্থাটি। সংস্থাটির সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় প্রতিটি সরকারি ওয়েবসাইটে।
সরকারি সতর্কবার্তার আগে নাম না–জানা এই ডাল কোথায় থেকে আমদানি হয়, কীভাবে বাংলাদেশে এল, কারা আমদানি করে, কেনই–বা মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি হয়, তা নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানা গেল নানা তথ্য।
শুরুতে জেনে নেওয়া যাক, এই ডাল কোথায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যানে দেশে এই ডাল উৎপাদনের কোনো তথ্য নেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মথ ডাল খরা সহনশীল ডাল–জাতীয় ফসল। এটি ভারতের স্থানীয় ডাল। বিশ্বে মথ ডালের সিংহভাগ উৎপাদন হয় ভারতে।
ভারতের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে মথ ডাল উৎপাদন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ভারতের মথ ডালের ৯৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় রাজস্থানে মরু এলাকায়। রাজস্থান সরকারের কৃষি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানে গত ২০২৩–২৪ মৌসুমে ৪ লাখ ১৯ হাজার টন মথ ডাল উৎপাদিত হয়। রাজস্থানে এই ডাল বেশ জনপ্রিয়। এই ডাল দিয়ে পাঁপড় বানানো হয়।
বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি হচ্ছে শুধু ভারত থেকেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে গত পাঁচ বছরে এনবিআরের তথ্যে মথ ডাল আমদানির কোনো রেকর্ড নেই।
এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজশাহীর বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মথ ডালের প্রথম চালান আমদানি করে। প্রথম চালানে ৬২ টন মথ ডাল আমদানি হয়। ২০২৪ সালে সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৫১৬ টন মথ ডাল আমদানি হয়। তবে হঠাৎ এ বছর মথ ডালের আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। যেমন চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৬৯১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০৮ শতাংশ বেশি।
বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিলের হাত ধরে আমদানি শুরু হওয়া এ পণ্যটি এখন আমদানি করছে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান। ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে মূলত ভারত থেকে এই ডাল আমদানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মুগ ডাল কিছুটা গোলাকার। আর মথ ডাল কিছুটা লম্বা আকৃতির। এরপরও হলুদ রং মেশানো মথ ডাল ও মুগ ডাল পাশাপাশি রাখা হলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ব্যবসায়ীরা জানান, মুগ ডালের চেয়ে মথ ডালের আমদানির মূল্য কম। এ কারণে বেশি দামের জন্য মথ ডালকে মুগ ডাল হিসেবে খুচরায় বিক্রি হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানিতে কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ১ ডলার ৯ সেন্ট বা ১৩৩ টাকা। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ১০৪ টাকায়। অর্থাৎ মুগ ডালের চেয়ে মথ ডাল আমদানিতে কেজিতে ২৯ টাকা কম পড়ছে। খুচরা বাজারে মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে মুগ ডাল হিসেবে মথ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। দামের পার্থক্যের কারণে তাই মথ ডালই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে মথ ডালের আমদানিকারক নিউ মাতৃভান্ডারের কর্ণধার বাদল তালুকদার বলেন, ভারতের রাজস্থানে উৎপাদন হওয়া এই ডাল দিল্লিতে বড় কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপরই আমদানি হয়। আগের কিছু চালানে রং মেশানো থাকলেও এখন যেসব মথ ডাল আমদানি হচ্ছে, সেগুলোয় কোনো রং নেই। মুগ ডালের চেয়ে দাম কম থাকায় মথ ডালের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
পরিসংখ্যান ব্যুরো ও এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, দেশে বছরে গড়ে ৪৫ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদন হয় এবং বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। তবে মথ ডাল আমদানি শুরুর পর মুগ ডাল আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাজারে মুগ ডালের চাহিদা মেটাচ্ছে মূলত মথ ডাল। যেমন ২০২২–২৩ অর্থবছরে ২১ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩–২৪–এ মুগ ডাল আমদানি কমতে শুরু করে। ওই বছরে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়। তাতে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি হয় প্রায় ১৮ হাজার টন। আর মথ ডাল আমদানি হয় ৯৯৬ টন।
গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি আরও কমে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯১৩ টনে। এ সময়ে ২১ হাজার ৪১৪ টন মথ ডাল আমদানি হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানির তালিকা থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে মুগ ডাল। এ সময় পাঁচটি চালানে মুগ ডাল আমদানি হয়েছে ২১৩ টন। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ টন।
রং মিশিয়ে বাজারে ডাল বিক্রির অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে। গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, মুগ ডাল নামে বিক্রি হওয়া ৩৩টি নমুনার ১৮টিতে টারটাজিন নামের একধরনের হলুদ রঙের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপরই অভিযান শুরু হয়। এখন প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। যেমন গত বুধবার (৫ নভেম্বর) মথ ডালে রং মিশিয়ে মুগ ডাল বলে বিক্রির দায়ে টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনী বাজারে দুই ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারমান জাকারিয়া বলেন, ডাল বা যেকোনো শস্যদানায় রং মেশানোর অনুমোদন নেই। টারটাজিন রং ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে আমদানির সময় মুগ ও মথ ডালে রং পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং রং মেশানো ডাল যাতে আমদানি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাজারে খুবই অপরিচিত ‘মথ’ ডাল নিয়ে এখন অনেকের কৌতূহল। এই ডালে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মুগ ডাল নামে বিক্রি হচ্ছিল। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে নমুনা পরীক্ষা করে তার প্রমাণও পেয়েছে। এরপরই ক্রেতাদের সচেতন করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংস্থাটি। সংস্থাটির সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় প্রতিটি সরকারি ওয়েবসাইটে।
সরকারি সতর্কবার্তার আগে নাম না–জানা এই ডাল কোথায় থেকে আমদানি হয়, কীভাবে বাংলাদেশে এল, কারা আমদানি করে, কেনই–বা মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি হয়, তা নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানা গেল নানা তথ্য।
শুরুতে জেনে নেওয়া যাক, এই ডাল কোথায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যানে দেশে এই ডাল উৎপাদনের কোনো তথ্য নেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মথ ডাল খরা সহনশীল ডাল–জাতীয় ফসল। এটি ভারতের স্থানীয় ডাল। বিশ্বে মথ ডালের সিংহভাগ উৎপাদন হয় ভারতে।
ভারতের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে মথ ডাল উৎপাদন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ভারতের মথ ডালের ৯৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় রাজস্থানে মরু এলাকায়। রাজস্থান সরকারের কৃষি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানে গত ২০২৩–২৪ মৌসুমে ৪ লাখ ১৯ হাজার টন মথ ডাল উৎপাদিত হয়। রাজস্থানে এই ডাল বেশ জনপ্রিয়। এই ডাল দিয়ে পাঁপড় বানানো হয়।
বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি হচ্ছে শুধু ভারত থেকেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে গত পাঁচ বছরে এনবিআরের তথ্যে মথ ডাল আমদানির কোনো রেকর্ড নেই।
এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজশাহীর বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মথ ডালের প্রথম চালান আমদানি করে। প্রথম চালানে ৬২ টন মথ ডাল আমদানি হয়। ২০২৪ সালে সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৫১৬ টন মথ ডাল আমদানি হয়। তবে হঠাৎ এ বছর মথ ডালের আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। যেমন চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৬৯১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০৮ শতাংশ বেশি।
বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিলের হাত ধরে আমদানি শুরু হওয়া এ পণ্যটি এখন আমদানি করছে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান। ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে মূলত ভারত থেকে এই ডাল আমদানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মুগ ডাল কিছুটা গোলাকার। আর মথ ডাল কিছুটা লম্বা আকৃতির। এরপরও হলুদ রং মেশানো মথ ডাল ও মুগ ডাল পাশাপাশি রাখা হলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ব্যবসায়ীরা জানান, মুগ ডালের চেয়ে মথ ডালের আমদানির মূল্য কম। এ কারণে বেশি দামের জন্য মথ ডালকে মুগ ডাল হিসেবে খুচরায় বিক্রি হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানিতে কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ১ ডলার ৯ সেন্ট বা ১৩৩ টাকা। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ১০৪ টাকায়। অর্থাৎ মুগ ডালের চেয়ে মথ ডাল আমদানিতে কেজিতে ২৯ টাকা কম পড়ছে। খুচরা বাজারে মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে মুগ ডাল হিসেবে মথ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। দামের পার্থক্যের কারণে তাই মথ ডালই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে মথ ডালের আমদানিকারক নিউ মাতৃভান্ডারের কর্ণধার বাদল তালুকদার বলেন, ভারতের রাজস্থানে উৎপাদন হওয়া এই ডাল দিল্লিতে বড় কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপরই আমদানি হয়। আগের কিছু চালানে রং মেশানো থাকলেও এখন যেসব মথ ডাল আমদানি হচ্ছে, সেগুলোয় কোনো রং নেই। মুগ ডালের চেয়ে দাম কম থাকায় মথ ডালের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
পরিসংখ্যান ব্যুরো ও এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, দেশে বছরে গড়ে ৪৫ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদন হয় এবং বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। তবে মথ ডাল আমদানি শুরুর পর মুগ ডাল আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাজারে মুগ ডালের চাহিদা মেটাচ্ছে মূলত মথ ডাল। যেমন ২০২২–২৩ অর্থবছরে ২১ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩–২৪–এ মুগ ডাল আমদানি কমতে শুরু করে। ওই বছরে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়। তাতে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি হয় প্রায় ১৮ হাজার টন। আর মথ ডাল আমদানি হয় ৯৯৬ টন।
গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি আরও কমে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯১৩ টনে। এ সময়ে ২১ হাজার ৪১৪ টন মথ ডাল আমদানি হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানির তালিকা থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে মুগ ডাল। এ সময় পাঁচটি চালানে মুগ ডাল আমদানি হয়েছে ২১৩ টন। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ টন।
রং মিশিয়ে বাজারে ডাল বিক্রির অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে। গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, মুগ ডাল নামে বিক্রি হওয়া ৩৩টি নমুনার ১৮টিতে টারটাজিন নামের একধরনের হলুদ রঙের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপরই অভিযান শুরু হয়। এখন প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। যেমন গত বুধবার (৫ নভেম্বর) মথ ডালে রং মিশিয়ে মুগ ডাল বলে বিক্রির দায়ে টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনী বাজারে দুই ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারমান জাকারিয়া বলেন, ডাল বা যেকোনো শস্যদানায় রং মেশানোর অনুমোদন নেই। টারটাজিন রং ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে আমদানির সময় মুগ ও মথ ডালে রং পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং রং মেশানো ডাল যাতে আমদানি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩০

১১ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩৭
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামে কারো মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৫৩ জনের মৃত্যু হলো।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আরও ৭০২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এনিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে একই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বরিশাল টাইমস

১১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩৮
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। আল্লাহর ঘরে মুসল্লিদের নামাজের আহ্বান জানাতে গিয়ে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর কাজীবাড়ি এলাকার মরহুম শামসুল আলমের ছেলে মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য আবু জাহের সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী, ধর্মপ্রাণ ও সবার প্রিয় একজন আলেম। তাঁর ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মুসল্লি, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর কণ্ঠনগর গ্রামে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্ত্রীর ভাই ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির।
আজানরত অবস্থায় একজন ইমামের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।’
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। আল্লাহর ঘরে মুসল্লিদের নামাজের আহ্বান জানাতে গিয়ে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর কাজীবাড়ি এলাকার মরহুম শামসুল আলমের ছেলে মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য আবু জাহের সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী, ধর্মপ্রাণ ও সবার প্রিয় একজন আলেম। তাঁর ইমামতি, দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মুসল্লি, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর কণ্ঠনগর গ্রামে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্ত্রীর ভাই ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির।
আজানরত অবস্থায় একজন ইমামের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।’
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামে কারো মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৫৩ জনের মৃত্যু হলো।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আরও ৭০২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এনিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে একই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বরিশাল টাইমস
দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর আসছে। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার মনে করছে, রেশন সুবিধা চালু হলে এই মানসিক চাপ কমবে এবং কর্মচারীদের কাজে মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
এই রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে কাজের অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাসিক অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।
মূলত, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, রেশন সুবিধা চালু হলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস এবং সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন, রেশন সুবিধা চালু হলে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারকে এই রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সুবিধা পান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর আসছে। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার মনে করছে, রেশন সুবিধা চালু হলে এই মানসিক চাপ কমবে এবং কর্মচারীদের কাজে মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
এই রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে কাজের অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাসিক অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।
মূলত, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, রেশন সুবিধা চালু হলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস এবং সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন, রেশন সুবিধা চালু হলে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারকে এই রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সুবিধা পান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
বরিশাল টাইমস