টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
তিনি জানান, ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। দলটিকে তিনি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—এই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নাটকীয় বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পরেই এ ঘোষণা দিলেন তিনি। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়ায় মাস্ক নিজে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অযোগ্য। দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন, তাও উল্লেখ করেননি তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়ানোর সময়ই মাস্ক প্রথম এই দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার সাবেক মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন।
সেই বিরোধের সময় মাস্ক এক্স-এ একটি মতামত জরিপ চালান, যেখানে তিনি অনুসারীদের জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল প্রয়োজন কি না। শনিবার সেই জরিপের প্রসঙ্গ টেনে মাস্ক লেখেন, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ নতুন দল চেয়েছেন এবং সেটাই আপনারা পেতে চলেছেন!’
এক্সে তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশকে অপচয় ও দুর্নীতিতে দেউলিয়া করে ফেলার ক্ষেত্রে আমরা একদলীয় শাসনে বাস করি, কোনও প্রকৃত গণতন্ত্রে নয়। আজ আমেরিকা পার্টি গঠিত হলো আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।’
শনিবার পর্যন্ত দলটির নিবন্ধনের কোনো কাগজপত্র যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকটোরাল কমিশন প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত দুই প্রধান দলের বাইরে থেকে রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলার চেষ্টা আগে অনেকেই করেছেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে বাস্তব হুমকি হয়ে ওঠা তাদের জন্য বরাবরই কঠিন হয়েছে।
গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লিবার্টারিয়ান পার্টি, গ্রিন পার্টি এবং পিপলস পার্টির প্রার্থীরা ট্রাম্প বা তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাস্ক গত বছর নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে নাচতেও দেখা গেছে তাকে। এমনকি তার চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে সাক্ষাৎ করেন।
মাস্ক ছিলেন ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষকও। তিনি ট্রাম্পকে পুনর্নির্বাচনের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর মাস্ককে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগ’ নামে একটি নতুন দফতরের প্রধান করা হয়। দফতরটির কাজ ছিল ফেডারেল বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা।
তবে মে মাসে মাস্ক প্রশাসন ত্যাগ করলে এবং ট্রাম্পের কর ও ব্যয় পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিল সম্প্রতি কংগ্রেসে খুব অল্প ব্যবধানে পাস হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করেছেন।
বিলটিতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ এবং কর ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং আগামী এক দশকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিতে অতিরিক্ত ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি যুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিলের কড়া সমালোচনা করেছেন মাস্ক। তিনি বলেছেন, ‘বিলটি যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া করে দেবে।’ টেসলার মালিক হিসেবে মাস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটিতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বা ইলেকট্রিক গাড়ির মতো পণ্যের জন্য কোনও প্রণোদনা রাখা হয়নি।
ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, ‘ইতিহাসে কোনও মানুষ এত বেশি ভর্তুকি পেয়েছেন বলে জানা যায় না, যতটা মাস্ক পেয়েছেন। ভর্তুকি ছাড়া ইলন সম্ভবত দোকান বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতেন।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি দক্ষতা বিভাগকে মাস্কের কোম্পানিগুলোর জন্য দেওয়া ভর্তুকি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হবে। ট্রাম্প মাস্কের অন্যান্য ব্যবসার দিকেও ইঙ্গিত করেন।
এর আগে মাস্ক বলেছিলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং ট্রাম্পের করছাড় ও ব্যয় বৃদ্ধি বিলের সমর্থন দেওয়া আইনপ্রণেতাদের পরবর্তী নির্বাচনে হারাতে অর্থ ব্যয় করবেন।
রিপাবলিকানদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেডইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মধ্যে তাকে আটক করা হয়। ভোটকেন্দ্র ও পরে দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সকাল থেকেই রেজিনগরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন হুমায়ুন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন তিনি। একপর্যায়ে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা।
পরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে গেলে সেখানে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হুমায়ুনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাকে ‘দালালি না করার’ কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়।
হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটের দিন সকাল থেকেই তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এ নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি পুলিশের সমালোচনা করেন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর বলেন, হুমায়ুন কবীর উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, এমনকি কোনো প্রার্থীর এজেন্টও নন। তাই নির্বাচনী এলাকায় তার এভাবে ঘোরাফেরার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রেজিনগরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নন্দীগ্রাম আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেডইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মধ্যে তাকে আটক করা হয়। ভোটকেন্দ্র ও পরে দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সকাল থেকেই রেজিনগরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন হুমায়ুন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন তিনি। একপর্যায়ে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা।
পরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে গেলে সেখানে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হুমায়ুনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাকে ‘দালালি না করার’ কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়।
হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটের দিন সকাল থেকেই তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এ নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি পুলিশের সমালোচনা করেন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর বলেন, হুমায়ুন কবীর উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, এমনকি কোনো প্রার্থীর এজেন্টও নন। তাই নির্বাচনী এলাকায় তার এভাবে ঘোরাফেরার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রেজিনগরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নন্দীগ্রাম আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৮
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর আরব নিউজের।
যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেও কাজ করে যাবে রিয়াদ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না দেশটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদারে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই চুক্তি।
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ভূমিকা রাখছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক জলপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেন সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান যুবরাজ।
ভাষণে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতিও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি জানান, ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ। একই সময়ে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়াতে চায় সৌদি আরব।
এআই খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়াও দেশটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর আরব নিউজের।
যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেও কাজ করে যাবে রিয়াদ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না দেশটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদারে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই চুক্তি।
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ভূমিকা রাখছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক জলপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেন সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান যুবরাজ।
ভাষণে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতিও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি জানান, ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ। একই সময়ে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়াতে চায় সৌদি আরব।
এআই খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়াও দেশটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

০৬ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৩০
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
তিনি জানান, ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। দলটিকে তিনি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—এই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নাটকীয় বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পরেই এ ঘোষণা দিলেন তিনি। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়ায় মাস্ক নিজে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অযোগ্য। দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন, তাও উল্লেখ করেননি তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়ানোর সময়ই মাস্ক প্রথম এই দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার সাবেক মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন।
সেই বিরোধের সময় মাস্ক এক্স-এ একটি মতামত জরিপ চালান, যেখানে তিনি অনুসারীদের জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল প্রয়োজন কি না। শনিবার সেই জরিপের প্রসঙ্গ টেনে মাস্ক লেখেন, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ নতুন দল চেয়েছেন এবং সেটাই আপনারা পেতে চলেছেন!’
এক্সে তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশকে অপচয় ও দুর্নীতিতে দেউলিয়া করে ফেলার ক্ষেত্রে আমরা একদলীয় শাসনে বাস করি, কোনও প্রকৃত গণতন্ত্রে নয়। আজ আমেরিকা পার্টি গঠিত হলো আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।’
শনিবার পর্যন্ত দলটির নিবন্ধনের কোনো কাগজপত্র যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকটোরাল কমিশন প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত দুই প্রধান দলের বাইরে থেকে রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলার চেষ্টা আগে অনেকেই করেছেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে বাস্তব হুমকি হয়ে ওঠা তাদের জন্য বরাবরই কঠিন হয়েছে।
গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লিবার্টারিয়ান পার্টি, গ্রিন পার্টি এবং পিপলস পার্টির প্রার্থীরা ট্রাম্প বা তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাস্ক গত বছর নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে নাচতেও দেখা গেছে তাকে। এমনকি তার চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে সাক্ষাৎ করেন।
মাস্ক ছিলেন ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষকও। তিনি ট্রাম্পকে পুনর্নির্বাচনের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর মাস্ককে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগ’ নামে একটি নতুন দফতরের প্রধান করা হয়। দফতরটির কাজ ছিল ফেডারেল বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা।
তবে মে মাসে মাস্ক প্রশাসন ত্যাগ করলে এবং ট্রাম্পের কর ও ব্যয় পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিল সম্প্রতি কংগ্রেসে খুব অল্প ব্যবধানে পাস হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করেছেন।
বিলটিতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ এবং কর ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং আগামী এক দশকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিতে অতিরিক্ত ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি যুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিলের কড়া সমালোচনা করেছেন মাস্ক। তিনি বলেছেন, ‘বিলটি যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া করে দেবে।’ টেসলার মালিক হিসেবে মাস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটিতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বা ইলেকট্রিক গাড়ির মতো পণ্যের জন্য কোনও প্রণোদনা রাখা হয়নি।
ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, ‘ইতিহাসে কোনও মানুষ এত বেশি ভর্তুকি পেয়েছেন বলে জানা যায় না, যতটা মাস্ক পেয়েছেন। ভর্তুকি ছাড়া ইলন সম্ভবত দোকান বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতেন।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি দক্ষতা বিভাগকে মাস্কের কোম্পানিগুলোর জন্য দেওয়া ভর্তুকি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হবে। ট্রাম্প মাস্কের অন্যান্য ব্যবসার দিকেও ইঙ্গিত করেন।
এর আগে মাস্ক বলেছিলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং ট্রাম্পের করছাড় ও ব্যয় বৃদ্ধি বিলের সমর্থন দেওয়া আইনপ্রণেতাদের পরবর্তী নির্বাচনে হারাতে অর্থ ব্যয় করবেন।
রিপাবলিকানদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১২