ছবি- সংগৃহীত
চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি।
গত সোমবার (১ জুন) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
তিনি জানান, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; এটি বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলে, পরে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কমবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে একদিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এখনো মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বাংলাদেশে প্রবেশ না করায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত মূলত প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত চলার পর মাঝেমধ্যে বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন বিরতিসহ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক মাসিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

০৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮
চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি।
গত সোমবার (১ জুন) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
তিনি জানান, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; এটি বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলে, পরে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কমবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে একদিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এখনো মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বাংলাদেশে প্রবেশ না করায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত মূলত প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত চলার পর মাঝেমধ্যে বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন বিরতিসহ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক মাসিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০