এবারের নির্বাচনে আলেমদের মধ্যে একসঙ্গে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একমাত্র মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির। শায়খে চরমোনাই হিসেবে পরিচিত। নিজ এলাকা বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে তিনি হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুটি আসনেই তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকায় রয়েছেন।
শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটে ছিল। মূলত এই জোটের উদ্যোক্তা ছিল ইসলামী আন্দোলন। আট দল মিলে বিভাগীয় সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে। তবে শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইসলামী আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ২৬০টি আসনে এককভাবেই লড়াই করছে ইসলামী আন্দোলন। দলটি যেসব আসন নিয়ে স্বপ্ন দেখছে এর মধ্যে শায়খে চরমোনাইয়ের দুটি আসনও রয়েছে। দুটি আসনেই জয় পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ইসলামী আন্দোলন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনেই চরমোনাই দরবার অবস্থিত। আসনটি চরমোনাই পীরের নিজের আসন হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনেই এই আসনে চরমোনাই পীর পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ একটা ভোটব্যাংকও আছে ইসলামী আন্দোলনের। মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমও এই আসনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে তিনি আলোচিত হন ২০২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির বর্জন করা সেই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন শায়খে চরমোনাই। অনেকের ধারণা ছিল, সরকারবিরোধী জোয়ারের মধ্যে তিনি মেয়র পদে বাজিমাত করবেন। তবে ভোটের দিন ব্যাপক কারচুপির পাশাপাশি তার ওপর সরাসরি হামলা করা হয়। তার রক্তাক্ত ছবি সেই সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল দেশজুড়ে।
শায়খে চরমোনাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মূল আসন হলো বরিশাল-৫। সিটি করপোরেশন ও কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে গত তিনটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ২০১৮ সালের রাতের ভোট হিসেবে পরিচিত নির্বাচনেও এখানে হাতপাখার প্রার্থী ছিলেন শায়খে চরমোনাই। তবে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নগ্ন হস্তক্ষেপের সামনে কেউই পাত্তা পায়নি। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আসনটি ঘিরে নতুন হিসাব-নিকাশ সামনে আসছে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট ভেঙে গেলেও এই আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দিয়েছে দলটি। এখানে জামায়াত বা ১১ দলীয় জোটের কোনো প্রার্থী রাখা হয়নি। ফলে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির মজিবুর রহমান সরওয়ারের সঙ্গে শায়খে চরমোনাইয়ের। কোনো কোনো সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও সমানে সমানে ইসলামী আন্দোলনও। এখানে দলটির একটি শক্ত অবস্থান আছে। একটি বড় ভোটব্যাংকও রয়েছে। তাছাড়া ইসলামি অন্য কোনো দলের প্রার্থী না থাকা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে বাড়তি সুবিধা এনে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়াও দলটির প্রতি অনেককে ক্ষেপিয়ে তুলছে। সেই সুবিধা এখানে শায়খে চরমোনাই পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত মজিবুর রহমান সরওয়ারের মতো হেভিওয়েট প্রাথীকে পরাজিত করে রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারেন শায়খে চরমোনাই।
যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের হানা দেওয়া কঠিন হবে। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাহ্যিকভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও দলটি শেষ পর্যন্ত তাদের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলটির জয় চাইবে সেটা নিয়েও আছে সন্দেহ। সবমিলিয়েই এই আসনে শায়খে চরমোনাইয়ের জন্য উত্তরণ কঠিন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদরের সঙ্গে লাগোয়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শায়খে চরমোনাই। এখানেও তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। বরিশাল-৫ আসনে শায়খে চরমোনাইয়ের সম্মানে প্রার্থী সরিয়ে নিলেও এই আসনে জামায়াত প্রার্থিতায় রয়েছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী। যদিও এখানে জামায়াতের ভোটের পরিমাণ কম বলে মনে করা হয়। ফলে এই আসনে বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শায়খে চরমোনাইয়েরই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে একসঙ্গে দুটি আসনে প্রার্থী হওয়া মুফতি ফয়জুল করীম সম্ভাবনার দিক থেকে কোন আসনে এগিয়ে আছেন সেটা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে দলটি দুটি আসনেই জয়ের আশা করছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দুটি আসনেই সম্ভাবনার পাশাপাশি শঙ্কাও দেখছেন। বিজয়ী হয়ে সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনায় থাকা বিএনপির প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন তারা।

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৪
এবারের নির্বাচনে আলেমদের মধ্যে একসঙ্গে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একমাত্র মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির। শায়খে চরমোনাই হিসেবে পরিচিত। নিজ এলাকা বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে তিনি হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুটি আসনেই তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকায় রয়েছেন।
শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটে ছিল। মূলত এই জোটের উদ্যোক্তা ছিল ইসলামী আন্দোলন। আট দল মিলে বিভাগীয় সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে। তবে শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইসলামী আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ২৬০টি আসনে এককভাবেই লড়াই করছে ইসলামী আন্দোলন। দলটি যেসব আসন নিয়ে স্বপ্ন দেখছে এর মধ্যে শায়খে চরমোনাইয়ের দুটি আসনও রয়েছে। দুটি আসনেই জয় পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ইসলামী আন্দোলন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনেই চরমোনাই দরবার অবস্থিত। আসনটি চরমোনাই পীরের নিজের আসন হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনেই এই আসনে চরমোনাই পীর পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ একটা ভোটব্যাংকও আছে ইসলামী আন্দোলনের। মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমও এই আসনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে তিনি আলোচিত হন ২০২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির বর্জন করা সেই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন শায়খে চরমোনাই। অনেকের ধারণা ছিল, সরকারবিরোধী জোয়ারের মধ্যে তিনি মেয়র পদে বাজিমাত করবেন। তবে ভোটের দিন ব্যাপক কারচুপির পাশাপাশি তার ওপর সরাসরি হামলা করা হয়। তার রক্তাক্ত ছবি সেই সময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল দেশজুড়ে।
শায়খে চরমোনাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মূল আসন হলো বরিশাল-৫। সিটি করপোরেশন ও কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে গত তিনটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ২০১৮ সালের রাতের ভোট হিসেবে পরিচিত নির্বাচনেও এখানে হাতপাখার প্রার্থী ছিলেন শায়খে চরমোনাই। তবে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নগ্ন হস্তক্ষেপের সামনে কেউই পাত্তা পায়নি। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আসনটি ঘিরে নতুন হিসাব-নিকাশ সামনে আসছে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট ভেঙে গেলেও এই আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দিয়েছে দলটি। এখানে জামায়াত বা ১১ দলীয় জোটের কোনো প্রার্থী রাখা হয়নি। ফলে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির মজিবুর রহমান সরওয়ারের সঙ্গে শায়খে চরমোনাইয়ের। কোনো কোনো সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও সমানে সমানে ইসলামী আন্দোলনও। এখানে দলটির একটি শক্ত অবস্থান আছে। একটি বড় ভোটব্যাংকও রয়েছে। তাছাড়া ইসলামি অন্য কোনো দলের প্রার্থী না থাকা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে বাড়তি সুবিধা এনে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়াও দলটির প্রতি অনেককে ক্ষেপিয়ে তুলছে। সেই সুবিধা এখানে শায়খে চরমোনাই পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত মজিবুর রহমান সরওয়ারের মতো হেভিওয়েট প্রাথীকে পরাজিত করে রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারেন শায়খে চরমোনাই।
যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের হানা দেওয়া কঠিন হবে। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাহ্যিকভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও দলটি শেষ পর্যন্ত তাদের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলটির জয় চাইবে সেটা নিয়েও আছে সন্দেহ। সবমিলিয়েই এই আসনে শায়খে চরমোনাইয়ের জন্য উত্তরণ কঠিন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদরের সঙ্গে লাগোয়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শায়খে চরমোনাই। এখানেও তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। বরিশাল-৫ আসনে শায়খে চরমোনাইয়ের সম্মানে প্রার্থী সরিয়ে নিলেও এই আসনে জামায়াত প্রার্থিতায় রয়েছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী। যদিও এখানে জামায়াতের ভোটের পরিমাণ কম বলে মনে করা হয়। ফলে এই আসনে বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শায়খে চরমোনাইয়েরই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে একসঙ্গে দুটি আসনে প্রার্থী হওয়া মুফতি ফয়জুল করীম সম্ভাবনার দিক থেকে কোন আসনে এগিয়ে আছেন সেটা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে দলটি দুটি আসনেই জয়ের আশা করছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দুটি আসনেই সম্ভাবনার পাশাপাশি শঙ্কাও দেখছেন। বিজয়ী হয়ে সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনায় থাকা বিএনপির প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন তারা।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১২