
২৪ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৩৩
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #

০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪

০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৪
বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের কর্মস্থলে যোগদান ঠেকাতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী। সরকার তাকে নিয়োগ দেওয়ার এক দিনের মাথায় তা বাতিল জানিয়ে বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-চিকিৎসক-নার্স, এমনকি কর্মচারীরা পর্যন্ত নতুন স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন , ডা. এসএম মনিরুজ্জামান ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী একাধিক চিকিৎসক বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এ নিয়োগ মেনে নেব না। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। সরকারের উচিত দ্রুত এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি ও অভিযোগ লিখিত আকারে জানালে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।
এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে পদায়ন করে।

০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৪
বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’
বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’
বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের কর্মস্থলে যোগদান ঠেকাতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী। সরকার তাকে নিয়োগ দেওয়ার এক দিনের মাথায় তা বাতিল জানিয়ে বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-চিকিৎসক-নার্স, এমনকি কর্মচারীরা পর্যন্ত নতুন স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন , ডা. এসএম মনিরুজ্জামান ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী একাধিক চিকিৎসক বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এ নিয়োগ মেনে নেব না। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। সরকারের উচিত দ্রুত এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি ও অভিযোগ লিখিত আকারে জানালে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।
এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে পদায়ন করে।
আগামী ১৩ জুলাই এক বর্ণাঢ্য সফরে বরিশাল আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। নেতৃত্বের শীর্ষ পদে আসার পর বরিশাল বিভাগে এটাই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ধারণা, এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কিছু মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি পাবে। বিশেষ করে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ৬ লেন মহাসড়ক, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ বেগবান হবে।
পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে সংযুক্ত করে রেললাইনের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা এই সফরের মাধ্যমে নতুন আবহ তৈরি করবে।
উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়নগুলো সম্পন্ন হলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এবং পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের এক বিশাল দ্বার খুলে যাবে।
সফরকালে তিনি বরিশাল জেলা, মহানগর এবং সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং দলের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করতে এই সভা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, এই সফরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পরিবেশগত কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঐতিহাসিক জেল খাল সংস্কার। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'জেল খাল' পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কাজের তদারকি। এবং বরিশালের ফুসফুস খ্যাত ঐতিহাসিক বেল্স পার্কের চারদিকে এক বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন।
এই সফরের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি'র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বরিশালটাইমসকে জানান, সফরটি সফল করতে ইতিমধ্যেই দলীয় কার্যালয়ে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা চলছে এবং পুরো বরিশালজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাসহ সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে যেমন দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে, তেমনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হবে।
তারেক রহমান এর আগে অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বরিশালে এসেছিলেন। ওই দিন তিনি বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দুপুরের দিকে বরিশাল নগরের বান্দরোডের ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্ক মাঠে আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন।
আগামী ১৩ জুলাই এক বর্ণাঢ্য সফরে বরিশাল আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। নেতৃত্বের শীর্ষ পদে আসার পর বরিশাল বিভাগে এটাই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ধারণা, এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কিছু মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি পাবে। বিশেষ করে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ৬ লেন মহাসড়ক, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ বেগবান হবে।
পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে সংযুক্ত করে রেললাইনের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা এই সফরের মাধ্যমে নতুন আবহ তৈরি করবে।
উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়নগুলো সম্পন্ন হলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এবং পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের এক বিশাল দ্বার খুলে যাবে।
সফরকালে তিনি বরিশাল জেলা, মহানগর এবং সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং দলের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করতে এই সভা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, এই সফরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পরিবেশগত কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঐতিহাসিক জেল খাল সংস্কার। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'জেল খাল' পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কাজের তদারকি। এবং বরিশালের ফুসফুস খ্যাত ঐতিহাসিক বেল্স পার্কের চারদিকে এক বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন।
এই সফরের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি'র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বরিশালটাইমসকে জানান, সফরটি সফল করতে ইতিমধ্যেই দলীয় কার্যালয়ে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা চলছে এবং পুরো বরিশালজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাসহ সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে যেমন দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে, তেমনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হবে।
তারেক রহমান এর আগে অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বরিশালে এসেছিলেন। ওই দিন তিনি বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দুপুরের দিকে বরিশাল নগরের বান্দরোডের ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্ক মাঠে আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন।
০৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৭
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৮
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৪