ঠাকুরগাঁওয়ে চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জান্নাত বেগম নামের এক মা। শিশুসন্তানদের লোহার খাঁচায় করছেন লালনপালন। চিকিৎসা আর খরচ জোটাতে প্রতিনিয়ত করছেন সংগ্রাম। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুদের ভবিষ্যৎ।
খরচ জোগাড় করতে লোহার তৈরি খাঁচার মতো ঠেলাগাড়িতে তিন যমজ শিশুসন্তানকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার পাশে হাঁটে সাড়ে তিন বছর বয়সী আরেক শিশুসন্তান। চার শিশুসন্তানকে নিয়ে এমন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কাটছে মা জান্নাত বেগমের জীবন।
জানা গেছে, জান্নাত বেগম ময়মনসিংহ জেলার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ঢাকায় বিয়ে হয় হাবিল নামের এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বসবাস শুরু করেন। এক বছর পর কোলজুড়ে আসে মেয়ে সন্তান। পরের বছর আরও তিন যমজ সন্তান। চার সন্তান রেখে ছেড়ে যান স্বামী। নিরুপায় হয়ে পড়েন জান্নাত। শুরু হয় সংগ্রামী জীবন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বদ্বেশরী সরকারি আশ্রয়ণের ঘরে থাকতেন জান্নাত আক্তার। স্বামী চলে যাওয়ায় হারিয়ে ফেলেন কূলকিনারা। প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুরা। বাধ্য হয়ে চলে আসেন শহরের পরিষদ পাড়ায়। আশ্রয় নেন ভাড়া বাড়িতে।
কাজ খুঁজে বের করতে গিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিশুদের দায়িত্ব ও তাদের রেখে বাইরে গিয়ে উপার্জনের কোনো সুযোগ তার হাতে ছিল না। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের ক্ষুধা নিবারণে বের করে আনেন এক অভিনব উপায়। নিজ উদ্যোগে স্থানীয় এক কামারের দোকানে চাকা লাগানো লোহার খাঁচা বানিয়ে নেন ৭ হাজার টাকা খরচে। সেই খাঁচায় বসিয়ে দেন তিন যমজ শিশুকে, আর পাশে হাঁটে বড় সন্তান মরিয়ম। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সাহায্য তোলেন তিনি।
জান্নাত বেগম বলেন, আমি সাহায্য তুলে দিন পার করি, এটা নিশ্চয়ই লজ্জার। কিন্তু আমার কোনো উপায় নেই। সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখ আমি দেখতে পারি না। অনেকে আমার সন্তানদের কিনে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে, লাখ লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু সন্তানের প্রতি মায়া কখনোই টাকার কাছে হার মানেনি।
তিনি আরও বলেন, আয় খুব সীমিত। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার কিংবা পুষ্টিকর কিছু খাওয়াতে পারেন না। অনেক সময় তারা পেট ভরে খেতেও পায় না। জান্নাতের দুর্দশা দেখে ব্যথিত প্রতিবেশী শ্যামল। তিনি বলেন, একজন নারীর পক্ষে এত ছোট চারটি সন্তান লালনপালন করা কঠিন। কিন্তু জান্নাত তাদের মানুষ করার পাশাপাশি রাস্তায় নেমে উপার্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি সত্যিই সংগ্রামী।
আরেক প্রতিবেশী শারমিন বলেন, ওদের কান্নার শব্দ শুনে মনটা কেঁদে ওঠে। কী অমানবিক জীবন যাপন করছে তারা। অথচ সমাজের ধনী মানুষরা অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করেন; কিন্তু জান্নাতের পাশে সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ও জানার পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বিকেলে তাকে তাকে কিছু শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্ভবত অন্যের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি চাইলে থাকার জন্য আমরা তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর প্রদান করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, তিনি যদি চান ভিক্ষাবৃত্তি বাদ দিয়ে কোনো সম্মানজনক পেশায় আসতে চান তাহলে আমরা সরকারিভাবে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ও ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারি। তা ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় যতটা সম্ভব প্রশাসন তার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?

০৯ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৩৪
ঠাকুরগাঁওয়ে চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জান্নাত বেগম নামের এক মা। শিশুসন্তানদের লোহার খাঁচায় করছেন লালনপালন। চিকিৎসা আর খরচ জোটাতে প্রতিনিয়ত করছেন সংগ্রাম। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুদের ভবিষ্যৎ।
খরচ জোগাড় করতে লোহার তৈরি খাঁচার মতো ঠেলাগাড়িতে তিন যমজ শিশুসন্তানকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার পাশে হাঁটে সাড়ে তিন বছর বয়সী আরেক শিশুসন্তান। চার শিশুসন্তানকে নিয়ে এমন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কাটছে মা জান্নাত বেগমের জীবন।
জানা গেছে, জান্নাত বেগম ময়মনসিংহ জেলার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ঢাকায় বিয়ে হয় হাবিল নামের এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বসবাস শুরু করেন। এক বছর পর কোলজুড়ে আসে মেয়ে সন্তান। পরের বছর আরও তিন যমজ সন্তান। চার সন্তান রেখে ছেড়ে যান স্বামী। নিরুপায় হয়ে পড়েন জান্নাত। শুরু হয় সংগ্রামী জীবন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বদ্বেশরী সরকারি আশ্রয়ণের ঘরে থাকতেন জান্নাত আক্তার। স্বামী চলে যাওয়ায় হারিয়ে ফেলেন কূলকিনারা। প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুরা। বাধ্য হয়ে চলে আসেন শহরের পরিষদ পাড়ায়। আশ্রয় নেন ভাড়া বাড়িতে।
কাজ খুঁজে বের করতে গিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিশুদের দায়িত্ব ও তাদের রেখে বাইরে গিয়ে উপার্জনের কোনো সুযোগ তার হাতে ছিল না। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের ক্ষুধা নিবারণে বের করে আনেন এক অভিনব উপায়। নিজ উদ্যোগে স্থানীয় এক কামারের দোকানে চাকা লাগানো লোহার খাঁচা বানিয়ে নেন ৭ হাজার টাকা খরচে। সেই খাঁচায় বসিয়ে দেন তিন যমজ শিশুকে, আর পাশে হাঁটে বড় সন্তান মরিয়ম। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সাহায্য তোলেন তিনি।
জান্নাত বেগম বলেন, আমি সাহায্য তুলে দিন পার করি, এটা নিশ্চয়ই লজ্জার। কিন্তু আমার কোনো উপায় নেই। সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখ আমি দেখতে পারি না। অনেকে আমার সন্তানদের কিনে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে, লাখ লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু সন্তানের প্রতি মায়া কখনোই টাকার কাছে হার মানেনি।
তিনি আরও বলেন, আয় খুব সীমিত। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার কিংবা পুষ্টিকর কিছু খাওয়াতে পারেন না। অনেক সময় তারা পেট ভরে খেতেও পায় না। জান্নাতের দুর্দশা দেখে ব্যথিত প্রতিবেশী শ্যামল। তিনি বলেন, একজন নারীর পক্ষে এত ছোট চারটি সন্তান লালনপালন করা কঠিন। কিন্তু জান্নাত তাদের মানুষ করার পাশাপাশি রাস্তায় নেমে উপার্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি সত্যিই সংগ্রামী।
আরেক প্রতিবেশী শারমিন বলেন, ওদের কান্নার শব্দ শুনে মনটা কেঁদে ওঠে। কী অমানবিক জীবন যাপন করছে তারা। অথচ সমাজের ধনী মানুষরা অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করেন; কিন্তু জান্নাতের পাশে সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ও জানার পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বিকেলে তাকে তাকে কিছু শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্ভবত অন্যের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি চাইলে থাকার জন্য আমরা তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর প্রদান করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, তিনি যদি চান ভিক্ষাবৃত্তি বাদ দিয়ে কোনো সম্মানজনক পেশায় আসতে চান তাহলে আমরা সরকারিভাবে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ও ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারি। তা ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় যতটা সম্ভব প্রশাসন তার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১২
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬