Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৫
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #

২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৮
বরিশালের রিফিউজি কলোনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন চিহ্নিত মাদক সম্রাট এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি ‘গাঁজা রফিক’। শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এই রফিকের বিরুদ্ধে এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলার বাদী অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় রফিক ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রফিকের মোবাইল নম্বর থেকে প্রথমে এক নারী এবং পরবর্তীতে রেজা নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আসলামকে চরম হেনস্তা করেন। রেজা এর আগে নিজেকে ‘আলেকান্দা’র বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালান।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রফিক কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, বরং শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডারও নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রুবেলের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ বর্তমানে রফিকের কাছে গচ্ছিত রয়েছে। রফিক নিজেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যার কল রেকর্ড সংবাদমাধ্যম ‘তালাশ বিডি’-র কাছে সংরক্ষিত আছে।
অত্যন্ত ধূর্ত এই মাদক সম্রাট হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক আসলামকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখান। এবং নিজেকে ‘রাজা রফিক’ দাবি করে তিনি দম্ভোক্তি করেন যে, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন। এছাড়া মামলার বাদীকে বিভিন্ন সময় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রিফিউজি কলোনি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই চক্রটির দাপটে দিশেহারা। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাদক ও অস্ত্রের এই মরণ নেশা থেকে এলাকাকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রফিকের মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি এবং সাংবাদিককে হুমকির সমস্ত কল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হস্তগত রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় রফিকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।’

২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৫
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে অনিয়ম করায় বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম ইশতিয়াক আহমাদকে যথাক্রমে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও গ্রেড অবনমনের শাস্তি দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’- এর অভিযোগ আনা হয়।
কারণ দর্শানোর জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে গঠিত তদন্ত বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত বলে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর জবাবে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা স্বীকার করেন। নথি পর্যালোচনা শেষে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’ এবং এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৪/২০২৫ এর মাধ্যমে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম ইশতিয়াক আহমাদের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার এস এম ইশতিয়াক আহমাদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও জন্ম সনদ থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে তিনি নয়টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করেন এবং প্রযোজ্য নির্দেশনাও অমান্য করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শুনানি ও তদন্ত শেষে ‘অসদাচরণ’- এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবসহ সবকিছু পর্যালোচনায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, তার বর্তমান মূল বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৭/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৯
বরিশালের রিফিউজি কলোনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন চিহ্নিত মাদক সম্রাট এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি ‘গাঁজা রফিক’। শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এই রফিকের বিরুদ্ধে এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলার বাদী অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় রফিক ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রফিকের মোবাইল নম্বর থেকে প্রথমে এক নারী এবং পরবর্তীতে রেজা নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আসলামকে চরম হেনস্তা করেন। রেজা এর আগে নিজেকে ‘আলেকান্দা’র বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালান।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রফিক কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, বরং শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডারও নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রুবেলের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ বর্তমানে রফিকের কাছে গচ্ছিত রয়েছে। রফিক নিজেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যার কল রেকর্ড সংবাদমাধ্যম ‘তালাশ বিডি’-র কাছে সংরক্ষিত আছে।
অত্যন্ত ধূর্ত এই মাদক সম্রাট হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক আসলামকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখান। এবং নিজেকে ‘রাজা রফিক’ দাবি করে তিনি দম্ভোক্তি করেন যে, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন। এছাড়া মামলার বাদীকে বিভিন্ন সময় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রিফিউজি কলোনি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই চক্রটির দাপটে দিশেহারা। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাদক ও অস্ত্রের এই মরণ নেশা থেকে এলাকাকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রফিকের মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি এবং সাংবাদিককে হুমকির সমস্ত কল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হস্তগত রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় রফিকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।’
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে অনিয়ম করায় বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম ইশতিয়াক আহমাদকে যথাক্রমে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও গ্রেড অবনমনের শাস্তি দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’- এর অভিযোগ আনা হয়।
কারণ দর্শানোর জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে গঠিত তদন্ত বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত বলে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর জবাবে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা স্বীকার করেন। নথি পর্যালোচনা শেষে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’ এবং এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৪/২০২৫ এর মাধ্যমে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম ইশতিয়াক আহমাদের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার এস এম ইশতিয়াক আহমাদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও জন্ম সনদ থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে তিনি নয়টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করেন এবং প্রযোজ্য নির্দেশনাও অমান্য করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শুনানি ও তদন্ত শেষে ‘অসদাচরণ’- এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবসহ সবকিছু পর্যালোচনায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, তার বর্তমান মূল বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৭/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
বরিশালের বাবুগঞ্জে মাদক বেচাকেনার সময় হাতেনাতে আটক মাদকব্যবসায়ী এক ইয়াবা বিক্রেতাকে জরিমানসহ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং তার মাদকসেবি ক্রেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিক্রিত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন লোহালিয়া গ্রামের মাদকব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মিয়া (৪০) এবং মাদকসেবি জয়নাল আবেদীন (৪২)। দেলোয়ার লোহালিয়া গ্রামে মাদকসম্রাট নামে পরিচিত এবং স্থানীয় শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জানা যায়, উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মাদকের আস্তানা বসেছে এবং সেখানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে- গোপন সোর্সের মাধ্যমে এমন খবর পাওয়ার পরে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় জয়নালের বাড়িতে বসে মাদকদ্রব্য বেচাকেনাকালে হাতেনাতে আটক হন লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট ইয়াবা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং তার মাদকসেবি ক্রেতা জয়নাল আবেদীন। তাদের কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়াকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্রেতা জয়নাল আবেদীনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। রায় কার্যকর করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আসমা উল হুসনা বলেন, 'সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট দেলোয়ার এবং তার ক্রেতা জয়নালকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত, উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮'এর ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী উভয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিক্রেতা দেলোয়ারকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ক্রেতা জয়নালকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের উভয়কেই যথাক্রমে ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।' #

বরিশালের বাবুগঞ্জে মাদক বেচাকেনার সময় হাতেনাতে আটক মাদকব্যবসায়ী এক ইয়াবা বিক্রেতাকে জরিমানসহ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং তার মাদকসেবি ক্রেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিক্রিত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন লোহালিয়া গ্রামের মাদকব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মিয়া (৪০) এবং মাদকসেবি জয়নাল আবেদীন (৪২)। দেলোয়ার লোহালিয়া গ্রামে মাদকসম্রাট নামে পরিচিত এবং স্থানীয় শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জানা যায়, উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মাদকের আস্তানা বসেছে এবং সেখানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে- গোপন সোর্সের মাধ্যমে এমন খবর পাওয়ার পরে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় জয়নালের বাড়িতে বসে মাদকদ্রব্য বেচাকেনাকালে হাতেনাতে আটক হন লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট ইয়াবা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং তার মাদকসেবি ক্রেতা জয়নাল আবেদীন। তাদের কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়াকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্রেতা জয়নাল আবেদীনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। রায় কার্যকর করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আসমা উল হুসনা বলেন, 'সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট দেলোয়ার এবং তার ক্রেতা জয়নালকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত, উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮'এর ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী উভয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিক্রেতা দেলোয়ারকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ক্রেতা জয়নালকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের উভয়কেই যথাক্রমে ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।' #
