
২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৫
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #

১৫ মে, ২০২৬ ১১:২১
বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বাবু শিকদার (৩০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবু শিকদার পলাশপুর এলাকার কালাম শিকদারের ছেলে। পরিবারের দাবি, শুক্রবার ফজর নামাজের আগে পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে মধুর নেতৃত্বে একদল কিশোর বাবুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই নাঈম হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রক মধু ওরফে টোকাই মধু দীর্ঘদিন ধরে বাবুর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় মধুর নেতৃত্বে রুবেল, রাজু, সাজ্জাদ ও সৈকতসহ কয়েকজন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে নেপথ্যে মাদক রয়েছে। আমরা দুজনকে আটক করেছি।
বাকিদের আটকে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

১৫ মে, ২০২৬ ১০:৫১
ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে নিয়ে আসা সাড়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ পারভীন বেগম সাথী (৪১) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় নোঙর করা ‘পারাবত-১৮’ লঞ্চে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পারভীন বেগম সাথী বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া এলাকার মৃত আদম আলী সরদারের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর সাগরদী চান্দুর মার্কেট এলাকার ‘সরদার ভিলা’র একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত-১৮ লঞ্চে গাঁজার একটি বড় চালান বরিশালে আসছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে র্যাব-৮ এর একটি বিশেষ দল নদীবন্দরে অবস্থান নেয়। লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা সেখানে তল্লাশি শুরু করেন।
একপর্যায়ে লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিন থেকে পারভীন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তার হেফাজতে থাকা ৯ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার নারী একজন পেশাদার মাদক কারবারি। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। জব্দ গাঁজাসহ আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৪ মে, ২০২৬ ২২:৪৫
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বাবু শিকদার (৩০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবু শিকদার পলাশপুর এলাকার কালাম শিকদারের ছেলে। পরিবারের দাবি, শুক্রবার ফজর নামাজের আগে পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে মধুর নেতৃত্বে একদল কিশোর বাবুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই নাঈম হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রক মধু ওরফে টোকাই মধু দীর্ঘদিন ধরে বাবুর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় মধুর নেতৃত্বে রুবেল, রাজু, সাজ্জাদ ও সৈকতসহ কয়েকজন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে নেপথ্যে মাদক রয়েছে। আমরা দুজনকে আটক করেছি।
বাকিদের আটকে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে নিয়ে আসা সাড়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ পারভীন বেগম সাথী (৪১) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় নোঙর করা ‘পারাবত-১৮’ লঞ্চে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পারভীন বেগম সাথী বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া এলাকার মৃত আদম আলী সরদারের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর সাগরদী চান্দুর মার্কেট এলাকার ‘সরদার ভিলা’র একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত-১৮ লঞ্চে গাঁজার একটি বড় চালান বরিশালে আসছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে র্যাব-৮ এর একটি বিশেষ দল নদীবন্দরে অবস্থান নেয়। লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা সেখানে তল্লাশি শুরু করেন।
একপর্যায়ে লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিন থেকে পারভীন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তার হেফাজতে থাকা ৯ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার নারী একজন পেশাদার মাদক কারবারি। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। জব্দ গাঁজাসহ আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপ ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা রাতে বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার অনুগত বাস শ্রমিকদের হামলায় বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, আরেক গ্রুপ সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী ছাত্র-যুব এবং শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাতে বিএনপি নেতা জিয়ার শ্যালক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারের নেতৃত্বে সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে অন্তত ২০/২৫ জন বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে আকস্মিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সোহাগের নেতৃত্বে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অন্তত ৩০/৩৫টি মাহিন্দ্র-সিএনজি ভাঙচুর করাসহ ৫ শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। তাদের মধ্যে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন বরিশাল মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা, রূপাতলী শাখা কমিটির সভাপতি স্বপন মোল্লা এবং একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজকে উদ্ধার করে রাতেই শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।
মাহিন্দ্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সরকারি অনুমোদন থাকলেও তাদেরকে মহানগর বিএনপির নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারীরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ভিড়তে দিচ্ছেন না। এই বিএনপি নেতার শ্যালক সোহাগ জোরপূর্বক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করে রূপাতলীসহ আশপাশ এলাকাসমূহে পরিবহন সেক্টরে সকলের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। এবং পরিবহনগুলোতে দেদারছে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার রাতে সংঘাত এবং রক্তারক্তির ঘটনায় আইনি ঝামেলা থেকে নিজেদের রক্ষায় উল্টো বরিশাল-পটুয়াখালী-ঝালকাঠি সড়ক অবরোধ করে বিএনপি নেতা জিয়া সিকদারের অনুসারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ কোতয়ালি মডেল থানার ওসি ছুটে গেলেও হামলাকারী কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি পারভেজ খান মুন অভিযোগ করেন, তাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত পরিবহনগুলো শহর থেকে বের হতে দেয় না বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এনিয়ে দুটি সংগঠনের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার রাতে অনেকটা আকস্মিক তাদের ওপর অস্ত্রসহ হামলা করে বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালকসহ কতিপয় ক্যাডার বাহিনী। একপর্যায়ে তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করাসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখলে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও বিএনপি নেতার প্রভাব বিস্তারের কারণে আইনগত কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না পুলিশ। ফলে বাধ্য অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল শহরের সদর রোড অবরোধ করে। ঘণ্টাব্যাপি অবরোধের ফলে সদর রোডের দুই প্রান্তে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে বুধবার রাতের ঘটনায় ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা রাস্তা থেকে সরে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেন।
তবে বুধবার রাতে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করছেন বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালক সোহাগ হাওলাদার। তার দাবি, তথাকথিত সংগঠনের নেতারা বাস শ্রমিক এবং মালিকদের ওপর আগে হামলা করে, তখন তারা প্রতিরোধ করেছেন। তাছাড়া এই সংগঠনের নামে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন সোহাগ।
বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করে হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসময় সড়কের দুই প্রান্তে বহু যানবাহন আটকা পড়লে ঘটনাস্থলে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালটাইমসকে বলেন, বাস মালিক এবং শ্রমিকদের তরফ থেকে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি শহরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা চাওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে সংঘর্ষের পরে রাস্তা আটকে বিষয়টি তারা দাবি আকারে প্রশাসনের উচ্চমহলে তুলে ধরেন। এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেয়। সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করেছিল। পরে সেখানে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সদর রোড এবং রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান ওসি।’
বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপ ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা রাতে বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার অনুগত বাস শ্রমিকদের হামলায় বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, আরেক গ্রুপ সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী ছাত্র-যুব এবং শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাতে বিএনপি নেতা জিয়ার শ্যালক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারের নেতৃত্বে সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে অন্তত ২০/২৫ জন বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে আকস্মিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সোহাগের নেতৃত্বে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অন্তত ৩০/৩৫টি মাহিন্দ্র-সিএনজি ভাঙচুর করাসহ ৫ শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। তাদের মধ্যে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন বরিশাল মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা, রূপাতলী শাখা কমিটির সভাপতি স্বপন মোল্লা এবং একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজকে উদ্ধার করে রাতেই শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।
মাহিন্দ্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সরকারি অনুমোদন থাকলেও তাদেরকে মহানগর বিএনপির নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারীরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ভিড়তে দিচ্ছেন না। এই বিএনপি নেতার শ্যালক সোহাগ জোরপূর্বক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করে রূপাতলীসহ আশপাশ এলাকাসমূহে পরিবহন সেক্টরে সকলের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। এবং পরিবহনগুলোতে দেদারছে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার রাতে সংঘাত এবং রক্তারক্তির ঘটনায় আইনি ঝামেলা থেকে নিজেদের রক্ষায় উল্টো বরিশাল-পটুয়াখালী-ঝালকাঠি সড়ক অবরোধ করে বিএনপি নেতা জিয়া সিকদারের অনুসারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ কোতয়ালি মডেল থানার ওসি ছুটে গেলেও হামলাকারী কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি পারভেজ খান মুন অভিযোগ করেন, তাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত পরিবহনগুলো শহর থেকে বের হতে দেয় না বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এনিয়ে দুটি সংগঠনের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার রাতে অনেকটা আকস্মিক তাদের ওপর অস্ত্রসহ হামলা করে বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালকসহ কতিপয় ক্যাডার বাহিনী। একপর্যায়ে তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করাসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখলে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও বিএনপি নেতার প্রভাব বিস্তারের কারণে আইনগত কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না পুলিশ। ফলে বাধ্য অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল শহরের সদর রোড অবরোধ করে। ঘণ্টাব্যাপি অবরোধের ফলে সদর রোডের দুই প্রান্তে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে বুধবার রাতের ঘটনায় ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা রাস্তা থেকে সরে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেন।
তবে বুধবার রাতে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করছেন বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালক সোহাগ হাওলাদার। তার দাবি, তথাকথিত সংগঠনের নেতারা বাস শ্রমিক এবং মালিকদের ওপর আগে হামলা করে, তখন তারা প্রতিরোধ করেছেন। তাছাড়া এই সংগঠনের নামে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন সোহাগ।
বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করে হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসময় সড়কের দুই প্রান্তে বহু যানবাহন আটকা পড়লে ঘটনাস্থলে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালটাইমসকে বলেন, বাস মালিক এবং শ্রমিকদের তরফ থেকে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি শহরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা চাওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে সংঘর্ষের পরে রাস্তা আটকে বিষয়টি তারা দাবি আকারে প্রশাসনের উচ্চমহলে তুলে ধরেন। এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেয়। সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করেছিল। পরে সেখানে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সদর রোড এবং রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান ওসি।’