
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১২
অবৈধভাবে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরই বালু খেকোরা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছে এক সাংবাদিককে। এসময় তার সাথে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের জনৈক মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে। হামলায় গুরুত্বর আহত সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৪০) পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে। তিনি হিজলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও টাইমস্ অফ বরিশাল পত্রিকার হিজলা প্রতিনিধি।
শনিবার দুপুরে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত সাংবাদিক মাসুদ সরদার বলেন, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি তাকে অভিযোগ করে জানায়, কোড়ালিয়া গ্রামের জনৈক মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে কতিপয় বালু খেকোরা স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী বালু উত্তোলনের যন্ত্র আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পরেছে।
সাংবাদিক মাসুদ সরদার আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছে এ খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথেই বালু খেকো তুষার মিয়াজী, আবুল বাশার, আল-আমিন মিয়াজী, ইমরান সরদার, মিজানুর রহমান, আবু-সাঈদ বাবু, আবু-আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ বিন কালামসহ তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে (মাসুদ) লাঠিপেটা করে গুরুত্বর আহত করে। এসময় হামলাকারীরা সাংবাদিক মাসুদ সরদারের সাথে থাকা ক্যামেরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে পানিতে ফেলে দেয়।
হামলার ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত তুষার মিয়াজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোনধরনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে মামলা দায়েরের জন্য লিখিত এজাহারপ্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা থানার ওসি মো. সুলাইমান হোসেন বলেন, সাংবাদিক মাসুদ সরদারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ পেয়ে অভিযোগের তদন্তের জন্য তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে সাংবাদিক মাসুদ সরদারের ওপর বালু খেকোদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
অবৈধভাবে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরই বালু খেকোরা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছে এক সাংবাদিককে। এসময় তার সাথে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের জনৈক মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে। হামলায় গুরুত্বর আহত সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৪০) পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে। তিনি হিজলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও টাইমস্ অফ বরিশাল পত্রিকার হিজলা প্রতিনিধি।
শনিবার দুপুরে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত সাংবাদিক মাসুদ সরদার বলেন, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি তাকে অভিযোগ করে জানায়, কোড়ালিয়া গ্রামের জনৈক মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে কতিপয় বালু খেকোরা স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী বালু উত্তোলনের যন্ত্র আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পরেছে।
সাংবাদিক মাসুদ সরদার আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছে এ খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথেই বালু খেকো তুষার মিয়াজী, আবুল বাশার, আল-আমিন মিয়াজী, ইমরান সরদার, মিজানুর রহমান, আবু-সাঈদ বাবু, আবু-আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ বিন কালামসহ তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে (মাসুদ) লাঠিপেটা করে গুরুত্বর আহত করে। এসময় হামলাকারীরা সাংবাদিক মাসুদ সরদারের সাথে থাকা ক্যামেরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে পানিতে ফেলে দেয়।
হামলার ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত তুষার মিয়াজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোনধরনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে মামলা দায়েরের জন্য লিখিত এজাহারপ্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা থানার ওসি মো. সুলাইমান হোসেন বলেন, সাংবাদিক মাসুদ সরদারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ পেয়ে অভিযোগের তদন্তের জন্য তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে সাংবাদিক মাসুদ সরদারের ওপর বালু খেকোদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
০৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৪
০৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৫
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২২
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭

০৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৪
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র বিতর্কিত নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ এবার বরিশালের একজন আলোচিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছেন। বরিশাল মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানাধীন ‘জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস.কমের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামকে তিনি টার্গেট করেছেন। বহু অঘটন পটিয়াসি মারযুক গত ২ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয়ে কীর্তনখোলা তীর জনপদের শহর বরিশালের সিনিয়র সিটিজেন, নিরীহ অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করলে এনিয়ে তথ্যনির্ভর এবং সশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্যসহ একটি সংবাদ ‘‘বরিশাল ছাত্রশক্তি নেতার মামলা-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, সংক্ষুব্ধ বরিশালবাসী’’ শিরোনামে প্রকাশ করে বরিশালটাইমস। শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় সংবাটি প্রকাশের ঘণ্টা দুয়েকের মাথায় টিবিএন ‘বরিশালটপনিউজ’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ছবিসংবলিত একটি ফটোকার্ড পত্রিকার আদলে তৈরি করে তাতে টাইটেল দেন, ‘মারযুক আব্দুল্লাহর কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা চাইলেন সাংবাদিক হাসিবুল ইসলাম। এবং টাকা না পেলে মারযুককে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও ফটোকার্ডটির সাব টাইটেলে উল্লেখ করেন।
অহেতুক বিএনপির নারী কর্মীসহ ব্যবসায়ী নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে কেনো হয়রানি করা হচ্ছে, এই বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেলে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল’ বরিশালের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ফোন করেন মারযুক আব্দুল্লাহকে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি বরিশালটাইমসের প্রকাশক ও দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের ব্যুরো চিফের সাথে মিথ্যের আশ্রয় নেন। তখন প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, বাধ্য হয়ে সাংবাদিক নেতাও উত্তপ্ত হন, এই মোবাইল কনভারসেশনের ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভয়েস রেকডিং বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং মারযুকের মতো অপরাধীর বিষয়ে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষমহলকে অবগত করা হয়।
সাংবাদিক হাসিবুল ইসলাম জানান, ‘বরিশালটপনিউজ’ নাম একটি ফেসবুক পেইজ থেকে আমার নামে অপপ্রচার চালিয়েছে, তা বরিশালের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি বরিশালের নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিকেরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মারযুকের মতো চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে আহ্বান রেখেছেন। প্রয়োজনে মামলাবাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রণের পরামর্শও দিয়েছেন।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এত অপকর্ম করার পরে ছাত্রশক্তির মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠনে কি ভাবে মারযুক আব্দুল্লাহ স্থান পায় তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেও এই সংগঠনের কোনো নেতাকে না পেয়ে মারযুক সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সাথে, তাদের একজন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ। এই ছাত্রনেতা বরিশালটাইমসকে জানান, পটুয়াখালীতে ডাকাতি করতে গিয়ে মারযুক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন, এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিস্ককার করা হয়।
মূলত সংবাদে সব মহলের বক্তব্য তুলে ধরায় মারযুকের ধান্ধাফিকির বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, এতে তিনি বেসামাল হয়ে সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর চটলেন, এমনকি হাসিবুল ইসলামের ছবিসহ অপপ্রচার চালালেন। এক্ষেত্রে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের মন্তব্য হচ্ছে, পূর্বের সংবাদে মামলা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা শতভাগ, তাছাড়া নতুন করে আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন মারযুক। সবশেষ যখন দেখলেন সংবাদ সরানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তখনই ফেসবুকে আক্রমণ করলেন, যা সাংবাদিকের মানহানিকর এবং সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবশ্য এর আগে শুক্রবার বিকেলে মারযুকের হয়ে জনৈক সুলতান খান নামক ব্যক্তি হাসিবুল ইসলামকে ফোন দিয়ে হুমকি দেন। তখন তিনি কোথায় আছেন, জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে ফোন কেটে দেন।
প্রথমে হুমকি এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে বরিশালটাইমস এবং হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। সাংবাদিকেরা বলছেন, বরিশালটাইমস ও হাসিবুল ইসলামকে নিয়ে এরআগেও একাধিকবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-মেয়র-এমপিদের মামলায় তাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে, কিন্তু বরিশালটাইমসের কণ্ঠরোধ করা যায়নি...।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র বিতর্কিত নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ এবার বরিশালের একজন আলোচিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছেন। বরিশাল মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানাধীন ‘জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস.কমের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামকে তিনি টার্গেট করেছেন। বহু অঘটন পটিয়াসি মারযুক গত ২ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয়ে কীর্তনখোলা তীর জনপদের শহর বরিশালের সিনিয়র সিটিজেন, নিরীহ অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করলে এনিয়ে তথ্যনির্ভর এবং সশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্যসহ একটি সংবাদ ‘‘বরিশাল ছাত্রশক্তি নেতার মামলা-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, সংক্ষুব্ধ বরিশালবাসী’’ শিরোনামে প্রকাশ করে বরিশালটাইমস। শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় সংবাটি প্রকাশের ঘণ্টা দুয়েকের মাথায় টিবিএন ‘বরিশালটপনিউজ’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ছবিসংবলিত একটি ফটোকার্ড পত্রিকার আদলে তৈরি করে তাতে টাইটেল দেন, ‘মারযুক আব্দুল্লাহর কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা চাইলেন সাংবাদিক হাসিবুল ইসলাম। এবং টাকা না পেলে মারযুককে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও ফটোকার্ডটির সাব টাইটেলে উল্লেখ করেন।
অহেতুক বিএনপির নারী কর্মীসহ ব্যবসায়ী নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে কেনো হয়রানি করা হচ্ছে, এই বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেলে ‘নিউজ এডিটরস কাউন্সিল’ বরিশালের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ফোন করেন মারযুক আব্দুল্লাহকে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি বরিশালটাইমসের প্রকাশক ও দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের ব্যুরো চিফের সাথে মিথ্যের আশ্রয় নেন। তখন প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, বাধ্য হয়ে সাংবাদিক নেতাও উত্তপ্ত হন, এই মোবাইল কনভারসেশনের ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভয়েস রেকডিং বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং মারযুকের মতো অপরাধীর বিষয়ে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষমহলকে অবগত করা হয়।
সাংবাদিক হাসিবুল ইসলাম জানান, ‘বরিশালটপনিউজ’ নাম একটি ফেসবুক পেইজ থেকে আমার নামে অপপ্রচার চালিয়েছে, তা বরিশালের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি বরিশালের নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিকেরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মারযুকের মতো চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে আহ্বান রেখেছেন। প্রয়োজনে মামলাবাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রণের পরামর্শও দিয়েছেন।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এত অপকর্ম করার পরে ছাত্রশক্তির মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠনে কি ভাবে মারযুক আব্দুল্লাহ স্থান পায় তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেও এই সংগঠনের কোনো নেতাকে না পেয়ে মারযুক সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সাথে, তাদের একজন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ। এই ছাত্রনেতা বরিশালটাইমসকে জানান, পটুয়াখালীতে ডাকাতি করতে গিয়ে মারযুক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন, এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিস্ককার করা হয়।
মূলত সংবাদে সব মহলের বক্তব্য তুলে ধরায় মারযুকের ধান্ধাফিকির বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, এতে তিনি বেসামাল হয়ে সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর চটলেন, এমনকি হাসিবুল ইসলামের ছবিসহ অপপ্রচার চালালেন। এক্ষেত্রে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের মন্তব্য হচ্ছে, পূর্বের সংবাদে মামলা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা শতভাগ, তাছাড়া নতুন করে আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন মারযুক। সবশেষ যখন দেখলেন সংবাদ সরানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তখনই ফেসবুকে আক্রমণ করলেন, যা সাংবাদিকের মানহানিকর এবং সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবশ্য এর আগে শুক্রবার বিকেলে মারযুকের হয়ে জনৈক সুলতান খান নামক ব্যক্তি হাসিবুল ইসলামকে ফোন দিয়ে হুমকি দেন। তখন তিনি কোথায় আছেন, জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে ফোন কেটে দেন।
প্রথমে হুমকি এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে বরিশালটাইমস এবং হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। সাংবাদিকেরা বলছেন, বরিশালটাইমস ও হাসিবুল ইসলামকে নিয়ে এরআগেও একাধিকবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-মেয়র-এমপিদের মামলায় তাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে, কিন্তু বরিশালটাইমসের কণ্ঠরোধ করা যায়নি...।

০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এআইআর করার নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এআইআর করার নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’

০৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৯
প্রায় দেড় যুগ পর বরিশাল নগরীতে আবারও সিটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বল্প খরচে গণপরিবহনে চলাচলের সুযোগ পাবেন নগরবাসী, কমবে ভোগান্তি। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারে (মাহিন্দ্রা) অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে মনে করা হচ্ছে। ১৭ বছর আগেই নগরীতে এই ধরনের বাস সার্ভিস চালু ছিলো।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি বাস সার্ভিস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাট এবং লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নগরীতে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে দুই বছর পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে আবার সিটি বাস সার্ভিস চালু হলেও ২০১৩ সালে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নগরবাসী মূলত থ্রিহুইলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণ দেখিয়ে গ্যাস ও ব্যাটারিচালিত থ্রিহুইলারের চালকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন আগের ভাড়ার তালিকা কার্যকর রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, তবু অনেক চালক তা মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নগরীর প্যারারা রোড এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলে প্রতিদিনই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিটি বাস চালু হলে সাধারণ মানুষ কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে থ্রিহুইলার চালকদের অনিয়মও অনেকটা কমবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী সাংবাদিকদের জানান, সিটি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যা শিগগিরই প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তার অনুমোদন পেলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে শহরের কয়েকটি রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে চাহিদা অনুযায়ী রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
প্রায় দেড় যুগ পর বরিশাল নগরীতে আবারও সিটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বল্প খরচে গণপরিবহনে চলাচলের সুযোগ পাবেন নগরবাসী, কমবে ভোগান্তি। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারে (মাহিন্দ্রা) অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে মনে করা হচ্ছে। ১৭ বছর আগেই নগরীতে এই ধরনের বাস সার্ভিস চালু ছিলো।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি বাস সার্ভিস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাট এবং লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নগরীতে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে দুই বছর পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে আবার সিটি বাস সার্ভিস চালু হলেও ২০১৩ সালে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নগরবাসী মূলত থ্রিহুইলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণ দেখিয়ে গ্যাস ও ব্যাটারিচালিত থ্রিহুইলারের চালকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন আগের ভাড়ার তালিকা কার্যকর রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, তবু অনেক চালক তা মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নগরীর প্যারারা রোড এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলে প্রতিদিনই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিটি বাস চালু হলে সাধারণ মানুষ কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে থ্রিহুইলার চালকদের অনিয়মও অনেকটা কমবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী সাংবাদিকদের জানান, সিটি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যা শিগগিরই প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তার অনুমোদন পেলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে শহরের কয়েকটি রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে চাহিদা অনুযায়ী রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.