জমি কেনার বায়না টাকা ফেরত নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কুটচালে বিপাকে পরেছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার।
স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট থেকে জোরপূর্বক ৩০ লক্ষ টাকার চেক হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভাইরাল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন তার প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিস্কার করলেন অভিযোগাকারীর পিতা মোস্তফা আকন।
গত রবিবার (৩১ আগষ্ট) কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদল নেতা নেছার উদ্দিন হাওলাদার এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৩০ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক জোরপূর্বক হাতিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু ছবি ও একটি ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন একটি পক্ষ। কিন্তু প্রেরিত ছবিতে কিছু অসংগতি এবং ভিডিও ক্লিপে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীর কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি অভিযোগকারী হালিম আকনকে চেকটি উদ্ধার করতে চাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাওয়ার পর হালিম আকনের বক্তব্য না পেয়ে অনেক সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী বলেন, ‘ভিডিও ধারণ করার সময় আমি পাশে থেকে হালিমের অভিযোগ শুনছিলাম। আমি কাউকে ভিডিও সরবরাহ করিনি।
কে বা কারা ভিডিও ও ছবি সরবরাহ করেছেন তা আমার জানা নেই।’ নেছার উদ্দিন জানান, তিনি ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেএল ৩৪নং লতাচাপলী মৌজার এসএ ২১০৬ নং খতিয়ানের ৩৬৫৫ নং দাগ এবং বিএস ৪৩৯ নং খতিয়ানের ৪১০৬ নং দাগের অংশ থেকে ০.১৫ একর জমি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। এরপর বিভিন্ন তারিখে ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে একশত টাকা মূল্যমানের তিনখানা ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বায়না চুক্তিপত্র দলিল সম্পাদন করা হয়।
পরবর্তীতে ওই জমি বেশি মূল্যে দাতা মোস্তফা আকন অন্যত্র বিক্রয় করেন। বিষয়টি নেছার উদ্দিন জানতে চাইলে তাকে নগদ ৫ লাখ টাকা ফেরৎ দেন এবং মোস্তফা আকনের পুত্র আব্দুল হালিম আকনের নামীয় একটি ব্যাংক চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে জমি বিক্রয়ের টাকা নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে হালিম আকন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে একটি আবেদন জমা দেন।
যাতে ছাত্রদল নেতা টাকা উত্তোলন করতে না পারেন। ব্যাংকে আবেদন করার বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদল নেতার প্রতিপক্ষরা হালিম আকনকে ব্যবহার করে একটি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সরবরাহ করেন।
ছাত্রদল নেতা বিষয়টি টের পেয়ে মোস্তফা আকনকে জানালে তিনি ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে দেন এবং হালিম আকনের চেকটি ফেরৎ নেন। এখনো নেছার উদ্দিন ৩ লাখ টাকা পাওনা আছেন।
এ বক্তব্য সাংবাদিকদের দেয়ার সময় মোস্তফা আকন পাশে বসা ছিলেন। ছাত্রদল নেতার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, ‘নেছার উদ্দিন আমাদের কাছে জমির টাকা পাবে, তার প্রেক্ষিতে চেক দেওয়া হয়েছে, জোরপূর্বক নেয়নি। আমার ছেলে হালিমকে কেউ ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করিয়েছেন। নেছারের সঙ্গে আমাদের দেনা-পাওনার বিষয় সমাধান হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের পরিবারের কোন অভিযোগ নেই’ নেছার উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল হালিম আকনকে জোরপূর্বক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা স্টেটমেন্ট নিয়ে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেছেন। এমনকি আমার নামে কয়েকটি পত্রিকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিকল্পিত। এতে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলন তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে আব্দুল হালিম আকনের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার ব্যবহৃত মুঠোফোন গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিনের সাথে মোস্তফা আকনের জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেন ছিলো। আমার জানামতে ইতোমধ্যে তা সমাধান হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছিলো তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কোন অন্যায় করলে মূল দলের নেতারা তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন। এ নিয়ে অপরাজনীতির কোন সুযোগ নেই।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী। একই সঙ্গে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকী বলেন, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী। একই সঙ্গে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকী বলেন, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৪:০১
জমি কেনার বায়না টাকা ফেরত নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কুটচালে বিপাকে পরেছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার।
স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট থেকে জোরপূর্বক ৩০ লক্ষ টাকার চেক হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভাইরাল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন তার প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিস্কার করলেন অভিযোগাকারীর পিতা মোস্তফা আকন।
গত রবিবার (৩১ আগষ্ট) কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদল নেতা নেছার উদ্দিন হাওলাদার এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৩০ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক জোরপূর্বক হাতিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু ছবি ও একটি ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন একটি পক্ষ। কিন্তু প্রেরিত ছবিতে কিছু অসংগতি এবং ভিডিও ক্লিপে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীর কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি অভিযোগকারী হালিম আকনকে চেকটি উদ্ধার করতে চাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাওয়ার পর হালিম আকনের বক্তব্য না পেয়ে অনেক সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী বলেন, ‘ভিডিও ধারণ করার সময় আমি পাশে থেকে হালিমের অভিযোগ শুনছিলাম। আমি কাউকে ভিডিও সরবরাহ করিনি।
কে বা কারা ভিডিও ও ছবি সরবরাহ করেছেন তা আমার জানা নেই।’ নেছার উদ্দিন জানান, তিনি ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেএল ৩৪নং লতাচাপলী মৌজার এসএ ২১০৬ নং খতিয়ানের ৩৬৫৫ নং দাগ এবং বিএস ৪৩৯ নং খতিয়ানের ৪১০৬ নং দাগের অংশ থেকে ০.১৫ একর জমি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। এরপর বিভিন্ন তারিখে ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে একশত টাকা মূল্যমানের তিনখানা ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বায়না চুক্তিপত্র দলিল সম্পাদন করা হয়।
পরবর্তীতে ওই জমি বেশি মূল্যে দাতা মোস্তফা আকন অন্যত্র বিক্রয় করেন। বিষয়টি নেছার উদ্দিন জানতে চাইলে তাকে নগদ ৫ লাখ টাকা ফেরৎ দেন এবং মোস্তফা আকনের পুত্র আব্দুল হালিম আকনের নামীয় একটি ব্যাংক চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে জমি বিক্রয়ের টাকা নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে হালিম আকন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে একটি আবেদন জমা দেন।
যাতে ছাত্রদল নেতা টাকা উত্তোলন করতে না পারেন। ব্যাংকে আবেদন করার বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদল নেতার প্রতিপক্ষরা হালিম আকনকে ব্যবহার করে একটি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সরবরাহ করেন।
ছাত্রদল নেতা বিষয়টি টের পেয়ে মোস্তফা আকনকে জানালে তিনি ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে দেন এবং হালিম আকনের চেকটি ফেরৎ নেন। এখনো নেছার উদ্দিন ৩ লাখ টাকা পাওনা আছেন।
এ বক্তব্য সাংবাদিকদের দেয়ার সময় মোস্তফা আকন পাশে বসা ছিলেন। ছাত্রদল নেতার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, ‘নেছার উদ্দিন আমাদের কাছে জমির টাকা পাবে, তার প্রেক্ষিতে চেক দেওয়া হয়েছে, জোরপূর্বক নেয়নি। আমার ছেলে হালিমকে কেউ ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করিয়েছেন। নেছারের সঙ্গে আমাদের দেনা-পাওনার বিষয় সমাধান হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের পরিবারের কোন অভিযোগ নেই’ নেছার উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল হালিম আকনকে জোরপূর্বক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা স্টেটমেন্ট নিয়ে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেছেন। এমনকি আমার নামে কয়েকটি পত্রিকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিকল্পিত। এতে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলন তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে আব্দুল হালিম আকনের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার ব্যবহৃত মুঠোফোন গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নেছার উদ্দিনের সাথে মোস্তফা আকনের জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেন ছিলো। আমার জানামতে ইতোমধ্যে তা সমাধান হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছিলো তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কোন অন্যায় করলে মূল দলের নেতারা তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন। এ নিয়ে অপরাজনীতির কোন সুযোগ নেই।
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭