ছবি: সংগৃহীত
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না ইলিশ শিকার। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর অভয়াশ্রমে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ‘ঢিলেঢালা’ ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে অর্ধশতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫১টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৩৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক কয়েকটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক অভিযান চালায়। ভোলা সদর উপজেলায় ১৭ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়। এ সময় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে তিনটি নৌকা, ১০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। দৌলতখান উপজেলায় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি একটি নৌকা, ১৫ কেজি ইলিশ ও ১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ১০ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি নৌকা, ছয় কেজি মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় আটক আটজনের মধ্যে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং দুজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে ১০ কেজি ইলিশ ও ২২ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় সরকারি নিবন্ধনভুক্ত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। তবে চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে ভোলা সদরে ৫২৫ টন, দৌলতখানে ৫০০ টন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ টন, তজুমদ্দিনে ৪৩২ দশমিক ৫ টন, লালমোহনে ৫২৫ টন, চরফ্যাশনে ৮৯১ দশমিক ৪ টন এবং মনপুরায় ২৮৭ দশমিক ৫ টন চাল রয়েছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত হয়েও ২৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলে এ সহায়তার বাইরে থাকছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ করা চালের ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় মাছ ধরে প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সরকারি নিবন্ধনে তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ভোলা সদরে ২২ হাজার ২৫২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ৫০২ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৩৫০ জন, তজুমদ্দিনে ১৮ হাজার ৭১৭ জন, মনপুরায় ১৬ হাজার ৪০০ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন এবং চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ২৮৫ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে জেলেরা আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তা মেনে চলেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের দুরবস্থা ও পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলে অভিযোগ তাঁদের। কয়েকজন জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে জেলে কার্ড পেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি চাল পাননি তাঁরা। প্রতিবছর চাল পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। পরিষদ থেকে জানানো হয়, সবার নামে বরাদ্দ আসেনি। ফলে সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাঁদের।
পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের জংষন গ্রামের জেলে আবুল কালাম মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় কোনো আয় থাকবে না। এ অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো এবং ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। জাল ও নৌকা কেনার জন্য প্রায় সব জেলেকেই ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের আর্থিক চাপ কমাতে ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। কোনো জেলে যেন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অভিযানে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৪
ভোলা সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ারবিষয়ক দিকনির্দেশনা দিতে আগামী ১৫ অক্টোবর ভোলা সরকারি কলেজের ছায়াবীথিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে অনুমতি নেওয়ার পর সংগঠনটির ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠানের প্রচার শুরু করা হয়।
তাদের দাবি, অনুষ্ঠানের প্রচার শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্রদল একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ছাত্রদলের কলেজ ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। পাশাপাশি রাতের আঁধারে কলেজ ক্যাম্পাসে টাঙানো ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কোনো সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তারা অতীতের আধিপত্যনির্ভর ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে ক্যাম্পাস পরিচালনার আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে তারা আরও জানান, কলেজ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ১৫ অক্টোবরের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসন অনুমতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনো ধরনের বাধা, হামলা বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কলেজ প্রশাসন এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল-আমীন, সহসভাপতি ইমরান হোসেন নাবিল, সেক্রেটারি কামরুল হাসানসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মী।
অন্যদিকে, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুস সামাদ জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ভোলার শহিদ নাঈমের স্মরণে দুই দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ছাত্রসংগঠন এ আয়োজনকে বিতর্কিত করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসরাফীল বলেন, একই দিনে দুটি ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি থাকায় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অবহিত করা হয়েছে।
ভোলা সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ারবিষয়ক দিকনির্দেশনা দিতে আগামী ১৫ অক্টোবর ভোলা সরকারি কলেজের ছায়াবীথিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে অনুমতি নেওয়ার পর সংগঠনটির ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠানের প্রচার শুরু করা হয়।
তাদের দাবি, অনুষ্ঠানের প্রচার শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্রদল একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ছাত্রদলের কলেজ ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। পাশাপাশি রাতের আঁধারে কলেজ ক্যাম্পাসে টাঙানো ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কোনো সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তারা অতীতের আধিপত্যনির্ভর ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে ক্যাম্পাস পরিচালনার আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে তারা আরও জানান, কলেজ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ১৫ অক্টোবরের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসন অনুমতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনো ধরনের বাধা, হামলা বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কলেজ প্রশাসন এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল-আমীন, সহসভাপতি ইমরান হোসেন নাবিল, সেক্রেটারি কামরুল হাসানসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মী।
অন্যদিকে, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুস সামাদ জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ভোলার শহিদ নাঈমের স্মরণে দুই দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ছাত্রসংগঠন এ আয়োজনকে বিতর্কিত করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসরাফীল বলেন, একই দিনে দুটি ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি থাকায় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অবহিত করা হয়েছে।
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২০
ভোলার ইলিশায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাওলানা ইউনুস (৬০) নামে এক মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ভোলা-ইলিশা সড়কের পাকার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাওলানা ইউনুস ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মৃত মজিবুল হক হাওলাদার। তিনি ইলিশা বাজার জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সকালে পাকার মাথা এলাকায় সড়ক অতিক্রম করার সময় একটি দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ইউনুস। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভোলার ইলিশায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাওলানা ইউনুস (৬০) নামে এক মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ভোলা-ইলিশা সড়কের পাকার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাওলানা ইউনুস ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মৃত মজিবুল হক হাওলাদার। তিনি ইলিশা বাজার জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সকালে পাকার মাথা এলাকায় সড়ক অতিক্রম করার সময় একটি দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ইউনুস। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে নদী ও মাছঘাটগুলোতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় সভা ও মাইকিং করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য জেলেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বছরের এই সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। অনেক জেলে পরিবার দৈনন্দিন জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েন। তবে ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তারা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জেলেরা যাতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে জেলেদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মৎস্য বিভাগ বলছে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে নদী ও মাছঘাটগুলোতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় সভা ও মাইকিং করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য জেলেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বছরের এই সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। অনেক জেলে পরিবার দৈনন্দিন জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েন। তবে ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তারা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জেলেরা যাতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে জেলেদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মৎস্য বিভাগ বলছে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৪৮
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না ইলিশ শিকার। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর অভয়াশ্রমে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ‘ঢিলেঢালা’ ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে অর্ধশতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫১টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৩৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক কয়েকটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক অভিযান চালায়। ভোলা সদর উপজেলায় ১৭ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়। এ সময় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে তিনটি নৌকা, ১০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। দৌলতখান উপজেলায় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি একটি নৌকা, ১৫ কেজি ইলিশ ও ১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ১০ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি নৌকা, ছয় কেজি মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় আটক আটজনের মধ্যে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং দুজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে ১০ কেজি ইলিশ ও ২২ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় সরকারি নিবন্ধনভুক্ত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। তবে চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে ভোলা সদরে ৫২৫ টন, দৌলতখানে ৫০০ টন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ টন, তজুমদ্দিনে ৪৩২ দশমিক ৫ টন, লালমোহনে ৫২৫ টন, চরফ্যাশনে ৮৯১ দশমিক ৪ টন এবং মনপুরায় ২৮৭ দশমিক ৫ টন চাল রয়েছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত হয়েও ২৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলে এ সহায়তার বাইরে থাকছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ করা চালের ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় মাছ ধরে প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সরকারি নিবন্ধনে তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ভোলা সদরে ২২ হাজার ২৫২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ৫০২ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৩৫০ জন, তজুমদ্দিনে ১৮ হাজার ৭১৭ জন, মনপুরায় ১৬ হাজার ৪০০ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন এবং চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ২৮৫ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে জেলেরা আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তা মেনে চলেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের দুরবস্থা ও পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলে অভিযোগ তাঁদের। কয়েকজন জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে জেলে কার্ড পেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি চাল পাননি তাঁরা। প্রতিবছর চাল পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। পরিষদ থেকে জানানো হয়, সবার নামে বরাদ্দ আসেনি। ফলে সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাঁদের।
পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের জংষন গ্রামের জেলে আবুল কালাম মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় কোনো আয় থাকবে না। এ অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো এবং ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। জাল ও নৌকা কেনার জন্য প্রায় সব জেলেকেই ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের আর্থিক চাপ কমাতে ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। কোনো জেলে যেন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অভিযানে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৭
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৭
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬