Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১২ মে, ২০২৬ ১৭:০৩
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের একদিন পরেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব-৮। এসময় হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আটজন নারী এবং পুরুষ দালালকে আটক করেছে তারা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন- বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজন রায়।
আট দালাল হলেন- ঝালকাঠির চাচইর হবিকাঠি এলাকার তাসনিম জাহান মিম (২৩), সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুরের হাফিজা আক্তার, কামদেবপুরের সুমি আক্তার (১৯), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের চৈতা গ্রামের লাবনী আক্তার নাজমা (২৮) ও ছাবিনা (৩০), সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার মো. রুবেল (২২), নগরীর কাশিপুর এলাকার আয়শা সিদ্দিকা (৩০) এবং একই এলাকার রুমান সরদার (১৭)।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল র্যাব-৮ এর উপঅধিনায়ক মেজর আশিক ইকরাম সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের কারণে রোগী এবং তাদের স্বজনরা প্রতারিত হয়ে আসছিল। দালাল চক্রকে ধরতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতালে সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ দালালকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মেজর ইকরাম বলেন, দালাল চক্রের সদস্যরা হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হয়ে কাজ করে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফাঁদে ফেলে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়। র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার (১১ মে) হঠাৎ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় তিনি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দালাল চক্রের উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরদিনই দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালো র্যাব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের একদিন পরেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব-৮। এসময় হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আটজন নারী এবং পুরুষ দালালকে আটক করেছে তারা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন- বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজন রায়।
আট দালাল হলেন- ঝালকাঠির চাচইর হবিকাঠি এলাকার তাসনিম জাহান মিম (২৩), সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুরের হাফিজা আক্তার, কামদেবপুরের সুমি আক্তার (১৯), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের চৈতা গ্রামের লাবনী আক্তার নাজমা (২৮) ও ছাবিনা (৩০), সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার মো. রুবেল (২২), নগরীর কাশিপুর এলাকার আয়শা সিদ্দিকা (৩০) এবং একই এলাকার রুমান সরদার (১৭)।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল র্যাব-৮ এর উপঅধিনায়ক মেজর আশিক ইকরাম সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের কারণে রোগী এবং তাদের স্বজনরা প্রতারিত হয়ে আসছিল। দালাল চক্রকে ধরতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতালে সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ দালালকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মেজর ইকরাম বলেন, দালাল চক্রের সদস্যরা হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হয়ে কাজ করে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফাঁদে ফেলে নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়। র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার (১১ মে) হঠাৎ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় তিনি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দালাল চক্রের উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরদিনই দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালো র্যাব।

১২ মে, ২০২৬ ১৮:৩৯

১২ মে, ২০২৬ ১৭:২১
জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেন খুব অল্প বয়সেই কাঁধে এসে ভর করেছে ছোট্ট লামিয়ার। মা মারা গেছেন অনেক আগেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ভ্যানচালক বাবা আল মাহমুদও বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে অভাব-অনটনের সংসারে নেমে আসে চরম সংকট। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের হাল ধরতে বাবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয় শিশু লামিয়া।
হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্যের একটি ভিডিও মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট লামিয়া জীবিকার তাগিদে বাবার ভ্যান চালানোর চেষ্টা করছে। দৃশ্যটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সহানুভূতির ঝড়।
লামিয়ার বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের গরিয়া নতুনহাট ডিসি বাড়ি এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বাবার অসুস্থতায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভিডিওটি নজরে আসে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা-র। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। ছোট্ট লামিয়ার সংগ্রামী জীবন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একটি ভাইরাল ভিডিও শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আলোড়ন তোলেনি, বরং অসহায় একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে সবার কাছে।

১২ মে, ২০২৬ ১৬:৪৪
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব চাঁদপাশা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা মুখে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা পাঞ্জাবি ও টুপি মাথায় এক বয়স্ক লোকের থেকে টাকা গ্রহন করে হাতে নিয়ে বনিবনা করছেন জহিরুল ইসলাম।
এ সময় মোবাইল দেখা তড়িঘড়ি করে টাকা পকেটে রেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ দিতে বাধ্য করছেন ওই কর্মকর্তা। এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ করেন অসৌজন্যমূলক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তার দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের সেই অভিযোগের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, অসাধু ওই কর্মকর্তার দৌরাত্ম্যে সেবা প্রার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও দৌরাত্ম্য কমেনি জহিরুল ইসলামের। সেবা প্রত্যাশীদের দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ কতৃপক্ষের। এতে প্রশাসনের উপর আস্থা ফিরে আসবে জনগণের। রহমতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, তহশিলদার জহিরুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে বিমানে ঢাকা যাতায়াতে করে অফিস করেন।
যেদিন বিমান না থাকে সেদিন স্লিপার বাস যাতায়াত করেন। জহিরুল ইসলাম এর আগে বরিশাল সদরে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বরিশাল বিএম কলেজ সংলগ্ন একটি ও ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বহুতল বাড়ি রয়েছে এবং একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার। তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। চাঁদপাশা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ছদ্মনাম) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, আমার জামিতে ১৫০ ধারা, রেকর্ড সংশোধনের প্রতিবেদন দিতে দশ হাজার টাকা দাবি করেন তহসিলদার জহিরুল ইসলাম। আমি তিন হাজার টাকা দিয়ে এসেছি। কিন্তু বাকি টাকার জন্য দুই মাস ধরে ঘুরাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘুষ লেনদেন বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। ঘুষের গ্রহণের বিষয়ে তহশিলদার জহিরুলকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে গেছেন। তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভিডিওটি এনএসআই আমাকে পাঠিয়েছে এবং ফেসবুকে দেখেছি। এ বিষয়ে আমি ডিসি স্যারকে অবহিত করেছি।
বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি আমরা দেখছি। তবে আমার কাছে অভিযোগ আসলেই আমরা ব্যবস্থা বা তদন্ত শুরু করবো।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব চাঁদপাশা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা মুখে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা পাঞ্জাবি ও টুপি মাথায় এক বয়স্ক লোকের থেকে টাকা গ্রহন করে হাতে নিয়ে বনিবনা করছেন জহিরুল ইসলাম।
এ সময় মোবাইল দেখা তড়িঘড়ি করে টাকা পকেটে রেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ দিতে বাধ্য করছেন ওই কর্মকর্তা। এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ করেন অসৌজন্যমূলক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তার দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের সেই অভিযোগের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, অসাধু ওই কর্মকর্তার দৌরাত্ম্যে সেবা প্রার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও দৌরাত্ম্য কমেনি জহিরুল ইসলামের। সেবা প্রত্যাশীদের দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ কতৃপক্ষের। এতে প্রশাসনের উপর আস্থা ফিরে আসবে জনগণের। রহমতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, তহশিলদার জহিরুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে বিমানে ঢাকা যাতায়াতে করে অফিস করেন।
যেদিন বিমান না থাকে সেদিন স্লিপার বাস যাতায়াত করেন। জহিরুল ইসলাম এর আগে বরিশাল সদরে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বরিশাল বিএম কলেজ সংলগ্ন একটি ও ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বহুতল বাড়ি রয়েছে এবং একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার। তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। চাঁদপাশা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ছদ্মনাম) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, আমার জামিতে ১৫০ ধারা, রেকর্ড সংশোধনের প্রতিবেদন দিতে দশ হাজার টাকা দাবি করেন তহসিলদার জহিরুল ইসলাম। আমি তিন হাজার টাকা দিয়ে এসেছি। কিন্তু বাকি টাকার জন্য দুই মাস ধরে ঘুরাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘুষ লেনদেন বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। ঘুষের গ্রহণের বিষয়ে তহশিলদার জহিরুলকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে গেছেন। তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভিডিওটি এনএসআই আমাকে পাঠিয়েছে এবং ফেসবুকে দেখেছি। এ বিষয়ে আমি ডিসি স্যারকে অবহিত করেছি।
বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি আমরা দেখছি। তবে আমার কাছে অভিযোগ আসলেই আমরা ব্যবস্থা বা তদন্ত শুরু করবো।
জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেন খুব অল্প বয়সেই কাঁধে এসে ভর করেছে ছোট্ট লামিয়ার। মা মারা গেছেন অনেক আগেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ভ্যানচালক বাবা আল মাহমুদও বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে অভাব-অনটনের সংসারে নেমে আসে চরম সংকট। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের হাল ধরতে বাবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয় শিশু লামিয়া।
হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্যের একটি ভিডিও মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট লামিয়া জীবিকার তাগিদে বাবার ভ্যান চালানোর চেষ্টা করছে। দৃশ্যটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সহানুভূতির ঝড়।
লামিয়ার বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের গরিয়া নতুনহাট ডিসি বাড়ি এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বাবার অসুস্থতায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভিডিওটি নজরে আসে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা-র। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। ছোট্ট লামিয়ার সংগ্রামী জীবন দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একটি ভাইরাল ভিডিও শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আলোড়ন তোলেনি, বরং অসহায় একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে সবার কাছে।
শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাঁচ দিনের বিরতীর পর সর্বশেষ টানা দুই দিনের আন্দোলনে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকেও ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা অব্যাহত ছিল। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
এর আগে, আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবার প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যদিও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন, তবে কোনো বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছয় মাস আগে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও একাধিক সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম। এর প্রতিবাদে সোমবার তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ধীমান কুমার রায় বলেন, আমরা উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। বর্তমানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও পরে সেশনজট পুষিয়ে দেওয়া হবে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৬০ জন শিক্ষক পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও তার এখনো কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, প্রক্টরসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সিন্ডিকেটের নয়জন শিক্ষক দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া, আরও অন্তত ৪০ জন শিক্ষক পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানতে পেরেছি।
প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক রাহাত হোসাইন বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্যের দীর্ঘসূত্রতায় তার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।
প্রশাসনিক দপ্তরে তালা থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কার্যত কর্মহীন সময় পার করছেন। অর্থ দপ্তরের প্রধান সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, শিক্ষকদের অনুরোধে আমরা কক্ষ ছেড়েছি। উপাচার্য নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থান করব।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, গত ৩০ এপ্রিল পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
সেখানে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের জন্য শুধু পাঠদানে ফেরেন। তবে গত ৮ মে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হলেও সেখানে সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বরং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম আন্দোলনকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, শিক্ষকরা চাইলে কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, কিন্তু অন্যের কাজে বাধা দিতে পারেন না। প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দেওয়া সরাসরি আইনবিরোধী।
তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে আন্তরিক।
পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য মুঠোফোনে বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র আসেনি। কয়েকজন মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুরুতে ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দিলে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই নীতিমালা কার্যকর হলেও বরিশালসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে নতুন সংবিধি অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ধাপে ধাপে কর্মবিরতি, শাটডাউন ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বর্তমানে চলমান অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক সেবা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাঁচ দিনের বিরতীর পর সর্বশেষ টানা দুই দিনের আন্দোলনে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকেও ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা অব্যাহত ছিল। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
এর আগে, আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবার প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যদিও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন, তবে কোনো বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছয় মাস আগে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও একাধিক সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম। এর প্রতিবাদে সোমবার তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ধীমান কুমার রায় বলেন, আমরা উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। বর্তমানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও পরে সেশনজট পুষিয়ে দেওয়া হবে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৬০ জন শিক্ষক পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও তার এখনো কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, প্রক্টরসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সিন্ডিকেটের নয়জন শিক্ষক দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া, আরও অন্তত ৪০ জন শিক্ষক পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানতে পেরেছি।
প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক রাহাত হোসাইন বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্যের দীর্ঘসূত্রতায় তার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।
প্রশাসনিক দপ্তরে তালা থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কার্যত কর্মহীন সময় পার করছেন। অর্থ দপ্তরের প্রধান সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, শিক্ষকদের অনুরোধে আমরা কক্ষ ছেড়েছি। উপাচার্য নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থান করব।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, গত ৩০ এপ্রিল পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
সেখানে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের জন্য শুধু পাঠদানে ফেরেন। তবে গত ৮ মে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হলেও সেখানে সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বরং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম আন্দোলনকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, শিক্ষকরা চাইলে কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, কিন্তু অন্যের কাজে বাধা দিতে পারেন না। প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দেওয়া সরাসরি আইনবিরোধী।
তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে আন্তরিক।
পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য মুঠোফোনে বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র আসেনি। কয়েকজন মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুরুতে ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দিলে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই নীতিমালা কার্যকর হলেও বরিশালসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে নতুন সংবিধি অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ধাপে ধাপে কর্মবিরতি, শাটডাউন ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বর্তমানে চলমান অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক সেবা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।