একসময়ের প্রবাহমান খরস্রোতা খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নাব্যতা সংকট ও দখল-দুষণের কারণে আজ মৃতপ্রায়। ফলে বিপন্ন হচ্ছে ওই খালের ওপর নির্ভরশীল কৃষিজমি, জীবন ও প্রকৃতি। খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনার জন্য ভূক্তভোগীরা অংসখ্যবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়েও কোন সুফল পায়নি।
ঐতিহ্যবাহী এ খালটির অবস্থান বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায়। এ দুই উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মোহনা হচ্ছে গৌরনদীর পালরদী নদীর টরকী বন্দর সংলগ্ন স্ব-মিল এলাকায়। টরকী বন্দর থেকে শুরু করে ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার, চেঙ্গুটিয়া গ্রাম হয়ে খালটি বয়ে গেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল বাজারের প্রধান খাল পর্যন্ত।
যেকারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি সবার কাছে টরকী-বাশাইল খাল নামে পরিচিত। এ খালের ওপর নির্ভরশীল ওইসব এলাকার হাজার-হাজার কৃষক।
ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আগৈলঝাড়া শাখার পরিবেশ কর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন-দীর্ঘদিন থেকে খাল খনন না করায় খাল ও নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে খালের প্রধান মুখ পালরদী নদী থেকে খালে পানি প্রবেশের মোহনা উঁচু হয়ে যাওয়ায় এখন আর খালে পানি প্রবেশ করছে না।
পাশাপাশি খালের বিভিন্নস্থানে বাঁধ নির্মান, অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ, খালের জায়গা দখল করে কাঁচা পাকা স্থাপনা নির্মাণ, নির্বিচারে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে খরস্রোতা খালটি আজ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যার প্রভাব পরছে খালের পাশ্ববর্তী ফসলি জমিসহ জীবন ও প্রকৃতির ওপর।
তিনি আরও জানিয়েছেন, টরকী-বাশাইল খালটি একসময় এতদাঞ্চলের প্রধান চলাচলের নৌ-পথ ছিলো। কালের বির্বতনে রাস্তা পাকা হওয়ায় সড়ক পথে যোগাযোগের জনপ্রিয়তা বাড়লেও দীর্ঘদিন থেকে খালটি সংস্কার করা হয়নি। যেকারণে খালটি ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে খালটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। বোরো মৌসুমে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের পানি সেচের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরোধান আবাদ। ওইসময় পালরদী নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি উত্তোলন করায় চাষীদের বোরো আবাদে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন থেকে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন-টরকী-বাশাইল খালে মূলত আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদী থেকে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে পানি প্রবেশ করেনা।
যার স্থায়ী সমাধান খাল খননের মাধ্যমে নদী ও খালের নাব্যতা সমন্বয় করা। কিন্তু সেটি না করে নদী ও খালের পানি প্রবেশের মুখে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম সেচ পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে খালে পানি উঠানো হয়। ইজারার মাধ্যমে বিভিন্ন বোরো ব্লকের
ম্যানেজারগণ সেচ প্রকল্প পরিচালনা করেন। যেকারণে সেচ প্রকল্পের এই পানি কয়েক হাত বদল হয়ে কৃষকদের উচ্চমূল্যে ক্রয় করতে হয়।
ফলে অধিকাংশ চাষীরা ধানচাষে আগ্রহ হারিয়ে বিকল্প হিসেবে বোরো জমিতে পান চাষ ও মাছের ঘের করেছেন। যে কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ধান চাষের জমির পরিমান। এছাড়াও খালের নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে টইটুম্বুর হওয়ায় তলিয়ে যায় পানের বরজ ও মাছের ঘের।
অসংখ্য চাষীরা জানিয়েছেন-প্রতি ২০ শতক জমি চাষ করতে পানি সেচ বাবদ তিন শতক জমির ধান দিতে হয় ব্লক ম্যানেজারকে। বাজারে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জমি চাষাবাদ থেকে ফিরে আসছেন।
ফলে প্রতিবছরই অনাবাদি জমির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে-এ খালের ওপর নির্ভর করে অতীতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী মানুষ তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ খালে পাওয়া যেতো শতেক প্রজাতির দেশীর মাছ। স্রোতহীন খালটি আজ খননের অভাবে মরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালটি স্রোতহীন হয়ে পড়াতে বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে ম্যালেরিয়া, এডিশ মশাসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু। যা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
সাবেক ইউপি সদস্য ছাদের আলী সরদার বলেন-আমাদের শৈশবে খালটিতে এতো পরিমাণ স্রোত ছিল যে, আমরা সাঁতরে এপাড় থেকে ওপাড়ে যেতে পারতাম না। এ খাল থেকে মাছ ধরেই আমরা আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করতাম। কিন্তু খালটি খননের অভাবে আজ মৃত প্রায় অবস্থায় থাকার কারণে দেশীয় মাছ যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, তেমনি পানির অভাবে হাজার-হাজার কৃষকরা আজ ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। যেকারণে অনাবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন-জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অসংখ্যবার ধর্না দিয়েও কোন সুফল মেলেনি। গতবছর বোরো মৌসুমের পূর্বে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর খালটি খননের জন্য আবেদন করা সত্বেও অদ্যবর্ধি কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তার কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না কোন কর্মকর্তা।
কৃষি নির্ভর এ জনপদের প্রান্তিক চাষী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ জনগুরুত্বপূর্ণ খালটিকে দখল ও দূষণমুক্তর কবল থেকে রক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে খননের মাধ্যমে নাব্যতা সংকট দূর করে পানি প্রবাহ নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন-আমরা সেচ কাজে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে থাকি। শীতকালে যখন ধান লাগানো হয় তখন সেচ কাজে পানি প্রয়োজন হয়। কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারি তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন-সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাঁপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদী খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনরায় খনন করা হলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। এই খাল খননের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, অপরদিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন-বরিশালের অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খননের ব্যাপারে ইতোমধ্যে সংশ্লিস্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এসব খাল খননের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:৪৭
একসময়ের প্রবাহমান খরস্রোতা খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নাব্যতা সংকট ও দখল-দুষণের কারণে আজ মৃতপ্রায়। ফলে বিপন্ন হচ্ছে ওই খালের ওপর নির্ভরশীল কৃষিজমি, জীবন ও প্রকৃতি। খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনার জন্য ভূক্তভোগীরা অংসখ্যবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়েও কোন সুফল পায়নি।
ঐতিহ্যবাহী এ খালটির অবস্থান বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায়। এ দুই উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মোহনা হচ্ছে গৌরনদীর পালরদী নদীর টরকী বন্দর সংলগ্ন স্ব-মিল এলাকায়। টরকী বন্দর থেকে শুরু করে ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার, চেঙ্গুটিয়া গ্রাম হয়ে খালটি বয়ে গেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল বাজারের প্রধান খাল পর্যন্ত।
যেকারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি সবার কাছে টরকী-বাশাইল খাল নামে পরিচিত। এ খালের ওপর নির্ভরশীল ওইসব এলাকার হাজার-হাজার কৃষক।
ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আগৈলঝাড়া শাখার পরিবেশ কর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন-দীর্ঘদিন থেকে খাল খনন না করায় খাল ও নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে খালের প্রধান মুখ পালরদী নদী থেকে খালে পানি প্রবেশের মোহনা উঁচু হয়ে যাওয়ায় এখন আর খালে পানি প্রবেশ করছে না।
পাশাপাশি খালের বিভিন্নস্থানে বাঁধ নির্মান, অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ, খালের জায়গা দখল করে কাঁচা পাকা স্থাপনা নির্মাণ, নির্বিচারে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে খরস্রোতা খালটি আজ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যার প্রভাব পরছে খালের পাশ্ববর্তী ফসলি জমিসহ জীবন ও প্রকৃতির ওপর।
তিনি আরও জানিয়েছেন, টরকী-বাশাইল খালটি একসময় এতদাঞ্চলের প্রধান চলাচলের নৌ-পথ ছিলো। কালের বির্বতনে রাস্তা পাকা হওয়ায় সড়ক পথে যোগাযোগের জনপ্রিয়তা বাড়লেও দীর্ঘদিন থেকে খালটি সংস্কার করা হয়নি। যেকারণে খালটি ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে খালটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। বোরো মৌসুমে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের পানি সেচের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরোধান আবাদ। ওইসময় পালরদী নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি উত্তোলন করায় চাষীদের বোরো আবাদে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন থেকে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন-টরকী-বাশাইল খালে মূলত আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদী থেকে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে পানি প্রবেশ করেনা।
যার স্থায়ী সমাধান খাল খননের মাধ্যমে নদী ও খালের নাব্যতা সমন্বয় করা। কিন্তু সেটি না করে নদী ও খালের পানি প্রবেশের মুখে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম সেচ পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে খালে পানি উঠানো হয়। ইজারার মাধ্যমে বিভিন্ন বোরো ব্লকের
ম্যানেজারগণ সেচ প্রকল্প পরিচালনা করেন। যেকারণে সেচ প্রকল্পের এই পানি কয়েক হাত বদল হয়ে কৃষকদের উচ্চমূল্যে ক্রয় করতে হয়।
ফলে অধিকাংশ চাষীরা ধানচাষে আগ্রহ হারিয়ে বিকল্প হিসেবে বোরো জমিতে পান চাষ ও মাছের ঘের করেছেন। যে কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ধান চাষের জমির পরিমান। এছাড়াও খালের নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে টইটুম্বুর হওয়ায় তলিয়ে যায় পানের বরজ ও মাছের ঘের।
অসংখ্য চাষীরা জানিয়েছেন-প্রতি ২০ শতক জমি চাষ করতে পানি সেচ বাবদ তিন শতক জমির ধান দিতে হয় ব্লক ম্যানেজারকে। বাজারে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জমি চাষাবাদ থেকে ফিরে আসছেন।
ফলে প্রতিবছরই অনাবাদি জমির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে-এ খালের ওপর নির্ভর করে অতীতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী মানুষ তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ খালে পাওয়া যেতো শতেক প্রজাতির দেশীর মাছ। স্রোতহীন খালটি আজ খননের অভাবে মরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালটি স্রোতহীন হয়ে পড়াতে বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে ম্যালেরিয়া, এডিশ মশাসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু। যা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
সাবেক ইউপি সদস্য ছাদের আলী সরদার বলেন-আমাদের শৈশবে খালটিতে এতো পরিমাণ স্রোত ছিল যে, আমরা সাঁতরে এপাড় থেকে ওপাড়ে যেতে পারতাম না। এ খাল থেকে মাছ ধরেই আমরা আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করতাম। কিন্তু খালটি খননের অভাবে আজ মৃত প্রায় অবস্থায় থাকার কারণে দেশীয় মাছ যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, তেমনি পানির অভাবে হাজার-হাজার কৃষকরা আজ ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। যেকারণে অনাবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন-জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি খনন করে পুরনো যৌবণে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অসংখ্যবার ধর্না দিয়েও কোন সুফল মেলেনি। গতবছর বোরো মৌসুমের পূর্বে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর খালটি খননের জন্য আবেদন করা সত্বেও অদ্যবর্ধি কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তার কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না কোন কর্মকর্তা।
কৃষি নির্ভর এ জনপদের প্রান্তিক চাষী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ জনগুরুত্বপূর্ণ খালটিকে দখল ও দূষণমুক্তর কবল থেকে রক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে খননের মাধ্যমে নাব্যতা সংকট দূর করে পানি প্রবাহ নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন-আমরা সেচ কাজে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে থাকি। শীতকালে যখন ধান লাগানো হয় তখন সেচ কাজে পানি প্রয়োজন হয়। কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারি তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন-সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাঁপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদী খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনরায় খনন করা হলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। এই খাল খননের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, অপরদিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন-বরিশালের অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খননের ব্যাপারে ইতোমধ্যে সংশ্লিস্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এসব খাল খননের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪