বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসাইন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নতুন গবেষণার বিষয় উপস্থাপনের সুযোগ হয়েছে International Conference on Physical Science 2026-এ, যা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর আগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PUST) এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পারলিসের (UniMAP) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত EFAST 2026 আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থাপিত তাঁর গবেষণাপত্রটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের জন্য সংশোধন (Revision) পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তাঁর গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জার্নালে ফরহাদের মোট তিনটি গবেষণাপত্র রয়েছে, যেগুলোর সংশোধন-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি উন্নতমানের গবেষণাপত্র নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ভবিষ্যতে এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ফরহাদ।
মো. ফরহাদ হোসাইন ২০২৬ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে থিসিসসহ স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। মাস্টার্সে তিনি ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৯ সিজিপিএ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহের ক্ষেত্র হলো Computational Fluid Dynamics (CFD), Natural Convection, Heat Transfer, Magnetohydrodynamics (MHD) এবং Thermal Performance Optimization। এসব বিষয়ে সংখ্যাতাত্ত্বিক সিমুলেশন, গাণিতিক মডেলিং ও আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি প্রয়োগ করে কাজ করছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফরহাদ হোসাইন জানান, বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ অর্জন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:০৬
নদী-খালের শহর বরিশালকে জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর ৩০টি খাল পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন, পাড় সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন এবং ২০টি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর খালগুলো দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। একসময় নগরীর পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এসব খাল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ দখল এবং বর্জ্য ফেলার কারণে অনেক খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশালের খাল পুনরুদ্ধারে এর আগেও একাধিকবার উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে নগরীর খালগুলোর পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের জন্য ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। এতে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে অর্থায়নের পরিকল্পনা ছিল। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তে অর্থায়নে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।
ওই পরিকল্পনায় নগরীর ৪৬টি খালের মধ্যে ২০টি খনন এবং আরও ৯টি খালের খনন, পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড নগরীর সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ কাজে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। খালগুলোর মধ্যে ছিল সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল। প্রথম পর্যায়ে খনন এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সীমানা নির্ধারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নগরীর সব খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে এবার নগরবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বরিশাল নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। খালের নাব্যতা ফিরে এলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক নৌযোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে খালের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরীতে নতুন নাগরিক পরিসর গড়ে উঠতে পারে। এতে নগরীর পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি মানুষের বিনোদন ও চলাচলের সুযোগও বাড়বে।
তবে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি খাল নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে প্রশাসক শিরিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ প্রকল্প বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বরিশালের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ৭৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বরিশাল নগরীর জন্য সম্ভাবনাময় এক নতুন অধ্যায়। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, অতীতের মতো প্রকল্পটি যেন কেবল পরিকল্পনা ও কাগজপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো ফিরে পাক প্রাণ, আর বরিশাল ফিরে পাক তার ঐতিহ্যবাহী খালনির্ভর নগরীর পরিচয়।'
নদী-খালের শহর বরিশালকে জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর ৩০টি খাল পুনরুদ্ধার, পুনঃখনন, পাড় সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন এবং ২০টি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর খালগুলো দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। একসময় নগরীর পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এসব খাল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ দখল এবং বর্জ্য ফেলার কারণে অনেক খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশালের খাল পুনরুদ্ধারে এর আগেও একাধিকবার উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে নগরীর খালগুলোর পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের জন্য ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। এতে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে অর্থায়নের পরিকল্পনা ছিল। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তে অর্থায়নে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।
ওই পরিকল্পনায় নগরীর ৪৬টি খালের মধ্যে ২০টি খনন এবং আরও ৯টি খালের খনন, পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড নগরীর সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ কাজে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। খালগুলোর মধ্যে ছিল সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল। প্রথম পর্যায়ে খনন এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সীমানা নির্ধারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নগরীর সব খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে এবার নগরবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বরিশাল নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। খালের নাব্যতা ফিরে এলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক নৌযোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে খালের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরীতে নতুন নাগরিক পরিসর গড়ে উঠতে পারে। এতে নগরীর পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি মানুষের বিনোদন ও চলাচলের সুযোগও বাড়বে।
তবে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি খাল নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে প্রশাসক শিরিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ প্রকল্প বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বরিশালের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ৭৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বরিশাল নগরীর জন্য সম্ভাবনাময় এক নতুন অধ্যায়। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, অতীতের মতো প্রকল্পটি যেন কেবল পরিকল্পনা ও কাগজপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো ফিরে পাক প্রাণ, আর বরিশাল ফিরে পাক তার ঐতিহ্যবাহী খালনির্ভর নগরীর পরিচয়।'

০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক কমিশনার ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে পরিচ্ছন্ন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা এর আগে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
মো. আশিক সাঈদ বাংলাদেশ পুলিশের ২০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০১ সালের ৩১ মে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন বলে প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন আশিক সাঈদ। কর্মজীবনের শুরুতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার, জামালপুরের পুলিশ সুপার, ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ পুলিশ ও ঢাকা রেঞ্জেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৭ মে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর পেশাদারিত্ব ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) অর্জন করেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক কমিশনার ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে পরিচ্ছন্ন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা এর আগে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
মো. আশিক সাঈদ বাংলাদেশ পুলিশের ২০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০১ সালের ৩১ মে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন বলে প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন আশিক সাঈদ। কর্মজীবনের শুরুতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার, জামালপুরের পুলিশ সুপার, ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ পুলিশ ও ঢাকা রেঞ্জেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৭ মে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর পেশাদারিত্ব ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) অর্জন করেছেন।

০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০০
সংসার বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন পবিত্র ওমরা পালনে। কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে করিয়েছিলেন শপথও। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ফিরবে দাম্পত্য জীবনের হারানো বিশ্বাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মনির হোসেন চৌধুরীর। এবার সাবেক স্ত্রী নাসরিন সুলতানা ও তাঁর কথিত প্রেমিক তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শুধু অভিযোগ নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। গত ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্ত দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের নানা তথ্য তুলে ধরেন মনির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির জানান, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর নাসরিন সুলতানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত তিনি। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশই পাঠাতেন স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। এমনকি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে স্ত্রীকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বরিশাল নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারিকুলকে ভোলায় বদলি করা হয়। তবে তাতেও কথিত সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে দাবি মনিরের।
এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ স্ত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে ওমরা পালন করান। মনিরের ভাষ্য, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে কথিত সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার শপথ করিয়েছিলেন স্ত্রীকে। কিন্তু দেশে ফেরার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে অর্থসম্পদ নিয়েও বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মনির। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ জুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার সময় ১১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের বার নিয়ে আসেন তিনি। তখন এর বাজারমূল্য ছিল ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। সন্তানদের নামে জমি কেনার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারটি বিক্রি করতে সম্মতি দিলেও পরে জানতে পারেন, জমি কেনা হয়েছে স্ত্রী ও তাঁর ভাইয়ের নামে। দলিলে পাঁচ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো টাকা, বাসাভাড়া এবং ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নগদ ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে দেওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন এই প্রবাসী।
মনিরের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি নাসরিন নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। একই দিন তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
পরে সাবেক স্ত্রী ও তারিকুলের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মনির। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রহিম দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সর্বশেষ ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মনির হোসেন বলেন, প্রবাসে জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা সম্পদের ন্যায্য হিসাব চান তিনি। একই সঙ্গে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদের হিসাব ফিরে পাওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই প্রবাসী।
সংসার বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন পবিত্র ওমরা পালনে। কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে করিয়েছিলেন শপথও। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ফিরবে দাম্পত্য জীবনের হারানো বিশ্বাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মনির হোসেন চৌধুরীর। এবার সাবেক স্ত্রী নাসরিন সুলতানা ও তাঁর কথিত প্রেমিক তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শুধু অভিযোগ নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। গত ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্ত দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের নানা তথ্য তুলে ধরেন মনির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির জানান, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর নাসরিন সুলতানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত তিনি। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশই পাঠাতেন স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। এমনকি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে স্ত্রীকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বরিশাল নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারিকুলকে ভোলায় বদলি করা হয়। তবে তাতেও কথিত সম্পর্কের অবসান হয়নি বলে দাবি মনিরের।
এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ স্ত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে ওমরা পালন করান। মনিরের ভাষ্য, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড় করিয়ে কথিত সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার শপথ করিয়েছিলেন স্ত্রীকে। কিন্তু দেশে ফেরার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে অর্থসম্পদ নিয়েও বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মনির। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ জুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার সময় ১১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের বার নিয়ে আসেন তিনি। তখন এর বাজারমূল্য ছিল ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। সন্তানদের নামে জমি কেনার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারটি বিক্রি করতে সম্মতি দিলেও পরে জানতে পারেন, জমি কেনা হয়েছে স্ত্রী ও তাঁর ভাইয়ের নামে। দলিলে পাঁচ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো টাকা, বাসাভাড়া এবং ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নগদ ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে দেওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন এই প্রবাসী।
মনিরের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি নাসরিন নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। একই দিন তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
পরে সাবেক স্ত্রী ও তারিকুলের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মনির। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রহিম দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সর্বশেষ ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মনির হোসেন বলেন, প্রবাসে জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা সম্পদের ন্যায্য হিসাব চান তিনি। একই সঙ্গে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদের হিসাব ফিরে পাওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই প্রবাসী।

০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসাইন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নতুন গবেষণার বিষয় উপস্থাপনের সুযোগ হয়েছে International Conference on Physical Science 2026-এ, যা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর আগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PUST) এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পারলিসের (UniMAP) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত EFAST 2026 আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থাপিত তাঁর গবেষণাপত্রটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের জন্য সংশোধন (Revision) পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তাঁর গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জার্নালে ফরহাদের মোট তিনটি গবেষণাপত্র রয়েছে, যেগুলোর সংশোধন-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি উন্নতমানের গবেষণাপত্র নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ভবিষ্যতে এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ফরহাদ।
মো. ফরহাদ হোসাইন ২০২৬ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে থিসিসসহ স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। মাস্টার্সে তিনি ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৯ সিজিপিএ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহের ক্ষেত্র হলো Computational Fluid Dynamics (CFD), Natural Convection, Heat Transfer, Magnetohydrodynamics (MHD) এবং Thermal Performance Optimization। এসব বিষয়ে সংখ্যাতাত্ত্বিক সিমুলেশন, গাণিতিক মডেলিং ও আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি প্রয়োগ করে কাজ করছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফরহাদ হোসাইন জানান, বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ অর্জন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৫
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:০৬
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৯
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৩২