প্রেম-বিচ্ছেদে থাকে বিরহ বা বিষাদের ছায়া। কিন্তু যে কোন মৃত্যুর সংবাদ ঘিরে ধরে সাদা কাপড়ে শোকের বেড়াজালে। যদিও এই ধরাধামে জন্মিলে মৃত্যু হয়- একথা অবধারিত সত্য। কিন্তু সব মৃত্যু একমাত্র নিকট স্বজন ব্যতিত অন্যদের মনকে নাড়া দেয় না। যেমন বরিশাল মিডিয়ায় অনেক দিন পর শোকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে যুব বয়সি সাংবাদিক আরিফিন তুষারের না ফেরার দেশে যাত্রার খবর। গত ০৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় বরিশাল সদর রোডস্থ হাবিব ভবনের নিজ অফিস কক্ষে বুকের ব্যথায় ঢলে পড়ার পর শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, যে সৃষ্টি করেছে সেই কর্তাই তাঁর হৃদপিণ্ড থামিয়ে দিয়েছে চিরতরে। কেনো বিধাতা এই অল্পবয়সি তরুণের জীবনের প্রাদপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে পরপারে ডাক দিয়ে নিয়ে গেলেন তার রহস্য একমাত্র তিনিই যানেন।
কিন্তু আমরা সহকর্মী এবং তাঁর নিকট স্বজনরা জেনেছিলাম- ভেবেছিলাম এই যুবকের সংবাদপত্রের পথ-পক্রিমায় যাত্রা পথ অনেক দীর্ঘ হবে। একমাত্র সন্তান আরহাব ও স্ত্রী শানজিদাকে নিয়ে জীবন সংগ্রামের কঠিনতর দিন পার হয়ে সুদিন ছিল অনাগত। হয়েছিলও তাই। দেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা কালবেলায় বরিশাল ব্যুরো চিফের দায়িত্ব পাওয়ার পর ছন্নছাড়া এই যুবকের জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়, সেই সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রস্ফূটিত হয়েছিল। কিন্তু এই সুখ যে বেশিদিন সইবে না তা কে জেনেছিল? আমার যতুটুকু মনে পরে ২০০৮ সালের দিকে যখন আমি তৎসময়কার জনপ্রিয় এবং সাহসি পত্রিকা হিসেবে অল্প দিনে পাঠক মহলে আলোড়িত দৈনিক বাংলার বনে এক ঝাঁক তরুণের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে, ঠিক তখন প্রায়ত সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান লিটন বাশারের খালাতো ভাই হিসেবে এই তরুণ আমার কাছে আসতো এবং নানা আলাপচারিতায় নিজ জীবনের পরিকল্পনার নানাদিক তুলে ধরতো। কখনো কখনো ভাইয়া সম্মোধন করে বায়না ধরতো, সাংবাদিকতার আধুনিকায়নের ছোঁয়া কিভাবে পাওয়া যায়, সেই কৌশল জানার। সেই সাথে আমার লেখা ও সাহসের প্রশংসায় আমাকে এতটাই তুষ্ট করত যে, আমি ওকে নিজ ছোট ভাইয়ের মত দেখতে শুরু করি। নিজে নিজে কখন একান্তে ভাবি এই তরুণ হয়তো একদিন ভালো মিডিয়াকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হবে।
জীবনে চলার পথে প্রত্যেক মানুষেরই ভুলত্রুটি থাকে, কেউই ফেরেস্তা নয়। ওর চলন-বলনে কিছু ভুল চোখে পড়ে, যা পরে নিজেই শুধরে নেয়। সাংবাদিকতার এই কঠিন জীবনে পোড়খাওয়া কিছু ঘটনাবলীর কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। একটা সময় নিজ খালাতো ভাই লিটন বাশারের সাথে ওর দূরত্ব তৈরি হলেও পর্যয়ক্রমে তারা আবার দুইজনে এক মোহনায় মিলিত হয়। কিন্তু আঁচ করতে পারি ভাই লিটন বাশার বড়মাপের সাংবাদিক হলেও আরিফিন তুষারকে ভালো একটা যায়গায় পৌছে দিতে সহায়ক ভূমিকায় না রাখায় চাপা আফসোস বয়ে বেড়াতেন। ভাই বলেতো কথা, রক্তের বাঁধন কি ছিন্ন হয়? আরিফিন তুষারকে একটি জায়গা করে দিতে লিটন বাশার সম্পাদিত আঞ্চলিক দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকায় একটি পদে বসিয়ে ভালো রিপোর্ট করার তাগিদ দিতে শুরু করেন। দুরন্তপনায় অব্যস্ত এই যুবককে কি সামাল দেয়া যায়। ইচ্ছা আছে কিন্তু সারাদিন হৈ-হুল্লায় মেতে থাকায় ভালো রিপোর্টিংয়ে পিছিয়ে পরতো তাঁর নিজ পত্রিকার সহকর্মীদের থেকে। নিয়তির কি খেলা দুই ভাইয়ের সম্পর্ক যখন মধুময় হয়ে উঠে, তখনি লিটন বাশার হঠাৎ নিজ গ্রাম চরমোনাইয়ের আবাসভূমির বাঁশবাগানের নিচে ঠাঁই নেয় হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে।
বরিশাল মিডিয়ার উজ্জ¦ল নক্ষত্র লিটন বাশারের মৃত্যুও ছিল এক বড় অঘটন অন্তত বরিশাল মিডিয়া জগতে। শেষমেশ দেখা গেল দুই ভাইয়ের মৃত্যুযাত্রা যেন একই পথের পথিক হয়ে দাঁড়ালো। লিটন বাশারও মৃত্যুকালে এক শিশু পুত্র সন্তান রেখে যান। মারা যান হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেই শেবাচিমে। আরিফিন তুষারের মৃত্যুও ঘটলো একই রকম। রেখে গেলেন দেড় বছরের এক শিশু পুত্র। কিন্তু জীবন চলার বাঁকে ব্যতিক্রমতা এখানেই আরিফিন তুষারের জীবনে হঠাৎ পরিবর্তন ঘটলেও লেখালেখিতে বেশিমাত্রায় মনযোগ এবং প্রেসক্লাব নিয়ে সাংবাদিকতার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠায়। পরিচিত হয়েও উঠেছি বেশ অল্পদিনেই। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বরিশাল প্রেসক্লাবের কয়েক দফা দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মতবাদ পত্রিকার সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন স্নেহ দিয়ে আগলে ধরে রাখায় দুজনের সম্পর্ক দুই ভাইয়ে রূপ নেওয়ায় লিটন বাশারের শূন্যতা কিছুটা পূরণ করে এই যুবকের যেন নতুন উত্থান ঘটেছিল।
২০২৪ সালের শেষের দিকে দৈনিক কালবেলায় আরিফিন তুষার যোগদানের পর বেশকিছু সংবাদ প্রকাশ করে আলোচনায় আসে, সেই সাথে প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে বারবার নির্বাচিত হয়ে আলোচনার টেবিলে নিজের নামের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি স্ত্রী শানজিদাকে নিয়ে সাংসারিক জীবন শুরু করলে এই দম্পত্তির ঘরে আলোকিত করে আসে পুত্র সন্তান আরহাব। এরপরই আরিফিন তুষার কিছুটা ব্যতিত্বময় ও কর্মজীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আগামীর দিনগুলো সুখকর করে তোলার কঠিনতর এক লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিধিবাম। সবকিছুই ওল্টো-পাল্ট হয়ে গেল গত ০৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা রাতে। যেন মেঘবিহীন আকাশ থেকে বজ্রপাতের মত সংবাদ ছড়িয়ে পরলো আরিফিন তুষার আর নেই। সঙ্গত কারণে এই আধুনিক যুগে মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ভাইরাল হয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়ায়। সেই সাথে শোকের সাগরে ভাসতে থাকে ‘শত্রু থেকে মিত্র পর্যন্ত’। সকলে ভেদাভেদ ভুলে গেল, চোখ যেন অশ্রুসজল হয়ে টপটপিয়ে পানি পড়ছিল। না বল্লেই নয় মৃত্যুকালে তাঁর সাথে থাকা যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার অনিকেত মাসুদ যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পাথরে রূপ নিয়েছিল। সময়ের প্রেক্ষাপটে আফসোস হচ্ছিল বা প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায় এক অকল্পনিয় শব্দ, হারে অকালে ঝরে গেল সদ্য ফুটান্ত গোলাপের পাপড়ির মত এই যুবক সাংবাদিক।
আরিফিন তুষারের ঘরে কান্নার রোল এতটাই উচ্চতর হয়ে উঠেছিল যে অনেকই নিজেকে সংবরণ করতে পারছিলেন না। আরিফিন তুষারের লাশ রাতেই শেবাচিম হাসপাতাল থেকে নগরীর কলেজ এভিনিউ ভাড়া বাসায় নিয়ে আসার পর তার সহকর্মীরা যে যেখানে ছিল ছুটে যান। তার শবদাহের চারপাশে দাঁড়িয়ে যেন স্মৃতি হাতরাছিল আরিফিন তুষারের সাথে ফেলে আসা সেই দিনগুলো সামনে চলে আসায়। কেউ কেউ যেন অপলোক সৃষ্টিতে তাঁর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল সকাল বেলাওতো দেখা হল তুষারের সাথে (!)।
এই তুষার কি সেই তুষার? কিন্তু বাস্তবতা তো মানতেই হবে। সইতেই যে হবে শোক। কারণ এই নশ্বর পৃথীবিতে একবার কেউ আসলে পরপারে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ধর্মনিবিশেষ সকলকেই। তুষারের এই অকাল মৃত্যু সেই বাস্তবতাকে অনেকেই মানতে পারছিল না। এরপর রাতভর যা হবার তাই হচ্ছিল। একদিকে কান্নার শব্দ, অন্যদিকে তুষারের শবদাহ কিভাবে নিজ গ্রাম মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিকে নিয়ে যাওয়া এবং কোন বাঁশ বাগানের নিচে সমাধিস্থ করে বিদায় জানানো হবে তার সব আয়োজন চলছিল।
গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রথমে নগরের আগরপুর রোডস্থ প্রেসক্লাব চত্বরে তার শবদাহ নিয়ে আসার পর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো শেষে অশ্বিনী কুমার হল সম্মুখে জানাজা নামাজে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। এরপর এই নগরকে বিদায় জানিয়ে নিথর তুষার গাড়ির ভিতরে পিছনের অংশে শায়িত আর সামনে তাঁর পিতা অর্থাৎ দাদার কোলে শিশু পুত্র আরহাব এবং শবদাহবাহী গাড়ির বহরে সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেন ও কাজী আল মামুনের নেতৃত্বে অশ্রুসজল সহকর্মীরা ছুটে চলে জন্মভূমি মেহেন্দিগঞ্জের দিকে।
ঠিক সকাল ১১ টার দিকে এ বিদায় যে শেষ বিদায় তা কি দৃশ্যপট দেখে ভাবা যায়? তবুও শোকাতর মনকে সান্ত্বনা তো দিতেই হচ্ছে কোন না কোন যুক্তির ছলাকলে। দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করার পর নিথর আরিফিন তুষার মুখে কিছু না বললেও সাদা পোষকে আবৃত তার মুখবয় যেন বলছিল তোমরা আমাকে ভুলো না।
তেমাকে ভোলাতো যাবেই না, কারণ তুমি যে স্মৃতি রেখে গেছো তাতো অনন্তকাল বয়ে বেড়াতে হবে স্বজন-সহকর্মীদের। কিন্তু শোক আর বেদনা একাকিত্ব হয়ে হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সে ব্যথাও কম কাতরাতে হবে না, তা জেনেও আমাদের শোকাতুর মনকে শক্ত করে থাকতে হবে তোমার কাছে অর্থাৎ না ফেরার দেশে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত। কায়েমনে প্রার্থনা করি পরপারে তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো। সম্ভবত যেমনটি রয়েছে, চরমোনাইয়ের বাশ বাগানের নিচে শায়িত তোমারই অগ্রজ লিটন বাশার।
আমরা অন্তত সংবাদকর্মীরা তোমার স্মৃতি স্মরণ করে ভাববো তুমি হয়তো বা বাসায় আছো, নয়তো বা কিছুক্ষণ পরেই কোথা থেকে আগন্তকের ন্যায় হঠাৎ উপস্থিত হবে কোন খবরের তথ্য-উপাত্ত্ব নিয়ে। এই তো জীবন। এভাবেই উত্থান, এভাবেই বিদায় যা পৃথিবীর বাস্তবতা। এমন বাস্তবতা মেনেইতো তোমার ভাই লিটন বাশারে মৃত্যুর শোক আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সৃষ্টি কর্তার কাছে কাঙ্গাল বিশেষ করে সংবাদকর্মীরা। পৃথিবি থেকে তোমরা দুই ভাই এবং সদ্য প্রয়াত দৈনিক আজকের বার্তার সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল চলে চাওয়ায় বরিশাল মিডিয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাবে কে? এমন প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষার মাঝে হতো বা আবার কোন শোকের পাথর বুকে চেপে ধরবে কখন কে জানে। বাস্তবিক অর্থে এমন সময়কাল সমগত থাকলেও তোমরা দু’ভাই আমাদের মাঝে অনন্তকাল স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে। এরূপ বরিশাল মিডিয়ায় অনেককে হারিয়ে অম্লান স্মৃতি আজও কাঁদায় আমাদের।’
লেখক: শাকিব বিপ্লব, সম্পাদক বরিশালটাইমস।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল নগরীর বাজারব্যবস্থায় অনিয়মের লাগাম টানতে ফের মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত তদারকি অভিযানে নানা অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর স্টিমার ঘাট, স্বরোড, নবগ্রাম রোড ও চৌমাথা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের নিত্যদিনের কেনাবেচার অন্তরালে থাকা নানা অসংগতি খতিয়ে দেখেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ফল, গ্যাস, ডিমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিক্রয়ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় ছয়টি ফলের দোকান, একটি রেস্টুরেন্ট, একটি ওষুধের দোকান এবং একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সম্মিলিতভাবে ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাজারে ভোক্তার অধিকার ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার মধ্যে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরিশাল নগরীর বাজারব্যবস্থায় অনিয়মের লাগাম টানতে ফের মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত তদারকি অভিযানে নানা অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর স্টিমার ঘাট, স্বরোড, নবগ্রাম রোড ও চৌমাথা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের নিত্যদিনের কেনাবেচার অন্তরালে থাকা নানা অসংগতি খতিয়ে দেখেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ফল, গ্যাস, ডিমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিক্রয়ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় ছয়টি ফলের দোকান, একটি রেস্টুরেন্ট, একটি ওষুধের দোকান এবং একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সম্মিলিতভাবে ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাজারে ভোক্তার অধিকার ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার মধ্যে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৯
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
বরিশাল নগরের রসুলপুর বরফকল এলাকায় পিকআপ ভ্যানে তৈরি করা হয়েছিল গোপন চেম্বার। সেই চেম্বারেই লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৯০ কেজি গাঁজা। আটক করা হয়েছে রাহুল হাওলাদার নামে এক যুবককে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানটির পাশে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে রাহুল হাওলাদারকে আটক করা সম্ভব হলেও পালিয়ে যান আরও দুজন।
পরে পিকআপের পেছনের ঢালাইয়ের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান ডিএনসি সদস্যরা। চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা। প্রতিটি পোটলায় ছিল তিন কেজি করে গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৯০ কেজি গাঁজা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের একটি কপিও জব্দ করা হয়।
আটক রাহুল হাওলাদার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। পলাতক দুজন হলেন মো. সিরাজ মিয়া (৩৭) এবং মো. পলাশ হাওলাদার (৪২)।
বরিশাল ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন, “গাঁজা পরিবহনের জন্য পিকআপটির পেছনে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
বরিশাল-মাদারীপুর সীমান্তে বাসের সিট নিয়ে বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি দোকান। ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের সিট চাইলে কাউন্টারের সুপারভাইজার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এমারতের সঙ্গে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কাউন্টারে যান এমারত। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
সংঘর্ষে ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল-মাদারীপুর সীমান্তে বাসের সিট নিয়ে বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি দোকান। ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের সিট চাইলে কাউন্টারের সুপারভাইজার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এমারতের সঙ্গে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কাউন্টারে যান এমারত। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
সংঘর্ষে ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২১:১০
প্রেম-বিচ্ছেদে থাকে বিরহ বা বিষাদের ছায়া। কিন্তু যে কোন মৃত্যুর সংবাদ ঘিরে ধরে সাদা কাপড়ে শোকের বেড়াজালে। যদিও এই ধরাধামে জন্মিলে মৃত্যু হয়- একথা অবধারিত সত্য। কিন্তু সব মৃত্যু একমাত্র নিকট স্বজন ব্যতিত অন্যদের মনকে নাড়া দেয় না। যেমন বরিশাল মিডিয়ায় অনেক দিন পর শোকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে যুব বয়সি সাংবাদিক আরিফিন তুষারের না ফেরার দেশে যাত্রার খবর। গত ০৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় বরিশাল সদর রোডস্থ হাবিব ভবনের নিজ অফিস কক্ষে বুকের ব্যথায় ঢলে পড়ার পর শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, যে সৃষ্টি করেছে সেই কর্তাই তাঁর হৃদপিণ্ড থামিয়ে দিয়েছে চিরতরে। কেনো বিধাতা এই অল্পবয়সি তরুণের জীবনের প্রাদপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে পরপারে ডাক দিয়ে নিয়ে গেলেন তার রহস্য একমাত্র তিনিই যানেন।
কিন্তু আমরা সহকর্মী এবং তাঁর নিকট স্বজনরা জেনেছিলাম- ভেবেছিলাম এই যুবকের সংবাদপত্রের পথ-পক্রিমায় যাত্রা পথ অনেক দীর্ঘ হবে। একমাত্র সন্তান আরহাব ও স্ত্রী শানজিদাকে নিয়ে জীবন সংগ্রামের কঠিনতর দিন পার হয়ে সুদিন ছিল অনাগত। হয়েছিলও তাই। দেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা কালবেলায় বরিশাল ব্যুরো চিফের দায়িত্ব পাওয়ার পর ছন্নছাড়া এই যুবকের জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়, সেই সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রস্ফূটিত হয়েছিল। কিন্তু এই সুখ যে বেশিদিন সইবে না তা কে জেনেছিল? আমার যতুটুকু মনে পরে ২০০৮ সালের দিকে যখন আমি তৎসময়কার জনপ্রিয় এবং সাহসি পত্রিকা হিসেবে অল্প দিনে পাঠক মহলে আলোড়িত দৈনিক বাংলার বনে এক ঝাঁক তরুণের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে, ঠিক তখন প্রায়ত সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান লিটন বাশারের খালাতো ভাই হিসেবে এই তরুণ আমার কাছে আসতো এবং নানা আলাপচারিতায় নিজ জীবনের পরিকল্পনার নানাদিক তুলে ধরতো। কখনো কখনো ভাইয়া সম্মোধন করে বায়না ধরতো, সাংবাদিকতার আধুনিকায়নের ছোঁয়া কিভাবে পাওয়া যায়, সেই কৌশল জানার। সেই সাথে আমার লেখা ও সাহসের প্রশংসায় আমাকে এতটাই তুষ্ট করত যে, আমি ওকে নিজ ছোট ভাইয়ের মত দেখতে শুরু করি। নিজে নিজে কখন একান্তে ভাবি এই তরুণ হয়তো একদিন ভালো মিডিয়াকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হবে।
জীবনে চলার পথে প্রত্যেক মানুষেরই ভুলত্রুটি থাকে, কেউই ফেরেস্তা নয়। ওর চলন-বলনে কিছু ভুল চোখে পড়ে, যা পরে নিজেই শুধরে নেয়। সাংবাদিকতার এই কঠিন জীবনে পোড়খাওয়া কিছু ঘটনাবলীর কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। একটা সময় নিজ খালাতো ভাই লিটন বাশারের সাথে ওর দূরত্ব তৈরি হলেও পর্যয়ক্রমে তারা আবার দুইজনে এক মোহনায় মিলিত হয়। কিন্তু আঁচ করতে পারি ভাই লিটন বাশার বড়মাপের সাংবাদিক হলেও আরিফিন তুষারকে ভালো একটা যায়গায় পৌছে দিতে সহায়ক ভূমিকায় না রাখায় চাপা আফসোস বয়ে বেড়াতেন। ভাই বলেতো কথা, রক্তের বাঁধন কি ছিন্ন হয়? আরিফিন তুষারকে একটি জায়গা করে দিতে লিটন বাশার সম্পাদিত আঞ্চলিক দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকায় একটি পদে বসিয়ে ভালো রিপোর্ট করার তাগিদ দিতে শুরু করেন। দুরন্তপনায় অব্যস্ত এই যুবককে কি সামাল দেয়া যায়। ইচ্ছা আছে কিন্তু সারাদিন হৈ-হুল্লায় মেতে থাকায় ভালো রিপোর্টিংয়ে পিছিয়ে পরতো তাঁর নিজ পত্রিকার সহকর্মীদের থেকে। নিয়তির কি খেলা দুই ভাইয়ের সম্পর্ক যখন মধুময় হয়ে উঠে, তখনি লিটন বাশার হঠাৎ নিজ গ্রাম চরমোনাইয়ের আবাসভূমির বাঁশবাগানের নিচে ঠাঁই নেয় হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে।
বরিশাল মিডিয়ার উজ্জ¦ল নক্ষত্র লিটন বাশারের মৃত্যুও ছিল এক বড় অঘটন অন্তত বরিশাল মিডিয়া জগতে। শেষমেশ দেখা গেল দুই ভাইয়ের মৃত্যুযাত্রা যেন একই পথের পথিক হয়ে দাঁড়ালো। লিটন বাশারও মৃত্যুকালে এক শিশু পুত্র সন্তান রেখে যান। মারা যান হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেই শেবাচিমে। আরিফিন তুষারের মৃত্যুও ঘটলো একই রকম। রেখে গেলেন দেড় বছরের এক শিশু পুত্র। কিন্তু জীবন চলার বাঁকে ব্যতিক্রমতা এখানেই আরিফিন তুষারের জীবনে হঠাৎ পরিবর্তন ঘটলেও লেখালেখিতে বেশিমাত্রায় মনযোগ এবং প্রেসক্লাব নিয়ে সাংবাদিকতার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠায়। পরিচিত হয়েও উঠেছি বেশ অল্পদিনেই। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বরিশাল প্রেসক্লাবের কয়েক দফা দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মতবাদ পত্রিকার সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন স্নেহ দিয়ে আগলে ধরে রাখায় দুজনের সম্পর্ক দুই ভাইয়ে রূপ নেওয়ায় লিটন বাশারের শূন্যতা কিছুটা পূরণ করে এই যুবকের যেন নতুন উত্থান ঘটেছিল।
২০২৪ সালের শেষের দিকে দৈনিক কালবেলায় আরিফিন তুষার যোগদানের পর বেশকিছু সংবাদ প্রকাশ করে আলোচনায় আসে, সেই সাথে প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে বারবার নির্বাচিত হয়ে আলোচনার টেবিলে নিজের নামের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি স্ত্রী শানজিদাকে নিয়ে সাংসারিক জীবন শুরু করলে এই দম্পত্তির ঘরে আলোকিত করে আসে পুত্র সন্তান আরহাব। এরপরই আরিফিন তুষার কিছুটা ব্যতিত্বময় ও কর্মজীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আগামীর দিনগুলো সুখকর করে তোলার কঠিনতর এক লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিধিবাম। সবকিছুই ওল্টো-পাল্ট হয়ে গেল গত ০৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা রাতে। যেন মেঘবিহীন আকাশ থেকে বজ্রপাতের মত সংবাদ ছড়িয়ে পরলো আরিফিন তুষার আর নেই। সঙ্গত কারণে এই আধুনিক যুগে মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ভাইরাল হয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়ায়। সেই সাথে শোকের সাগরে ভাসতে থাকে ‘শত্রু থেকে মিত্র পর্যন্ত’। সকলে ভেদাভেদ ভুলে গেল, চোখ যেন অশ্রুসজল হয়ে টপটপিয়ে পানি পড়ছিল। না বল্লেই নয় মৃত্যুকালে তাঁর সাথে থাকা যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার অনিকেত মাসুদ যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পাথরে রূপ নিয়েছিল। সময়ের প্রেক্ষাপটে আফসোস হচ্ছিল বা প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায় এক অকল্পনিয় শব্দ, হারে অকালে ঝরে গেল সদ্য ফুটান্ত গোলাপের পাপড়ির মত এই যুবক সাংবাদিক।
আরিফিন তুষারের ঘরে কান্নার রোল এতটাই উচ্চতর হয়ে উঠেছিল যে অনেকই নিজেকে সংবরণ করতে পারছিলেন না। আরিফিন তুষারের লাশ রাতেই শেবাচিম হাসপাতাল থেকে নগরীর কলেজ এভিনিউ ভাড়া বাসায় নিয়ে আসার পর তার সহকর্মীরা যে যেখানে ছিল ছুটে যান। তার শবদাহের চারপাশে দাঁড়িয়ে যেন স্মৃতি হাতরাছিল আরিফিন তুষারের সাথে ফেলে আসা সেই দিনগুলো সামনে চলে আসায়। কেউ কেউ যেন অপলোক সৃষ্টিতে তাঁর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল সকাল বেলাওতো দেখা হল তুষারের সাথে (!)।
এই তুষার কি সেই তুষার? কিন্তু বাস্তবতা তো মানতেই হবে। সইতেই যে হবে শোক। কারণ এই নশ্বর পৃথীবিতে একবার কেউ আসলে পরপারে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ধর্মনিবিশেষ সকলকেই। তুষারের এই অকাল মৃত্যু সেই বাস্তবতাকে অনেকেই মানতে পারছিল না। এরপর রাতভর যা হবার তাই হচ্ছিল। একদিকে কান্নার শব্দ, অন্যদিকে তুষারের শবদাহ কিভাবে নিজ গ্রাম মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিকে নিয়ে যাওয়া এবং কোন বাঁশ বাগানের নিচে সমাধিস্থ করে বিদায় জানানো হবে তার সব আয়োজন চলছিল।
গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রথমে নগরের আগরপুর রোডস্থ প্রেসক্লাব চত্বরে তার শবদাহ নিয়ে আসার পর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো শেষে অশ্বিনী কুমার হল সম্মুখে জানাজা নামাজে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। এরপর এই নগরকে বিদায় জানিয়ে নিথর তুষার গাড়ির ভিতরে পিছনের অংশে শায়িত আর সামনে তাঁর পিতা অর্থাৎ দাদার কোলে শিশু পুত্র আরহাব এবং শবদাহবাহী গাড়ির বহরে সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেন ও কাজী আল মামুনের নেতৃত্বে অশ্রুসজল সহকর্মীরা ছুটে চলে জন্মভূমি মেহেন্দিগঞ্জের দিকে।
ঠিক সকাল ১১ টার দিকে এ বিদায় যে শেষ বিদায় তা কি দৃশ্যপট দেখে ভাবা যায়? তবুও শোকাতর মনকে সান্ত্বনা তো দিতেই হচ্ছে কোন না কোন যুক্তির ছলাকলে। দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করার পর নিথর আরিফিন তুষার মুখে কিছু না বললেও সাদা পোষকে আবৃত তার মুখবয় যেন বলছিল তোমরা আমাকে ভুলো না।
তেমাকে ভোলাতো যাবেই না, কারণ তুমি যে স্মৃতি রেখে গেছো তাতো অনন্তকাল বয়ে বেড়াতে হবে স্বজন-সহকর্মীদের। কিন্তু শোক আর বেদনা একাকিত্ব হয়ে হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সে ব্যথাও কম কাতরাতে হবে না, তা জেনেও আমাদের শোকাতুর মনকে শক্ত করে থাকতে হবে তোমার কাছে অর্থাৎ না ফেরার দেশে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত। কায়েমনে প্রার্থনা করি পরপারে তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো। সম্ভবত যেমনটি রয়েছে, চরমোনাইয়ের বাশ বাগানের নিচে শায়িত তোমারই অগ্রজ লিটন বাশার।
আমরা অন্তত সংবাদকর্মীরা তোমার স্মৃতি স্মরণ করে ভাববো তুমি হয়তো বা বাসায় আছো, নয়তো বা কিছুক্ষণ পরেই কোথা থেকে আগন্তকের ন্যায় হঠাৎ উপস্থিত হবে কোন খবরের তথ্য-উপাত্ত্ব নিয়ে। এই তো জীবন। এভাবেই উত্থান, এভাবেই বিদায় যা পৃথিবীর বাস্তবতা। এমন বাস্তবতা মেনেইতো তোমার ভাই লিটন বাশারে মৃত্যুর শোক আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সৃষ্টি কর্তার কাছে কাঙ্গাল বিশেষ করে সংবাদকর্মীরা। পৃথিবি থেকে তোমরা দুই ভাই এবং সদ্য প্রয়াত দৈনিক আজকের বার্তার সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল চলে চাওয়ায় বরিশাল মিডিয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাবে কে? এমন প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষার মাঝে হতো বা আবার কোন শোকের পাথর বুকে চেপে ধরবে কখন কে জানে। বাস্তবিক অর্থে এমন সময়কাল সমগত থাকলেও তোমরা দু’ভাই আমাদের মাঝে অনন্তকাল স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে। এরূপ বরিশাল মিডিয়ায় অনেককে হারিয়ে অম্লান স্মৃতি আজও কাঁদায় আমাদের।’
লেখক: শাকিব বিপ্লব, সম্পাদক বরিশালটাইমস।
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৩