পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি সহ নানা নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে বরিশালের সাধারণ মানুষের সংসার যেন আর চলছেই না। মাসের বাজেট এখন ফুরিয়ে যাচ্ছে ২০ দিনের মধ্যেই। সর্বত্রই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশা ক্রমশ ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজি দরে ৫৬ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে ৯২ টন আটা বিক্রির পরেও গত মাসে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি আটকানো গেলেও আটার দাম ফের বাড়ছে। ফলে খাদ্যপণ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই।
এবারের পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত সবজির বাগানকে বারবারই বিপর্যস্ত করায় বাজারে এর বিরূপ প্রভাব লক্ষ্যণীয়। গত মাসেই বরিশালে স্বাভাবিকের ৪৭২% বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, যা একটি রেকর্ড। এমনকি স্বাভাবিক ১৭ দিনের স্থলে অক্টোবর মাসে বরিশালে ২৪ দিন বৃষ্টি ঝরেছে।
এই রেকর্ড বৃষ্টির ফলে বরিশালের সবজির বাজারে চরম বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আগাম শীতকালীন সবজির বেশিরভাগই নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে বছরে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু গত মাসখানেক ধরে বরিশালের বাজারে ৮০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছে না। বাজারে আসা নতুন অপরিপক্ব কোনো কোনো সবজির কেজি ১২০ টাকা। ফলে একটি ছোট পরিবারের এখন ডাল-ভাত আর সবজি দিয়ে তিনবেলা খাবার জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর বরিশালের বাজারে পেঁয়াজ আবার সেঞ্চুরি হাকিয়ে এখন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিগত রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় বাজারে এর কোনো ঘাটতি নেই। পুরো বছর জুড়েই দেশি পেঁয়াজে চাহিদা মিটলেও কৃষকের কাছ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে কেনা পেঁয়াজ এতদিন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রির পর একলাফে তা দ্বিগুণেরও ওপরে উঠে গেছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
সবজির বাজারে আগুনের কারণে এতদিন সাধারণ মানুষ ২০ টাকা কেজির আলু দিয়ে চাহিদা মেটালেও গত এক সপ্তাহে সেখানেও দুঃসংবাদ। আলুর দামও একলাফে ২৫% বেড়ে এখন ২৫ টাকা কেজি। কিন্তু কী কারণে পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ল, তার কোনো জবাব নেই বরিশালের পাইকারি বাজারের আড়তদারদের কাছে। ‘বাজার মনিটরিং’ নামে প্রশাসনের কোনো তৎপরতাও নেই দীর্ঘদিন।
অপরদিকে খোলা বাজারে মসুর ডালের কেজি এখন ১৬০ টাকা। এতদিন গরুর খাবার হিসেবে বিবেচিত খেসারির ডালের কেজিও এখন ১২৫ টাকা। ডিমের হালি ৪৮ টাকায় ওঠার পর আর নামার কোনো লক্ষণ নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১৯০ টাকা। ভারতীয় নিম্নমানের আদার কেজি ১৩০ টাকা, চীনা আদা ১৬০ টাকা কেজি। গরুর গোশতও পাউন্ডে ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে।
ইলিশের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো কমেনি। তবে এ নিষেধাজ্ঞার পরে বাজারে নদীর পাঙ্গাসের আমদানি যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইলিশের কেজি এখনো সাইজভেদে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা কেজি।
এদিকে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রায় বছর জুড়েই বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা সদরগুলোতে প্রায় ১৩০ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫৬ টন চাল ও ৯২ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন ছাড়াও জেলা সদরে ৫ জন করে এবং ৩৬টি উপজেলা সদরে ৭২ জন ডিলার এসব চাল ও আটা বিক্রি করছেন।
গত অর্থবছরে এ অঞ্চলে ১০ হাজার ৩০৬ টন চাল ও প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার টন আটা যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও প্রায় ৫ হাজার টন আটা ও ৪,২৪৭ টন চাল বিক্রি করা হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
তবে চালের বাজারে গত মাসে কিছুটা নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও গত সপ্তাহে আটার দাম আবার বেড়েছে। বরিশালের বাজারে এখন খোলা আটা ৫০ টাকা এবং এক কেজির প্যাকেট আটা ৬৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার বরিশাল মহানগরীসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য কিছু বাজারে খোঁজ নিয়ে ক্রেতাদের নিঃশ্বাসের খবরই মিলেছে। নারী-পুরুষ অনেক ক্রেতাই হতাশার সঙ্গে ক্ষোভের কথাও বলেছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

০৫ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৪০
পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি সহ নানা নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে বরিশালের সাধারণ মানুষের সংসার যেন আর চলছেই না। মাসের বাজেট এখন ফুরিয়ে যাচ্ছে ২০ দিনের মধ্যেই। সর্বত্রই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশা ক্রমশ ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজি দরে ৫৬ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে ৯২ টন আটা বিক্রির পরেও গত মাসে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি আটকানো গেলেও আটার দাম ফের বাড়ছে। ফলে খাদ্যপণ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই।
এবারের পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত সবজির বাগানকে বারবারই বিপর্যস্ত করায় বাজারে এর বিরূপ প্রভাব লক্ষ্যণীয়। গত মাসেই বরিশালে স্বাভাবিকের ৪৭২% বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, যা একটি রেকর্ড। এমনকি স্বাভাবিক ১৭ দিনের স্থলে অক্টোবর মাসে বরিশালে ২৪ দিন বৃষ্টি ঝরেছে।
এই রেকর্ড বৃষ্টির ফলে বরিশালের সবজির বাজারে চরম বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আগাম শীতকালীন সবজির বেশিরভাগই নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে বছরে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু গত মাসখানেক ধরে বরিশালের বাজারে ৮০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছে না। বাজারে আসা নতুন অপরিপক্ব কোনো কোনো সবজির কেজি ১২০ টাকা। ফলে একটি ছোট পরিবারের এখন ডাল-ভাত আর সবজি দিয়ে তিনবেলা খাবার জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর বরিশালের বাজারে পেঁয়াজ আবার সেঞ্চুরি হাকিয়ে এখন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিগত রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় বাজারে এর কোনো ঘাটতি নেই। পুরো বছর জুড়েই দেশি পেঁয়াজে চাহিদা মিটলেও কৃষকের কাছ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে কেনা পেঁয়াজ এতদিন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রির পর একলাফে তা দ্বিগুণেরও ওপরে উঠে গেছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
সবজির বাজারে আগুনের কারণে এতদিন সাধারণ মানুষ ২০ টাকা কেজির আলু দিয়ে চাহিদা মেটালেও গত এক সপ্তাহে সেখানেও দুঃসংবাদ। আলুর দামও একলাফে ২৫% বেড়ে এখন ২৫ টাকা কেজি। কিন্তু কী কারণে পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ল, তার কোনো জবাব নেই বরিশালের পাইকারি বাজারের আড়তদারদের কাছে। ‘বাজার মনিটরিং’ নামে প্রশাসনের কোনো তৎপরতাও নেই দীর্ঘদিন।
অপরদিকে খোলা বাজারে মসুর ডালের কেজি এখন ১৬০ টাকা। এতদিন গরুর খাবার হিসেবে বিবেচিত খেসারির ডালের কেজিও এখন ১২৫ টাকা। ডিমের হালি ৪৮ টাকায় ওঠার পর আর নামার কোনো লক্ষণ নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১৯০ টাকা। ভারতীয় নিম্নমানের আদার কেজি ১৩০ টাকা, চীনা আদা ১৬০ টাকা কেজি। গরুর গোশতও পাউন্ডে ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে।
ইলিশের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো কমেনি। তবে এ নিষেধাজ্ঞার পরে বাজারে নদীর পাঙ্গাসের আমদানি যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইলিশের কেজি এখনো সাইজভেদে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা কেজি।
এদিকে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রায় বছর জুড়েই বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা সদরগুলোতে প্রায় ১৩০ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫৬ টন চাল ও ৯২ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন ছাড়াও জেলা সদরে ৫ জন করে এবং ৩৬টি উপজেলা সদরে ৭২ জন ডিলার এসব চাল ও আটা বিক্রি করছেন।
গত অর্থবছরে এ অঞ্চলে ১০ হাজার ৩০৬ টন চাল ও প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার টন আটা যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও প্রায় ৫ হাজার টন আটা ও ৪,২৪৭ টন চাল বিক্রি করা হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
তবে চালের বাজারে গত মাসে কিছুটা নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও গত সপ্তাহে আটার দাম আবার বেড়েছে। বরিশালের বাজারে এখন খোলা আটা ৫০ টাকা এবং এক কেজির প্যাকেট আটা ৬৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার বরিশাল মহানগরীসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য কিছু বাজারে খোঁজ নিয়ে ক্রেতাদের নিঃশ্বাসের খবরই মিলেছে। নারী-পুরুষ অনেক ক্রেতাই হতাশার সঙ্গে ক্ষোভের কথাও বলেছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯