Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৪৫
নেপালে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে কাঠমান্ডুর রাজপথে হাজার হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে স্বাগত জানাতে এবং বিলুপ্ত রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এই জনসমাগম ঘটে। কয়েকশ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়েই সাবেক রাজা তার গাড়ির সানরুফ থেকে হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।
বিক্ষোভকারীরা ‘রাজা ফিরে আসুক’ এবং ‘সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার ব্যক্তিগত বাসভবন পর্যন্ত দীর্ঘ পথ সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। নেপালের পূর্বাঞ্চল সফর শেষে তার এই আগমনে সমর্থকদের এমন উচ্ছ্বাস রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের গণবিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেন্দ্র শাহ তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ২০০৮ সালে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে নেপালে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়।
গত বছরও একই ধরনের রাজতন্ত্রী সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল, যেখানে সহিংসতায় দুইজনের মৃত্যু হয়। তবে শুক্রবারের এই সমাবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। আগামী মার্চ মাসে নেপালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে রাজতন্ত্রী দলগুলো প্রায় ৫ শতাংশ আসন পেলেও এবারের সমাবেশে তাদের শক্তির মহড়া থেকে বোঝা যাচ্ছে যে তারা নির্বাচনে আরও বড় প্রভাব ফেলতে চাইছে।
সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নিজে থেকে কোনো মন্তব্য না করলেও তার প্রতি সাধারণ মানুষের এই ক্রমবর্ধমান সমর্থন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় সংকেত।
যদিও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ঘোর বিরোধী, তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজপন্থীদের এই বিশাল সমাবেশ নেপালের আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
বরিশাল টাইমস
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে কাঠমান্ডুর রাজপথে হাজার হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে স্বাগত জানাতে এবং বিলুপ্ত রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এই জনসমাগম ঘটে। কয়েকশ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়েই সাবেক রাজা তার গাড়ির সানরুফ থেকে হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।
বিক্ষোভকারীরা ‘রাজা ফিরে আসুক’ এবং ‘সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার ব্যক্তিগত বাসভবন পর্যন্ত দীর্ঘ পথ সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। নেপালের পূর্বাঞ্চল সফর শেষে তার এই আগমনে সমর্থকদের এমন উচ্ছ্বাস রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের গণবিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেন্দ্র শাহ তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ২০০৮ সালে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে নেপালে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়।
গত বছরও একই ধরনের রাজতন্ত্রী সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল, যেখানে সহিংসতায় দুইজনের মৃত্যু হয়। তবে শুক্রবারের এই সমাবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। আগামী মার্চ মাসে নেপালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে রাজতন্ত্রী দলগুলো প্রায় ৫ শতাংশ আসন পেলেও এবারের সমাবেশে তাদের শক্তির মহড়া থেকে বোঝা যাচ্ছে যে তারা নির্বাচনে আরও বড় প্রভাব ফেলতে চাইছে।
সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নিজে থেকে কোনো মন্তব্য না করলেও তার প্রতি সাধারণ মানুষের এই ক্রমবর্ধমান সমর্থন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় সংকেত।
যদিও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ঘোর বিরোধী, তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজপন্থীদের এই বিশাল সমাবেশ নেপালের আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
বরিশাল টাইমস

০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৬

৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ জাহাজের জন্য বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি ইরান ফের খুলে দেবে কি না, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্তকারী এই প্রণালি দিয়েই এশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ যানবাহনের জন্য জ্বালানি রেশন, ডিজেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহী এবং বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারা রাত অপেক্ষা করছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গেট বন্ধ করে দিয়েছে, আর জ্বালানি সরবরাহকারী পাম্পগুলো নীল প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে, যা সরবরাহ সংকটের তীব্রতাকেই প্রতিফলিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে এই সংকট আরও প্রকট; সেখানে এক থেকে দুই লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সরকার এই পরিস্থিতির একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ এবং এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মুখোমুখি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দেশকে মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় সচল রাখতে সক্ষম। ডিজেলের মজুদের অবস্থাও প্রায় একই রকম। ঢাকা এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য ভারত যে ধরনের ছাড় পেয়েছে, বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরূপ সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের এক কর্মকর্তা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা আমাদের কোষাগার শূন্য করে দিচ্ছে, কিন্তু সরকারের কিছু করার নেই। আমাদের হাতে ১০ দিনেরও কম সময়ের মজুত আছে।’
দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের জন্য ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকেছে। দুই দিনের প্রচেষ্টায় সরকারি জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলা বুধবার ১ মার্চের তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বেশি দামে দুটি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই সংকট ঘনীভূত হওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিক সিন্ডিকেটগুলোকেও দায়ী করছেন, যারা জ্বালানি মজুত করছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন বলেন, ‘আমরা সীমিত সরবরাহ পাচ্ছি এবং পাম্পগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।’ তিনি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। অকটেন বা পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাতে আমাদের কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। মানুষের জ্বালানি মজুত বন্ধ করা উচিত। যেহেতু প্রতিটি যানবাহনের জন্য সীমিত পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে, চালকরা তাদের বাইকের ট্যাংক খালি করে আবারও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। আমরা আমাদের পাম্প এবং কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।’
গ্লোবাল থিঙ্ক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস’-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে। বাংলাদেশ তার প্রাথমিক জ্বালানির ৬২ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কোম্পানিগুলো হয় উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনবে অথবা সরবরাহ কমিয়ে দেবে, যার ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং লোডশেডিং শুরু হবে। তার মতে, সরকারের উচিত করোনা মহামারির সময়ের পরীক্ষিত ব্যবস্থা অনুসরণে জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া, যেমন—যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া।’
এদিকে, বাংলাদেশি এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দ্য টেলিগ্রাফ বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ কার্যত অচল হয়ে যেতে পারে।’
তবে বিশ্লেষকদের এমন শঙ্কার বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, ‘বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।’ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। প্রকৃতপক্ষে আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়িয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ জাহাজের জন্য বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি ইরান ফের খুলে দেবে কি না, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্তকারী এই প্রণালি দিয়েই এশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ যানবাহনের জন্য জ্বালানি রেশন, ডিজেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহী এবং বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারা রাত অপেক্ষা করছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গেট বন্ধ করে দিয়েছে, আর জ্বালানি সরবরাহকারী পাম্পগুলো নীল প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে, যা সরবরাহ সংকটের তীব্রতাকেই প্রতিফলিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে এই সংকট আরও প্রকট; সেখানে এক থেকে দুই লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সরকার এই পরিস্থিতির একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ এবং এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মুখোমুখি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দেশকে মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় সচল রাখতে সক্ষম। ডিজেলের মজুদের অবস্থাও প্রায় একই রকম। ঢাকা এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য ভারত যে ধরনের ছাড় পেয়েছে, বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরূপ সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের এক কর্মকর্তা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা আমাদের কোষাগার শূন্য করে দিচ্ছে, কিন্তু সরকারের কিছু করার নেই। আমাদের হাতে ১০ দিনেরও কম সময়ের মজুত আছে।’
দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের জন্য ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকেছে। দুই দিনের প্রচেষ্টায় সরকারি জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলা বুধবার ১ মার্চের তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বেশি দামে দুটি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই সংকট ঘনীভূত হওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিক সিন্ডিকেটগুলোকেও দায়ী করছেন, যারা জ্বালানি মজুত করছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন বলেন, ‘আমরা সীমিত সরবরাহ পাচ্ছি এবং পাম্পগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।’ তিনি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। অকটেন বা পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাতে আমাদের কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। মানুষের জ্বালানি মজুত বন্ধ করা উচিত। যেহেতু প্রতিটি যানবাহনের জন্য সীমিত পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে, চালকরা তাদের বাইকের ট্যাংক খালি করে আবারও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। আমরা আমাদের পাম্প এবং কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।’
গ্লোবাল থিঙ্ক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস’-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে। বাংলাদেশ তার প্রাথমিক জ্বালানির ৬২ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কোম্পানিগুলো হয় উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনবে অথবা সরবরাহ কমিয়ে দেবে, যার ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং লোডশেডিং শুরু হবে। তার মতে, সরকারের উচিত করোনা মহামারির সময়ের পরীক্ষিত ব্যবস্থা অনুসরণে জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া, যেমন—যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া।’
এদিকে, বাংলাদেশি এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দ্য টেলিগ্রাফ বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ কার্যত অচল হয়ে যেতে পারে।’
তবে বিশ্লেষকদের এমন শঙ্কার বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, ‘বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।’ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। প্রকৃতপক্ষে আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়িয়েছি।’
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৩
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০৪
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৫
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫১