
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪৭
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় রোগের ঝুঁকি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ সোমবার এমন সতর্ক বার্তা দেয় বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজার শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মিত টিকা থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে লাজারিনি বলেন, গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে শিশুরা বারবার তাদের নিরাপদ থাকতে যে টিকাগুলো দরকার, সেগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া, ঠান্ডা তাপমাত্রা, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় জীবন বাঁচাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এতে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে; এতে ৪৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় রোগের ঝুঁকি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ সোমবার এমন সতর্ক বার্তা দেয় বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজার শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মিত টিকা থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে লাজারিনি বলেন, গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে শিশুরা বারবার তাদের নিরাপদ থাকতে যে টিকাগুলো দরকার, সেগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া, ঠান্ডা তাপমাত্রা, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় জীবন বাঁচাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এতে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে; এতে ৪৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছে।

২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৫
বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী’-এর সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) নিরাপত্তা বাহিনী ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত তিন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে।
আইএসপিআর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের অবস্থানে আক্রমণ চালায়। তীব্র গোলাবারুদ বিনিময়ের পর নিহতরা হলেন স্থানীয় কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরো, আদিল এবং ওয়াসিম। তাদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকার অন্যান্য ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ধরতে স্যানিটাইজেশন অভিযান অব্যাহত আছে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দ্রুত এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, পাকিস্তান থেকে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করতে অভিযানগুলি পূর্ণ গতিতে চলবে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর থেকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে আফগান সীমান্তবর্তী কেপি এবং বেলুচিস্তান প্রদেশ। এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ৬ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে ৭৫,১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ২,৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তান থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে অব্যাহত সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে সাধারণ মানুষ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রায়ই ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ঢুকছে। পাকিস্তানের এসব অভিযান সেই গোষ্ঠী এবং তাদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল টাইমস
বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী’-এর সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) নিরাপত্তা বাহিনী ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত তিন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে।
আইএসপিআর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের অবস্থানে আক্রমণ চালায়। তীব্র গোলাবারুদ বিনিময়ের পর নিহতরা হলেন স্থানীয় কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরো, আদিল এবং ওয়াসিম। তাদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকার অন্যান্য ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ধরতে স্যানিটাইজেশন অভিযান অব্যাহত আছে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দ্রুত এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, পাকিস্তান থেকে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করতে অভিযানগুলি পূর্ণ গতিতে চলবে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর থেকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে আফগান সীমান্তবর্তী কেপি এবং বেলুচিস্তান প্রদেশ। এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ৬ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে ৭৫,১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ২,৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তান থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে অব্যাহত সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে সাধারণ মানুষ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রায়ই ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ঢুকছে। পাকিস্তানের এসব অভিযান সেই গোষ্ঠী এবং তাদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল টাইমস

২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫২
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্প্রতি গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার মামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করেছে মায়ানমার। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি উল্লেখ করে মায়ানমারের অপচেষ্টার বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক অঙ্গীকার প্রদর্শন এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তন ও পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে মায়ানমার এবং রাখাইনে কর্তৃত্বকারী সব পক্ষকে বাংলাদেশ আহবান জানায়।
মায়ানমার অতীতেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের তৎকালীন ‘বেঙ্গল’ (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে যাওয়া বোঝাতে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে। অতীতেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আইসিজেতে সম্প্রতি মায়ানমারের উপস্থাপন করা বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের একটি কৃত্রিম বয়ান তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতা ও জেনোসাইড সম্পর্কিত অপরাধ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো যায় এবং তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ (নির্মূল অভিযানকে) সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে, এমনকি ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও বহু আগে থেকে। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী মিয়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাং এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর বঙ্গ অঞ্চলে তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। শুরুতে এটি ছিল একটি অ্যাক্সোনিম বা বহির্নাম। পরবর্তী সময়ে বার্মায় ধীরে ধীরে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকীকরণের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নামটি গ্রহণ করে। তাদের বার্মার আরাকান এবং বর্তমান রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।
আধুনিক সীমান্ত নির্ধারণের অনেক আগেই এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ছিল, যা ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনশুমারি এবং স্বাধীন গবেষণায় সুপ্রমাণিত। বার্মার স্বাধীনতার বহু আগেই আরাকানে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি জনগোষ্ঠীকে বিদেশি বা অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মায়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ওই আইনের মাধ্যমে মায়ানমার সরকার শুধু জাতিগত ও ধর্মীয় বিবেচনায় তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার ভোগ করেছে।
তবে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। মায়ানমার ধারাবাহিকভাবে তাদের সমান অধিকার ও সমান নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অস্বীকার করে এসেছে। এই পরিকল্পিত ধ্বংসপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করা হয় এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা ও ভাষা, যা বাংলার সঙ্গে, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তা থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা তাদের আত্মপরিচয় নির্ধারণের অন্তর্নিহিত অধিকারকে অস্বীকার করার শামিল। এই নামকরণ বিতর্ককে ব্যবহার করে তাদের বর্জন, নিপীড়ন এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে জাতিগত নির্মূল ও জেনোসাইডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণ মায়ানমার রাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও ১৯৭৮ সালের বাংলাদেশ-মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে তাদের ‘বার্মার আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। নামকরণ যা-ই হোক না কেন, ওই চুক্তি ও পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় এই (রোহিঙ্গা) জনগোষ্ঠীকে মায়ানমার সমাজে সমান সদস্য হিসেবে পুনরেকত্রীকরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে। রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করাই তাদের সম্প্রদায় ধ্বংসের কেন্দ্রীয় কৌশল। এর পরিণতিতে তাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের ব্যর্থতা ২০১৭-১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ও অজুহাত প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
২০২৩ সালের ৬ জুলাই মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে উত্থাপন করা তথ্যের প্রতিবাদ জানানোর কথাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল উল্লেখ করে। সেই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে মায়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল।’ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিবাদ ও মায়ানমারকে তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহবান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখেরও কম। ওই সময় রাখাইনের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করত। এমনকি যুদ্ধকালীন কষ্ট এড়াতে বর্তমান বাংলাদেশের কিছু মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে যদি বার্মায় প্রবেশ করেও থাকে, তবে সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর রাখাইনে উন্নত জীবিকার কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী সময়ে বার্মায় পরিচালিত রাখাইন রাজ্যের জনশুমারিতেও এই ধরনের দাবির পক্ষে কোনো জনমিতিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্প্রতি গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার মামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করেছে মায়ানমার। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি উল্লেখ করে মায়ানমারের অপচেষ্টার বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক অঙ্গীকার প্রদর্শন এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তন ও পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে মায়ানমার এবং রাখাইনে কর্তৃত্বকারী সব পক্ষকে বাংলাদেশ আহবান জানায়।
মায়ানমার অতীতেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের তৎকালীন ‘বেঙ্গল’ (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে যাওয়া বোঝাতে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে। অতীতেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আইসিজেতে সম্প্রতি মায়ানমারের উপস্থাপন করা বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের একটি কৃত্রিম বয়ান তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতা ও জেনোসাইড সম্পর্কিত অপরাধ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো যায় এবং তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ (নির্মূল অভিযানকে) সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে, এমনকি ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও বহু আগে থেকে। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী মিয়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাং এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর বঙ্গ অঞ্চলে তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। শুরুতে এটি ছিল একটি অ্যাক্সোনিম বা বহির্নাম। পরবর্তী সময়ে বার্মায় ধীরে ধীরে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকীকরণের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নামটি গ্রহণ করে। তাদের বার্মার আরাকান এবং বর্তমান রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।
আধুনিক সীমান্ত নির্ধারণের অনেক আগেই এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ছিল, যা ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনশুমারি এবং স্বাধীন গবেষণায় সুপ্রমাণিত। বার্মার স্বাধীনতার বহু আগেই আরাকানে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি জনগোষ্ঠীকে বিদেশি বা অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মায়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ওই আইনের মাধ্যমে মায়ানমার সরকার শুধু জাতিগত ও ধর্মীয় বিবেচনায় তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার ভোগ করেছে।
তবে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। মায়ানমার ধারাবাহিকভাবে তাদের সমান অধিকার ও সমান নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অস্বীকার করে এসেছে। এই পরিকল্পিত ধ্বংসপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করা হয় এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা ও ভাষা, যা বাংলার সঙ্গে, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তা থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা তাদের আত্মপরিচয় নির্ধারণের অন্তর্নিহিত অধিকারকে অস্বীকার করার শামিল। এই নামকরণ বিতর্ককে ব্যবহার করে তাদের বর্জন, নিপীড়ন এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে জাতিগত নির্মূল ও জেনোসাইডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণ মায়ানমার রাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও ১৯৭৮ সালের বাংলাদেশ-মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে তাদের ‘বার্মার আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। নামকরণ যা-ই হোক না কেন, ওই চুক্তি ও পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় এই (রোহিঙ্গা) জনগোষ্ঠীকে মায়ানমার সমাজে সমান সদস্য হিসেবে পুনরেকত্রীকরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে। রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করাই তাদের সম্প্রদায় ধ্বংসের কেন্দ্রীয় কৌশল। এর পরিণতিতে তাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের ব্যর্থতা ২০১৭-১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ও অজুহাত প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
২০২৩ সালের ৬ জুলাই মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে উত্থাপন করা তথ্যের প্রতিবাদ জানানোর কথাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল উল্লেখ করে। সেই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে মায়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল।’ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিবাদ ও মায়ানমারকে তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহবান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখেরও কম। ওই সময় রাখাইনের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করত। এমনকি যুদ্ধকালীন কষ্ট এড়াতে বর্তমান বাংলাদেশের কিছু মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে যদি বার্মায় প্রবেশ করেও থাকে, তবে সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর রাখাইনে উন্নত জীবিকার কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী সময়ে বার্মায় পরিচালিত রাখাইন রাজ্যের জনশুমারিতেও এই ধরনের দাবির পক্ষে কোনো জনমিতিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০৮
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। আজ বুধবার নারা শহরের একটি আদালতে বিচারক শিনিচি তানাকা এই আদেশ দেন। ২০২২ সালে প্রকাশ্যে শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
জাপানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তদের প্যারোলে মুক্তির সুযোগ আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এই সাজা পান তাদের অনেকেই কারাগারে থাকাকালীন মারা যান।
জাপানে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ প্রায় নেই বললেই চলে। শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে হতবাক করে দিয়েছিল। এই মামলার শুরুতেই ৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘সব কিছুই সত্য। আমি যে এটা করেছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ প্রসিকিউটররা তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান। যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে একে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন তারা।
অন্যদিকে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা শাস্তি কমানোর আবেদন জানান। তাদের দাবি, ‘ইয়ামাগামি ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার। তার মা ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতি অতিরিক্ত অনুগত ছিলেন, যার কারণে পরিবারটি আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ইয়ামাগামি জানতে পারেন, শিনজো আবের সঙ্গে ওই বিতর্কিত চার্চের সম্পর্ক ছিল। এ থেকেই তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে দাবি করেছে প্রতিরক্ষা পক্ষ।
দুটি ধাতব পাইপ ও ডাক্ট টেপ দিয়ে ঘরে বানানো বন্দুক হাতে নিয়ে তিনি ২০২২ সালের ৮ জুলাই পশ্চিম জাপানের নারা শহরে একটি রাজনৈতিক প্রচার অনুষ্ঠানে আবের দিকে দুটি গুলি ছোড়েন। শিনজো আবে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। আজ বুধবার নারা শহরের একটি আদালতে বিচারক শিনিচি তানাকা এই আদেশ দেন। ২০২২ সালে প্রকাশ্যে শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
জাপানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তদের প্যারোলে মুক্তির সুযোগ আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এই সাজা পান তাদের অনেকেই কারাগারে থাকাকালীন মারা যান।
জাপানে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ প্রায় নেই বললেই চলে। শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে হতবাক করে দিয়েছিল। এই মামলার শুরুতেই ৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘সব কিছুই সত্য। আমি যে এটা করেছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ প্রসিকিউটররা তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান। যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে একে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন তারা।
অন্যদিকে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা শাস্তি কমানোর আবেদন জানান। তাদের দাবি, ‘ইয়ামাগামি ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার। তার মা ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতি অতিরিক্ত অনুগত ছিলেন, যার কারণে পরিবারটি আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ইয়ামাগামি জানতে পারেন, শিনজো আবের সঙ্গে ওই বিতর্কিত চার্চের সম্পর্ক ছিল। এ থেকেই তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে দাবি করেছে প্রতিরক্ষা পক্ষ।
দুটি ধাতব পাইপ ও ডাক্ট টেপ দিয়ে ঘরে বানানো বন্দুক হাতে নিয়ে তিনি ২০২২ সালের ৮ জুলাই পশ্চিম জাপানের নারা শহরে একটি রাজনৈতিক প্রচার অনুষ্ঠানে আবের দিকে দুটি গুলি ছোড়েন। শিনজো আবে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.