বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ভোরের নরম আলো। নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশা, তার ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠা সূর্যের রুপালি আভা, সব মিলিয়ে এক অন্যরকম সকাল। এমন ভোরে দূর থেকে ভেসে এলো প্যাডেল স্টিমারের বাঁশির মৃদু সুর, মনে হয় যেন সময় বহু বছর পেছনে ফিরে গেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ হয়তো এমনই কোনো সকালের আলো ও হাওয়ায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন নদীর নীরব সৌন্দর্য।
দীর্ঘ বিরতির পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালেই আবারও চালু হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ। শতবর্ষী এই স্টিমার শুধু নৌযান নয়—এ দেশের নদীপথ, দক্ষিণাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিতে ভরপুর একটি জীবন্ত ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি যেন নদীর বুকে ভাসমান এক সময়-সাক্ষী।
জীবনানন্দ দাশের জীবনে নদীপথ ছিল নীরব সঙ্গী। ১৯১৭ থেকে ১৯৩৫ এই সময়টায় পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত স্টিমারে বরিশাল-খুলনা-কলকাতা রুটে যাতায়াত করতেন। তখন ট্রেনে বরিশাল যাওয়ার সুযোগ ছিল না; নদীই ছিল একমাত্র পথ। জীবনানন্দ গবেষক হেনরী স্বপন জানান, সেই সময়ের পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন—এসব স্টিমারে কবি নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে স্টিমারের আলো-অন্ধকার, রাতের নিঃশব্দ হাওয়া, চাকার শব্দ ও নদীর আবহ।
অর্থনৈতিক টানাপড়েনে কবির প্রায় সব ভ্রমণই হতো থার্ড ক্লাসে। কাঠের বেঞ্চ, ভিড়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ—এসব অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু সেই বাস্তবতা কবির কবিতা ও গদ্যের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। নদীর নরম অন্ধকার, স্টিমারের বাঁশির টান—এসব তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক বিশেষ আবহ।
আঠারো শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রথম প্যাডেল স্টিমার চালু করে। নৌযানের দুই পাশে বিশাল চাকা থাকায় একে চলাচলে ‘রকেট’ বলা হতো। পরে নকশা বদলে চাকা পেছনে নেওয়া হয়। শেষ তিনটি প্যাডেল স্টিমারের চলাচল ২০২২ সালে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। এক ঈদে বিশেষ ভ্রমণের পর আর চালু হয়নি। মনে হচ্ছিল, এ যুগে এগুলো আর নদীতে ফিরবে না। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ইতিহাসের টান শেষ পর্যন্ত এগুলোকে ফের আলোয় এনেছে। পিএস মাহসুদ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে—ইঞ্জিন বদলানো, কাঠের ডেক ঠিক করা, চাকা রং করা। তবু স্টিমারের পুরোনো গন্ধ, বাঁশির সুর, কাঠের সিঁড়ির শব্দ—এসব আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, স্টিমারে পা রাখলেই মনে হবে যেন এক সময়-যন্ত্রে চড়ে অন্য যুগে ফিরে যাওয়া।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শতবর্ষী স্টিমার পিএস মাহসুদের ভাড়া নির্ধারণ করেছে—সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণি: ২,৬০০ টাকা (ভ্যাটসহ)। ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের পথে স্টিমারটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রা শুরু করবে। বরিশালে স্থায়ী ঘাট না থাকায় আপাতত ত্রিশ গোডাউন পন্টুনে ভেড়ানো হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আবার ঢাকার পথে রওনা দেবে। গত সপ্তাহে ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রথম যাত্রা বাতিল হয়েছিল। এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও ফিটনেস সনদ মেলেনি, তবু আজ শুক্রবার থেকেই স্টিমারটি চলাচল শুরু করেছে।
১৯২২ সালে নির্মিত পিএস মাহসুদ শত বছর ধরে নদীপথের ইতিহাস বহন করে আসছে। কিন্তু এর আসল আকর্ষণ বিলাসিতা নয়—তার আত্মা লুকিয়ে আছে স্মৃতিতে। কাঠের ডেকে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকালে মনে হয়, এখান দিয়েই হয়তো হেঁটে গিয়েছিলেন জীবনানন্দ; চাঁদের আলো পড়েছিল ঢেউয়ের ভাঁজে, আর নদী নীরবে গল্প বলেছিল তাকে। এই স্টিমার তাই শুধু যাত্রা নয়—নদীর ওপর বয়ে যাওয়া এক অতীতের স্পর্শ।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৬
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ভোরের নরম আলো। নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশা, তার ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠা সূর্যের রুপালি আভা, সব মিলিয়ে এক অন্যরকম সকাল। এমন ভোরে দূর থেকে ভেসে এলো প্যাডেল স্টিমারের বাঁশির মৃদু সুর, মনে হয় যেন সময় বহু বছর পেছনে ফিরে গেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ হয়তো এমনই কোনো সকালের আলো ও হাওয়ায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন নদীর নীরব সৌন্দর্য।
দীর্ঘ বিরতির পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালেই আবারও চালু হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ। শতবর্ষী এই স্টিমার শুধু নৌযান নয়—এ দেশের নদীপথ, দক্ষিণাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিতে ভরপুর একটি জীবন্ত ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি যেন নদীর বুকে ভাসমান এক সময়-সাক্ষী।
জীবনানন্দ দাশের জীবনে নদীপথ ছিল নীরব সঙ্গী। ১৯১৭ থেকে ১৯৩৫ এই সময়টায় পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত স্টিমারে বরিশাল-খুলনা-কলকাতা রুটে যাতায়াত করতেন। তখন ট্রেনে বরিশাল যাওয়ার সুযোগ ছিল না; নদীই ছিল একমাত্র পথ। জীবনানন্দ গবেষক হেনরী স্বপন জানান, সেই সময়ের পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন—এসব স্টিমারে কবি নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে স্টিমারের আলো-অন্ধকার, রাতের নিঃশব্দ হাওয়া, চাকার শব্দ ও নদীর আবহ।
অর্থনৈতিক টানাপড়েনে কবির প্রায় সব ভ্রমণই হতো থার্ড ক্লাসে। কাঠের বেঞ্চ, ভিড়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ—এসব অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু সেই বাস্তবতা কবির কবিতা ও গদ্যের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। নদীর নরম অন্ধকার, স্টিমারের বাঁশির টান—এসব তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক বিশেষ আবহ।
আঠারো শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রথম প্যাডেল স্টিমার চালু করে। নৌযানের দুই পাশে বিশাল চাকা থাকায় একে চলাচলে ‘রকেট’ বলা হতো। পরে নকশা বদলে চাকা পেছনে নেওয়া হয়। শেষ তিনটি প্যাডেল স্টিমারের চলাচল ২০২২ সালে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। এক ঈদে বিশেষ ভ্রমণের পর আর চালু হয়নি। মনে হচ্ছিল, এ যুগে এগুলো আর নদীতে ফিরবে না। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ইতিহাসের টান শেষ পর্যন্ত এগুলোকে ফের আলোয় এনেছে। পিএস মাহসুদ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে—ইঞ্জিন বদলানো, কাঠের ডেক ঠিক করা, চাকা রং করা। তবু স্টিমারের পুরোনো গন্ধ, বাঁশির সুর, কাঠের সিঁড়ির শব্দ—এসব আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, স্টিমারে পা রাখলেই মনে হবে যেন এক সময়-যন্ত্রে চড়ে অন্য যুগে ফিরে যাওয়া।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শতবর্ষী স্টিমার পিএস মাহসুদের ভাড়া নির্ধারণ করেছে—সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণি: ২,৬০০ টাকা (ভ্যাটসহ)। ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের পথে স্টিমারটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রা শুরু করবে। বরিশালে স্থায়ী ঘাট না থাকায় আপাতত ত্রিশ গোডাউন পন্টুনে ভেড়ানো হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আবার ঢাকার পথে রওনা দেবে। গত সপ্তাহে ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রথম যাত্রা বাতিল হয়েছিল। এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও ফিটনেস সনদ মেলেনি, তবু আজ শুক্রবার থেকেই স্টিমারটি চলাচল শুরু করেছে।
১৯২২ সালে নির্মিত পিএস মাহসুদ শত বছর ধরে নদীপথের ইতিহাস বহন করে আসছে। কিন্তু এর আসল আকর্ষণ বিলাসিতা নয়—তার আত্মা লুকিয়ে আছে স্মৃতিতে। কাঠের ডেকে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকালে মনে হয়, এখান দিয়েই হয়তো হেঁটে গিয়েছিলেন জীবনানন্দ; চাঁদের আলো পড়েছিল ঢেউয়ের ভাঁজে, আর নদী নীরবে গল্প বলেছিল তাকে। এই স্টিমার তাই শুধু যাত্রা নয়—নদীর ওপর বয়ে যাওয়া এক অতীতের স্পর্শ।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০