৫৬ মিনিট আগের আপডেট রাত ১:৫৬ ; মঙ্গলবার ; ডিসেম্বর ৬, ২০২২
EN Download App
Youtube google+ twitter facebook
×

বরিশাল-ভোলার তরমুজে সয়লাব রাজশাহীর বাজার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৬:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৮

রাজশাহীতে এ বছর তরমুজ চাষ হয়নি। তবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মৌসুমি এই রাসালো ফল। ফলের দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে তরমুজ। রকমভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কৃষি অফিস বলছে- এক সময় বরেন্দ্রখ্যাত এ অঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক চাষ হতো। কিন্তু নানান সংকটে একেবারেই তলানিতে নেমেছে তরমুজ চাষ। রাজশাহীর তরমুজের জায়গায় চলে এসেছে বরিশাল-ভোলার তরমুজ। প্রতিদিনই এখানকার বিভিন্ন ফলের মোকামে ঢুকছে তরমুজবাহী অর্ধশতাধিক ট্রাক। রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- ফলের দোকান ছাড়াও নগরীর প্রধান রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে তরমুজের দোকান। স্থানীয় দোকানের পাশাপাশি ভ্যানে ফেরি করেও তরমুজ বিক্রি করছেন মৌসুমি ফল বিক্রেতারা।

নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি তরমুজের মোকাম শালবাগান। সেখানকার চারজন ফল ব্যবসায়ী তরমুজ আনেন বরিশাল থেকে। এছাড়া নগরীর তালাইমারী, ভদ্রা এবং কোর্ট এলাকায় আরো অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী পাইকারীতে তরমুজ বিক্রি করেন।

নগরীর শালবাগান এলাকার নীলিমা ফল ভান্ডারের মালিক আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল থেকে ট্রাকে করে তরমুজ সরাসরি রাজশাহীতে আসছে। এরপর চলে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। প্রতি ট্রাকে তরমুজ থাকছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার। তারা কমিশনে বিক্রি করছেন এসব তরমুজ। চাষিদের ধরে রাখতে অনেকেই অগ্রিম টাকা দিয়েছেন বলে জানান এই ফল ব্যবসায়ী।

এদিকে ২০১৫ সালের দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুরের কৃষক মনিরুজ্জামান মনির ১০ বিঘা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করেন। ওই সময় বাজারে তরমুজের কেজি ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সেবার ফলন ভালো হলেও লাভের মুখ দেখতে পাননি ওই চাষি।

তিনি জানান- কেবল বাজার না থাকায় লাভজনক হয়নি তার বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। ফলে পরের বছর আর তরমুজ চাষ করেননি তিনি।

চাষি মনিরকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেখনাকর ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার। পরে তিনিই পথ দেখান লাভজনক ‘ওয়াক্স মেলন’ চাষে।

অতনু বলেন- বাজার চড়া থাকলেও অপ্রচলিত ফসলের নায্যদাম পাচ্ছেন না চাষিরা। লাভের পুরোটাই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। তরমুজ চাষে লাভ করতে না পারলেও ‘ওয়াক্স মেলন’ চাষে লাভবান হচ্ছেন মনির।

বরেন্দ্রে অঞ্চলে তরমুজ চাষে ঝুঁকি বাড়ায় চাষ কমছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি। তিনি বলেন, তরমুজের বীজের দাম চড়া। তাছাড়া মারত্মক সব রোগ রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ফসল হওয়ায় শিলাবৃষ্টির শঙ্কা তো রয়েছেই। এসব পার করতে পারলে লাভের মুখ দেখেন চাষি। তবে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসল চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।

লাভজনক বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে দেব দুলাল ঢালি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহীর দু-একটি এলাকায় এ জাতের তরমুজ চাষ হচ্ছে। কেবল সৌখিন চাষিরাই সীমিত পরিসরে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করছেন। তবে পর্যাপ্ত বাজার ও সরকারি সহায়তা পেলে বর্ষায় তরমুজ চাষ ছড়িয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে- গত বছর জেলায় ১৫ দশমিক ৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। হেক্টর প্রতি ৪০ টন হারে উৎপাদন ছিল ৬১৬ টন। এটিই এ বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তরমুজ চাষের খবর নেই।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অধিফতরের হিসেবে- গত মৌসুমে রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৪ হেক্টরে ৬১৬ টন, নওগাঁয় ৬৪ হেক্টরে ২ হাজার ১০ টন এবং নাটোরে ৪৮৬ হেক্টরে ১৯ হাজার ৫৫ টন তরমুজ উৎপাদন হয়।

Other

 

আপনার মতামত লিখুন :

 
ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদকঃ শাকিব বিপ্লব
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮ | বরিশালটাইমস.কম
বরিশালটাইমস মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
ফোন: +৮৮০২৪৭৮৮৩০৫৪৫, মোবাইল: ০১৮৭৬৮৩৪৭৫৪
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© কপিরাইট বরিশালটাইমস ২০১২-২০১৮
টপ
  ছাত্রলীগ ছেড়ে ছাত্রদলে তারা  পুলিশের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা  শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শেষ আটে মরক্কো  বিয়ের হুমকি দিলেন স্বামী: ২ সন্তানকে পুড়িয়ে মারলেন মা  লাখ টাকায় বিক্রি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!  স্বামীর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রেমিকার হাত ধরে উধাও স্ত্রী  আ.লীগ অফিস ভাঙচুর: গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়িছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা  ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে দায়িত্বভার নিলেন বাইশারী কলেজের নতুন সভাপতি গোলাম ফারুক  বরগুনা/ ছেলে মারা যাওয়ার ৪ বছরেও শাশুড়িকে ঘরে উঠতে দিলেন না পুত্রবধূ  বিএনপির ১৫০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ