
০৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮
চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি।
গত সোমবার (১ জুন) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
তিনি জানান, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; এটি বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলে, পরে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কমবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে একদিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এখনো মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বাংলাদেশে প্রবেশ না করায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত মূলত প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত চলার পর মাঝেমধ্যে বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন বিরতিসহ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক মাসিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
ছবি- সংগৃহীত
চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি।
গত সোমবার (১ জুন) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমিটির নিয়মিত সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
তিনি জানান, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; এটি বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পর প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলে, পরে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কমবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে একদিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।
নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এখনো মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বাংলাদেশে প্রবেশ না করায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত মূলত প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত চলার পর মাঝেমধ্যে বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন বিরতিসহ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক মাসিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
০৪ জুন, ২০২৬ ২০:২৭
০৪ জুন, ২০২৬ ২০:১৪
০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০৬
০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০৪

০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০৬
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা, দূরে মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের সারি আর নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা দুধসাদা পাথর। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এমন মায়াবী মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর।
ঈদুল আজহার ছুটিতে সেই সাদাপাথর এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু নির্মল সময় কাটাতে ব্যস্ত তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে মেতেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করছেন পাহাড়ঘেরা নদীর সৌন্দর্য, কেউবা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। আবার অনেককে দেখা যায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ফটোগ্রাফার, নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার মুখেই এখন হাসি।
পর্যটন ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথরে আসছেন। পর্যটন ঘাট থেকে মূল স্পটে যেতে প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাওয়া-আসার জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বরিশাল থেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী ইমন আহমদ বলেন, সাদাপাথরের সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছি। তবে বাস্তবে এসে দেখলাম, এটি কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানে এসে মন ভরে গেছে।
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক ফাহিম মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানিতে নেমে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রকৃতির মাঝেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা তানজিলা আক্তার কালবেলাকে বলেন, পরিবার নিয়ে সাদাপাথরে এসেছি। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।
পর্যটকের ভিড়ে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, 'আগের তুলনায় পর্যটক অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছবি তুলছেন। ফলে আমাদের কাজও বেড়েছে।'
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাবিহা রহমান কালবেলাকে বলেন, নদীর স্বচ্ছ পানি আর চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে গেছে।
নৌকার মাঝি মজিবুর রহমান বলেন, ভালো আবহাওয়া আর ঈদের ছুটির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকায় করে মূল স্পটে নিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
নৌকার মাঝি সেবুল আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ অনেক বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাদাপাথরের আবেদন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বকুল সাহা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে পৃথক পৃথক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত টিম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারণা সম্পর্কে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মাইকিং, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষন করছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা, দূরে মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের সারি আর নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা দুধসাদা পাথর। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এমন মায়াবী মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর।
ঈদুল আজহার ছুটিতে সেই সাদাপাথর এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু নির্মল সময় কাটাতে ব্যস্ত তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে মেতেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করছেন পাহাড়ঘেরা নদীর সৌন্দর্য, কেউবা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। আবার অনেককে দেখা যায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ফটোগ্রাফার, নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার মুখেই এখন হাসি।
পর্যটন ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথরে আসছেন। পর্যটন ঘাট থেকে মূল স্পটে যেতে প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাওয়া-আসার জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বরিশাল থেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী ইমন আহমদ বলেন, সাদাপাথরের সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছি। তবে বাস্তবে এসে দেখলাম, এটি কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানে এসে মন ভরে গেছে।
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক ফাহিম মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানিতে নেমে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রকৃতির মাঝেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা তানজিলা আক্তার কালবেলাকে বলেন, পরিবার নিয়ে সাদাপাথরে এসেছি। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।
পর্যটকের ভিড়ে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, 'আগের তুলনায় পর্যটক অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছবি তুলছেন। ফলে আমাদের কাজও বেড়েছে।'
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাবিহা রহমান কালবেলাকে বলেন, নদীর স্বচ্ছ পানি আর চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে গেছে।
নৌকার মাঝি মজিবুর রহমান বলেন, ভালো আবহাওয়া আর ঈদের ছুটির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকায় করে মূল স্পটে নিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
নৌকার মাঝি সেবুল আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ অনেক বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাদাপাথরের আবেদন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বকুল সাহা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে পৃথক পৃথক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত টিম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারণা সম্পর্কে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মাইকিং, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষন করছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।

০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০৪
রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন এবং কনস্টেবল বাসুদেব। তাদের সবাইকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানো সেই ওসি প্রত্যাহার, মামলার প্রস্তুতি
এনসিপির এক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত
এর আগে বুধবার (০৩ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে ওসি আজাদ রহমান ও কয়েক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাতেই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে আরও দুজনকে প্রত্যাহারের তালিকায় যুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্বেচ্ছাসেবক দল। এতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম।
তারা অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা অতীতে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জহির আলম নয়ন বলেন, থানায় মানুষ নিরাপত্তার আশায় যায়। সেখানে যদি একজন রাজনৈতিক নেতাকেই মারধরের শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
তিনি জানান, দল এবং ভুক্তভোগী নেতার সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন এবং কনস্টেবল বাসুদেব। তাদের সবাইকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানো সেই ওসি প্রত্যাহার, মামলার প্রস্তুতি
এনসিপির এক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত
এর আগে বুধবার (০৩ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে ওসি আজাদ রহমান ও কয়েক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাতেই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে আরও দুজনকে প্রত্যাহারের তালিকায় যুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্বেচ্ছাসেবক দল। এতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম।
তারা অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা অতীতে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জহির আলম নয়ন বলেন, থানায় মানুষ নিরাপত্তার আশায় যায়। সেখানে যদি একজন রাজনৈতিক নেতাকেই মারধরের শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
তিনি জানান, দল এবং ভুক্তভোগী নেতার সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৪ জুন, ২০২৬ ১৮:৩১
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি, চোর চিহ্নিত এবং সে মালামাল জব্দ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে মামলা করেননি এ কর্মকর্তা।
এদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কেবল মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার হওয়া মালামাল থানা থেকে ফেরত আনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালামালগুলো অভিযুক্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম নিজেই বিক্রি করে চুরির নাটক সাজিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত ২০ লিটারের ১১০টি বালতি ও ১১০টি ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, ৪টি সিলিং ফ্যান, চার শতাধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও চার শতাধিক ন্যাপকিনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল গায়েব হয়ে যায়।
চুরির ১৪ দিন পর, গত ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রৌমারী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেক, শহিদুর রহমান, মনজুর আলম ও প্রদীপ চন্দ্রের দোকান থেকে বালতি, জেরিকেন ও কিছু টুল জব্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন— মালামাল চুরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়নি? বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত সরকারি মালামাল ধরা পড়ার পরই কেন কেবল জিডি করা হলো?
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না করে, মুচলেকার মাধ্যমে থানা থেকে মালামাল ফেরত আনা হলো কার স্বার্থে?
স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিজেই এসব মালামাল বিক্রি করেছিলেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চুরির নাটক সাজান। অবশেষে চুরির ঘটনা ঢাকতে না পেরে লোকদেখানো জিডি করেন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে মালামাল ফেরত এনে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।’
সাংবাদিকদের জিডির কপি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে যে নির্দেশনা দেবেন, আমি তাই পালন করতে বাধ্য। আপনারা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন।’
তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি তো মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। সে কেন মামলা করল না, তা আমি তার কাছে জেনে জানাব।’
এদিকে বৃহস্পতিবার থানা থেকে ফেরত আনা মালামালের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি একপর্যায়ে তিনি দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের বাধার মুখে তিনি ব্যর্থ হন।
আদালতের অনুমতি ছাড়া উদ্ধার হওয়া চুরির মালামাল এভাবে ফেরত দেওয়া যায় কি না— জানতে চাইলে রৌমারী থানার ওসি মো. কাওসার আলী বলেন, ‘জিডিমূলে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ জব্দ করা মালামাল জিম্মায় ফেরত দিতে পারে।’
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চুরি যাওয়া মালামালের ব্যাপারে কেন মামলা করা হলো না, সেটি আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইব এবং বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি, চোর চিহ্নিত এবং সে মালামাল জব্দ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে মামলা করেননি এ কর্মকর্তা।
এদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কেবল মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার হওয়া মালামাল থানা থেকে ফেরত আনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালামালগুলো অভিযুক্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম নিজেই বিক্রি করে চুরির নাটক সাজিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত ২০ লিটারের ১১০টি বালতি ও ১১০টি ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, ৪টি সিলিং ফ্যান, চার শতাধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও চার শতাধিক ন্যাপকিনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল গায়েব হয়ে যায়।
চুরির ১৪ দিন পর, গত ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রৌমারী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেক, শহিদুর রহমান, মনজুর আলম ও প্রদীপ চন্দ্রের দোকান থেকে বালতি, জেরিকেন ও কিছু টুল জব্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন— মালামাল চুরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়নি? বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত সরকারি মালামাল ধরা পড়ার পরই কেন কেবল জিডি করা হলো?
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না করে, মুচলেকার মাধ্যমে থানা থেকে মালামাল ফেরত আনা হলো কার স্বার্থে?
স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিজেই এসব মালামাল বিক্রি করেছিলেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চুরির নাটক সাজান। অবশেষে চুরির ঘটনা ঢাকতে না পেরে লোকদেখানো জিডি করেন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে মালামাল ফেরত এনে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।’
সাংবাদিকদের জিডির কপি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে যে নির্দেশনা দেবেন, আমি তাই পালন করতে বাধ্য। আপনারা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন।’
তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি তো মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। সে কেন মামলা করল না, তা আমি তার কাছে জেনে জানাব।’
এদিকে বৃহস্পতিবার থানা থেকে ফেরত আনা মালামালের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি একপর্যায়ে তিনি দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের বাধার মুখে তিনি ব্যর্থ হন।
আদালতের অনুমতি ছাড়া উদ্ধার হওয়া চুরির মালামাল এভাবে ফেরত দেওয়া যায় কি না— জানতে চাইলে রৌমারী থানার ওসি মো. কাওসার আলী বলেন, ‘জিডিমূলে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ জব্দ করা মালামাল জিম্মায় ফেরত দিতে পারে।’
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চুরি যাওয়া মালামালের ব্যাপারে কেন মামলা করা হলো না, সেটি আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইব এবং বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.