যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বন্ড ফেরত পাওয়ার শর্ত
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে।
তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হলো- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়—যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। অনেকেই ইউনূসের মতো সম্মানী ব্যক্তিতে হেনস্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবিও করেছেন।
তবে উল্টো সুর শোনা গেল আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলমের কন্ঠে। মৎসজীবী দলের এই নেত্রী ইউনূসের শাসনামলে তার সঙ্গে হওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তার প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক পোস্ট করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে মেঘনা লেখেন, ‘ইউনূস কি অবস্থা? এক সৌদি বেটাকে খুশি করতে নিজ দেশের ইমেজ, ইজ্জত দুনিয়াতে ছোট করে, নিজ দেশের মহিলাকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ নাটক করে হেনস্থা করেছো। তোমার কপালে হেনস্থা হওয়া আরও লেখা আছে!’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বিমানবন্দরের এই ঘটনার পর ড. ইউনূসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মেঘনা আলমের এই পোস্ট সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। অনেকেই ইউনূসের মতো সম্মানী ব্যক্তিতে হেনস্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবিও করেছেন।
তবে উল্টো সুর শোনা গেল আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলমের কন্ঠে। মৎসজীবী দলের এই নেত্রী ইউনূসের শাসনামলে তার সঙ্গে হওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তার প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক পোস্ট করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে মেঘনা লেখেন, ‘ইউনূস কি অবস্থা? এক সৌদি বেটাকে খুশি করতে নিজ দেশের ইমেজ, ইজ্জত দুনিয়াতে ছোট করে, নিজ দেশের মহিলাকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ নাটক করে হেনস্থা করেছো। তোমার কপালে হেনস্থা হওয়া আরও লেখা আছে!’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বিমানবন্দরের এই ঘটনার পর ড. ইউনূসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মেঘনা আলমের এই পোস্ট সামনে এসেছে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৬
ভারতের উত্তর প্রদেশে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে এ ঘটনা ঘটে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মহল্লা মাকবারা এলাকায় একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের নির্দেশে মসজিদটির মাইক জব্দ করা হয় এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করা হয়। পরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে কি না, তা যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ধর্মীয় উপাসনার প্রচলিত রীতির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আনুপাতিক হচ্ছে? শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের উত্তর প্রদেশে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে এ ঘটনা ঘটে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মহল্লা মাকবারা এলাকায় একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের নির্দেশে মসজিদটির মাইক জব্দ করা হয় এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করা হয়। পরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে কি না, তা যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ধর্মীয় উপাসনার প্রচলিত রীতির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আনুপাতিক হচ্ছে? শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩২
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানায়, শনিবার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএসিএ জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এ সময় কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ করেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন আল-মালকি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব হামলা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রমাণ। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।
তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুথিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাউরি জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে তারা।
এদিকে হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানায়, শনিবার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএসিএ জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এ সময় কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ করেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন আল-মালকি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব হামলা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রমাণ। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।
তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুথিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাউরি জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে তারা।
এদিকে হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বন্ড ফেরত পাওয়ার শর্ত
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে।
তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হলো- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়—যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩