ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির এবং আহসান উল্লাহ নয়নসহ একাধিক নেতাকর্মী। পদবঞ্চিত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
ঘোষিত কমিটিতে না থাকায় ফেসবুক লাইভে নয়ন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশই রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক এনে আপনারা কমিটিতে বসিয়েছেন, অথচ আমরা এতদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল পালন করেও কমিটিতে জায়গা পাইনি। আওয়ামী লীগের লোকজন জমি-টাকা দখল করে কমিটিতে এসেছে। আমরা জীবন থেকে সবকিছু হারিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, নিজের চাকরির ১৩ দিনের ট্রেনিং ফেলে দলীয় কাজে এসেছি। আমাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। এত ত্যাগের পরও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।
আহসান উল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন। পরবর্তীতে ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এলাকাবাসী আমার ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখায়।
ফলে ১৩ দিন পর আমাকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই খোলস পাল্টে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদেরই বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির তার ফেসবুক পোস্টে কমিটি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। সুপার ফাইভের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মবিরোধী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা অনেক কর্মী এবার পদ পেয়েছেন। নয়ন জেলা কমিটির কোনো পদে ছিলেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন। জানা গেছে, আহসান উল্লাহ নয়ন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন গ্রুপের কর্মী।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন,আমাদের ইউনিটে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন।
সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়দের মূল্যায়ন করা হয়েছে। পদ না পেয়ে কেঁদে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে এসেছে। কমিটি নিয়ে ঢালাওভাবে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তাদের কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
উল্লেখ্য, শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

০৪ মে, ২০২৬ ১২:২১
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির এবং আহসান উল্লাহ নয়নসহ একাধিক নেতাকর্মী। পদবঞ্চিত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
ঘোষিত কমিটিতে না থাকায় ফেসবুক লাইভে নয়ন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশই রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক এনে আপনারা কমিটিতে বসিয়েছেন, অথচ আমরা এতদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল পালন করেও কমিটিতে জায়গা পাইনি। আওয়ামী লীগের লোকজন জমি-টাকা দখল করে কমিটিতে এসেছে। আমরা জীবন থেকে সবকিছু হারিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, নিজের চাকরির ১৩ দিনের ট্রেনিং ফেলে দলীয় কাজে এসেছি। আমাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। এত ত্যাগের পরও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।
আহসান উল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন। পরবর্তীতে ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এলাকাবাসী আমার ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখায়।
ফলে ১৩ দিন পর আমাকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই খোলস পাল্টে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদেরই বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির তার ফেসবুক পোস্টে কমিটি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। সুপার ফাইভের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মবিরোধী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা অনেক কর্মী এবার পদ পেয়েছেন। নয়ন জেলা কমিটির কোনো পদে ছিলেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন। জানা গেছে, আহসান উল্লাহ নয়ন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন গ্রুপের কর্মী।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন,আমাদের ইউনিটে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন।
সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়দের মূল্যায়ন করা হয়েছে। পদ না পেয়ে কেঁদে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে এসেছে। কমিটি নিয়ে ঢালাওভাবে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তাদের কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
উল্লেখ্য, শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫২
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪০