প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি) থাকার কথা থাকলেও পটুয়াখালী জেলায় ৭৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৫৪ টিতে এই সেবামুলক প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। আবার এসব এফডবিলউসিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১৪ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকটও। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আসা প্রান্তিক মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, চর্মরোগসহ মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার ২৬ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত ১৪ মাস ধরে এসব কেন্দ্রে বন্ধ রয়েছে ওষুধ সরবরাহ। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের যেতে হচ্ছে শহরের সরকারি ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকব ও হাসপাতালে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে ব্যয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। সরকারি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সঠিক সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। জেলার অন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতেও একই চিত্র।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা বকুল বাড়িয়া গ্রামের লামিয়া বেগম বলেন, ‘আমার দেড় বছরের শিশু সামিয়াকে নিয়ে এখানে এসেছি। ছেলেটির কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাঁশিতে ভুগছে। এখানকার ডাক্তার ঔষধ লিখে দিছে, তবে কোনো ওষধ দেয় নাই। বলেছে এখানে কোনো ওষধ নেই। মাস দুয়েক আগেও একবার আসছিলাম। তখনও ওষধ পাই নাই। তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা খরচ ছাড়া ডাক্তার দেখানোসহ বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যায় বলেই এখানে আসি। এখন এখানে ঔষধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হয়। একই গ্রামের গৃহবধূ সুমী আক্তার (২১) ঠান্ডা জ¦রে আক্রান্ত তার দুবছরের ছেলে মিরাজকে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, তিনমাস আগেও এবকার এসেছিলাম অঅমার জ¦র নিয়ে তখনও ওষুধ পাইনি। এবার অঅমার ছেলে অসুস্থ শুধুমাত্র ওষধ লিখে দিয়েছে। কোনো ওষুধ দেয়নি। বলেছে কোননো ওষুধ নেই। আমার বাড়ি থেকে গলাচিপা উপজেলা শহরে ১৫ কিলোমটিা আর পটুয়াখালী জেলা শহর প্রায় ২৫ কিলোমিটার। ওইসব শহরে গিয়ে ক্লিনিক বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া খুবই ভোগান্তির এবং ব্যয়বহুল। আমার স্বামী একজন দিনমজুর। তাই টাকার অভাবে এখন আমরা চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবে পাচ্ছি না।
এই এডব্লিউসিতে রয়েছে জনবল সংকটও। এখানে ৬ টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) ও একজন এমএলএসএস। উপ-সহকারি মেডিকেল কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা স্যাকমো পদে প্রতিষ্ঠালগ্নে একজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও ২ বছর সেবা দিয়ে তিনি অন্যত্র বদলী হন। তারপর থেকে ওই পদে আর কেউ আসেননি। এখন পরিবার কল্যাণ সহকারি রনজিতা একাই সামলান চিকিৎসা সেবা। তিনি আবার পাশর্^বর্তী খারিজ্জমা ইউনিয়নেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, আমাকেই সব সামলাতে হয়। ওষুধ সরবরাহ ১৪ মাস ধরে বন্ধ। তা এখন রোগীদের চাপ কম। তবে গত একমাসে ৩০ টি স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও ওষুধ সংকটের পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট। এখানেও উপসহকারি মেডিকেল অফিসারের পদটি দীর্ঘদিন খালি। ৭ টি পদে কর্মরত আছে ৫ জন। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা নাছিমা বেগম জানান, কয়েকদনি ধরে আমার জ¦র আর চুলকানি। ডাক্তার দেখাতে আসছি। কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছে। কোনো ওষুধ দেয় নাই বলেছে সরবরাহ নেই।
এখানকার পরিবার কল্যাণ সহকারি নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমরা আগে প্রায় ২৩ রকমের ওষুধ পেতাম। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঔষধের সাপ্লাই না থাকায় এখন আর রোগীদের দিতে পারছি না। তাই রোগী তেমন একটা আসে না। আগে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত রোগী এলেও বর্তমানে আসে আট থেকে ১০ জন রোগী। ওষুধ না থাকায় রোগীদের শুধু পরামর্শ দিয়ে বিদায় করতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ওষুধ সংকট নয়, জনবল সংকটেও ভুগছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। জেলার ৫৪ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সমান সংখ্যক স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩ জন। ২১ টি ফার্মাসিস্ট পদে ১১ টি পদ খালি। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকের ৭৮ পদের মধ্যে ২৪ টি পদ খালি, পরিবার কল্যাণ সহকারির ৩১৭ পদে ৮৮ টি পদ র্দীঘদিন খালি।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. মো. সামসুজ্জামান বলেন, জনবল ও ওষুধ সংকটে সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও অচিরেই তা কেটে যাবে। আশা করছি আগামি সপ্তাহে সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করতে পারবো।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা পুষ্টিকর দুধের ৩০ প্যাকেট খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কার্টনের নিচের অংশ খুলে সেখান থেকে দুধের প্যাকেটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুধ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুধ বিতরণের প্রস্তুতির সময় একটি কার্টন খোলা হলে এর ভেতরে প্যাকেট কম পাওয়া যায়। পরে হিসাব করে ৩০ প্যাকেট দুধের ঘাটতি ধরা পড়ে। ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু রাশেদের বিরুদ্ধে দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে চারজন শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক সাক্ষী রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কত বড় কলিজা, স্কুল থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ চুরি করে খায়!’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাদিম মাহমুদ বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ওই এলাকায় নৌকা বাইচের আয়োজন ছিল। ওই সময় স্কুলে অতিথিদের জন্য ফল কাটার সময় দুধের প্যাকেটগুলো তাঁদের নজরে আসে। সেখান থেকে তাঁরা তিনটি প্যাকেট খেয়েছেন। তবে ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়া বা খাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে দুধ বিতরণের আগে কার্টন খুলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্যাকেট নেই। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সরাসরি জানাব। তাই ফোনে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইনি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা পুষ্টিকর দুধের ৩০ প্যাকেট খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কার্টনের নিচের অংশ খুলে সেখান থেকে দুধের প্যাকেটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুধ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুধ বিতরণের প্রস্তুতির সময় একটি কার্টন খোলা হলে এর ভেতরে প্যাকেট কম পাওয়া যায়। পরে হিসাব করে ৩০ প্যাকেট দুধের ঘাটতি ধরা পড়ে। ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু রাশেদের বিরুদ্ধে দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে চারজন শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক সাক্ষী রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কত বড় কলিজা, স্কুল থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ চুরি করে খায়!’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাদিম মাহমুদ বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ওই এলাকায় নৌকা বাইচের আয়োজন ছিল। ওই সময় স্কুলে অতিথিদের জন্য ফল কাটার সময় দুধের প্যাকেটগুলো তাঁদের নজরে আসে। সেখান থেকে তাঁরা তিনটি প্যাকেট খেয়েছেন। তবে ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়া বা খাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে দুধ বিতরণের আগে কার্টন খুলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্যাকেট নেই। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সরাসরি জানাব। তাই ফোনে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইনি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫২
আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আয়োজনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার সিনটেক্স পোশাক কারখানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের রুবেল ইসলাম এবং বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ধুন্দার গ্রামের শাহিন। তারা দুজনই সিনটেক্স কারখানায় সুইং সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে কারখানার ভেতরে বাইরে থেকে লোকজন এনে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একটি আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজনে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বাইরের কয়েকজনও অংশ নেন। পরে আয়োজনের ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে দুই কর্মকর্তাকে আটক করে।
আশুলিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আয়োজনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার সিনটেক্স পোশাক কারখানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের রুবেল ইসলাম এবং বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ধুন্দার গ্রামের শাহিন। তারা দুজনই সিনটেক্স কারখানায় সুইং সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে কারখানার ভেতরে বাইরে থেকে লোকজন এনে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একটি আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজনে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বাইরের কয়েকজনও অংশ নেন। পরে আয়োজনের ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে দুই কর্মকর্তাকে আটক করে।
আশুলিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪০
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীতে ইলিশ শিকারে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে আবদুল মন্নান হাওলাদার (৫৫) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের কাছাকাছি বিষখালী নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আবদুল মন্নান ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে একটি ট্রলারে করে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরতে যান আবদুল মন্নান। মাছ ধরার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধারে তৎপর হন। তবে নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় অনেকক্ষণ ধরে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. পনির হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করেই আবদুল মন্নান নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের জেলেরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, বিষখালী নদীতে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা বেশি। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। বরিশাল থেকে ডুবুরি দলের সদস্যরা রওনা হয়েছেন। তারা পৌঁছানোর পর নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হবে।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডুবুরি দল সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সহযোগিতায় নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীতে ইলিশ শিকারে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে আবদুল মন্নান হাওলাদার (৫৫) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের কাছাকাছি বিষখালী নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আবদুল মন্নান ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে একটি ট্রলারে করে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরতে যান আবদুল মন্নান। মাছ ধরার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধারে তৎপর হন। তবে নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় অনেকক্ষণ ধরে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. পনির হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করেই আবদুল মন্নান নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের জেলেরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, বিষখালী নদীতে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা বেশি। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। বরিশাল থেকে ডুবুরি দলের সদস্যরা রওনা হয়েছেন। তারা পৌঁছানোর পর নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হবে।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডুবুরি দল সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সহযোগিতায় নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:৫৫
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি) থাকার কথা থাকলেও পটুয়াখালী জেলায় ৭৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৫৪ টিতে এই সেবামুলক প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। আবার এসব এফডবিলউসিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১৪ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকটও। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আসা প্রান্তিক মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, চর্মরোগসহ মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার ২৬ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত ১৪ মাস ধরে এসব কেন্দ্রে বন্ধ রয়েছে ওষুধ সরবরাহ। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের যেতে হচ্ছে শহরের সরকারি ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকব ও হাসপাতালে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে ব্যয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। সরকারি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সঠিক সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। জেলার অন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতেও একই চিত্র।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা বকুল বাড়িয়া গ্রামের লামিয়া বেগম বলেন, ‘আমার দেড় বছরের শিশু সামিয়াকে নিয়ে এখানে এসেছি। ছেলেটির কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাঁশিতে ভুগছে। এখানকার ডাক্তার ঔষধ লিখে দিছে, তবে কোনো ওষধ দেয় নাই। বলেছে এখানে কোনো ওষধ নেই। মাস দুয়েক আগেও একবার আসছিলাম। তখনও ওষধ পাই নাই। তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা খরচ ছাড়া ডাক্তার দেখানোসহ বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যায় বলেই এখানে আসি। এখন এখানে ঔষধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হয়। একই গ্রামের গৃহবধূ সুমী আক্তার (২১) ঠান্ডা জ¦রে আক্রান্ত তার দুবছরের ছেলে মিরাজকে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, তিনমাস আগেও এবকার এসেছিলাম অঅমার জ¦র নিয়ে তখনও ওষুধ পাইনি। এবার অঅমার ছেলে অসুস্থ শুধুমাত্র ওষধ লিখে দিয়েছে। কোনো ওষুধ দেয়নি। বলেছে কোননো ওষুধ নেই। আমার বাড়ি থেকে গলাচিপা উপজেলা শহরে ১৫ কিলোমটিা আর পটুয়াখালী জেলা শহর প্রায় ২৫ কিলোমিটার। ওইসব শহরে গিয়ে ক্লিনিক বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া খুবই ভোগান্তির এবং ব্যয়বহুল। আমার স্বামী একজন দিনমজুর। তাই টাকার অভাবে এখন আমরা চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবে পাচ্ছি না।
এই এডব্লিউসিতে রয়েছে জনবল সংকটও। এখানে ৬ টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) ও একজন এমএলএসএস। উপ-সহকারি মেডিকেল কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা স্যাকমো পদে প্রতিষ্ঠালগ্নে একজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও ২ বছর সেবা দিয়ে তিনি অন্যত্র বদলী হন। তারপর থেকে ওই পদে আর কেউ আসেননি। এখন পরিবার কল্যাণ সহকারি রনজিতা একাই সামলান চিকিৎসা সেবা। তিনি আবার পাশর্^বর্তী খারিজ্জমা ইউনিয়নেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, আমাকেই সব সামলাতে হয়। ওষুধ সরবরাহ ১৪ মাস ধরে বন্ধ। তা এখন রোগীদের চাপ কম। তবে গত একমাসে ৩০ টি স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও ওষুধ সংকটের পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট। এখানেও উপসহকারি মেডিকেল অফিসারের পদটি দীর্ঘদিন খালি। ৭ টি পদে কর্মরত আছে ৫ জন। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা নাছিমা বেগম জানান, কয়েকদনি ধরে আমার জ¦র আর চুলকানি। ডাক্তার দেখাতে আসছি। কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছে। কোনো ওষুধ দেয় নাই বলেছে সরবরাহ নেই।
এখানকার পরিবার কল্যাণ সহকারি নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমরা আগে প্রায় ২৩ রকমের ওষুধ পেতাম। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঔষধের সাপ্লাই না থাকায় এখন আর রোগীদের দিতে পারছি না। তাই রোগী তেমন একটা আসে না। আগে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত রোগী এলেও বর্তমানে আসে আট থেকে ১০ জন রোগী। ওষুধ না থাকায় রোগীদের শুধু পরামর্শ দিয়ে বিদায় করতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ওষুধ সংকট নয়, জনবল সংকটেও ভুগছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। জেলার ৫৪ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সমান সংখ্যক স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩ জন। ২১ টি ফার্মাসিস্ট পদে ১১ টি পদ খালি। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকের ৭৮ পদের মধ্যে ২৪ টি পদ খালি, পরিবার কল্যাণ সহকারির ৩১৭ পদে ৮৮ টি পদ র্দীঘদিন খালি।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. মো. সামসুজ্জামান বলেন, জনবল ও ওষুধ সংকটে সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও অচিরেই তা কেটে যাবে। আশা করছি আগামি সপ্তাহে সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করতে পারবো।
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪