পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৪০ জন মাঠকর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মাঠকর্মীদের বিভিন্ন কারণে অকারণে হয়রানি করছেন। তিনি বিভিন্ন অজুহতে মাঠকর্মীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে তাদের ফাইল আটকে হয়রানি করছেন। তাকে খুশি করতে পারলেই বৈধ-অবৈধ সব ঠিক হয়ে যায়।
কর্মচারীরা নিজের পারিশ্রমিকের বিল দাখিল করলে যেমন ভ্রমণ ভাতা বিল পেতে হলে তাকে ৩৫% হারে কমিশন দিতে হয়। না হলে তাদের ভ্রমণভাতা বিল পাশ হয় না।
২৪-২৫ গত অর্থ বছরের অফিসের অসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সকল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি মাঠকর্মীদের অভিযোগের পরে একটি চেয়ার ও দুটি পর্দা কিনে অসবাবপত্রের সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্থায়ীকরণ আদেশ জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ থাকলেও তার চাহিদামতো অর্থ প্রদান না করলে তার আদেশ সার্ভিস বুকের মাধ্যমে উঠানো হয় না। নির্ধারিত ফি পেলেই তিনি তখন সার্ভিস বুক তুলে দেন।
নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলম নামের এক কর্মচারী লাম্পগ্রান্ড ও জিপিএফ কাগজপত্র তৈরির নামে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। ওই কর্মচারী অর্ধ লক্ষ টাকা প্রদান করলেও বাকী টাকার জন্য দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের চাপে পড়ে বিল প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী মাঠকর্মীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এ উপজেলায় যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পাক্ষিক সভার নামে সেখানে উপজেলার সকল স্টাফদের দুপুরে লাঞ্চ করার চাপ প্রয়োগ করেন।
লাঞ্চের জন্য তার নির্ধারিত আইটেমের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়, যেখানে ১০-১২ আইটেমের ভর্তা, মাছ, মুরগী, হাঁস, খাশির মাংস ও লেগ পিস সাইজে বড় হতে হবে বাধ্যতামূলক। ইউনিয়নের এসব খাবারের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিদর্শককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিদর্শক ও সকল মাঠকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এই খাবারের আয়োজনের নির্দেশ দেন।
চার সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা হল রুমে উপজেলা মাসিক সভায় তিনি সকল মাঠকর্মী ও কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘যাঁরা মাসিক চাঁদা দেবেন না তারা পেনশন নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না’। হল রুমে বসে স্টাফরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মাইক ছুড়ে ফেলে দেন। যা সকল কর্মচারী দেখেছেন ও ভিডিও করে রেখেছেন।
২৪-২৫ অর্থ বছরের কোন কিছু না কিনে শুধু কাগজ কলমে ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্থায়ী পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির টাকা-পয়সা নিয়ে মাঠকর্মীদের হয়রানি ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন।
উপজেলার তেলিখালী পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার চাকুরি বাণিজ্য করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভিটাবাড়ীয়ার পরিদর্শক আবদুল মতিন কর্মকর্তার চাহিদা পূরণের জন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা তুলে দেন, তিনি আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিটাবাড়ীয়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আয়া সালমা বেগম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আ. মতিনের হাতে লঞ্চিত হয় ওই আয়া। এ দুই পরিদর্শক দুর্নীতিগ্রস্ত অফিস সহকারী ও কর্মকর্তার সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দুইজন কর্মকর্তা আছেন, তারা আমার বিষয়ে ভালো জানেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে’।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরণদীপ হাওলাদার সন্দীপ (অ.দা) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিল, ভাউচার ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে নেই; এ বিষয়ে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই’।
অভিযুক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অফিসের জন্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। তবে একজন কর্মচারী প্রশাসনিক কারণে বদলী করা হয়েছে। তিনি পুনরায় আসতে চাচ্ছেন; এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৫
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:০৪
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৪০ জন মাঠকর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মাঠকর্মীদের বিভিন্ন কারণে অকারণে হয়রানি করছেন। তিনি বিভিন্ন অজুহতে মাঠকর্মীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে তাদের ফাইল আটকে হয়রানি করছেন। তাকে খুশি করতে পারলেই বৈধ-অবৈধ সব ঠিক হয়ে যায়।
কর্মচারীরা নিজের পারিশ্রমিকের বিল দাখিল করলে যেমন ভ্রমণ ভাতা বিল পেতে হলে তাকে ৩৫% হারে কমিশন দিতে হয়। না হলে তাদের ভ্রমণভাতা বিল পাশ হয় না।
২৪-২৫ গত অর্থ বছরের অফিসের অসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সকল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি মাঠকর্মীদের অভিযোগের পরে একটি চেয়ার ও দুটি পর্দা কিনে অসবাবপত্রের সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্থায়ীকরণ আদেশ জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ থাকলেও তার চাহিদামতো অর্থ প্রদান না করলে তার আদেশ সার্ভিস বুকের মাধ্যমে উঠানো হয় না। নির্ধারিত ফি পেলেই তিনি তখন সার্ভিস বুক তুলে দেন।
নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলম নামের এক কর্মচারী লাম্পগ্রান্ড ও জিপিএফ কাগজপত্র তৈরির নামে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। ওই কর্মচারী অর্ধ লক্ষ টাকা প্রদান করলেও বাকী টাকার জন্য দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের চাপে পড়ে বিল প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী মাঠকর্মীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এ উপজেলায় যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পাক্ষিক সভার নামে সেখানে উপজেলার সকল স্টাফদের দুপুরে লাঞ্চ করার চাপ প্রয়োগ করেন।
লাঞ্চের জন্য তার নির্ধারিত আইটেমের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়, যেখানে ১০-১২ আইটেমের ভর্তা, মাছ, মুরগী, হাঁস, খাশির মাংস ও লেগ পিস সাইজে বড় হতে হবে বাধ্যতামূলক। ইউনিয়নের এসব খাবারের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিদর্শককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিদর্শক ও সকল মাঠকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এই খাবারের আয়োজনের নির্দেশ দেন।
চার সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা হল রুমে উপজেলা মাসিক সভায় তিনি সকল মাঠকর্মী ও কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘যাঁরা মাসিক চাঁদা দেবেন না তারা পেনশন নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না’। হল রুমে বসে স্টাফরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মাইক ছুড়ে ফেলে দেন। যা সকল কর্মচারী দেখেছেন ও ভিডিও করে রেখেছেন।
২৪-২৫ অর্থ বছরের কোন কিছু না কিনে শুধু কাগজ কলমে ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্থায়ী পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির টাকা-পয়সা নিয়ে মাঠকর্মীদের হয়রানি ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন।
উপজেলার তেলিখালী পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার চাকুরি বাণিজ্য করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভিটাবাড়ীয়ার পরিদর্শক আবদুল মতিন কর্মকর্তার চাহিদা পূরণের জন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা তুলে দেন, তিনি আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিটাবাড়ীয়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আয়া সালমা বেগম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আ. মতিনের হাতে লঞ্চিত হয় ওই আয়া। এ দুই পরিদর্শক দুর্নীতিগ্রস্ত অফিস সহকারী ও কর্মকর্তার সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দুইজন কর্মকর্তা আছেন, তারা আমার বিষয়ে ভালো জানেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে’।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরণদীপ হাওলাদার সন্দীপ (অ.দা) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিল, ভাউচার ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে নেই; এ বিষয়ে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই’।
অভিযুক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অফিসের জন্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। তবে একজন কর্মচারী প্রশাসনিক কারণে বদলী করা হয়েছে। তিনি পুনরায় আসতে চাচ্ছেন; এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২১
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫০