পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন রাজনীতিতে যোগ দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন তিনি। সেই শ্রাবণ এখন লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকার নাম ঘোষণা করেন।
প্রায় একযুগ পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় নিজভূমিতে ফিরে ঘোষণা দেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রাবণ। সেদিন বিপুল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রাবণ বলেন, আমার পরিবার ভিন্ন মতাদর্শের হলেও নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না। দলে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও সবাইকে নিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে এ আসনটি উপহার দিতে চাই।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কেশবপুরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। কেশবপুরবাসীর মন জয়ে আমি কাজ করব।
যে কারণে পরিবার ত্যাগ করেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ
শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহম্মদ মুহসীন হলে। কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্রদল কর্মী হিসেবে হল ও বিভাগের সহপাঠীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে (স্নাতকোত্তর) অধ্যয়নরত থাকায় ২০২২ সালে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছিলেন শ্রাবণ। পরে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এর দুই মাসের মাথায় তাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
শ্রাবণের বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনি এখন দল থেকে বহিষ্কৃত। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। আর ছোট ভাই আজাহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। পরিবার ত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন।
চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় একযুগ পর নিজ জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরে ফেরেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। দীর্ঘদিন পর এলাকায় গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি কেশবপুরে লিফলেট বিতরণে অংশ নেন। এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর তার নিজ উপজেলায় আসার খবরে মোড়ে মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এরপর কেশবপুর থেকে প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল এবং শতাধিক মাইক্রোবাসে নেতাকর্মীরা তার বহরে যোগ দেন। বহর নিয়ে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেন।
জানা গেছে, শ্রাবণ কেশবপুর গেলেও তার নিজ বাড়িতে যাননি। এমনকি তার বাবার বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৬
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে যমুনা টেলিভিশনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিস্তারিত আসছে....
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে যমুনা টেলিভিশনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিস্তারিত আসছে....

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৪
পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাদিম মাহমুদ নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এসে ওই দুধ ফেরত দেওয়া হয়।
নাদিম মাহমুদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা বেগম বলেন, ‘শিক্ষকরা অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নাদিমসহ কয়েকজন যুবক লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যান। পরে বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে গেছে। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধের ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরে জানতে পারেন। মাসের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের দুধ দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ছাত্রনেতা নাদিম মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দুধ নিয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে বসে খেয়েছেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাদিম মাহমুদ নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এসে ওই দুধ ফেরত দেওয়া হয়।
নাদিম মাহমুদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা বেগম বলেন, ‘শিক্ষকরা অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নাদিমসহ কয়েকজন যুবক লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যান। পরে বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে গেছে। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধের ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরে জানতে পারেন। মাসের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের দুধ দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ছাত্রনেতা নাদিম মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দুধ নিয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে বসে খেয়েছেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৫
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আবদুল মন্নান হাওলাদার (৫৫) নামে এক জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আবদুল মন্নান উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরতে যান মন্নান। মাছ ধরার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা জেলেরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলও সেখানে অনুসন্ধান চালায়। পরে রাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়।
এরপর বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা নিজস্ব ট্রলার নিয়ে ফের নদীতে অনুসন্ধান শুরু করেন। রাত দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই মন্নানের লাশ ভেসে উঠলে তাঁরা তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জমাদ্দার বাড়ি নূরানী ও হাফিজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মাঠে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আবদুল মন্নান হাওলাদার (৫৫) নামে এক জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আবদুল মন্নান উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরতে যান মন্নান। মাছ ধরার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা জেলেরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলও সেখানে অনুসন্ধান চালায়। পরে রাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়।
এরপর বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা নিজস্ব ট্রলার নিয়ে ফের নদীতে অনুসন্ধান শুরু করেন। রাত দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই মন্নানের লাশ ভেসে উঠলে তাঁরা তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জমাদ্দার বাড়ি নূরানী ও হাফিজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মাঠে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:২৪
পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন রাজনীতিতে যোগ দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন তিনি। সেই শ্রাবণ এখন লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকার নাম ঘোষণা করেন।
প্রায় একযুগ পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় নিজভূমিতে ফিরে ঘোষণা দেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রাবণ। সেদিন বিপুল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রাবণ বলেন, আমার পরিবার ভিন্ন মতাদর্শের হলেও নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না। দলে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও সবাইকে নিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে এ আসনটি উপহার দিতে চাই।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কেশবপুরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। কেশবপুরবাসীর মন জয়ে আমি কাজ করব।
যে কারণে পরিবার ত্যাগ করেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ
শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহম্মদ মুহসীন হলে। কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্রদল কর্মী হিসেবে হল ও বিভাগের সহপাঠীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে (স্নাতকোত্তর) অধ্যয়নরত থাকায় ২০২২ সালে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছিলেন শ্রাবণ। পরে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এর দুই মাসের মাথায় তাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
শ্রাবণের বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনি এখন দল থেকে বহিষ্কৃত। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। আর ছোট ভাই আজাহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। পরিবার ত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন।
চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় একযুগ পর নিজ জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরে ফেরেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। দীর্ঘদিন পর এলাকায় গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি কেশবপুরে লিফলেট বিতরণে অংশ নেন। এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর তার নিজ উপজেলায় আসার খবরে মোড়ে মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এরপর কেশবপুর থেকে প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল এবং শতাধিক মাইক্রোবাসে নেতাকর্মীরা তার বহরে যোগ দেন। বহর নিয়ে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেন।
জানা গেছে, শ্রাবণ কেশবপুর গেলেও তার নিজ বাড়িতে যাননি। এমনকি তার বাবার বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪