
২৫ মে, ২০২৫ ২৩:৫৪
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট গণভবনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে তার ছোট বোন শেখ রেহানা পা ধরেছিলেন।
রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালে বিচারকদের সামনে একটি লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৪ আগস্ট সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।’
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে ৩ আগস্ট সারা দেশে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাতেই কয়েকজন উপদেষ্টা তাকে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরামর্শ দেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
‘৪ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। গণভবন অভিমুখে মিছিল রওনা হলে নিরাপত্তা বাহিনী হুঁশিয়ার করে দেয়, সময় স্বল্পতার কারণে দ্রুত পদত্যাগ ছাড়া আর বিকল্প নেই।’
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা যখন পদত্যাগে রাজি হচ্ছিলেন না, তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আলোচনা করে তাকে বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব দেন। শেখ রেহানা পরে তার বড় বোন শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন এবং তার পা ধরে রাখেন। একপর্যায়ে বিদেশে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গেও এক কর্মকর্তা ফোনে কথা বলেন। জয় নিজেও তার মাকে ফোনে পদত্যাগে রাজি করান।
পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে রেকর্ডকৃত ভাষণ প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান এবং সেখান থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়েন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, শেখ হাসিনা ভারতের গাজিয়াবাদে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে পৌঁছান। সেখান থেকে তার লন্ডন গমনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘ডামি ভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিরোধী দলগুলো।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ও জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে মাত্র সাত মাসের মাথায় শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট গণভবনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে তার ছোট বোন শেখ রেহানা পা ধরেছিলেন।
রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালে বিচারকদের সামনে একটি লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৪ আগস্ট সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।’
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে ৩ আগস্ট সারা দেশে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাতেই কয়েকজন উপদেষ্টা তাকে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরামর্শ দেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
‘৪ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। গণভবন অভিমুখে মিছিল রওনা হলে নিরাপত্তা বাহিনী হুঁশিয়ার করে দেয়, সময় স্বল্পতার কারণে দ্রুত পদত্যাগ ছাড়া আর বিকল্প নেই।’
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা যখন পদত্যাগে রাজি হচ্ছিলেন না, তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আলোচনা করে তাকে বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব দেন। শেখ রেহানা পরে তার বড় বোন শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন এবং তার পা ধরে রাখেন। একপর্যায়ে বিদেশে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গেও এক কর্মকর্তা ফোনে কথা বলেন। জয় নিজেও তার মাকে ফোনে পদত্যাগে রাজি করান।
পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে রেকর্ডকৃত ভাষণ প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান এবং সেখান থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়েন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, শেখ হাসিনা ভারতের গাজিয়াবাদে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে পৌঁছান। সেখান থেকে তার লন্ডন গমনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘ডামি ভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিরোধী দলগুলো।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ও জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে মাত্র সাত মাসের মাথায় শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হয়।
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৯
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২২
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০০
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৩২

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৬
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।
প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল।
পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।
প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪১
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে যান চলাচলে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোটকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চলাচল টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সেই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।
তবে জরুরি সেবা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজ, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, সংবাদপত্র পরিবহনসহ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন বা স্থানীয় পর্যায়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যান চলাচলেও এই বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা অনুমতি ও স্টিকার সাপেক্ষে একটি ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও অনুমোদন নিয়ে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখার স্বার্থে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকেও জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে যান চলাচলে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোটকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চলাচল টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সেই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।
তবে জরুরি সেবা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজ, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, সংবাদপত্র পরিবহনসহ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন বা স্থানীয় পর্যায়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যান চলাচলেও এই বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা অনুমতি ও স্টিকার সাপেক্ষে একটি ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও অনুমোদন নিয়ে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখার স্বার্থে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকেও জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫২
মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর হার মানলেন জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল (৩২)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৩ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর দেশে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ১৪ মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফেরানো হয়। দেশে ফেরার পরপরই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, শহিদ আশরাফুলের জানাজা নামাজ আজ দুপুর ২.৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে।
মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর হার মানলেন জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল (৩২)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৩ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর দেশে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ১৪ মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফেরানো হয়। দেশে ফেরার পরপরই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, শহিদ আশরাফুলের জানাজা নামাজ আজ দুপুর ২.৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.