
১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০৭
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় এসব মামলার তথ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। প্রার্থী, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিমত অনুযায়ী, এসব মামলার সিংহভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাজনিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পরিসংখ্যান বলছে, মামলা থাকা ২১ জন প্রার্থীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গড়ে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রার্থী, পুলিশ ও আইনজীবীদের বক্তব্যে বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বরং বর্তমান বাস্তবতায় যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করেছেন, বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন তাঁরাই।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন,
“আমরা আইনের পথেই মামলা মোকাবিলা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এবার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভোট পাওয়ার ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করেছি।”
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বাসদ প্রার্থী ও তিন মামলার আসামি ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন,
“বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের রাজনীতি করলেই মামলা দেওয়া এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা রয়েছে—এই সংখ্যার ভিত্তিতে চরিত্র নির্ধারণ করা অবিবেচনাপ্রসূত। মামলার প্রকৃতি ও সত্যতা যাচাই করাই মুখ্য।”
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়—
বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১১টি মামলা।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া–উজিরপুর) আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে নয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে ৪১টি মামলা রয়েছে।
বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সর্বাধিক ৮৬টি মামলা।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১৮টি মামলা।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজনের নামে রয়েছে ১২টি মামলা।
এর মধ্যে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮২টি মামলা এবং বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা রয়েছে।
আইনজীবী আবুল কালাম আযাদ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৮ শতাংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। এসব মামলা আদালতের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করতে গিয়ে খুব কম ক্ষেত্রেই টিকে থাকে।”
আইনজীবী শাহে আলম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা ছিল দমন-পীড়নের অন্যতম হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে মামলা ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু এসব মামলা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ কারণে প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাস্তব প্রতিবন্ধকতা নেই।”
বরিশালের ছয়টি আসনে এবারে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। এই ছয় আসনে ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন।
পুলিশের মতে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এসব মামলার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যাঁদের নামে মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বানানো বা জোরপূর্বক দায়ের করা মামলা। এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এসব মামলা নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করতে পারেন—এটা রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই; যা আছে, সবই রাজনৈতিক মামলা।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় এসব মামলার তথ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। প্রার্থী, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিমত অনুযায়ী, এসব মামলার সিংহভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাজনিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পরিসংখ্যান বলছে, মামলা থাকা ২১ জন প্রার্থীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গড়ে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রার্থী, পুলিশ ও আইনজীবীদের বক্তব্যে বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বরং বর্তমান বাস্তবতায় যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করেছেন, বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন তাঁরাই।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন,
“আমরা আইনের পথেই মামলা মোকাবিলা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এবার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভোট পাওয়ার ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করেছি।”
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বাসদ প্রার্থী ও তিন মামলার আসামি ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন,
“বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের রাজনীতি করলেই মামলা দেওয়া এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা রয়েছে—এই সংখ্যার ভিত্তিতে চরিত্র নির্ধারণ করা অবিবেচনাপ্রসূত। মামলার প্রকৃতি ও সত্যতা যাচাই করাই মুখ্য।”
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়—
বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১১টি মামলা।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া–উজিরপুর) আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে নয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে ৪১টি মামলা রয়েছে।
বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সর্বাধিক ৮৬টি মামলা।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১৮টি মামলা।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজনের নামে রয়েছে ১২টি মামলা।
এর মধ্যে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮২টি মামলা এবং বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা রয়েছে।
আইনজীবী আবুল কালাম আযাদ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৮ শতাংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। এসব মামলা আদালতের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করতে গিয়ে খুব কম ক্ষেত্রেই টিকে থাকে।”
আইনজীবী শাহে আলম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা ছিল দমন-পীড়নের অন্যতম হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে মামলা ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু এসব মামলা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ কারণে প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাস্তব প্রতিবন্ধকতা নেই।”
বরিশালের ছয়টি আসনে এবারে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। এই ছয় আসনে ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন।
পুলিশের মতে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এসব মামলার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যাঁদের নামে মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বানানো বা জোরপূর্বক দায়ের করা মামলা। এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এসব মামলা নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করতে পারেন—এটা রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই; যা আছে, সবই রাজনৈতিক মামলা।”

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:০৫
পটুয়াখালীর বাউফলে ফিরোজ নামে এক তরমুজ চাষির কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার (৩০) নামের যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান (৪৫) এবং শামীম (৩৫) নামে আরও দুই যুবক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে ৫ টার দিকে উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষি ফিরোজের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সেরাজ ডাক্তারের ছেলে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকালে ফিরোজ ফিরোজ তাঁর চাষাবাদ করা তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে চাঁদা দাবি করা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের তরমুজ কাটায় বাঁধা দেয় এবং ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে ফিরোজ অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় ফিরোজের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাদের ওপরেও হামলা করে। সংবাদ পুরো এলাকা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে পৌছে ফিরোজের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর রহমান , উজ্জল কর্মকার এবং শামীমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জল কর্মকার মৃত্যুবরণ করেন।
আহত তরমুজ চাষি ফিরোজ এবং তাঁর ওপর হামলাকারী আহত শামীমকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান চন্দ্রদ্বীপে তরমুজ খেতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে নিষেধ করা হয়। এতে ফিরোজ ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছে, এতে উজ্জলের মৃত্যু হয়েছে। এই খুনের দায় এড়াতে চাঁদাবাজি এবং গণপিটুনির নাটক সাজানো হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে ফিরোজ নামে এক তরমুজ চাষির কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার (৩০) নামের যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান (৪৫) এবং শামীম (৩৫) নামে আরও দুই যুবক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে ৫ টার দিকে উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষি ফিরোজের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সেরাজ ডাক্তারের ছেলে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকালে ফিরোজ ফিরোজ তাঁর চাষাবাদ করা তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে চাঁদা দাবি করা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের তরমুজ কাটায় বাঁধা দেয় এবং ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে ফিরোজ অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় ফিরোজের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাদের ওপরেও হামলা করে। সংবাদ পুরো এলাকা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে পৌছে ফিরোজের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর রহমান , উজ্জল কর্মকার এবং শামীমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জল কর্মকার মৃত্যুবরণ করেন।
আহত তরমুজ চাষি ফিরোজ এবং তাঁর ওপর হামলাকারী আহত শামীমকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান চন্দ্রদ্বীপে তরমুজ খেতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে নিষেধ করা হয়। এতে ফিরোজ ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছে, এতে উজ্জলের মৃত্যু হয়েছে। এই খুনের দায় এড়াতে চাঁদাবাজি এবং গণপিটুনির নাটক সাজানো হয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’

৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৯
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে সহায়তা না দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অসচ্ছল ও দুস্থ পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা না থাকায় অনেক প্রকৃত দরিদ্র পরিবার এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকলেও কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। অথচ যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো, তাদের ঘরেই ত্রাণের অর্থ পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে দুই শতর বেশি সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। আর সে সকল সদস্যদের তালিকার মধ্যে অনেকেই রয়েছেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি সহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নাম। চরমদি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সরদার, চরামদ্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি শাহ আলম খান, চরমদ্দি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হান্নান মৃধা, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস হাওলাদারের ছেলে মাহফুজ,পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: ফিরোজ হাওলাদার সহ ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নাম।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, নিয়ামতি ইউনিয়নে মোট ৩০ জন সদস্যার মধ্যে ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আর ৩০ জনের ওই তালিকায় ১৫ জনের নাম দিয়েছেন নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: সোহেল ফরাজী। বাকি ১৫ জনের নাম দিয়েছেন নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার।
সোহেল সিকদারের দেয়া তালিকায় যে ১৫ জন ত্রান তহবিলের টাকা পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খানের আপন ছোট ভাই উজ্বল খান ও বাহাদুর হোসেন খানের ছেলে সাইফুদ্দিন। এছাড়া ওই তালিকা দেখা গেছে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মাইনুল ইসলামের নাম। তারা সকলেই ওই তালিকায় স্বাক্ষর দিয়ে ২০০০ টাকা করে গ্রহণ করেছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে নিজের পরিবারের মধ্যে ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণ করায় নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা দাবি জানিয়েছেন যাহারা এসকল অনিয়মের সাথে জড়িত তাদেরকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়ার। তাদেরকে যদি সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া না হয় তাহলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বিএনপি'র প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে।
তবে এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ত্রাণের মতো মানবিক সহায়তা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি জানান, নিয়ামতি ইউনিয়নে ৩০ জনকে ত্রান তহবিলের টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন রয়েছে সভাপতি সোহেল ফরাজির তালিকা ও ১৫ জন রয়েছে সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের তালিকা। এই ৩০ জনের তালিকের মধ্যে যদি কেউ তার নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা প্রদান করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ২৫ জনের একটি তালিকা দিয়েছিলাম সেখান থেকে ১৫ জনকে টাকা দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খানের পরিবারের লোকজনের নাম রয়েছে কিনা সেটা আমার ভালো জানা নেই। তবে এই নাম কিভাবে আসলো প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন হয়তো সাংগঠনিক সম্পাদক নিজেই এই নাম দিয়েছেন।
এই বিষয় নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খান কে ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান, ত্রান তহবিলের টাকা প্রদানের তালিকা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক সোহেল সিকদার দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের টাকা সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বণ্টন করার নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি করার কিছুই নেই।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে সহায়তা না দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অসচ্ছল ও দুস্থ পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা না থাকায় অনেক প্রকৃত দরিদ্র পরিবার এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকলেও কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। অথচ যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো, তাদের ঘরেই ত্রাণের অর্থ পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে দুই শতর বেশি সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। আর সে সকল সদস্যদের তালিকার মধ্যে অনেকেই রয়েছেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি সহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নাম। চরমদি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সরদার, চরামদ্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি শাহ আলম খান, চরমদ্দি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হান্নান মৃধা, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস হাওলাদারের ছেলে মাহফুজ,পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: ফিরোজ হাওলাদার সহ ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নাম।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, নিয়ামতি ইউনিয়নে মোট ৩০ জন সদস্যার মধ্যে ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আর ৩০ জনের ওই তালিকায় ১৫ জনের নাম দিয়েছেন নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: সোহেল ফরাজী। বাকি ১৫ জনের নাম দিয়েছেন নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার।
সোহেল সিকদারের দেয়া তালিকায় যে ১৫ জন ত্রান তহবিলের টাকা পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খানের আপন ছোট ভাই উজ্বল খান ও বাহাদুর হোসেন খানের ছেলে সাইফুদ্দিন। এছাড়া ওই তালিকা দেখা গেছে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মাইনুল ইসলামের নাম। তারা সকলেই ওই তালিকায় স্বাক্ষর দিয়ে ২০০০ টাকা করে গ্রহণ করেছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে নিজের পরিবারের মধ্যে ত্রান তহবিলের টাকা বিতরণ করায় নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা দাবি জানিয়েছেন যাহারা এসকল অনিয়মের সাথে জড়িত তাদেরকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়ার। তাদেরকে যদি সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া না হয় তাহলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বিএনপি'র প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে।
তবে এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ত্রাণের মতো মানবিক সহায়তা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি জানান, নিয়ামতি ইউনিয়নে ৩০ জনকে ত্রান তহবিলের টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন রয়েছে সভাপতি সোহেল ফরাজির তালিকা ও ১৫ জন রয়েছে সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের তালিকা। এই ৩০ জনের তালিকের মধ্যে যদি কেউ তার নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা প্রদান করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ২৫ জনের একটি তালিকা দিয়েছিলাম সেখান থেকে ১৫ জনকে টাকা দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খানের পরিবারের লোকজনের নাম রয়েছে কিনা সেটা আমার ভালো জানা নেই। তবে এই নাম কিভাবে আসলো প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন হয়তো সাংগঠনিক সম্পাদক নিজেই এই নাম দিয়েছেন।
এই বিষয় নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর হোসেন খান কে ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান, ত্রান তহবিলের টাকা প্রদানের তালিকা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক সোহেল সিকদার দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের টাকা সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বণ্টন করার নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি করার কিছুই নেই।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৬
বরিশাল নগরীতে নকল ও অনুমোদনহীন প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগে ‘ওয়ান পয়েন্ট’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই ও এনএসআই যৌথভাবে নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের নথুল্লাবাদ এলাকার শাহপরাণ সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এনএসআই সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে অনুমোদনবিহীন ও নিষিদ্ধ প্রসাধনী সংগ্রহ করে বরিশালের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিল।
উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে পাকিস্তানি স্কিন কেয়ার সামগ্রী, বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী, নকল সিল-স্টিকারযুক্ত পণ্য এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্কিন কেয়ার সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকারের রাজস্ব ফাঁকিও করার অভিযোগ রয়েছে।
গোপন পর্যবেক্ষণে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও নকল প্রসাধনী জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে।
এ সময় বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-হেল-মাফি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় বিএসটিআই বরিশাল বিভাগের ফিল্ড অফিসার মো. ইয়াছির আরাফাত ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং নকল ও অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল নগরীতে নকল ও অনুমোদনহীন প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগে ‘ওয়ান পয়েন্ট’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই ও এনএসআই যৌথভাবে নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের নথুল্লাবাদ এলাকার শাহপরাণ সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এনএসআই সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে অনুমোদনবিহীন ও নিষিদ্ধ প্রসাধনী সংগ্রহ করে বরিশালের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিল।
উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে পাকিস্তানি স্কিন কেয়ার সামগ্রী, বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী, নকল সিল-স্টিকারযুক্ত পণ্য এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্কিন কেয়ার সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকারের রাজস্ব ফাঁকিও করার অভিযোগ রয়েছে।
গোপন পর্যবেক্ষণে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও নকল প্রসাধনী জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে।
এ সময় বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-হেল-মাফি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় বিএসটিআই বরিশাল বিভাগের ফিল্ড অফিসার মো. ইয়াছির আরাফাত ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং নকল ও অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:০৫
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৯
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৬