বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #

২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৬
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’

২৪ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৩৩
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭