ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত নিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিধি মোতাবেক প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর বেগম।
এ বিষয়ে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং অনিয়মের সত্যতা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ এলাকার বাসিন্দা। সার ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে তিনি ৭৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাকা গুদামঘরের বৈধ ভাড়াচুক্তিপত্রসহ আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, গুদামঘরটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৫২৫, এসএ দাগ নম্বর ৬২৪ এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গুদামঘর পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়ার গুদামঘর হিসেবে বসতঘর দেখানোর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়নি।
শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র একটি আবেদন জমা পড়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাখিলকৃত আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিমাই কীর্তনীয়ার নামে সার ডিলারশিপের পাশাপাশি ওএমএস ডিলারশিপ বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, কথিত অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনুর বেগম সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পুনঃযাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। এ সময়ে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। এ সময়ে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৬
একসময় কীর্তনখোলা নদীর তীরজুড়ে বিরাজ করত নৌযান নির্মাণের ব্যস্ততা। বিশাল আকৃতির যাত্রীবাহী লঞ্চ তৈরির মধ্য দিয়ে মুখর থাকত বরিশালের বিভিন্ন শিপইয়ার্ড। সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচাঞ্চল্য এখন অনেকটাই স্তিমিত। নানা অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাসের সম্মিলিত অভিঘাতে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প।
স্থানীয়ভাবে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ শিল্পের অবকাঠামো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপরিবহনে যাত্রীচাপ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। একই সময়ে ইস্পাতসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগনির্ভর এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের সূচনা হয়েছিল ষাটের দশকে, সুরভী শিপিং লাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও লঞ্চ ব্যবসায়ী প্রয়াত গোলাম মাওলার উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে বেলতলা, দপদপিয়াসহ কীর্তনখোলার তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে একাধিক বৃহৎ শিপইয়ার্ড। সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের নৌপরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চের উল্লেখযোগ্য অংশ নির্মিত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। দেশের বৃহত্তম যাত্রীবাহী লঞ্চ হিসেবে পরিচিত ‘সুন্দরবন-১৬’-এর নির্মাণও এ শিল্পের সক্ষমতার পরিচায়ক।
একসময় বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে বছরে ছয়টিরও বেশি নতুন লঞ্চ নির্মাণ করা হতো। প্রতিটি নৌযান তৈরিতে ব্যয় হতো আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নতুন লঞ্চ নির্মাণের চাহিদা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাঁচামালের ঊর্ধ্বমূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ‘এম খান-৭’ নদীতে নামার পর বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সুরভী শিপইয়ার্ডও পরিত্যক্ত অবস্থায় একপর্যায়ে নদীভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যায়।
বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৌযান নির্মাণ ও মেরামতনির্ভর ডকইয়ার্ডগুলোও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে। নগরীর কেডিসি-সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই কাজের সংকট প্রকট। কিছু ডকইয়ার্ড সীমিত পরিসরে টিকে থাকলেও সেখানে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত।
শিল্পটির এই স্থবিরতার সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সুন্দরবন শিপইয়ার্ডেই একসময় কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা এসব কর্মীর অনেকেই এখন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরিতে যুক্ত হয়েছেন।
শিপইয়ার্ডের সাবেক শ্রমিক আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় লঞ্চ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত থাকার পর বর্তমানে তিনি কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তাঁর মতো অসংখ্য শ্রমিকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
একই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন রফিক নামের আরেক সাবেক শ্রমিক। তিনি জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার পর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েক মাস সংসার চালিয়েছিলেন। সেই অর্থ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে একজন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে দিনমজুরির কাজ করছেন। পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আগের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁকে বিকল্প পেশা বেছে নিতে হয়েছে।
সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদারের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন লঞ্চ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির জানান, একসময়কার বৃহৎ নির্মাণকেন্দ্রটি দীর্ঘ আগেই বন্ধ হয়ে নদীভাঙনের কারণে বিলীন হয়েছে। নতুন নৌযান নির্মাণ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশালের জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনরুজ্জীবনে নৌপরিবহন খাতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিপুল বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তিনির্ভর এ শিল্পের অবশিষ্ট অবকাঠামোও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
একসময় কীর্তনখোলা নদীর তীরজুড়ে বিরাজ করত নৌযান নির্মাণের ব্যস্ততা। বিশাল আকৃতির যাত্রীবাহী লঞ্চ তৈরির মধ্য দিয়ে মুখর থাকত বরিশালের বিভিন্ন শিপইয়ার্ড। সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচাঞ্চল্য এখন অনেকটাই স্তিমিত। নানা অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাসের সম্মিলিত অভিঘাতে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প।
স্থানীয়ভাবে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এ শিল্পের অবকাঠামো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপরিবহনে যাত্রীচাপ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। একই সময়ে ইস্পাতসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগনির্ভর এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের সূচনা হয়েছিল ষাটের দশকে, সুরভী শিপিং লাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও লঞ্চ ব্যবসায়ী প্রয়াত গোলাম মাওলার উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে বেলতলা, দপদপিয়াসহ কীর্তনখোলার তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে একাধিক বৃহৎ শিপইয়ার্ড। সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের নৌপরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ঢাকা-বরিশালসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চের উল্লেখযোগ্য অংশ নির্মিত হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। দেশের বৃহত্তম যাত্রীবাহী লঞ্চ হিসেবে পরিচিত ‘সুন্দরবন-১৬’-এর নির্মাণও এ শিল্পের সক্ষমতার পরিচায়ক।
একসময় বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে বছরে ছয়টিরও বেশি নতুন লঞ্চ নির্মাণ করা হতো। প্রতিটি নৌযান তৈরিতে ব্যয় হতো আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নতুন লঞ্চ নির্মাণের চাহিদা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাঁচামালের ঊর্ধ্বমূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ‘এম খান-৭’ নদীতে নামার পর বরিশালের শিপইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সুরভী শিপইয়ার্ডও পরিত্যক্ত অবস্থায় একপর্যায়ে নদীভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যায়।
বৃহৎ জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৌযান নির্মাণ ও মেরামতনির্ভর ডকইয়ার্ডগুলোও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে। নগরীর কেডিসি-সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই কাজের সংকট প্রকট। কিছু ডকইয়ার্ড সীমিত পরিসরে টিকে থাকলেও সেখানে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত।
শিল্পটির এই স্থবিরতার সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সুন্দরবন শিপইয়ার্ডেই একসময় কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা এসব কর্মীর অনেকেই এখন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরিতে যুক্ত হয়েছেন।
শিপইয়ার্ডের সাবেক শ্রমিক আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় লঞ্চ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত থাকার পর বর্তমানে তিনি কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তাঁর মতো অসংখ্য শ্রমিকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
একই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন রফিক নামের আরেক সাবেক শ্রমিক। তিনি জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার পর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েক মাস সংসার চালিয়েছিলেন। সেই অর্থ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে একজন রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে দিনমজুরির কাজ করছেন। পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আগের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁকে বিকল্প পেশা বেছে নিতে হয়েছে।
সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদারের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন লঞ্চ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির জানান, একসময়কার বৃহৎ নির্মাণকেন্দ্রটি দীর্ঘ আগেই বন্ধ হয়ে নদীভাঙনের কারণে বিলীন হয়েছে। নতুন নৌযান নির্মাণ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশালের জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনরুজ্জীবনে নৌপরিবহন খাতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিপুল বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তিনির্ভর এ শিল্পের অবশিষ্ট অবকাঠামোও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরিশাল টাইমস

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬
বরিশালের গৌরনদীতে হানিফ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অপু মাঝি (২৮) নামে এক কাতার প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু মাঝি গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহণের একটি বাস। সকাল ১০টার দিকে বাসটি গৌরনদীর তাঁরাকুপি এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক অপু মাঝি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রোমান মোল্লা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।'
বরিশালের গৌরনদীতে হানিফ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অপু মাঝি (২৮) নামে এক কাতার প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু মাঝি গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় হানিফ পরিবহণের একটি বাস। সকাল ১০টার দিকে বাসটি গৌরনদীর তাঁরাকুপি এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক অপু মাঝি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রোমান মোল্লা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।'

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত নিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিধি মোতাবেক প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর বেগম।
এ বিষয়ে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং অনিয়মের সত্যতা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ এলাকার বাসিন্দা। সার ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে তিনি ৭৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাকা গুদামঘরের বৈধ ভাড়াচুক্তিপত্রসহ আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, গুদামঘরটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৫২৫, এসএ দাগ নম্বর ৬২৪ এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গুদামঘর পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়ার গুদামঘর হিসেবে বসতঘর দেখানোর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়নি।
শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র একটি আবেদন জমা পড়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাখিলকৃত আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিমাই কীর্তনীয়ার নামে সার ডিলারশিপের পাশাপাশি ওএমএস ডিলারশিপ বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, কথিত অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনুর বেগম সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পুনঃযাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৪৮
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬