বরিশাল নগরীতে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ১৬টি ফুটসাল অর্থাৎ খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। খেলার মাঠ উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় মাঠগুলো নির্মাণে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিসিসি। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে।
মাঠগুলো নির্মিত হলে নগরীর শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১৬টি মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠগুলোতে সারফেস লেভেলিং, প্রাকৃতিক ঘাস স্থাপন, পেরিফেরাল ড্রেনেজ, এলইডি ফ্লাডলাইট, আধুনিক ওয়াশরুম ও গ্যালারির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দিন ও রাতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর কাউনিয়া বিসিক মাঠ, আলেকান্দার পরেশ সাগর মাঠ ও কাউনিয়া হাউজিং মাঠসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ। এসব মাঠ উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছে সিটি করপোরেশন।
বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযোগী পর্যাপ্ত মাঠের সংকট রয়েছে। নগরীর বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মাঠও বর্তমানে আগের মতো ব্যবহার উপযোগী নেই। ফলে নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু-কিশোর ও তরুণ খেলোয়াড়।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভাষ্য, একসময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মাঠ থাকায় শিশু-কিশোররা সহজেই খেলাধুলার সুযোগ পেত। কিন্তু দিন দিন মাঠের সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যাওয়ায় সেই পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো মাঠে খেলাধুলার পরিবর্তে মেলা ও অন্যান্য আয়োজনের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষুদে খেলোয়াড় রাকিব হাসিন বলেন, বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠ ও বিএম স্কুলের মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ একসময় নিয়মিত খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব মাঠের অবস্থা আগের মতো নেই। মাঠগুলো যথাযথভাবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে খেলাধুলার পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
খেলোয়াড় শান্ত বলেন, ছোটবেলায় এলাকাভিত্তিক মাঠ থাকায় খেলাধুলার সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন মাঠের সংকটের কারণে সেই সুযোগ কমে গেছে। এলাকাভিত্তিক মাঠ তৈরি করা হলে তরুণ প্রজন্ম উপকৃত হবে।
আরেক ক্ষুদে খেলোয়াড় শহিদুল বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ফোনে বেশি সময় কাটায়। এলাকায় ভালো খেলার মাঠ তৈরি হলে তারা নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় খেলার মাঠ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল নগরীতে ১৬টি মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠগুলোর ডিপিপি তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাঠগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠগুলোতে দিনে ও রাতে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, একজন খেলোয়াড় তৈরির পেছনে মাঠের গুরুত্ব অনেক। যত বেশি খেলার মাঠ থাকবে, তত বেশি খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বরিশাল থেকেও অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে মাঠের উন্নয়ন জরুরি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীতে ১৬টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এবং মোবাইল ফোন ও মাদকের আসক্তি কমাতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রথমে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬টি মাঠ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বর্ধিত এলাকাগুলোতে বড় খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বরিশাল স্টেডিয়ামের পাশাপাশি আরও একটি বড় মাঠের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রশাসক আরও বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ২০১টি উপজেলা স্টেডিয়ামের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল নগরীতে প্রস্তাবিত ১৬টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে মাঠের সংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরিতে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০০
সংসার বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন পবিত্র ওমরা পালনে। কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে করিয়েছিলেন শপথও। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ফিরবে দাম্পত্য জীবনের হারানো বিশ্বাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মনির হোসেন চৌধুরীর। এবার সাবেক স্ত্রী নাসরিন সুলতানা ও তাঁর কথিত প্রেমিক তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শুধু অভিযোগ নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। গত ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্ত দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের নানা তথ্য তুলে ধরেন মনির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির জানান, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর নাসরিন সুলতানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত তিনি। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশই পাঠাতেন স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। এমনকি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে স্ত্রীকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বরিশাল নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারিকুলকে ভোলায় বদলি করা হয়। তবে তাতেও কথিত সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে দাবি মনিরের।
এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ স্ত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে ওমরা পালন করান। মনিরের ভাষ্য, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে কথিত সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার শপথ করিয়েছিলেন স্ত্রীকে। কিন্তু দেশে ফেরার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে অর্থসম্পদ নিয়েও বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মনির। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ জুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার সময় ১১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের বার নিয়ে আসেন তিনি। তখন এর বাজারমূল্য ছিল ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। সন্তানদের নামে জমি কেনার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারটি বিক্রি করতে সম্মতি দিলেও পরে জানতে পারেন, জমি কেনা হয়েছে স্ত্রী ও তাঁর ভাইয়ের নামে। দলিলে পাঁচ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো টাকা, বাসাভাড়া এবং ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নগদ ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে দেওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন এই প্রবাসী।
মনিরের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি নাসরিন নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। একই দিন তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
পরে সাবেক স্ত্রী ও তারিকুলের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মনির। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রহিম দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সর্বশেষ ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মনির হোসেন বলেন, প্রবাসে জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা সম্পদের ন্যায্য হিসাব চান তিনি। একই সঙ্গে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদের হিসাব ফিরে পাওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই প্রবাসী।
সংসার বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন পবিত্র ওমরা পালনে। কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে করিয়েছিলেন শপথও। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ফিরবে দাম্পত্য জীবনের হারানো বিশ্বাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মনির হোসেন চৌধুরীর। এবার সাবেক স্ত্রী নাসরিন সুলতানা ও তাঁর কথিত প্রেমিক তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শুধু অভিযোগ নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। গত ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্ত দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের নানা তথ্য তুলে ধরেন মনির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির জানান, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর নাসরিন সুলতানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত তিনি। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশই পাঠাতেন স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। এমনকি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে স্ত্রীকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বরিশাল নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারিকুলকে ভোলায় বদলি করা হয়। তবে তাতেও কথিত সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে দাবি মনিরের।
এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ স্ত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে ওমরা পালন করান। মনিরের ভাষ্য, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে কথিত সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার শপথ করিয়েছিলেন স্ত্রীকে। কিন্তু দেশে ফেরার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে অর্থসম্পদ নিয়েও বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মনির। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ জুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার সময় ১১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের বার নিয়ে আসেন তিনি। তখন এর বাজারমূল্য ছিল ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। সন্তানদের নামে জমি কেনার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারটি বিক্রি করতে সম্মতি দিলেও পরে জানতে পারেন, জমি কেনা হয়েছে স্ত্রী ও তাঁর ভাইয়ের নামে। দলিলে পাঁচ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো টাকা, বাসাভাড়া এবং ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নগদ ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে দেওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন এই প্রবাসী।
মনিরের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি নাসরিন নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। একই দিন তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
পরে সাবেক স্ত্রী ও তারিকুলের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মনির। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রহিম দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সর্বশেষ ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মনির হোসেন বলেন, প্রবাসে জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা সম্পদের ন্যায্য হিসাব চান তিনি। একই সঙ্গে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদের হিসাব ফিরে পাওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই প্রবাসী।

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:২৩
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একটি বসতঘরের মেঝেতে হঠাৎ ‘জেগে ওঠা’ দুটি কবর! এমন দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। কথিত অলৌকিক এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া ও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার আয়োজন। আর সেই আয়োজন ঘিরে প্রতিদিনই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।
ঘটনাটি উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের। স্থানীয় ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারীকে কেন্দ্র করে এই আয়োজনের বিস্তার ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সকালে বসতঘরের মেঝেতে প্রথম একটি কবরের মতো উঁচু স্থান দেখা যায়। একই দিন রাত ১২টার দিকে পাশেই আরেকটি কবরের মতো স্থান তৈরি হয়। সজীবের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছিলেন সজীব। তাঁর কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ কথিত চিকিৎসা নিতে আসতেন। সোমবার রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যেত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
কবর দুটি ঘিরে নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। চারপাশে বাঁশের খুঁটি ও রশি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সীমানা। কথিত অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উৎসুক মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে।
তবে পুরো ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের দাবি, অলৌকিকতার প্রচার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে কবর দুটি খনন করে তদন্তের দাবিও উঠেছে।
আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা জমজমাট করতেই এমন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদারও সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অলৌকিকতার দাবি, নাকি মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ব্যবসা, কদমবাড়ির এই কবরের রহস্য উদ্ঘাটনে এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।'
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একটি বসতঘরের মেঝেতে হঠাৎ ‘জেগে ওঠা’ দুটি কবর! এমন দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। কথিত অলৌকিক এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া ও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার আয়োজন। আর সেই আয়োজন ঘিরে প্রতিদিনই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।
ঘটনাটি উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের। স্থানীয় ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারীকে কেন্দ্র করে এই আয়োজনের বিস্তার ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সকালে বসতঘরের মেঝেতে প্রথম একটি কবরের মতো উঁচু স্থান দেখা যায়। একই দিন রাত ১২টার দিকে পাশেই আরেকটি কবরের মতো স্থান তৈরি হয়। সজীবের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছিলেন সজীব। তাঁর কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ কথিত চিকিৎসা নিতে আসতেন। সোমবার রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যেত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
কবর দুটি ঘিরে নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। চারপাশে বাঁশের খুঁটি ও রশি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সীমানা। কথিত অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উৎসুক মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে।
তবে পুরো ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের দাবি, অলৌকিকতার প্রচার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে কবর দুটি খনন করে তদন্তের দাবিও উঠেছে।
আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা জমজমাট করতেই এমন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদারও সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অলৌকিকতার দাবি, নাকি মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ব্যবসা, কদমবাড়ির এই কবরের রহস্য উদ্ঘাটনে এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।'

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৪
সন্তানহারা এক নারীর মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে আরেক মায়ের বুক খালি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীতে দিনমজুর পরিবারের মাত্র ৪৫ দিন বয়সী কন্যাশিশুকে চুরির পর ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজের ১৪ দিন পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়ক এলাকার একটি বাসা থেকে সোহেল ও বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির মা।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমার ওপর সন্দেহ হয় শিশুটির পরিবারের। পরে রোববার রাতে তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিমা স্থানীয় মৌরি নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে মৌরি শিশুটিকে তাঁর সন্তানহারা বড় বোন সম্পার কাছে দেন। সম্পা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।
পুলিশের তৎপরতার মুখে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ শিশুটিকে তার মা বৃষ্টি বেগমের কোলে ফিরিয়ে দেয়। দীর্ঘ ১৪ দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নাসিমা বেগম ও মৌরিকে আটক করা হয়েছে। তবে নাসিমা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সম্পার দাবি, শিশুটি যে চুরি করে আনা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর তিনি শিশুটিকে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
সন্তানহারা এক নারীর মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে আরেক মায়ের বুক খালি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীতে দিনমজুর পরিবারের মাত্র ৪৫ দিন বয়সী কন্যাশিশুকে চুরির পর ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজের ১৪ দিন পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়ক এলাকার একটি বাসা থেকে সোহেল ও বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির মা।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমার ওপর সন্দেহ হয় শিশুটির পরিবারের। পরে রোববার রাতে তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিমা স্থানীয় মৌরি নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে মৌরি শিশুটিকে তাঁর সন্তানহারা বড় বোন সম্পার কাছে দেন। সম্পা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।
পুলিশের তৎপরতার মুখে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ শিশুটিকে তার মা বৃষ্টি বেগমের কোলে ফিরিয়ে দেয়। দীর্ঘ ১৪ দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নাসিমা বেগম ও মৌরিকে আটক করা হয়েছে। তবে নাসিমা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সম্পার দাবি, শিশুটি যে চুরি করে আনা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর তিনি শিশুটিকে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪১
বরিশাল নগরীতে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ১৬টি ফুটসাল অর্থাৎ খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। খেলার মাঠ উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় মাঠগুলো নির্মাণে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিসিসি। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে।
মাঠগুলো নির্মিত হলে নগরীর শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১৬টি মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠগুলোতে সারফেস লেভেলিং, প্রাকৃতিক ঘাস স্থাপন, পেরিফেরাল ড্রেনেজ, এলইডি ফ্লাডলাইট, আধুনিক ওয়াশরুম ও গ্যালারির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দিন ও রাতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর কাউনিয়া বিসিক মাঠ, আলেকান্দার পরেশ সাগর মাঠ ও কাউনিয়া হাউজিং মাঠসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ। এসব মাঠ উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছে সিটি করপোরেশন।
বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযোগী পর্যাপ্ত মাঠের সংকট রয়েছে। নগরীর বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মাঠও বর্তমানে আগের মতো ব্যবহার উপযোগী নেই। ফলে নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু-কিশোর ও তরুণ খেলোয়াড়।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভাষ্য, একসময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মাঠ থাকায় শিশু-কিশোররা সহজেই খেলাধুলার সুযোগ পেত। কিন্তু দিন দিন মাঠের সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যাওয়ায় সেই পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো মাঠে খেলাধুলার পরিবর্তে মেলা ও অন্যান্য আয়োজনের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষুদে খেলোয়াড় রাকিব হাসিন বলেন, বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠ ও বিএম স্কুলের মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ একসময় নিয়মিত খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব মাঠের অবস্থা আগের মতো নেই। মাঠগুলো যথাযথভাবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে খেলাধুলার পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
খেলোয়াড় শান্ত বলেন, ছোটবেলায় এলাকাভিত্তিক মাঠ থাকায় খেলাধুলার সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন মাঠের সংকটের কারণে সেই সুযোগ কমে গেছে। এলাকাভিত্তিক মাঠ তৈরি করা হলে তরুণ প্রজন্ম উপকৃত হবে।
আরেক ক্ষুদে খেলোয়াড় শহিদুল বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ফোনে বেশি সময় কাটায়। এলাকায় ভালো খেলার মাঠ তৈরি হলে তারা নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় খেলার মাঠ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল নগরীতে ১৬টি মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠগুলোর ডিপিপি তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাঠগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠগুলোতে দিনে ও রাতে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, একজন খেলোয়াড় তৈরির পেছনে মাঠের গুরুত্ব অনেক। যত বেশি খেলার মাঠ থাকবে, তত বেশি খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বরিশাল থেকেও অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে মাঠের উন্নয়ন জরুরি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীতে ১৬টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এবং মোবাইল ফোন ও মাদকের আসক্তি কমাতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রথমে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬টি মাঠ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বর্ধিত এলাকাগুলোতে বড় খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বরিশাল স্টেডিয়ামের পাশাপাশি আরও একটি বড় মাঠের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রশাসক আরও বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ২০১টি উপজেলা স্টেডিয়ামের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল নগরীতে প্রস্তাবিত ১৬টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে মাঠের সংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরিতে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০০
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:২৩
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৪
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪১