ছবি- সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে বেড়েছে ছাত্রদলের একাংশের দৌরাত্ম্য। গভীর রাতে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও মাছের পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতারা এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় দিনদিন মহাসড়কটিতে এ ঘটনা বেড়েই চলছে। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলে সভাপতি মো. মেশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহামানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মহাসড়কে এসব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। চাঁদার টাকার ভাগ তাদের পকেটেও যায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯মে) ভোর ৫ টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেনুবাহী একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে নিয়ে আটক করা হয়। গাড়ি আটকে বাসের হেল্পার ও ড্রাইভারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোানার মালিককে কল দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিকাশে তিনটি নাম্বারে মোট ৯৫ হাজার টাকা এবং নগদ পাঁচহাজার টাকাসহ মোট ১লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি উদ্ধার করেন। বিকাশের লেদনেদের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
পরবর্তীতে, প্রথম গাড়িটি আটকের খবর পেয়ে চিংড়ি রেনু বহনকারি দ্বিতীয় কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন জিরোপয়েন্টে থামার সিংনাল দিলে চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে রুপাতলির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও একজন আহত হয়। পরে ঐ গাড়ির পিছু নেয় ববি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গাড়িটি রুপাতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে ববির ৭/৮ জন শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসের চালক ও হেলপারকে মারতে থাকে। এতে ড্রাইভার ও হেল্পার মারাত্মক আহত হন।এ সময় তারা মাইক্রোবাসটির গ্লাস ও অন্যান্য অংশে ভাঙচুর করে। আহত শিক্ষার্থী ববির ১০ ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী মো: আরাফাত।
আজকের এই ঘটনায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামের কক্ষে সবাইকে ডেকে বিচার বসানো হয়। হাজির করা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতাকে।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহায় পেতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছে ট্রাক চালক।
মাছের গাড়ি আটকে মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, সহ-সভাপতি মো. মিথুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. স্বজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, একাধিক নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব নেতাকর্মীদেরকে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
আহত ছাত্রদলকর্মী মো. আরাফাত বলেন, 'আমি ফজরের নামাজ পড়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম এমন সময় পিছন থেকে এসে একটি হাইসগাড়ি আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় এতে আমি পড়ে গিয়ে আহত হই এবং শেরে বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছি।
চাঁদাবাজির শিকার হওয়া প্রথম গাড়ি চিংড়ি রেনু মালিক মো. আফতাব হোসেন বলেন, "ওরা দুইটা নাম্বার থেকে ৯৫ হাজার টাকা বিকাশে নিয়েছে আর পাচ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এমনি বিকাশ খরচ পাচশত টাকা নিয়েছে , এবং ড্রাইভারের কাছে কিছু টাকা ছিলো সেই টাকাও ওরা নিয়েছে। ওদের দাবি ছিলো পাঁচ লাখ। ওরা আমাদের বলে এটা অবৈধ মাছ , টাকা দেওয়া লাগবে। আমি বলি এটা কোনো অবৈধ মাছ না। ওরা প্রায় ১৬/১৭ জন ছিলো।"
পোনা বহনকারী দ্বিতীয় মাইক্রোবাস চালক বলেন, 'ওরা প্রথম মাছের গাড়ি দাড় করিয়ে ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে গেছে , এবং টাকা আদায় করেছে। প্রথম গাড়ি থেকে আমাদের ফোন দিয়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যেন গাড়ি না থামায়। তখন গাড়ি না থামিয়ে টান দেয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৮/১০ টা মটর সাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে গাড়ি থামালে আমাকে ওরা মারধর করে এবং গাড়ি ভাংচুর করেছে।'
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে একটি মাইক্রোকার মেরে দেয়ায় সেটা নিয়ে মিমাংসার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়েছিলাম ছাত্রদলে সভাপতি, সাধারণসম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। মহাসড়কে মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। এবং বলেন আমাদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের কেউ যদি এমন চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে এবং যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলেকে মোটরসাইকেলসহ মেরে দেয় একটি হায়েস মাইক্রোবাস পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐটা ধাওয়া করে। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসচালক পুলিশের কাছে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এবং যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ডাকা হয়েছিলো বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে। মাছের গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গাড়ি আটক করে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, এমন ঘটনা ঘটতেছে না বিষয়টি আমি বলবো না তবে এবিষয়টি যেহেতু বন্দরথানাধীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।'
বরিশাল টাইমস

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১২

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

১৯ মে, ২০২৬ ২০:৩৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে বেড়েছে ছাত্রদলের একাংশের দৌরাত্ম্য। গভীর রাতে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও মাছের পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতারা এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় দিনদিন মহাসড়কটিতে এ ঘটনা বেড়েই চলছে। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলে সভাপতি মো. মেশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহামানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মহাসড়কে এসব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। চাঁদার টাকার ভাগ তাদের পকেটেও যায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯মে) ভোর ৫ টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেনুবাহী একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে নিয়ে আটক করা হয়। গাড়ি আটকে বাসের হেল্পার ও ড্রাইভারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোানার মালিককে কল দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিকাশে তিনটি নাম্বারে মোট ৯৫ হাজার টাকা এবং নগদ পাঁচহাজার টাকাসহ মোট ১লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি উদ্ধার করেন। বিকাশের লেদনেদের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
পরবর্তীতে, প্রথম গাড়িটি আটকের খবর পেয়ে চিংড়ি রেনু বহনকারি দ্বিতীয় কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন জিরোপয়েন্টে থামার সিংনাল দিলে চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে রুপাতলির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও একজন আহত হয়। পরে ঐ গাড়ির পিছু নেয় ববি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গাড়িটি রুপাতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে ববির ৭/৮ জন শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসের চালক ও হেলপারকে মারতে থাকে। এতে ড্রাইভার ও হেল্পার মারাত্মক আহত হন।এ সময় তারা মাইক্রোবাসটির গ্লাস ও অন্যান্য অংশে ভাঙচুর করে। আহত শিক্ষার্থী ববির ১০ ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী মো: আরাফাত।
আজকের এই ঘটনায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামের কক্ষে সবাইকে ডেকে বিচার বসানো হয়। হাজির করা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতাকে।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহায় পেতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছে ট্রাক চালক।
মাছের গাড়ি আটকে মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, সহ-সভাপতি মো. মিথুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. স্বজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, একাধিক নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব নেতাকর্মীদেরকে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
আহত ছাত্রদলকর্মী মো. আরাফাত বলেন, 'আমি ফজরের নামাজ পড়ে ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম এমন সময় পিছন থেকে এসে একটি হাইসগাড়ি আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় এতে আমি পড়ে গিয়ে আহত হই এবং শেরে বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছি।
চাঁদাবাজির শিকার হওয়া প্রথম গাড়ি চিংড়ি রেনু মালিক মো. আফতাব হোসেন বলেন, "ওরা দুইটা নাম্বার থেকে ৯৫ হাজার টাকা বিকাশে নিয়েছে আর পাচ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এমনি বিকাশ খরচ পাচশত টাকা নিয়েছে , এবং ড্রাইভারের কাছে কিছু টাকা ছিলো সেই টাকাও ওরা নিয়েছে। ওদের দাবি ছিলো পাঁচ লাখ। ওরা আমাদের বলে এটা অবৈধ মাছ , টাকা দেওয়া লাগবে। আমি বলি এটা কোনো অবৈধ মাছ না। ওরা প্রায় ১৬/১৭ জন ছিলো।"
পোনা বহনকারী দ্বিতীয় মাইক্রোবাস চালক বলেন, 'ওরা প্রথম মাছের গাড়ি দাড় করিয়ে ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে গেছে , এবং টাকা আদায় করেছে। প্রথম গাড়ি থেকে আমাদের ফোন দিয়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যেন গাড়ি না থামায়। তখন গাড়ি না থামিয়ে টান দেয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৮/১০ টা মটর সাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে গাড়ি থামালে আমাকে ওরা মারধর করে এবং গাড়ি ভাংচুর করেছে।'
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে একটি মাইক্রোকার মেরে দেয়ায় সেটা নিয়ে মিমাংসার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়েছিলাম ছাত্রদলে সভাপতি, সাধারণসম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। মহাসড়কে মাছের গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। এবং বলেন আমাদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের কেউ যদি এমন চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে এবং যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলেকে মোটরসাইকেলসহ মেরে দেয় একটি হায়েস মাইক্রোবাস পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐটা ধাওয়া করে। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসচালক পুলিশের কাছে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এবং যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ডাকা হয়েছিলো বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে। মাছের গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গাড়ি আটক করে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, এমন ঘটনা ঘটতেছে না বিষয়টি আমি বলবো না তবে এবিষয়টি যেহেতু বন্দরথানাধীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।'
বরিশাল টাইমস
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।