বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #

বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #


১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০
শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৫৮
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫