তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সেই শিক্ষার্থী। প্রাইমেরি শাখা খোলার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গুটিকয়েক শিক্ষার্থী সোমবার আন্দোলন শুরু করে এবং এনিয়ে অধ্যক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর এমন আচরণের ভিডিওটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষ করে সুশীলসমাজ-সাংবাদিক এবং শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরে বেয়াদব শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এতে পরিবেশ বেগতিক হয়ে উঠলে একদিনের মাথায় মঙ্গলবার সেই আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের নিয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলসপার্কসংলগ্ন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাইমেরী শাখা চালুর খবরে সোমবার দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার সাথে তর্ক এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তখন দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে আঙ্গুল উচিয়ে অধ্যক্ষকে হুমকি দিতে দেখা যায়, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকেরা ক্যামেরায় ধারন করেন। সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিশেষ করে বিএম কলেজের সাবেক এই শিক্ষকের সাথে এমন রূঢ় আচরণের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ, যারা এখন প্রশাসন-সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের বেয়াদব আখ্যায়িত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ারও জোর দাবি ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে কজন শিক্ষকের উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে উঠে এবং অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। সেখানে গিয়ে এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ¦ায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকের সাথে অসদ আচরণের এই ঘটনা নিয়ে সোমবার রাতভর ফেসবুকে নেতিবাচক লেখালেখি হলেও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবং এ ঘটনার নেপথ্য কুশীলব একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক ও বরিশাল মহানগর বিএনপি নেত্রীর নাম সামনে আসে। সূত্র বলছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে সিটি প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিন এবং নাসরিনের মধ্যেকার সম্পর্ক সাপেনেউলে। কোথায় সিটি প্রশাসক হস্তক্ষেপ রাখলে নাসরিনও সেখানে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ হেনস্তার এই ঘটনাটি সরকারের উচ্চমহলের নজরে গিয়েছে এবং এর নেপথ্য অনুঘটক কারা তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা আসতে পারে। সম্ভব্য বিপদের আলামত পেয়ে আড়ালের কুশীলবেরা সোমবার রাতের পরিবেশ পর্যবেক্ষক পরবর্তী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, সোমবার তারা উত্তেজিত ছিলেন, নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারেননি। বিষয়টি পরবর্তীতে উপলব্ধি হয় এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলোচিত শিক্ষক অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেন এবং তাদের ক্লাসে ফিরতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক এই শিক্ষক সৎ এবং পরিচ্ছন্ন হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
এই পুরো ঘটনায় তার ভাষ্য হচ্ছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়ে আসলে তখন তার কাছে অভিভাবকদের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ব্যবস্থার দাবি রাখেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করতে গিয়ে উদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছিল।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ এবং সংবাদমাধ্যমের জোরালো প্রতিবাদের মুখে সেই ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার সেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবক সহকারে এসে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তিনিও তাদের মন থেকে মার্জনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের সাথে ভুল-ত্রুটি করে থাকে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। শিক্ষকের এই ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি নীতিবিবর্জিত সমাজে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল— এমনটি মন্তব্য পাওয়া গেছে।’

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৩৪
বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শামিমা খাতুন (২২), গাইবান্ধা সদরের জান্নাত আক্তার (২২) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩১)।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় যায় পুলিশ। সেখানে একটি কক্ষে এক যুবক ও দুই তরুণীকে দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাঁদের মধ্যে একজন তরুণী ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন।
পরে পুলিশ ওই তরুণীকে নিবৃত্ত করে। তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে দুই তরুণীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই তরুণী গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ইয়াবা নিয়ে বরিশালে আসেন। তাঁরা নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় থাকা মিজান মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং নগরীর মাদকসেবীদের কাছে খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শামিমা খাতুন (২২), গাইবান্ধা সদরের জান্নাত আক্তার (২২) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩১)।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় যায় পুলিশ। সেখানে একটি কক্ষে এক যুবক ও দুই তরুণীকে দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাঁদের মধ্যে একজন তরুণী ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন।
পরে পুলিশ ওই তরুণীকে নিবৃত্ত করে। তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে দুই তরুণীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই তরুণী গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ইয়াবা নিয়ে বরিশালে আসেন। তাঁরা নগরীর কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় থাকা মিজান মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং নগরীর মাদকসেবীদের কাছে খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫
আটকের প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ দলটির ছয় নেতাকর্মী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় হাবুলসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর জেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে সেখান থেকে হাবুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর হাবুলের সঙ্গে দেখা করতে থানায় গেলে জাতীয় পার্টির আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটকের সময় হাবুল অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ছয় নেতাকর্মীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
আটকের প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ দলটির ছয় নেতাকর্মী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় হাবুলসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর জেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে সেখান থেকে হাবুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর হাবুলের সঙ্গে দেখা করতে থানায় গেলে জাতীয় পার্টির আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটকের সময় হাবুল অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ছয় নেতাকর্মীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩০
জাতীয় পার্টি বরিশালের নেতা মহশিন উল ইসলাম হাবুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের আগমুহূর্তে তাকে সদর রোড থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় মহশিন উল ইসলাম হাবুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হল।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মহশিন উল ইসলাম হাবুল তাদের হেফাজতে আছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার আলোকে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে, জানান ওসি।’
জাতীয় পার্টি বরিশালের নেতা মহশিন উল ইসলাম হাবুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের আগমুহূর্তে তাকে সদর রোড থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় মহশিন উল ইসলাম হাবুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হল।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মহশিন উল ইসলাম হাবুল তাদের হেফাজতে আছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার আলোকে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে, জানান ওসি।’

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৬
তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সেই শিক্ষার্থী। প্রাইমেরি শাখা খোলার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গুটিকয়েক শিক্ষার্থী সোমবার আন্দোলন শুরু করে এবং এনিয়ে অধ্যক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর এমন আচরণের ভিডিওটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষ করে সুশীলসমাজ-সাংবাদিক এবং শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরে বেয়াদব শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এতে পরিবেশ বেগতিক হয়ে উঠলে একদিনের মাথায় মঙ্গলবার সেই আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের নিয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলসপার্কসংলগ্ন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাইমেরী শাখা চালুর খবরে সোমবার দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার সাথে তর্ক এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তখন দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে আঙ্গুল উচিয়ে অধ্যক্ষকে হুমকি দিতে দেখা যায়, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকেরা ক্যামেরায় ধারন করেন। সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিশেষ করে বিএম কলেজের সাবেক এই শিক্ষকের সাথে এমন রূঢ় আচরণের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ, যারা এখন প্রশাসন-সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের বেয়াদব আখ্যায়িত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ারও জোর দাবি ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে কজন শিক্ষকের উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে উঠে এবং অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। সেখানে গিয়ে এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ¦ায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকের সাথে অসদ আচরণের এই ঘটনা নিয়ে সোমবার রাতভর ফেসবুকে নেতিবাচক লেখালেখি হলেও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবং এ ঘটনার নেপথ্য কুশীলব একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক ও বরিশাল মহানগর বিএনপি নেত্রীর নাম সামনে আসে। সূত্র বলছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে সিটি প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিন এবং নাসরিনের মধ্যেকার সম্পর্ক সাপেনেউলে। কোথায় সিটি প্রশাসক হস্তক্ষেপ রাখলে নাসরিনও সেখানে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ হেনস্তার এই ঘটনাটি সরকারের উচ্চমহলের নজরে গিয়েছে এবং এর নেপথ্য অনুঘটক কারা তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা আসতে পারে। সম্ভব্য বিপদের আলামত পেয়ে আড়ালের কুশীলবেরা সোমবার রাতের পরিবেশ পর্যবেক্ষক পরবর্তী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, সোমবার তারা উত্তেজিত ছিলেন, নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারেননি। বিষয়টি পরবর্তীতে উপলব্ধি হয় এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলোচিত শিক্ষক অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেন এবং তাদের ক্লাসে ফিরতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক এই শিক্ষক সৎ এবং পরিচ্ছন্ন হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
এই পুরো ঘটনায় তার ভাষ্য হচ্ছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়ে আসলে তখন তার কাছে অভিভাবকদের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ব্যবস্থার দাবি রাখেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করতে গিয়ে উদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছিল।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ এবং সংবাদমাধ্যমের জোরালো প্রতিবাদের মুখে সেই ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার সেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবক সহকারে এসে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তিনিও তাদের মন থেকে মার্জনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের সাথে ভুল-ত্রুটি করে থাকে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। শিক্ষকের এই ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি নীতিবিবর্জিত সমাজে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল— এমনটি মন্তব্য পাওয়া গেছে।’
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৯
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৩