সরকারের কোনো পদক্ষেপই চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমন মৌসুম শেষ হবার আগেই বরিশালের চালের বাজার নতুন করে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। সমাপ্তপ্রায় আমন মৌসুমে ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে। অথচ এবার ধানের দাম গত বছরের চেয়ে প্রতিমনে দেড়শ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত কম। কিন্তু গত একমাসে বরিশালে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বা প্রতি মনে আড়াইশ টাকার মতো।
অথচ গত ৬ মাসে শুধু বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগির মাঝে ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’র আওতায় মাত্র ১৫ টাকা কেজি দলে ৬০ হাজার ৫শ টনের মত চাল বিক্রি করেছে সরকার। এ কর্মসূচিতে ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগী গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসেও অনুরূপভাবে চাল বিক্রি করা হবে।
উপরন্তু, খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৫৬ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে একই পরিমাণ আটাও বিক্রি করছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ হিসেবে, ‘খোলা বাজারে বিক্রি কর্মসূচি-ওএমএস’র আওতায় গত ৬ মাসে ৮,১৫৩ টন আটা ও ৭,২৭৫ টন চাল বিক্রি করেছে সরকার। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর বাইরে বরিশালের ৩.৪০ লাখ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৮ হাজার টন চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একইসাথে বরিশালের ৪ লক্ষাধিক অনগ্রসর নারীর মাঝেও দু বছরের জন্য যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চলছে, তারই আওতায় গত ৬ মাসে বরিশালে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এমনকি, টিসিবি’র প্রায় ৫ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ধারী সুবিধাভোগিও গত ৬ মাসে ৮ হাজার ১৪২ টন চাল পেয়েছেন ৩০ টাকা কেজি দরে।
কিন্তু এতসব কর্মসূচিও চালের বাজারকে আটকাতে পারেনি। নানা অজুহাতে চালকল মালিক এবং পাইকারি ব্যবসায়ী ও ফরিয়ার দল চালের দর বৃদ্ধি করে চলেছে। বরিশালের বাজারে এখন মোটা মানের চালের কেজিও ৫০ টাকার ওপরে। মধ্যম-মাঝারি চালের কেজি ৬০ টকা। আর মধ্যম-উন্নত মানের মিনিকেট চালের কেজি ৭৮-৮০ টাকা কেজি।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারে মূল্যস্ফীতি সহ অন্য অনেক পণ্যমূল্যকেও প্রভাবিত করে থাকে। ফলে চালের মূল্য বৃদ্ধির হাত ধরে অন্য অনেক নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমূখি প্রবণতা লক্ষণীয়। এবার শীতকালীন সবজি ছাড়াও অন্য অনেক কৃষিপণ্যের দামও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। অথচ কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে বর্ধিত দামের সুবিধা পাচ্ছেন না। পুরো বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে।
ফলে সাধারণ মানুুুুুষের সংসার চালান দায় হয়ে উঠছে ইতোমধ্যে। অপরদিকে এযাবৎকালের সর্বাধিক পরিমাণ আমন উৎপাদন হলেও ধানের দরপতনেও কৃষকরা দিশেহারা। সমাপ্তপ্রায় খরিপ-২ মৌসুমে বরিশালে প্রতিমণ আমন উৎপাদন ব্যায় ছিল প্রায় ১১শ টাকা। কিন্তু অনেক কষ্টের সে ফসল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৯শ টাকা ১ হাজার ৫০ টাকায়।
ফলে কৃষকের জন্য এবারের আমন মৌসুমে যেমন কোনো ভালো খবর নেই, তেমনি ভোক্তাদেরও চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দুর্ভোগ সব সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৫
সরকারের কোনো পদক্ষেপই চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমন মৌসুম শেষ হবার আগেই বরিশালের চালের বাজার নতুন করে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। সমাপ্তপ্রায় আমন মৌসুমে ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে। অথচ এবার ধানের দাম গত বছরের চেয়ে প্রতিমনে দেড়শ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত কম। কিন্তু গত একমাসে বরিশালে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বা প্রতি মনে আড়াইশ টাকার মতো।
অথচ গত ৬ মাসে শুধু বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগির মাঝে ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’র আওতায় মাত্র ১৫ টাকা কেজি দলে ৬০ হাজার ৫শ টনের মত চাল বিক্রি করেছে সরকার। এ কর্মসূচিতে ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগী গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসেও অনুরূপভাবে চাল বিক্রি করা হবে।
উপরন্তু, খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৫৬ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে একই পরিমাণ আটাও বিক্রি করছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ হিসেবে, ‘খোলা বাজারে বিক্রি কর্মসূচি-ওএমএস’র আওতায় গত ৬ মাসে ৮,১৫৩ টন আটা ও ৭,২৭৫ টন চাল বিক্রি করেছে সরকার। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর বাইরে বরিশালের ৩.৪০ লাখ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৮ হাজার টন চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একইসাথে বরিশালের ৪ লক্ষাধিক অনগ্রসর নারীর মাঝেও দু বছরের জন্য যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চলছে, তারই আওতায় গত ৬ মাসে বরিশালে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এমনকি, টিসিবি’র প্রায় ৫ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ধারী সুবিধাভোগিও গত ৬ মাসে ৮ হাজার ১৪২ টন চাল পেয়েছেন ৩০ টাকা কেজি দরে।
কিন্তু এতসব কর্মসূচিও চালের বাজারকে আটকাতে পারেনি। নানা অজুহাতে চালকল মালিক এবং পাইকারি ব্যবসায়ী ও ফরিয়ার দল চালের দর বৃদ্ধি করে চলেছে। বরিশালের বাজারে এখন মোটা মানের চালের কেজিও ৫০ টাকার ওপরে। মধ্যম-মাঝারি চালের কেজি ৬০ টকা। আর মধ্যম-উন্নত মানের মিনিকেট চালের কেজি ৭৮-৮০ টাকা কেজি।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারে মূল্যস্ফীতি সহ অন্য অনেক পণ্যমূল্যকেও প্রভাবিত করে থাকে। ফলে চালের মূল্য বৃদ্ধির হাত ধরে অন্য অনেক নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমূখি প্রবণতা লক্ষণীয়। এবার শীতকালীন সবজি ছাড়াও অন্য অনেক কৃষিপণ্যের দামও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। অথচ কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে বর্ধিত দামের সুবিধা পাচ্ছেন না। পুরো বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে।
ফলে সাধারণ মানুুুুুষের সংসার চালান দায় হয়ে উঠছে ইতোমধ্যে। অপরদিকে এযাবৎকালের সর্বাধিক পরিমাণ আমন উৎপাদন হলেও ধানের দরপতনেও কৃষকরা দিশেহারা। সমাপ্তপ্রায় খরিপ-২ মৌসুমে বরিশালে প্রতিমণ আমন উৎপাদন ব্যায় ছিল প্রায় ১১শ টাকা। কিন্তু অনেক কষ্টের সে ফসল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৯শ টাকা ১ হাজার ৫০ টাকায়।
ফলে কৃষকের জন্য এবারের আমন মৌসুমে যেমন কোনো ভালো খবর নেই, তেমনি ভোক্তাদেরও চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দুর্ভোগ সব সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১