ছবি: সংগৃহীত
রাত ১০টা। দিনের ব্যস্ততা কমে এলেও রাজধানীর রায়েরবাজারের একটি সরু গলির টিনশেড ঘরে তখন অন্য ব্যস্ততা। সারি সারি ব্যাটারিচালিত রিকশা। একটির পর একটি ব্যাটারি বসানো হচ্ছে চার্জে। কোথাও নেই বৈধ চার্জিং স্টেশনের সাইনবোর্ড। কোনো কোনো গ্যারেজে বাণিজ্যিক চার্জিংয়ের পরিবর্তে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও আবার সংযোগের বৈধতা ও অনুমোদিত লোড নিয়েও প্রশ্ন।
রাতভর চার্জ শেষে ভোরে এসব রিকশা বেরিয়ে পড়বে রাজধানীর সড়কে। যাত্রী পরিবহন করে আয় করেন চালক ও মালিকেরা। কিন্তু ব্যাটারিতে জমা হওয়া বিদ্যুতের কতটা বৈধ সংযোগে নেওয়া হচ্ছে; কতটা অবৈধ সংযোগ কিংবা অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত লোডে। এসবের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে।
বিষয়টি এখন আর কয়েকটি গ্যারেজের অনিয়মে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সরকারি রাজস্ব, বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নগর অর্থনীতির বড় একটি অংশ।
দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। তবে সরকারের সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই সংখ্যা অন্তত ৮০ লাখ। সরকারি হিসাবে এসব যান চার্জ দিতে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার কারণে সরকারের বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
রাজধানীর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএমপির করা এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুধু ঢাকায় অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজার ১৩৬টি এবং ৯৯২টি গ্যারেজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগের সাত থানায় ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজের তথ্য রয়েছে। ওয়ারী বিভাগে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, সারা দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। এই বিশাল ব্যবধান চার্জিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দুর্বলতা সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা দিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ চুরির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে একসঙ্গে পার্কিং, ব্যাটারি চার্জ ও মেরামতের কাজ চলছে। মিরপুরের শাহ আলী ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় কোনো কোনো গ্যারেজে ৮০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত রিকশা রাখা হয়। এসব গ্যারেজে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চার্জিংয়ের বিদ্যুতের চাহিদা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাবে, দেশের ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চার্জ দিতে আনুমানিক ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। এটি জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমপরিমাণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিপিডিসির অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনগুলোতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।
সূত্রমতে, বৈধ স্টেশনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা সম্ভব হলেও বিপুলসংখ্যক অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের প্রকৃত ব্যবহার নিরূপণ কঠিন। সেই তথ্য বিতরণকারী সংস্থার হিসাব থেকে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন।
বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে সাধারণত খুঁটি থেকে সরাসরি তার টেনে সংযোগ নেওয়ার চিত্র সামনে আসে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিংয়ের অনিয়ম একাধিক ধরনের হতে পারে।
কোথাও বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হয়। কোথাও বৈধ সংযোগ থাকলেও অনুমোদিত লোড অতিক্রম করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো কোনো গ্যারেজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক চার্জিং কার্যক্রম চালানো হয়। এই তিন ধরনের অনিয়মের আইনগত ও আর্থিক দিক এক নয়।
মিরপুরের একটি গ্যারেজের ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম জানান, তার গ্যারেজে প্রতিদিন বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে এই ব্যয়ের মধ্যে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় এবং সংযোগটি কোন শ্রেণির, তা জানা গেলে গ্যারেজটির প্রকৃত চার্জিং ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মিরপুরের রূপনগর সার্কেলের ডেসকোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হয়। অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে জরিমানা করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সম্প্রতি রায়েরবাজার-মোহাম্মদপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাতটি গ্যারেজে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত আগস্টে মিরপুর এলাকায় ডিএমপি ও ডেসকোর যৌথ অভিযানে ৭০টি ব্যাটারি জব্দ এবং ২৫টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
২০২৫ সালে ডিএনসিসি ও ডিএমপির বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্যেও মিরপুরের একাধিক বড় টিনশেড গ্যারেজে ৮০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত অটোরিকশা রাখার চিত্র উঠে আসে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের কিছু গ্যারেজে আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যারেজকেন্দ্রিক টাকা আদায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অসাধু কর্মীদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, চলতি বছরের জুন থেকে কার্যকর নতুন ট্যারিফ কাঠামোয় ইলেকট্রিক ভেহিকল ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা। বৈধ চার্জিং স্টেশনে মিটারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ও নির্ধারিত হারে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু আবাসিক সংযোগে বাণিজ্যিক চার্জিং পরিচালিত হলে বিদ্যুৎ বিলে বড় রকমের একটি ঘাপলা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার নিয়মিত পরিদর্শন, মিটার যাচাই এবং সংযোগের শ্রেণি অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর পুনরায় সংযোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কাজী নজমুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিম্নমানের তার, অনিরাপদ চার্জার এবং অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত লোড একসঙ্গে থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার সরু গলিতে গ্যারেজ পরিচালিত হলে আগুন লাগার পর উদ্ধারকাজ ও অগ্নিনির্বাপণও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিবের মতে, অবৈধ চার্জিং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চার্জিং স্টেশন নিবন্ধনের আওতায় আনা, প্রতিটি স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ ও অনুমোদিত লোডের তথ্য সংরক্ষণ, মিটারভিত্তিক ব্যবহার পরিমাপ এবং নিয়মিত বিল যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। কোন স্থানে গ্যারেজ পরিচালনা করা হচ্ছে, কতটি রিকশা চার্জ হচ্ছে, সেখানে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হচ্ছে কি না— এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর তথ্য বিনিময় প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈধ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, নিরাপদ বৈদ্যুতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গ্যারেজ মালিকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিমাপ ও বিল আদায় সহজ হবে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত চার্জিংয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৩
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দু গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গড়াই নদের উপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে আসেন। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গা আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী তার গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাতাহাতি বেধে যায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে। স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে এ ভিডিও ধারণ করলে জেলা ছাত্রদলের কর্মী তার উপর হামলা চালায়, কেড়ে নেয় তার ফোন।
তিনি এ সময় সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে বলেন, 'সাংবাদিক.....(অস্রাব্য ভাষা) ....সময় নেই। তুই ভিডিও করলি কেন'। এই ভিডিও ধারণ করছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলাম। এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে ছাত্রদল কর্মীরা তাকে কিল ঘুষি মেরে তার ফোনও ছিনিয়ে নেয়।
পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল দুটি ফেরত দেন হামলাকারী মুন্না। এই ঘটনায় জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষবের সৃষ্টি হয়েছে। তারা চরিত ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দু গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গড়াই নদের উপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে আসেন। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গা আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী তার গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাতাহাতি বেধে যায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে। স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে এ ভিডিও ধারণ করলে জেলা ছাত্রদলের কর্মী তার উপর হামলা চালায়, কেড়ে নেয় তার ফোন।
তিনি এ সময় সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে বলেন, 'সাংবাদিক.....(অস্রাব্য ভাষা) ....সময় নেই। তুই ভিডিও করলি কেন'। এই ভিডিও ধারণ করছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলাম। এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে ছাত্রদল কর্মীরা তাকে কিল ঘুষি মেরে তার ফোনও ছিনিয়ে নেয়।
পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল দুটি ফেরত দেন হামলাকারী মুন্না। এই ঘটনায় জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষবের সৃষ্টি হয়েছে। তারা চরিত ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৯
রাত ১০টা। দিনের ব্যস্ততা কমে এলেও রাজধানীর রায়েরবাজারের একটি সরু গলির টিনশেড ঘরে তখন অন্য ব্যস্ততা। সারি সারি ব্যাটারিচালিত রিকশা। একটির পর একটি ব্যাটারি বসানো হচ্ছে চার্জে। কোথাও নেই বৈধ চার্জিং স্টেশনের সাইনবোর্ড। কোনো কোনো গ্যারেজে বাণিজ্যিক চার্জিংয়ের পরিবর্তে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও আবার সংযোগের বৈধতা ও অনুমোদিত লোড নিয়েও প্রশ্ন।
রাতভর চার্জ শেষে ভোরে এসব রিকশা বেরিয়ে পড়বে রাজধানীর সড়কে। যাত্রী পরিবহন করে আয় করেন চালক ও মালিকেরা। কিন্তু ব্যাটারিতে জমা হওয়া বিদ্যুতের কতটা বৈধ সংযোগে নেওয়া হচ্ছে; কতটা অবৈধ সংযোগ কিংবা অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত লোডে। এসবের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে।
বিষয়টি এখন আর কয়েকটি গ্যারেজের অনিয়মে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সরকারি রাজস্ব, বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নগর অর্থনীতির বড় একটি অংশ।
দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। তবে সরকারের সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই সংখ্যা অন্তত ৮০ লাখ। সরকারি হিসাবে এসব যান চার্জ দিতে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার কারণে সরকারের বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
রাজধানীর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএমপির করা এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুধু ঢাকায় অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজার ১৩৬টি এবং ৯৯২টি গ্যারেজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগের সাত থানায় ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজের তথ্য রয়েছে। ওয়ারী বিভাগে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, সারা দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। এই বিশাল ব্যবধান চার্জিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দুর্বলতা সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা দিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ চুরির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে একসঙ্গে পার্কিং, ব্যাটারি চার্জ ও মেরামতের কাজ চলছে। মিরপুরের শাহ আলী ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় কোনো কোনো গ্যারেজে ৮০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত রিকশা রাখা হয়। এসব গ্যারেজে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চার্জিংয়ের বিদ্যুতের চাহিদা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাবে, দেশের ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চার্জ দিতে আনুমানিক ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। এটি জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমপরিমাণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিপিডিসির অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনগুলোতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।
সূত্রমতে, বৈধ স্টেশনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা সম্ভব হলেও বিপুলসংখ্যক অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের প্রকৃত ব্যবহার নিরূপণ কঠিন। সেই তথ্য বিতরণকারী সংস্থার হিসাব থেকে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন।
বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে সাধারণত খুঁটি থেকে সরাসরি তার টেনে সংযোগ নেওয়ার চিত্র সামনে আসে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিংয়ের অনিয়ম একাধিক ধরনের হতে পারে।
কোথাও বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হয়। কোথাও বৈধ সংযোগ থাকলেও অনুমোদিত লোড অতিক্রম করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো কোনো গ্যারেজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক চার্জিং কার্যক্রম চালানো হয়। এই তিন ধরনের অনিয়মের আইনগত ও আর্থিক দিক এক নয়।
মিরপুরের একটি গ্যারেজের ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম জানান, তার গ্যারেজে প্রতিদিন বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে এই ব্যয়ের মধ্যে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় এবং সংযোগটি কোন শ্রেণির, তা জানা গেলে গ্যারেজটির প্রকৃত চার্জিং ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মিরপুরের রূপনগর সার্কেলের ডেসকোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হয়। অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে জরিমানা করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সম্প্রতি রায়েরবাজার-মোহাম্মদপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাতটি গ্যারেজে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত আগস্টে মিরপুর এলাকায় ডিএমপি ও ডেসকোর যৌথ অভিযানে ৭০টি ব্যাটারি জব্দ এবং ২৫টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
২০২৫ সালে ডিএনসিসি ও ডিএমপির বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্যেও মিরপুরের একাধিক বড় টিনশেড গ্যারেজে ৮০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত অটোরিকশা রাখার চিত্র উঠে আসে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের কিছু গ্যারেজে আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যারেজকেন্দ্রিক টাকা আদায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অসাধু কর্মীদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, চলতি বছরের জুন থেকে কার্যকর নতুন ট্যারিফ কাঠামোয় ইলেকট্রিক ভেহিকল ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা। বৈধ চার্জিং স্টেশনে মিটারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ও নির্ধারিত হারে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু আবাসিক সংযোগে বাণিজ্যিক চার্জিং পরিচালিত হলে বিদ্যুৎ বিলে বড় রকমের একটি ঘাপলা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার নিয়মিত পরিদর্শন, মিটার যাচাই এবং সংযোগের শ্রেণি অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর পুনরায় সংযোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কাজী নজমুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিম্নমানের তার, অনিরাপদ চার্জার এবং অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত লোড একসঙ্গে থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার সরু গলিতে গ্যারেজ পরিচালিত হলে আগুন লাগার পর উদ্ধারকাজ ও অগ্নিনির্বাপণও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিবের মতে, অবৈধ চার্জিং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চার্জিং স্টেশন নিবন্ধনের আওতায় আনা, প্রতিটি স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ ও অনুমোদিত লোডের তথ্য সংরক্ষণ, মিটারভিত্তিক ব্যবহার পরিমাপ এবং নিয়মিত বিল যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। কোন স্থানে গ্যারেজ পরিচালনা করা হচ্ছে, কতটি রিকশা চার্জ হচ্ছে, সেখানে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হচ্ছে কি না— এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর তথ্য বিনিময় প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈধ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, নিরাপদ বৈদ্যুতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গ্যারেজ মালিকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিমাপ ও বিল আদায় সহজ হবে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত চার্জিংয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৯
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৩