ছবি- সংগৃহীত
একসময় ছিল জনবসতিপূর্ণ একটি গ্রাম। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি আর স্বাভাবিক গ্রামীণ জীবনের চিত্র ছিল চারদিকে। কিন্তু বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সেই চিত্র এখন অতীত। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের চর ইসলামাবাদ গ্রামের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকের মাঝে টিকে থাকা এই ছোট্ট জনপদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের ফলে ইসলামাবাদ গ্রামের এই অংশটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামটির চারপাশে বিষখালী নদীর পানি বেষ্টিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নৌকা ও ট্রলারই এখানকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরে যেতে হলে তাদের নদীপথেই নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি ছিল। নদীভাঙনে ধীরে ধীরে সেই জমি হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেলেও যারা এখনো টিকে আছেন, তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা নিয়ে বসবাস করছেন।
বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৫৪টি পরিবার বসবাস করছে। জনসংখ্যা আনুমানিক ৫২০ জন। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত এই দ্বীপের আয়তনও বছর বছর কমে আসছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো জনপদটিই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
চর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম বাদশাহ বলেন, ‘একসময় আমাদের বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ জনে। শিক্ষকও ছিল পর্যাপ্ত। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। এলাকার মানুষ একের পর এক ভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই আতঙ্কে রাত কাটে। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যারা আছি, তারাও জানি না কতদিন টিকে থাকতে পারব।
রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে দ্বীপের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে এই এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। একসময় যাদের অনেক জমিজমা ছিল, এখন তাদের অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা বারবার ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বরিশাল টাইমস

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১৮
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে ঝালকাঠি। এ জেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৬৯৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। সেই হিসাবে পাসের হার ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৪৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ জন।
ফলাফলের এ চিত্রে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ঝালকাঠি থেকে ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। বাকি ৩ হাজার ৪৬ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের বেশি অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার মান যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি নয়। তবে পাসের হার এত কম হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা দরকার।
জেলার শিক্ষার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, শুধু ফলাফল প্রকাশের পর উদ্বেগ জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি পাঠদানের মান বাড়ানো ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে ঝালকাঠি। এ জেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৬৯৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। সেই হিসাবে পাসের হার ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৪৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ জন।
ফলাফলের এ চিত্রে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ঝালকাঠি থেকে ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। বাকি ৩ হাজার ৪৬ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের বেশি অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার মান যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি নয়। তবে পাসের হার এত কম হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা দরকার।
জেলার শিক্ষার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, শুধু ফলাফল প্রকাশের পর উদ্বেগ জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি পাঠদানের মান বাড়ানো ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৭
সড়ক দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের বরিশাল ব্যুরো চিফ, বরিশালটাইমসের প্রকাশক ও নিউজ এডিটরস কাউন্সিল বরিশালের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম এবং ডিবিসির বরিশাল ব্যুরো চিফ জিয়াদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তাঁরা। রাত আনুমানিক ১টার দিকে নলছিটির ষাটপাকিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে একটি বড় ট্রাক আসার সময় হঠাৎ এক ভবঘুরে ব্যক্তি মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসেন। এতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির ধাক্কা লাগে। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
দুর্ঘটনায় হাসিবুল ইসলাম মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে প্রায় ২০ ফুট দূরে পড়ে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জিয়াদ মাহমুদের মাথার ওপর দিয়ে দুটি ডিগবাজি খেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। পিঠে থাকা পোশাকের ব্যাগটি তাঁকে বড় ধরনের আঘাত থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন তিনি। দুর্ঘটনায় জিয়াদ মাহমুদ ও ওই ভবঘুরে ব্যক্তিও প্রাণে বেঁচে যান।
দুর্ঘটনার পর আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয় এক দোকানি। পরে তাঁদের সফরসঙ্গী মৃত্যুঞ্জয় ও সিফাত এবং বরিশালটাইমস অফিসের সহকর্মী সাফায়াত ও মেহেদী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের সহযোগিতায় হাসিবুল ইসলামকে দ্রুত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্স-রে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, হাসিবুল ইসলামের ডান হাত ভাঙেনি, তবে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে তাঁকে আপাতত বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, পাথরঘাটায় গিয়ে সকালে ইলিশ আহরণ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশে বরিশাল থেকে যাত্রা করেছিলেন দুই সাংবাদিক। সেখানে অবস্থানের জন্য একটি সরকারি রেস্ট হাউজের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ছোট ভাই সাইদুল তাঁদের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ষাটপাকিয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তাঁরা।
দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাসিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত রাত-বিরাতে ছুটতে হয়। কিন্তু এই ঘটনা তাঁকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে, জীবনের চেয়ে মূল্যবান কোনো সংবাদ হতে পারে না।
এ সময় দুর্ঘটনার পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সহকর্মী, সফরসঙ্গী ও স্থানীয় দোকানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।'
সড়ক দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের বরিশাল ব্যুরো চিফ, বরিশালটাইমসের প্রকাশক ও নিউজ এডিটরস কাউন্সিল বরিশালের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম এবং ডিবিসির বরিশাল ব্যুরো চিফ জিয়াদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তাঁরা। রাত আনুমানিক ১টার দিকে নলছিটির ষাটপাকিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে একটি বড় ট্রাক আসার সময় হঠাৎ এক ভবঘুরে ব্যক্তি মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসেন। এতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির ধাক্কা লাগে। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
দুর্ঘটনায় হাসিবুল ইসলাম মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে প্রায় ২০ ফুট দূরে পড়ে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জিয়াদ মাহমুদের মাথার ওপর দিয়ে দুটি ডিগবাজি খেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। পিঠে থাকা পোশাকের ব্যাগটি তাঁকে বড় ধরনের আঘাত থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন তিনি। দুর্ঘটনায় জিয়াদ মাহমুদ ও ওই ভবঘুরে ব্যক্তিও প্রাণে বেঁচে যান।
দুর্ঘটনার পর আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয় এক দোকানি। পরে তাঁদের সফরসঙ্গী মৃত্যুঞ্জয় ও সিফাত এবং বরিশালটাইমস অফিসের সহকর্মী সাফায়াত ও মেহেদী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের সহযোগিতায় হাসিবুল ইসলামকে দ্রুত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্স-রে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, হাসিবুল ইসলামের ডান হাত ভাঙেনি, তবে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে তাঁকে আপাতত বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, পাথরঘাটায় গিয়ে সকালে ইলিশ আহরণ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশে বরিশাল থেকে যাত্রা করেছিলেন দুই সাংবাদিক। সেখানে অবস্থানের জন্য একটি সরকারি রেস্ট হাউজের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ছোট ভাই সাইদুল তাঁদের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ষাটপাকিয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তাঁরা।
দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাসিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত রাত-বিরাতে ছুটতে হয়। কিন্তু এই ঘটনা তাঁকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে, জীবনের চেয়ে মূল্যবান কোনো সংবাদ হতে পারে না।
এ সময় দুর্ঘটনার পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সহকর্মী, সফরসঙ্গী ও স্থানীয় দোকানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।'

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৫
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীরে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌরসভার বিরুদ্ধে। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঝালকাঠি শহরের মেঘনা তেলের ডিপোসংলগ্ন স্থানে সুগন্ধা নদীর পাড় ও নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়ীসহ নদীর তীরবর্তী কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। এসব স্তূপে গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা রয়েছে। বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পৌর এলাকার বাসাবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এর একটি অংশ নির্দিষ্ট স্থানে না নিয়ে নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। পরে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এসব বর্জ্যের একটি অংশ নদীতে গিয়ে পড়ছে।
নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দা এইচ এম সিজার বলেন,পৌরসভার যত বর্জ্য আছে, সেগুলো নিয়ে এসে কলবাড়ী এলাকার সুগন্ধা নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ময়লা নদীতেও মিশে যাচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন।
ঝালকাঠি পৌর শহরে বাসিন্দা মাহবুব হোসেন সৈকত বলেন,নদীর পাশে ময়লা ফেলায় সব সময় দুর্গন্ধ থাকে। বৃষ্টি হলে ময়লা পানিতে মিশে নদীতে চলে যায়। দ্রুত এভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করা দরকার।
সুজন ও ঝালকাঠি গাছপালা নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি ইসমাঈল মুসাফির বলেন, ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌর এলাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হয় তা সংগ্রহ ও অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অনেক কিন্তু বাস্তবে কম। দুটি পৌরসভার বর্জ্যই সুগন্ধা নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। এগুলোর গলিত পানি ভূগর্ভস্থ পানিতে চলে যাচ্ছে। জোয়ার ও বৃষ্টিতে আশপাশের কৃষিজমি ও নদীনালায় যাচ্ছে। অনেক সময় বর্জ্য পুড়িয়ে দিলেও বাতাস দূষিত হচ্ছে। সভ্য কোনো দেশে এভাবে নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা হয় না।
পৌর রাজস্ব বাজেটের অনেকটাই খরচ হওয়ার কথা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। রাতের অন্ধকারে সড়কের পাশে, নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন তৈরি করতে পারলে ময়লা ধ্বংস বা রিসাইকেল করা যাবে- যা স্থায়ী সমাধান।
ঝালকাঠির কুনিহারীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ক্লিয়ারেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও এখনও জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে নলছিটি পৌরসভার ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ নিতে হবে।
নলছিটি পৌর প্রশাসক প্রতীক কুমার কুন্ডুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না বলেন, এর আগে ডাম্পিং স্টেশন ছিল না। বর্তমানে পৌরসভার জন্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর তীরে যাতে বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মমিন উদ্দিন বলেন,পৌরসভার প্রশাসকদের আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নদীর তীরে ময়লা ফেলা যাবে না। ময়লা ফেলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি নদীতে ময়লা ফেলা হয়, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীরে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌরসভার বিরুদ্ধে। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঝালকাঠি শহরের মেঘনা তেলের ডিপোসংলগ্ন স্থানে সুগন্ধা নদীর পাড় ও নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়ীসহ নদীর তীরবর্তী কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। এসব স্তূপে গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা রয়েছে। বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পৌর এলাকার বাসাবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এর একটি অংশ নির্দিষ্ট স্থানে না নিয়ে নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। পরে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এসব বর্জ্যের একটি অংশ নদীতে গিয়ে পড়ছে।
নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দা এইচ এম সিজার বলেন,পৌরসভার যত বর্জ্য আছে, সেগুলো নিয়ে এসে কলবাড়ী এলাকার সুগন্ধা নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ময়লা নদীতেও মিশে যাচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন।
ঝালকাঠি পৌর শহরে বাসিন্দা মাহবুব হোসেন সৈকত বলেন,নদীর পাশে ময়লা ফেলায় সব সময় দুর্গন্ধ থাকে। বৃষ্টি হলে ময়লা পানিতে মিশে নদীতে চলে যায়। দ্রুত এভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করা দরকার।
সুজন ও ঝালকাঠি গাছপালা নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি ইসমাঈল মুসাফির বলেন, ঝালকাঠি ও নলছিটি পৌর এলাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হয় তা সংগ্রহ ও অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অনেক কিন্তু বাস্তবে কম। দুটি পৌরসভার বর্জ্যই সুগন্ধা নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। এগুলোর গলিত পানি ভূগর্ভস্থ পানিতে চলে যাচ্ছে। জোয়ার ও বৃষ্টিতে আশপাশের কৃষিজমি ও নদীনালায় যাচ্ছে। অনেক সময় বর্জ্য পুড়িয়ে দিলেও বাতাস দূষিত হচ্ছে। সভ্য কোনো দেশে এভাবে নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা হয় না।
পৌর রাজস্ব বাজেটের অনেকটাই খরচ হওয়ার কথা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। রাতের অন্ধকারে সড়কের পাশে, নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন তৈরি করতে পারলে ময়লা ধ্বংস বা রিসাইকেল করা যাবে- যা স্থায়ী সমাধান।
ঝালকাঠির কুনিহারীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইট ক্লিয়ারেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও এখনও জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে নলছিটি পৌরসভার ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ নিতে হবে।
নলছিটি পৌর প্রশাসক প্রতীক কুমার কুন্ডুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না বলেন, এর আগে ডাম্পিং স্টেশন ছিল না। বর্তমানে পৌরসভার জন্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর তীরে যাতে বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মমিন উদ্দিন বলেন,পৌরসভার প্রশাসকদের আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নদীর তীরে ময়লা ফেলা যাবে না। ময়লা ফেলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি নদীতে ময়লা ফেলা হয়, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

০৭ জুন, ২০২৬ ১৪:১৯
একসময় ছিল জনবসতিপূর্ণ একটি গ্রাম। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি আর স্বাভাবিক গ্রামীণ জীবনের চিত্র ছিল চারদিকে। কিন্তু বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সেই চিত্র এখন অতীত। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের চর ইসলামাবাদ গ্রামের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকের মাঝে টিকে থাকা এই ছোট্ট জনপদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের ফলে ইসলামাবাদ গ্রামের এই অংশটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামটির চারপাশে বিষখালী নদীর পানি বেষ্টিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নৌকা ও ট্রলারই এখানকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরে যেতে হলে তাদের নদীপথেই নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি ছিল। নদীভাঙনে ধীরে ধীরে সেই জমি হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেলেও যারা এখনো টিকে আছেন, তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা নিয়ে বসবাস করছেন।
বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৫৪টি পরিবার বসবাস করছে। জনসংখ্যা আনুমানিক ৫২০ জন। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত এই দ্বীপের আয়তনও বছর বছর কমে আসছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো জনপদটিই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
চর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম বাদশাহ বলেন, ‘একসময় আমাদের বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ জনে। শিক্ষকও ছিল পর্যাপ্ত। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। এলাকার মানুষ একের পর এক ভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই আতঙ্কে রাত কাটে। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যারা আছি, তারাও জানি না কতদিন টিকে থাকতে পারব।
রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে দ্বীপের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে এই এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। একসময় যাদের অনেক জমিজমা ছিল, এখন তাদের অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা বারবার ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বরিশাল টাইমস
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২১
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫০