নদীটির নাম খাপড়াভাঙ্গা। শিববাড়িয়া নদী নামে বেশ পরিচিত। কলকল স্রোতে বয়ে যাওয়া নদীটির দু’প্রান্ত সাগরের সাথে মিলিত হবার কারণে ‘খাপড়াভাঙ্গা দোন’ বলা হয়। নদীটির পশ্চিম প্রান্তে আন্ধারমানিক মোহনা, আর পূর্ব প্রান্ত মিলিত হয়েছে রামনাবাদ মোহনায়।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারগুলো দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে বিধায় ‘প্রোতাশ্রয় নদী’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছে। এই নদীর দু’পাড়ে গড়ে উঠেছে আশাখালী মৎস্যপল্লী, চাপলী বাজার, লক্ষ্মীরহাট এবং আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর। এসব বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে নদীতে।
নদীর পেটের এসব প্লাস্টিক ও পলিথিন ভাটার স্রোতে ভেঁসে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। ধীরে ধীরে ছোট ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপান্তরিত হয়ে খাদ্য ও পানির মাধ্যমে জলজপ্রাণী গ্রহণ করে। এতে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, কমছে মাছের উৎপাদন। শেষমেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাই। আর পরিবেশ নষ্টের অন্যতম কারণ এসব প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং মৎস্য বিভাগকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানায় অবস্থিত খাপড়াভাঙ্গা নদীটি। এটি আকারে ছোট্ট হলেও এই উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দীর্ঘ বছর ধরে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে নদীটি। প্রতিনিয়ত নির্বিচারে মৎস্য বন্দরে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়ে। পলিথিনের বিকল্প না পেয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আর মৎস্য বন্দরের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকার অজুহাতে ফেলছে নদীতে। অথচ আলীপুর, মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছেন। ব্যবসায়ীদের জন্য শুধুমাত্র দু’পাড়ে দুইটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে সরকার। আলীপুরের অবতরণ কেন্দ্রটি ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করলেও মহিপুরেরটি ব্যবহার করছেন না। ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে বার বার বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপন করেছেন মৎস্য অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে আলীপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা পলিথিন ফেলার জন্য বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার জায়গা চেয়েছি। তারা কোন জায়গা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই বিভিন্ন সময় জেলেরা যে পলিথিনগুলো ফেলে দেয় তা নদীর পানির সাথে মিশে যায়।’
পরিবেশ দূষণ রোধ, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ কমানো, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী মশা নির্মূল করা এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালের ১লা মার্চ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধনী) এর মাধ্যমে পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ না করায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয়নি। তাছাড়া মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য পলিথিনের বিকল্প কিছুই পাচ্ছে না মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মাছে বরফ দেয়ার জন্য পাট বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন একই দামে পলিথিনের বিকল্প পেলে তারা ব্যবহার করবেন।
এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী এম.আনিসুর রহমান মামুন বলেন, ‘আমাদের আহরিত মাছগুলো পলিতে প্যাকেট করলে ভালো থাকে। এর বিকল্প যে ব্যাগ আছে তা মাছ প্যাকেট করার উপযোগী না। মাছ সংরক্ষণের জন্য পলিথিনের বিকল্প কিছু আসলে আমরা অবশ্যই ব্যবহার করবো।’
পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় ১০০-৪৫০ বছর পর্যন্ত পরিবেশে অবশিষ্ট থাকে। যার ফলে নদী ও সমুদ্রের পানিতে মিশে জলজপ্রাণীর জীবনহানি ঘটায়। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। সামুদ্রিক পরিবেশ দূষিত করে। অনেক সামুদ্রিক কচ্ছপ, মাছ এবং পাখি ভুলবশত পলিথিন খেয়ে ফেলে, যা তাদের খাদ্যনালীতে আটকে গিয়ে হজমে বাধা সৃষ্টি করে এবং মৃত্যু হয়।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন সমুদ্রে ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ছে। এতে ৩০০ ধরণের প্লাস্টিক পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে কসমেটিকসের মোড়ক রয়েছে। প্লাস্টিক বোতলের একটি বড় অংশ যাচ্ছে উপকূলের মাছ ধরা ট্রলারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সাংবাদিক মেজবাহউদ্দিন মাননু বলেন, ‘উপকূলের মৎস্যবন্দর ব্যবসায়ী ও জেলেদের সচেতন করতে হবে। শুধুমাত্র বিশ্ব পরিবেশ দিবসে একটি র্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। উপজেলা পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটিকে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন রাখতে হবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনব্যবহারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, উৎপাদক, ব্যবহারকারী এবং পরিবেশবাদীদের সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেফাস প্রজেক্টের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ‘পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে নদী ও সমুদ্র দূষণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরকে সম্মিলিতভাবে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের উপর দায় চাপিয়ে নিশ্চুপ থাকলে আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ দিন দিন নষ্ট হবে। আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্যজীবীদের আরো বেশি সচেতন করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মহিপুর-আলীপুর ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফেলছে। এতে আমাদের পরিবেশ ও জলজ পরিবেশ প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে বহুবার বন্দরের ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর জলজপ্রাণী রক্ষা ও নদী দূষণ রোধে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। দ্রুত বন্দর ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করে তাদের ব্যবহৃত পলিথিন নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

১৭ জুলাই, ২০২৫ ১৪:০৫
নদীটির নাম খাপড়াভাঙ্গা। শিববাড়িয়া নদী নামে বেশ পরিচিত। কলকল স্রোতে বয়ে যাওয়া নদীটির দু’প্রান্ত সাগরের সাথে মিলিত হবার কারণে ‘খাপড়াভাঙ্গা দোন’ বলা হয়। নদীটির পশ্চিম প্রান্তে আন্ধারমানিক মোহনা, আর পূর্ব প্রান্ত মিলিত হয়েছে রামনাবাদ মোহনায়।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারগুলো দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে বিধায় ‘প্রোতাশ্রয় নদী’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছে। এই নদীর দু’পাড়ে গড়ে উঠেছে আশাখালী মৎস্যপল্লী, চাপলী বাজার, লক্ষ্মীরহাট এবং আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর। এসব বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে নদীতে।
নদীর পেটের এসব প্লাস্টিক ও পলিথিন ভাটার স্রোতে ভেঁসে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। ধীরে ধীরে ছোট ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপান্তরিত হয়ে খাদ্য ও পানির মাধ্যমে জলজপ্রাণী গ্রহণ করে। এতে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, কমছে মাছের উৎপাদন। শেষমেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাই। আর পরিবেশ নষ্টের অন্যতম কারণ এসব প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং মৎস্য বিভাগকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানায় অবস্থিত খাপড়াভাঙ্গা নদীটি। এটি আকারে ছোট্ট হলেও এই উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দীর্ঘ বছর ধরে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে নদীটি। প্রতিনিয়ত নির্বিচারে মৎস্য বন্দরে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়ে। পলিথিনের বিকল্প না পেয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আর মৎস্য বন্দরের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকার অজুহাতে ফেলছে নদীতে। অথচ আলীপুর, মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছেন। ব্যবসায়ীদের জন্য শুধুমাত্র দু’পাড়ে দুইটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে সরকার। আলীপুরের অবতরণ কেন্দ্রটি ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করলেও মহিপুরেরটি ব্যবহার করছেন না। ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে বার বার বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপন করেছেন মৎস্য অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে আলীপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা পলিথিন ফেলার জন্য বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার জায়গা চেয়েছি। তারা কোন জায়গা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই বিভিন্ন সময় জেলেরা যে পলিথিনগুলো ফেলে দেয় তা নদীর পানির সাথে মিশে যায়।’
পরিবেশ দূষণ রোধ, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ কমানো, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী মশা নির্মূল করা এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালের ১লা মার্চ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধনী) এর মাধ্যমে পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ না করায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয়নি। তাছাড়া মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য পলিথিনের বিকল্প কিছুই পাচ্ছে না মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মাছে বরফ দেয়ার জন্য পাট বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন একই দামে পলিথিনের বিকল্প পেলে তারা ব্যবহার করবেন।
এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী এম.আনিসুর রহমান মামুন বলেন, ‘আমাদের আহরিত মাছগুলো পলিতে প্যাকেট করলে ভালো থাকে। এর বিকল্প যে ব্যাগ আছে তা মাছ প্যাকেট করার উপযোগী না। মাছ সংরক্ষণের জন্য পলিথিনের বিকল্প কিছু আসলে আমরা অবশ্যই ব্যবহার করবো।’
পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় ১০০-৪৫০ বছর পর্যন্ত পরিবেশে অবশিষ্ট থাকে। যার ফলে নদী ও সমুদ্রের পানিতে মিশে জলজপ্রাণীর জীবনহানি ঘটায়। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। সামুদ্রিক পরিবেশ দূষিত করে। অনেক সামুদ্রিক কচ্ছপ, মাছ এবং পাখি ভুলবশত পলিথিন খেয়ে ফেলে, যা তাদের খাদ্যনালীতে আটকে গিয়ে হজমে বাধা সৃষ্টি করে এবং মৃত্যু হয়।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন সমুদ্রে ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ছে। এতে ৩০০ ধরণের প্লাস্টিক পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে কসমেটিকসের মোড়ক রয়েছে। প্লাস্টিক বোতলের একটি বড় অংশ যাচ্ছে উপকূলের মাছ ধরা ট্রলারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সাংবাদিক মেজবাহউদ্দিন মাননু বলেন, ‘উপকূলের মৎস্যবন্দর ব্যবসায়ী ও জেলেদের সচেতন করতে হবে। শুধুমাত্র বিশ্ব পরিবেশ দিবসে একটি র্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। উপজেলা পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটিকে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন রাখতে হবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনব্যবহারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, উৎপাদক, ব্যবহারকারী এবং পরিবেশবাদীদের সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেফাস প্রজেক্টের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ‘পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে নদী ও সমুদ্র দূষণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরকে সম্মিলিতভাবে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের উপর দায় চাপিয়ে নিশ্চুপ থাকলে আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ দিন দিন নষ্ট হবে। আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্যজীবীদের আরো বেশি সচেতন করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মহিপুর-আলীপুর ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফেলছে। এতে আমাদের পরিবেশ ও জলজ পরিবেশ প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে বহুবার বন্দরের ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর জলজপ্রাণী রক্ষা ও নদী দূষণ রোধে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। দ্রুত বন্দর ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করে তাদের ব্যবহৃত পলিথিন নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪