
১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:২১
ভোলায় ইতিমধ্যে ইলিশাসহ মোট যে নয়টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলোয় প্রাপ্ত গ্যাসের সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোলা দ্বীপটি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে। যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এই দ্বীপে গ্যাস অনুসন্ধান চালালে এখানকার বিভিন্ন স্থানে আরও আট টিসিএফের বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিবছর গ্যাস ব্যবহৃত হয় প্রায় এক টিসিএফ। সে হিসাবে শুধু ভোলার গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা মেটানো যাবে প্রায় ১০ বছর।
এটা যে দেশের জন্য কত বড় সুখবর, সেটা বোঝা যাবে একটি খবর থেকে—এখন দেশের এলএনজি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর আমাদের এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তার ফলে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ এলএনজি আমদানিও করতে পারছি না। সে কারণে দেশের অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অথচ ভোলার গ্যাস দেশের গ্যাস গ্রিডে আনা যাচ্ছে না পাইপলাইন না থাকার কারণে।
বছরের পর বছর ধরে জ্বালানিবিষয়ক নীতিনির্ধারকদের পরিচিত গলাবাজির বুলি ছিল, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। এটা একটা ভুল যুক্তি, কোনো বিশ্বাসযোগ্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিগত স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মুনাফাবাজিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই ২০০৯ সাল থেকে দেশের স্থলভাগ এবং বিপুল সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করা হয়েছে। ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মামলা জেতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণাধিকার (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) অর্জন করা সত্ত্বেও গত ১২ বছরে এই বিশাল সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরুই করতে পারেনি।
সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে বিগত সরকারের প্রিয়পাত্র প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই ভোলার গ্যাস এত দিনেও দেশের গ্যাস গ্রিডে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি!
অতএব মূল সমস্যাটি হলো, ভোলায় ইতিমধ্যে প্রাপ্ত গ্যাসকে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত উপায়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা যায়। ভবিষ্যতে যদি ভোলায় আরও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়, তাহলে ব্যাপারটি দেশের অর্থনীতিতে বড় এক ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।
২০২৩ সালে ১১ মে একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদে জানা গিয়েছিল, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র ও ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষত্র থেকে বরিশালের লাহারহাট পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস বরিশালে নিয়ে আসার জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব ওই সময় সরকারের পরিকল্পনা কমিশনে নাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল।
পরবর্তী সময়ে এই গ্যাস পাইপলাইন কুয়াকাটা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ-খুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা। যদি এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবায়ন ব্যয় পরবর্তী সময়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়, তারপরও এটাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিবেচনা করতে হবে। কারণ, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এক এমএমবিটিইউ ১৪ থেকে ১৬ ডলার। তাহলে ভোলার ১ দশমিক ৭৫ টিসিএফ গ্যাসের মোট মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এই ১ দশমিক ৭৫ টিসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে এই পাইপলাইন অর্থনীতির জন্য কতখানি উপকার বয়ে আনতে পারবে, সেটা কি অনুধাবন করতে পারছি?
প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি আরেক দিক থেকেও বাংলাদেশকে সুফল দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির টার্মিনালগুলো মহেশখালী-কক্সবাজার অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো বৈরিতা দেখা দিলে ভোলায় আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তবে আমার মতে, প্রস্তাবিত পাইপলাইনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যদি বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোয় গ্যাস পেয়ে যায়। তখন এলএনজির আকারে গভীর সমুদ্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পাইপলাইন সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায় হয়ে উঠবে। এমনকি এ সম্ভাবনা মাথায় রেখে পাইপলাইনের ব্যাস ৩০ ইঞ্চি থেকে আরও বাড়ানো যুক্তিসংগত বিবেচিত হতে পারে।
প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল গ্যাস পাইপলাইনটি অবিলম্বে একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা সরকারের অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। ভোলা-বরিশাল সড়কসেতু স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।
যদি এই সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাহলে সেতুর ওপর দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনই যুক্তিসংগত হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিলে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু স্থাপনের চেয়েও ভোলা-বরিশাল সেতু অনেক বেশি অগ্রাধিকার দাবি করে। মনে রাখতে হবে, ভোলায় যদি ৮ থেকে ১০ টিসিএফ গ্যাস সত্যিই আবিষ্কৃত হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু-কাম-পাইপলাইন সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।
ড. মইনুল ইসলাম অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ভোলায় ইতিমধ্যে ইলিশাসহ মোট যে নয়টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলোয় প্রাপ্ত গ্যাসের সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোলা দ্বীপটি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে। যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এই দ্বীপে গ্যাস অনুসন্ধান চালালে এখানকার বিভিন্ন স্থানে আরও আট টিসিএফের বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিবছর গ্যাস ব্যবহৃত হয় প্রায় এক টিসিএফ। সে হিসাবে শুধু ভোলার গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা মেটানো যাবে প্রায় ১০ বছর।
এটা যে দেশের জন্য কত বড় সুখবর, সেটা বোঝা যাবে একটি খবর থেকে—এখন দেশের এলএনজি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর আমাদের এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তার ফলে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ এলএনজি আমদানিও করতে পারছি না। সে কারণে দেশের অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অথচ ভোলার গ্যাস দেশের গ্যাস গ্রিডে আনা যাচ্ছে না পাইপলাইন না থাকার কারণে।
বছরের পর বছর ধরে জ্বালানিবিষয়ক নীতিনির্ধারকদের পরিচিত গলাবাজির বুলি ছিল, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। এটা একটা ভুল যুক্তি, কোনো বিশ্বাসযোগ্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিগত স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মুনাফাবাজিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই ২০০৯ সাল থেকে দেশের স্থলভাগ এবং বিপুল সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করা হয়েছে। ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মামলা জেতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণাধিকার (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) অর্জন করা সত্ত্বেও গত ১২ বছরে এই বিশাল সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরুই করতে পারেনি।
সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে বিগত সরকারের প্রিয়পাত্র প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই ভোলার গ্যাস এত দিনেও দেশের গ্যাস গ্রিডে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি!
অতএব মূল সমস্যাটি হলো, ভোলায় ইতিমধ্যে প্রাপ্ত গ্যাসকে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত উপায়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা যায়। ভবিষ্যতে যদি ভোলায় আরও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়, তাহলে ব্যাপারটি দেশের অর্থনীতিতে বড় এক ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।
২০২৩ সালে ১১ মে একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদে জানা গিয়েছিল, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র ও ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষত্র থেকে বরিশালের লাহারহাট পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস বরিশালে নিয়ে আসার জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব ওই সময় সরকারের পরিকল্পনা কমিশনে নাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল।
পরবর্তী সময়ে এই গ্যাস পাইপলাইন কুয়াকাটা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ-খুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা। যদি এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবায়ন ব্যয় পরবর্তী সময়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়, তারপরও এটাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিবেচনা করতে হবে। কারণ, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এক এমএমবিটিইউ ১৪ থেকে ১৬ ডলার। তাহলে ভোলার ১ দশমিক ৭৫ টিসিএফ গ্যাসের মোট মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এই ১ দশমিক ৭৫ টিসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে এই পাইপলাইন অর্থনীতির জন্য কতখানি উপকার বয়ে আনতে পারবে, সেটা কি অনুধাবন করতে পারছি?
প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি আরেক দিক থেকেও বাংলাদেশকে সুফল দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির টার্মিনালগুলো মহেশখালী-কক্সবাজার অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো বৈরিতা দেখা দিলে ভোলায় আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তবে আমার মতে, প্রস্তাবিত পাইপলাইনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যদি বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোয় গ্যাস পেয়ে যায়। তখন এলএনজির আকারে গভীর সমুদ্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পাইপলাইন সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায় হয়ে উঠবে। এমনকি এ সম্ভাবনা মাথায় রেখে পাইপলাইনের ব্যাস ৩০ ইঞ্চি থেকে আরও বাড়ানো যুক্তিসংগত বিবেচিত হতে পারে।
প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল গ্যাস পাইপলাইনটি অবিলম্বে একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা সরকারের অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। ভোলা-বরিশাল সড়কসেতু স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।
যদি এই সেতু স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাহলে সেতুর ওপর দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনই যুক্তিসংগত হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিলে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু স্থাপনের চেয়েও ভোলা-বরিশাল সেতু অনেক বেশি অগ্রাধিকার দাবি করে। মনে রাখতে হবে, ভোলায় যদি ৮ থেকে ১০ টিসিএফ গ্যাস সত্যিই আবিষ্কৃত হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু-কাম-পাইপলাইন সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।
ড. মইনুল ইসলাম অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৮
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৮
পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরধরে বরিশাল নগরীতে আব্দুল বারেক হাজী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর পোর্ট রোডের পিয়াজপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল বারেক হাজী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী দাঁড়িয়াল এলাকার মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে।
আটকৃতরা হলেন, শুভ, কাওছার হোসেন, সুইটি বেগম ও মাকসুদা বেগম। শুভ, কাওছার ও সুইটি ওই এলাকার ভাড়াটিয়া ইলিয়াছ হোসেনের সন্তান। মাকসুদা ইলিয়াছের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইলিয়াছ পলাতক রয়েছে। তারা সবাই পোর্ট রোড পিয়াজপট্টি এলাকার মুসলিম হাওলাদারের বাসার ভাড়াটিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে দুই ভাড়াটিয়া পরিবারের নারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতন্ডা হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরেন। একপর্যায়ে আব্দুল বারেক হাজীর ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন।
পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
এদিকে মূল অভিযুক্ত ইলিয়াছ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরধরে বরিশাল নগরীতে আব্দুল বারেক হাজী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর পোর্ট রোডের পিয়াজপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল বারেক হাজী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী দাঁড়িয়াল এলাকার মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে।
আটকৃতরা হলেন, শুভ, কাওছার হোসেন, সুইটি বেগম ও মাকসুদা বেগম। শুভ, কাওছার ও সুইটি ওই এলাকার ভাড়াটিয়া ইলিয়াছ হোসেনের সন্তান। মাকসুদা ইলিয়াছের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইলিয়াছ পলাতক রয়েছে। তারা সবাই পোর্ট রোড পিয়াজপট্টি এলাকার মুসলিম হাওলাদারের বাসার ভাড়াটিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে দুই ভাড়াটিয়া পরিবারের নারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতন্ডা হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরেন। একপর্যায়ে আব্দুল বারেক হাজীর ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন।
পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
এদিকে মূল অভিযুক্ত ইলিয়াছ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৩
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৭
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৫
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮