দীর্ঘ সময় বসে থেকেও মেলেনি বিএনপি নেতার সাক্ষাৎ, ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বরিশাল সদর আসনের এমপি বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় গেলে ইজ্জত নিয়ে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও খোদ সাংসদ তৃণমূল নেতাকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না দিয়ে বিদায় করছেন। আবার কখনও তার পালিত কজন রাজনৈতিক সহকর্মীর দ্বারা অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে। এই জনপ্রতিনিধির বাসায় গিয়ে বহু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেইজ্জতি হওয়ার উদাহরণ আছে। সার কথা হচ্ছে, বরিশাল-৫ আসনের এমপি বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা সরোয়ারের সাক্ষাৎ লাভের আশায় শহরের সাধুর বটতলায় তার বাসায় গেলে বেশির ভাগ মানুষকে বেইজ্জতি হতে হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বরিশালের নেতৃত্বস্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এতদিন কানাঘুষা বা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গেলেও বুধবার সদর উপজেলার ৪০০/৫০০ কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলে তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, একজন রাজনৈতিক এমপি হলে তিনি সংসদীয় আসনের সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এবং তার সাথে জনসাধারণে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু জাতীয় সংসদের ১২৩ নং আসন অর্থাৎ বরিশাল সদরের চিত্র একদম ভিন্ন, যা মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জনগণ আশা করেনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এমপি সরোয়ার অনুসারী সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ১৬১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হলে পদবঞ্চিত একটি বড় অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সরোয়ার নিয়ন্ত্রিত এই কমিটি বাতিল চেয়ে বিএনপির হাইকমাণ্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু প্রতাপশালী সরোয়ারের হস্তক্ষেপের কারণে এই অংশটি কমিটি ভাঙতে বা পদবঞ্চিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এনিয়ে তাদের মধ্যেকার প্রচন্ড রূপে ক্ষোভ এবং অভিমান আছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ ৫টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কাজী ফিরোজ, সদর উপজেলা বিএনপির আমিনুল ইসলাম পাখি, কবির মাঝি এবং রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০০/৫০০ লোক এমপি সরোয়ারের সাধুর বটতলার বাসবভনে যান। তখন এমপি বাসার ভেতরে থাকায় তৃণমূলের এই অংশটি বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন এবং তাদের আসার বিষয়টি সরোয়ারকে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করেন। রাত গভীর হয়, কিন্তু এমপির আর দেখা মেলেনি।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ। তৃণমূল বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নিজের পছন্দসই বিতর্কিত ব্যক্তি-বিশেষকে স্থানীয় কমিটিগুলোর শীর্ষ পদে আনতে কাজ করছেন। বিশেষ করে সদর উপজেলা কমিটিতে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনসহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের লোকজনদের পদ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটিসহ স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার সালাম রাঢ়ী এবং সাবুর নেতৃত্বে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী এমপি সরোয়ারের বাসায় গেলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে সাক্ষাৎ না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধির এই রাজনীতিবিমুখ আচরণে কর্মী-সমর্থকেরা তিক্ত-বিরক্ত, এমনকি হতাশও হয়েছেন বটে।
অনুরূপ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনৈতিক সাবেক চেয়ারম্যান সালাম রাঢ়ী এবং জিয়াউল ইসলাম সাবু। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একজন এমপির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ বা কর্মীরা এমনটা আশা করেন না। মজিবর রহমান সরোয়ার যে কাজটি করেছেন বা করছেন তা নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ এবং অসন্তোস তৈরি হচ্ছে। তার বাসায় সরকারি কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষ গিয়ে ইজ্জত নিয়ে ফেরা দায় হয়ে পড়েছে।
এর আগে মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলাপর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা এমপির সাথে বাসায় কথা বলতে গিয়ে ব্যাপক হেনস্থা হন। এমপি সরোয়ারের উপস্থিতিতে সেই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করাসহ বেইজ্জতি করেন রিয়াজ ওরফে ডিম রিয়াজ নামের জনৈক ব্যক্তি। তখন সেখানে বরিশাল মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন এবং শ্রমিক দলনেতা আক্তারুজ্জামান সাব্বিরসহ বেশ কজন উপস্থিত থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। সেই ঘটনার সাক্ষী বরিশালের একজন সাংবাদিক। এমপির বাসার মন্দরমহলের এই নোংরা কীর্তিকলাপ শেষ পর্যন্ত আর চাপা থাকেনি। বরিশাল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সকল রাজনৈতিকেরা অবগত হন এবং দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের বাসায় গেলে বেইজ্জতি হওয়া নতুন কিছু নয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৭ বছরেও একই ধরনের বহু উদাহরণ আছে। কিন্তু নিজের দলের ৪০০/৫০০ নেতাকর্মীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না করা একধরনের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। বরিশাল সদর আসনের মতো স্থানে কর্মী ধরে না রাখতে পারলে আগামীতে সরোয়ারকে এর মাশুল গুনতে হতে পারে।
সাক্ষাতে ব্যর্থ তৃণমূল ক্ষোভে ফুঁসছেন— এই প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ঘনিষ্ট বেশ কজন নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বুধবার যারা এমপির বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে থাকলেও সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবং তারা কিছুদিন পূর্বে নুরুল আমিন-আব্বাসের কমিটি বাতিল চেয়ে কর্মসূচি পালন করেছিলেন, সম্ভবত এই কারণে ক্ষোভে এমপি সরোয়ার তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
বরিশাল সদর আসনের এমপির বাসার মন্দরমহলে কতিপয় লোকের যে আধিপত্য চলে তা নিয়ে খোদ কর্মী-সমর্থকদের বেকায়দায় আছেন। একাধিক কর্মী অভিযোগ করে বলছেন, সাব্বির-ডিম রিয়াজদের দাপটের কারণে এমপি সরোয়ারের বাসায় যাওয়া এবং তার সাথে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক লোক জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে রাখে, ফলে সেখানে গিয়ে কেউ ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারছে না।
বরিশাল সদরের এমপির বাসায় গেলে যে ইজ্জত যায়— তা শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেন এবং এই বিষয়টি ইতিমধ্যে ঢাকায় হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান।’

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। এ সময়ে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। এ সময়ে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৬
একসময় কীর্তনখোলা নদীর তীরজুড়ে বিরাজ করত নৌযান নির্মাণের ব্যস্ততা। বিশাল আকৃতির যাত্রীবাহী লঞ্চ তৈরির মধ্য দিয়ে মুখর থাকত বরিশালের বিভিন্ন শিপইয়ার্ড। সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচাঞ্চল্য এখন অনেকটাই স্তিমিত। নানা অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাসের সম্মিলিত অভিঘাতে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প।
স্থানীয়ভাবে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ শিল্পের অবকাঠামো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপরিবহনে যাত্রীচাপ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। একই সময়ে ইস্পাতসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগনির্ভর এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের সূচনা হয়েছিল ষাটের দশকে, সুরভী শিপিং লাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও লঞ্চ ব্যবসায়ী প্রয়াত গোলাম মাওলার উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে বেলতলা, দপদপিয়াসহ কীর্তনখোলার তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে একাধিক বৃহৎ শিপইয়ার্ড। সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের নৌপরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চের উল্লেখযোগ্য অংশ নির্মিত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। দেশের বৃহত্তম যাত্রীবাহী লঞ্চ হিসেবে পরিচিত ‘সুন্দরবন-১৬’-এর নির্মাণও এ শিল্পের সক্ষমতার পরিচায়ক।
একসময় বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে বছরে ছয়টিরও বেশি নতুন লঞ্চ নির্মাণ করা হতো। প্রতিটি নৌযান তৈরিতে ব্যয় হতো আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নতুন লঞ্চ নির্মাণের চাহিদা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাঁচামালের ঊর্ধ্বমূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ‘এম খান-৭’ নদীতে নামার পর বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সুরভী শিপইয়ার্ডও পরিত্যক্ত অবস্থায় একপর্যায়ে নদীভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যায়।
বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৌযান নির্মাণ ও মেরামতনির্ভর ডকইয়ার্ডগুলোও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে। নগরীর কেডিসি-সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই কাজের সংকট প্রকট। কিছু ডকইয়ার্ড সীমিত পরিসরে টিকে থাকলেও সেখানে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত।
শিল্পটির এই স্থবিরতার সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সুন্দরবন শিপইয়ার্ডেই একসময় কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা এসব কর্মীর অনেকেই এখন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরিতে যুক্ত হয়েছেন।
শিপইয়ার্ডের সাবেক শ্রমিক আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় লঞ্চ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত থাকার পর বর্তমানে তিনি কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তাঁর মতো অসংখ্য শ্রমিকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
একই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন রফিক নামের আরেক সাবেক শ্রমিক। তিনি জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার পর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েক মাস সংসার চালিয়েছিলেন। সেই অর্থ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে একজন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে দিনমজুরির কাজ করছেন। পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আগের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁকে বিকল্প পেশা বেছে নিতে হয়েছে।
সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদারের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন লঞ্চ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির জানান, একসময়কার বৃহৎ নির্মাণকেন্দ্রটি দীর্ঘ আগেই বন্ধ হয়ে নদীভাঙনের কারণে বিলীন হয়েছে। নতুন নৌযান নির্মাণ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশালের জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনরুজ্জীবনে নৌপরিবহন খাতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিপুল বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তিনির্ভর এ শিল্পের অবশিষ্ট অবকাঠামোও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
একসময় কীর্তনখোলা নদীর তীরজুড়ে বিরাজ করত নৌযান নির্মাণের ব্যস্ততা। বিশাল আকৃতির যাত্রীবাহী লঞ্চ তৈরির মধ্য দিয়ে মুখর থাকত বরিশালের বিভিন্ন শিপইয়ার্ড। সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচাঞ্চল্য এখন অনেকটাই স্তিমিত। নানা অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাসের সম্মিলিত অভিঘাতে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প।
স্থানীয়ভাবে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ শিল্পের অবকাঠামো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপরিবহনে যাত্রীচাপ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। একই সময়ে ইস্পাতসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগনির্ভর এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের সূচনা হয়েছিল ষাটের দশকে, সুরভী শিপিং লাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও লঞ্চ ব্যবসায়ী প্রয়াত গোলাম মাওলার উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে বেলতলা, দপদপিয়াসহ কীর্তনখোলার তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে একাধিক বৃহৎ শিপইয়ার্ড। সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের নৌপরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চের উল্লেখযোগ্য অংশ নির্মিত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। দেশের বৃহত্তম যাত্রীবাহী লঞ্চ হিসেবে পরিচিত ‘সুন্দরবন-১৬’-এর নির্মাণও এ শিল্পের সক্ষমতার পরিচায়ক।
একসময় বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে বছরে ছয়টিরও বেশি নতুন লঞ্চ নির্মাণ করা হতো। প্রতিটি নৌযান তৈরিতে ব্যয় হতো আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নতুন লঞ্চ নির্মাণের চাহিদা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাঁচামালের ঊর্ধ্বমূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ‘এম খান-৭’ নদীতে নামার পর বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সুরভী শিপইয়ার্ডও পরিত্যক্ত অবস্থায় একপর্যায়ে নদীভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যায়।
বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৌযান নির্মাণ ও মেরামতনির্ভর ডকইয়ার্ডগুলোও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে। নগরীর কেডিসি-সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই কাজের সংকট প্রকট। কিছু ডকইয়ার্ড সীমিত পরিসরে টিকে থাকলেও সেখানে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত।
শিল্পটির এই স্থবিরতার সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সুন্দরবন শিপইয়ার্ডেই একসময় কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা এসব কর্মীর অনেকেই এখন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরিতে যুক্ত হয়েছেন।
শিপইয়ার্ডের সাবেক শ্রমিক আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় লঞ্চ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত থাকার পর বর্তমানে তিনি কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তাঁর মতো অসংখ্য শ্রমিকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
একই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন রফিক নামের আরেক সাবেক শ্রমিক। তিনি জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার পর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েক মাস সংসার চালিয়েছিলেন। সেই অর্থ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে একজন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে দিনমজুরির কাজ করছেন। পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আগের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁকে বিকল্প পেশা বেছে নিতে হয়েছে।
সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদারের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন লঞ্চ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির জানান, একসময়কার বৃহৎ নির্মাণকেন্দ্রটি দীর্ঘ আগেই বন্ধ হয়ে নদীভাঙনের কারণে বিলীন হয়েছে। নতুন নৌযান নির্মাণ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশালের জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনরুজ্জীবনে নৌপরিবহন খাতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিপুল বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তিনির্ভর এ শিল্পের অবশিষ্ট অবকাঠামোও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল টাইমস

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬
বরিশালের গৌরনদীতে হানিফ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অপু মাঝি (২৮) নামে এক কাতার প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু মাঝি গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহণের একটি বাস। সকাল ১০টার দিকে বাসটি গৌরনদীর তাঁরাকুপি এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক অপু মাঝি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রোমান মোল্লা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।'
বরিশালের গৌরনদীতে হানিফ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অপু মাঝি (২৮) নামে এক কাতার প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু মাঝি গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহণের একটি বাস। সকাল ১০টার দিকে বাসটি গৌরনদীর তাঁরাকুপি এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক অপু মাঝি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রোমান মোল্লা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।'

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০০
দীর্ঘ সময় বসে থেকেও মেলেনি বিএনপি নেতার সাক্ষাৎ, ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বরিশাল সদর আসনের এমপি বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় গেলে ইজ্জত নিয়ে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও খোদ সাংসদ তৃণমূল নেতাকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না দিয়ে বিদায় করছেন। আবার কখনও তার পালিত কজন রাজনৈতিক সহকর্মীর দ্বারা অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে। এই জনপ্রতিনিধির বাসায় গিয়ে বহু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেইজ্জতি হওয়ার উদাহরণ আছে। সার কথা হচ্ছে, বরিশাল-৫ আসনের এমপি বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা সরোয়ারের সাক্ষাৎ লাভের আশায় শহরের সাধুর বটতলায় তার বাসায় গেলে বেশির ভাগ মানুষকে বেইজ্জতি হতে হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বরিশালের নেতৃত্বস্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এতদিন কানাঘুষা বা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গেলেও বুধবার সদর উপজেলার ৪০০/৫০০ কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলে তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, একজন রাজনৈতিক এমপি হলে তিনি সংসদীয় আসনের সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এবং তার সাথে জনসাধারণে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু জাতীয় সংসদের ১২৩ নং আসন অর্থাৎ বরিশাল সদরের চিত্র একদম ভিন্ন, যা মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জনগণ আশা করেনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এমপি সরোয়ার অনুসারী সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ১৬১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হলে পদবঞ্চিত একটি বড় অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সরোয়ার নিয়ন্ত্রিত এই কমিটি বাতিল চেয়ে বিএনপির হাইকমাণ্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু প্রতাপশালী সরোয়ারের হস্তক্ষেপের কারণে এই অংশটি কমিটি ভাঙতে বা পদবঞ্চিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এনিয়ে তাদের মধ্যেকার প্রচন্ড রূপে ক্ষোভ এবং অভিমান আছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ ৫টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কাজী ফিরোজ, সদর উপজেলা বিএনপির আমিনুল ইসলাম পাখি, কবির মাঝি এবং রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০০/৫০০ লোক এমপি সরোয়ারের সাধুর বটতলার বাসবভনে যান। তখন এমপি বাসার ভেতরে থাকায় তৃণমূলের এই অংশটি বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন এবং তাদের আসার বিষয়টি সরোয়ারকে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করেন। রাত গভীর হয়, কিন্তু এমপির আর দেখা মেলেনি।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ। তৃণমূল বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নিজের পছন্দসই বিতর্কিত ব্যক্তি-বিশেষকে স্থানীয় কমিটিগুলোর শীর্ষ পদে আনতে কাজ করছেন। বিশেষ করে সদর উপজেলা কমিটিতে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনসহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের লোকজনদের পদ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটিসহ স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার সালাম রাঢ়ী এবং সাবুর নেতৃত্বে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী এমপি সরোয়ারের বাসায় গেলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে সাক্ষাৎ না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধির এই রাজনীতিবিমুখ আচরণে কর্মী-সমর্থকেরা তিক্ত-বিরক্ত, এমনকি হতাশও হয়েছেন বটে।
অনুরূপ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনৈতিক সাবেক চেয়ারম্যান সালাম রাঢ়ী এবং জিয়াউল ইসলাম সাবু। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একজন এমপির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ বা কর্মীরা এমনটা আশা করেন না। মজিবর রহমান সরোয়ার যে কাজটি করেছেন বা করছেন তা নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ এবং অসন্তোস তৈরি হচ্ছে। তার বাসায় সরকারি কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষ গিয়ে ইজ্জত নিয়ে ফেরা দায় হয়ে পড়েছে।
এর আগে মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলাপর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা এমপির সাথে বাসায় কথা বলতে গিয়ে ব্যাপক হেনস্থা হন। এমপি সরোয়ারের উপস্থিতিতে সেই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করাসহ বেইজ্জতি করেন রিয়াজ ওরফে ডিম রিয়াজ নামের জনৈক ব্যক্তি। তখন সেখানে বরিশাল মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন এবং শ্রমিক দলনেতা আক্তারুজ্জামান সাব্বিরসহ বেশ কজন উপস্থিত থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। সেই ঘটনার সাক্ষী বরিশালের একজন সাংবাদিক। এমপির বাসার মন্দরমহলের এই নোংরা কীর্তিকলাপ শেষ পর্যন্ত আর চাপা থাকেনি। বরিশাল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সকল রাজনৈতিকেরা অবগত হন এবং দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের বাসায় গেলে বেইজ্জতি হওয়া নতুন কিছু নয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৭ বছরেও একই ধরনের বহু উদাহরণ আছে। কিন্তু নিজের দলের ৪০০/৫০০ নেতাকর্মীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না করা একধরনের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। বরিশাল সদর আসনের মতো স্থানে কর্মী ধরে না রাখতে পারলে আগামীতে সরোয়ারকে এর মাশুল গুনতে হতে পারে।
সাক্ষাতে ব্যর্থ তৃণমূল ক্ষোভে ফুঁসছেন— এই প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ঘনিষ্ট বেশ কজন নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বুধবার যারা এমপির বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে থাকলেও সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবং তারা কিছুদিন পূর্বে নুরুল আমিন-আব্বাসের কমিটি বাতিল চেয়ে কর্মসূচি পালন করেছিলেন, সম্ভবত এই কারণে ক্ষোভে এমপি সরোয়ার তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
বরিশাল সদর আসনের এমপির বাসার মন্দরমহলে কতিপয় লোকের যে আধিপত্য চলে তা নিয়ে খোদ কর্মী-সমর্থকদের বেকায়দায় আছেন। একাধিক কর্মী অভিযোগ করে বলছেন, সাব্বির-ডিম রিয়াজদের দাপটের কারণে এমপি সরোয়ারের বাসায় যাওয়া এবং তার সাথে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক লোক জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে রাখে, ফলে সেখানে গিয়ে কেউ ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারছে না।
বরিশাল সদরের এমপির বাসায় গেলে যে ইজ্জত যায়— তা শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেন এবং এই বিষয়টি ইতিমধ্যে ঢাকায় হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান।’
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৪৮
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬