
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৩
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করায় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে।
সোমবার বিকেল থেকে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী ও শ্রীপুর এলাকার সড়ক ও মহাসড়কে শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার চাপে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেমায়েতপুর, আশুলিয়া, বিশমাইল, নবীনগর, বাইপাইল, টঙ্গী ও শ্রীপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের দীর্ঘ সারি। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ছুটি উপলক্ষে এ যাত্রা অনেকটাই ঈদের সময়ের ভিড়ের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত যাত্রী চাপের সুযোগে কিছু পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তবুও ভোটের আগে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার তাগিদেই তারা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন বলে জানান।
একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক শিল্পাঞ্চল ছাড়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বাইপাইল-চন্দ্রা, টঙ্গী স্টেশন রোড ও শ্রীপুর সংযোগ সড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও পণ্যবাহী যানচালকেরা।
যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তারা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ছুটির শেষ দিনগুলোতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না থাকলে শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে যানজটের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করায় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে।
সোমবার বিকেল থেকে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী ও শ্রীপুর এলাকার সড়ক ও মহাসড়কে শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার চাপে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেমায়েতপুর, আশুলিয়া, বিশমাইল, নবীনগর, বাইপাইল, টঙ্গী ও শ্রীপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের দীর্ঘ সারি। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ছুটি উপলক্ষে এ যাত্রা অনেকটাই ঈদের সময়ের ভিড়ের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত যাত্রী চাপের সুযোগে কিছু পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তবুও ভোটের আগে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার তাগিদেই তারা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন বলে জানান।
একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক শিল্পাঞ্চল ছাড়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বাইপাইল-চন্দ্রা, টঙ্গী স্টেশন রোড ও শ্রীপুর সংযোগ সড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও পণ্যবাহী যানচালকেরা।
যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তারা সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ছুটির শেষ দিনগুলোতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না থাকলে শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে যানজটের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০২
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ৮২ ঘণ্টার জন্য যেকোনো ব্যক্তির নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশের সব জেলায় চিঠি পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ৮২ ঘণ্টার জন্য যেকোনো ব্যক্তির নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশের সব জেলায় চিঠি পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৬
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।
প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।
প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪১
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে যান চলাচলে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোটকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চলাচল টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সেই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।
তবে জরুরি সেবা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজ, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, সংবাদপত্র পরিবহনসহ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন বা স্থানীয় পর্যায়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যান চলাচলেও এই বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা অনুমতি ও স্টিকার সাপেক্ষে একটি ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও অনুমোদন নিয়ে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখার স্বার্থে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকেও জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে যান চলাচলে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোটকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চলাচল টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সেই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।
তবে জরুরি সেবা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজ, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, সংবাদপত্র পরিবহনসহ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন বা স্থানীয় পর্যায়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যান চলাচলেও এই বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা অনুমতি ও স্টিকার সাপেক্ষে একটি ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও অনুমোদন নিয়ে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখার স্বার্থে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকেও জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৩৯
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২০
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৫
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৩