Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৫ জুন, ২০২৬ ১৪:১৩
রাজবাড়ীর কালুখালীতে মো. আসাদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে আগুনে পোড়ানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার মাদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া এলাকার পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসাদুল কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষমারি গ্রামের মো. সাজাহানের ছেলে এবং মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদুল ইসলামের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আসাদুল একজন ভদ্র ও মেধাবী তরুণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, সকালে পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজ আসাদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার বিকেলে সোনাপুর হাটে যাওয়ার পর থেকেই আসাদুল নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অবহিত করা হয়। আজ সকালে একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজবাড়ীর কালুখালীতে মো. আসাদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে আগুনে পোড়ানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার মাদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া এলাকার পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসাদুল কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষমারি গ্রামের মো. সাজাহানের ছেলে এবং মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদুল ইসলামের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আসাদুল একজন ভদ্র ও মেধাবী তরুণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, সকালে পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজ আসাদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার বিকেলে সোনাপুর হাটে যাওয়ার পর থেকেই আসাদুল নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অবহিত করা হয়। আজ সকালে একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:৩২
হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল তিন শিশুর। চার শিশুর সবাই ঢাকায় মারা গেছে।
এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৭২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৬ শিশু।
সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৫৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৬ হাজার ৯২৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১ হাজার ৪৬৭ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৭ হাজার ৮৭৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৮

১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:০০
রংপুরের মিঠাপুকুরে চালককে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিশুক ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।
আটক নারী ছিনতাইকারী আপি বেগম (২৬) উপজেলার আলীপুর নয়ারহাট গ্রামের মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মিশুক চালক মোঃ আক্তার হোসেনকে (৩৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার থেকে আটক নারীসহ তিন ছিনতাইকারী যাত্রী বেশে আক্তার হোসেনের মিশুকে ওঠেন। গাড়িটি বালারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে কয়েরমারী গ্রামের উল্লাগাড়ী পাথারের বটগাছের নিচে পৌঁছামাত্রই ছিনতাইকারীরা চালকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করে।
চালক আক্তার হোসেন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো ছোরা দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও বাম হাতের আঙুলে উপর্যুপরি কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় চালকের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন।
প্রায় ৪০০ গজ দূর থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়িটিসহ নারী ছিনতাইকারী আপি বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জনতা। তবে সুযোগ বুঝে তার অপর দুই সহযোগী মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৩) ও মোঃ রিয়াদ (২৩) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে নারী ছিনতাইকারী আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে মিঠাপুকুর উপজেলায় ধারাবাহিক অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে থাকলেও এই চক্রটিকে ধরা যাচ্ছিল না। এই নারী সদস্য আটকের পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, আটক নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল তিন শিশুর। চার শিশুর সবাই ঢাকায় মারা গেছে।
এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৭২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৬ শিশু।
সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৫৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৬ হাজার ৯২৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১ হাজার ৪৬৭ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৭ হাজার ৮৭৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন।
সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পুরোনো এক ‘ক্লুলেস’ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), চট্টগ্রাম। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহত ব্যক্তির ছেলে বেলাল হোসেনকে।
পিবিআই জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) ছিলেন পেশায় একজন বাবুর্চি। জীবদ্দশায় তিনি চারটি বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দেন তিনি। শেষ বয়সে তার অবশিষ্ট ছিল কেবল বসতভিটার একটি ছোট অংশ। এই ভিটেমাটিই পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান যখন শেষ সম্বলটুকুও বিক্রির উদ্যোগ নেন, তখন বিষয়টি জানতে পারেন তার বড় ছেলে বেলাল হোসেন। এরপর থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যার ছক কষা হয় বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা।
পিবিআই আরও জানায়, হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেলাল একটি নারী বন্ধুকে ব্যবহার করে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করান। ওই নারী ফোনালাপের মাধ্যমে মীর মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং দেখা করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রলোভনে পড়ে তিনি ২০২৪ সালের ৭ জুন চট্টগ্রামে আসেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বেলালের ভায়রা আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় পিবিআই। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।
অচেতন অবস্থায় মুজিবুর রহমানকে প্রথমে সিএনজি অটোরিকশায় করে সিআরবি এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে হালিশহর আউটার রিংরোড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, চলন্ত মাইক্রোবাসেই গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় বেলাল ও আবদুল জলিল ঘটনাটিতে সরাসরি অংশ নেন বলে দাবি পিবিআইয়ের।
হত্যার পর মরদেহটি সড়কের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশ উদ্ধার করে। পরনে লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি এবং গলায় গামছা থাকলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই। সোমবার চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পুরোনো এক ‘ক্লুলেস’ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), চট্টগ্রাম। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহত ব্যক্তির ছেলে বেলাল হোসেনকে।
পিবিআই জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) ছিলেন পেশায় একজন বাবুর্চি। জীবদ্দশায় তিনি চারটি বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দেন তিনি। শেষ বয়সে তার অবশিষ্ট ছিল কেবল বসতভিটার একটি ছোট অংশ। এই ভিটেমাটিই পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান যখন শেষ সম্বলটুকুও বিক্রির উদ্যোগ নেন, তখন বিষয়টি জানতে পারেন তার বড় ছেলে বেলাল হোসেন। এরপর থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যার ছক কষা হয় বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা।
পিবিআই আরও জানায়, হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেলাল একটি নারী বন্ধুকে ব্যবহার করে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করান। ওই নারী ফোনালাপের মাধ্যমে মীর মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং দেখা করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রলোভনে পড়ে তিনি ২০২৪ সালের ৭ জুন চট্টগ্রামে আসেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বেলালের ভায়রা আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় পিবিআই। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।
অচেতন অবস্থায় মুজিবুর রহমানকে প্রথমে সিএনজি অটোরিকশায় করে সিআরবি এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে হালিশহর আউটার রিংরোড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, চলন্ত মাইক্রোবাসেই গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় বেলাল ও আবদুল জলিল ঘটনাটিতে সরাসরি অংশ নেন বলে দাবি পিবিআইয়ের।
হত্যার পর মরদেহটি সড়কের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশ উদ্ধার করে। পরনে লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি এবং গলায় গামছা থাকলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই। সোমবার চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
রংপুরের মিঠাপুকুরে চালককে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিশুক ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।
আটক নারী ছিনতাইকারী আপি বেগম (২৬) উপজেলার আলীপুর নয়ারহাট গ্রামের মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মিশুক চালক মোঃ আক্তার হোসেনকে (৩৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার থেকে আটক নারীসহ তিন ছিনতাইকারী যাত্রী বেশে আক্তার হোসেনের মিশুকে ওঠেন। গাড়িটি বালারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে কয়েরমারী গ্রামের উল্লাগাড়ী পাথারের বটগাছের নিচে পৌঁছামাত্রই ছিনতাইকারীরা চালকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করে।
চালক আক্তার হোসেন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো ছোরা দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও বাম হাতের আঙুলে উপর্যুপরি কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় চালকের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন।
প্রায় ৪০০ গজ দূর থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়িটিসহ নারী ছিনতাইকারী আপি বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জনতা। তবে সুযোগ বুঝে তার অপর দুই সহযোগী মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৩) ও মোঃ রিয়াদ (২৩) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে নারী ছিনতাইকারী আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে মিঠাপুকুর উপজেলায় ধারাবাহিক অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে থাকলেও এই চক্রটিকে ধরা যাচ্ছিল না। এই নারী সদস্য আটকের পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, আটক নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।