
০৭ মে, ২০২৬ ১৮:০৭
বরিশালের উজিরপুরে কলেজছাত্রী সানজিদা কবির আনিতা (২১) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার প্রেমিক মো. মাইনুল ইসলাম হিমুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৮। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার ইছলাদী টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হিমু ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাঠপট্টি এলাকার মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ জিলানীর ছেলে। তিনি বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোড এলাকার রাফি মঞ্জিলের ছয়তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
র্যাব-৮ সূত্র জানায়, নিহত আনিতার সঙ্গে হিমুর প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ এপ্রিল সকালে আনিতা বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, আনিতা বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুলের বিপরীত পাশের গলিতে হিমুর ভাড়া বাসায় রয়েছেন। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা খাটের ওপর আনিতার মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনার পর নিহতের বোন বাদি হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত হিমু আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইছলাদী টোল প্লাজা এলাকা থেকে হিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশালের উজিরপুরে কলেজছাত্রী সানজিদা কবির আনিতা (২১) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার প্রেমিক মো. মাইনুল ইসলাম হিমুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৮। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার ইছলাদী টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হিমু ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাঠপট্টি এলাকার মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ জিলানীর ছেলে। তিনি বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোড এলাকার রাফি মঞ্জিলের ছয়তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
র্যাব-৮ সূত্র জানায়, নিহত আনিতার সঙ্গে হিমুর প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ এপ্রিল সকালে আনিতা বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, আনিতা বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুলের বিপরীত পাশের গলিতে হিমুর ভাড়া বাসায় রয়েছেন। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা খাটের ওপর আনিতার মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনার পর নিহতের বোন বাদি হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত হিমু আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইছলাদী টোল প্লাজা এলাকা থেকে হিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৮ মে, ২০২৬ ১৬:৩২
ভালোবাসার টানে সব বাধা পেরিয়ে প্রেমিককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন এক হিন্দু তরুণী। পরিবারের আপত্তি, সামাজিক নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন তিনি।
জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বশির সরদারের ছেলে মো: তামিম হাসান ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম ফলাঘরের প্রদীপ চন্দ্র সাহার মেয়ে প্রিয়ন্তী রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাদের মধ্যে ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে পরিবারকে না জানিয়ে দুজনই পালিয়ে যায়। পরে ওই তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নামে পরিচিত হন জান্নাতি ইসলম নামে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে গত ৩ মে ২ লক্ষ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে সেই বিয়ের পরে বাসর ঘরের পরিবর্তে প্রেমিক তামিমের ঠাই হয়েছে জেল হাজতে। দুজনে পালিয়ে যাওয়ার পরে এই ঘটনায় তরুণী জান্নাতী ইসলামের পরিবার বাকেরগঞ্জ থানা একটি সাধারণ ডায়রি করলে গত বৃহস্পতিবার ওই তরুন তরুণীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তামিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আর ওই তরুণী জান্নাতি ইসলামকে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে
আলামত সংগ্রহের জন্য। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ তাদের ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নবদম্পতির দাবি ছিল তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই ঘটনায় প্রেমিক মো: তামিম হাসানের পিতা : বশির সরদার জানান, ছেলে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি আমি যখন জানতে পারি তখন মেয়ের পরিবারকে আমি ঘটনাটি জানিয়েছি। আমিও কখনো চাইনি আমার ছেলে এভাবে পালিয়ে বিয়ে করুক। ছেলে মেয়ে উভয় প্রাপ্তবয়স্ক শুনেছি তারা নাকি বিয়েও করেছে। তবে এখন শুনতে পাচ্ছি পুলিশ গ্রেপ্তারের পরে আমার ছেলের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা করা হয়েছে। এখানে কোন অপহরণের ঘটনাই ঘটেনি। এই ধরনের মামলা আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্যই করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তরুণীর পরিবার জানান, আমার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হিন্দু থেকে মুসলমান করা হয়েছে। তাকে অপহরণ করে নেয়া হয়েছিল এজন্য আমরা মামলা দিয়েছি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের পর নবদম্পতি সুখে-শান্তিতে সংসার করার কথা থাকলেও এই ঘটনাটি মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। তারা উল্টো ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পাঠিয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: আদিল হোসেন জানান, থানায় সাধারণ ডায়রি হওয়ার পরে তরুণ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই তরুণীর পরিবার ছেলেটির বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানা একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। এখন বিষয়টি আদালত দেখবে।
ভালোবাসার টানে সব বাধা পেরিয়ে প্রেমিককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন এক হিন্দু তরুণী। পরিবারের আপত্তি, সামাজিক নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন তিনি।
জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বশির সরদারের ছেলে মো: তামিম হাসান ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম ফলাঘরের প্রদীপ চন্দ্র সাহার মেয়ে প্রিয়ন্তী রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাদের মধ্যে ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে পরিবারকে না জানিয়ে দুজনই পালিয়ে যায়। পরে ওই তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নামে পরিচিত হন জান্নাতি ইসলম নামে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে গত ৩ মে ২ লক্ষ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে সেই বিয়ের পরে বাসর ঘরের পরিবর্তে প্রেমিক তামিমের ঠাই হয়েছে জেল হাজতে। দুজনে পালিয়ে যাওয়ার পরে এই ঘটনায় তরুণী জান্নাতী ইসলামের পরিবার বাকেরগঞ্জ থানা একটি সাধারণ ডায়রি করলে গত বৃহস্পতিবার ওই তরুন তরুণীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তামিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আর ওই তরুণী জান্নাতি ইসলামকে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে
আলামত সংগ্রহের জন্য। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ তাদের ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নবদম্পতির দাবি ছিল তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই ঘটনায় প্রেমিক মো: তামিম হাসানের পিতা : বশির সরদার জানান, ছেলে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি আমি যখন জানতে পারি তখন মেয়ের পরিবারকে আমি ঘটনাটি জানিয়েছি। আমিও কখনো চাইনি আমার ছেলে এভাবে পালিয়ে বিয়ে করুক। ছেলে মেয়ে উভয় প্রাপ্তবয়স্ক শুনেছি তারা নাকি বিয়েও করেছে। তবে এখন শুনতে পাচ্ছি পুলিশ গ্রেপ্তারের পরে আমার ছেলের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা করা হয়েছে। এখানে কোন অপহরণের ঘটনাই ঘটেনি। এই ধরনের মামলা আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্যই করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তরুণীর পরিবার জানান, আমার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হিন্দু থেকে মুসলমান করা হয়েছে। তাকে অপহরণ করে নেয়া হয়েছিল এজন্য আমরা মামলা দিয়েছি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের পর নবদম্পতি সুখে-শান্তিতে সংসার করার কথা থাকলেও এই ঘটনাটি মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। তারা উল্টো ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পাঠিয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: আদিল হোসেন জানান, থানায় সাধারণ ডায়রি হওয়ার পরে তরুণ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই তরুণীর পরিবার ছেলেটির বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানা একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। এখন বিষয়টি আদালত দেখবে।

০৭ মে, ২০২৬ ১৮:৫৪
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, আমরা কাঁদতে দাঁড়াইনি, বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি। বিচার নিয়েই ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, যে হাদি ৫৬ হাজার বর্গমাইল হেঁটে ইনসাফের জাল বুনতে চেয়েছিল, তার ইনসাফ কোথায়? মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “দেশের ১৬ কোটি মানুষ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চায়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।”
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি বিচার চাইত, তাহলে বারবার তদন্ত পেছানো হতো না। ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী মুরসালীন কামাল বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে ইনসাফের বার্তা বহনকারী হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, আমরা কাঁদতে দাঁড়াইনি, বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি। বিচার নিয়েই ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, যে হাদি ৫৬ হাজার বর্গমাইল হেঁটে ইনসাফের জাল বুনতে চেয়েছিল, তার ইনসাফ কোথায়? মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “দেশের ১৬ কোটি মানুষ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চায়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।”
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি বিচার চাইত, তাহলে বারবার তদন্ত পেছানো হতো না। ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী মুরসালীন কামাল বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে ইনসাফের বার্তা বহনকারী হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

০৭ মে, ২০২৬ ১২:৩৪
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
০৮ মে, ২০২৬ ১৬:৩২
০৮ মে, ২০২৬ ১৬:৩০
০৮ মে, ২০২৬ ১৪:৪৫
০৮ মে, ২০২৬ ১৪:৩৪