Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৯ মে, ২০২৬ ১৭:৩৭
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ মৃত্যু হওয়া দুই শিশু হলো পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ খানের দুই বছর বয়সের ছেলে জিহাদ (২) এবং ভোলার চরফ্যাশনের উত্তর চর আইচা গ্রামের হাসানের সাত মাসের কন্যা শিশু হাবিবা।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, ‘হাম থেকে মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়া হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে শিশু দুটির। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন। এরমধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯৮ জন।’
বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বরিশালটাইমসকে জানান, বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯৫০ জন। এদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৫ জন। এ বিভাগে এখনো পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হাম রোগে তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৪৭ জনের হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। নতুন করে ১৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ মৃত্যু হওয়া দুই শিশু হলো পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ খানের দুই বছর বয়সের ছেলে জিহাদ (২) এবং ভোলার চরফ্যাশনের উত্তর চর আইচা গ্রামের হাসানের সাত মাসের কন্যা শিশু হাবিবা।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, ‘হাম থেকে মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়া হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে শিশু দুটির। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন। এরমধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯৮ জন।’
বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বরিশালটাইমসকে জানান, বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯৫০ জন। এদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৫ জন। এ বিভাগে এখনো পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হাম রোগে তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৪৭ জনের হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। নতুন করে ১৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’

২০ মে, ২০২৬ ২৩:১০

২০ মে, ২০২৬ ২০:১১
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাইদুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ডা. নাজমুস সাকিব ও ডা. নাজমুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের চিকিৎসকরা দিন-রাত নিরলসভাবে মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হেনস্তার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়বে। তাই কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করা হয়।

২০ মে, ২০২৬ ১৯:৫১
শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আগামী ৫ জুন রক্ত রোগ, হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট চালুর ঘোষণা দিলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: এ কে এম মশিউল মুনীর।
আজ বুধবার (২০ মে) বিশ্ব হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘এই ডে কেয়ার ইউনিটে হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।’
পরিচালক বলেন, ‘বর্তমানে হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আলীর ঐকান্তিক প্রচেস্টায় হেমাটোলজি বহির্বিভাগ ও হেমাটোলজি ল্যাবরেটরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টারটি চালু করা হলে রোগীরা এখান থেকে আরো সেবা পাবেন।’
বেলা ১২টায় হাসপাতালের মেডিসিন কনফারেন্স রুমে বিশ্ব হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত তিন হাজার ৩০০ রোগীর মধ্যে বরিশালেই রয়েছে ৩৪৭ জন। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত এই বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন ১২০৬ জন রোগী। এছাড়া ৩১ এপ্রিল থেকে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৪৪ রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভ্রমণ
হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা: আবদুল মুনয়েম সাদের সঞ্চালনায় মেডিসিন কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা: কামরুদ্দোজা হাফিজউল্লাহ, শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: তৈহিদুর রহমান, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আরিফ ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন।
উপস্থিত ছিলেন, হাপসাতালের উপ-পরিচালক ডা: একেএম নজমূল আহসান, মিড লেভেল ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: ফয়সাল আহম্মেদ, সিনিয়র ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট ডা: আশিক দত্ত, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ বরিশাল অঞ্চল আহ্বায়ক রাহাত কাজী, যুগ্ম আহ্বায়ক মহাসিন চৌধুরী, সদস্য সচিব শাহিন চৌধুরী, জাহিদুল ও তৈশিক সহ সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব ও যুব রেড ক্রিসেন্ট এর শিক্ষার্থীরা।
বরিশালের বাবুগঞ্জে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টুলু, চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী জীবন প্রমুখ।
গ্রাম আদালত থেকে সুফলভোগী নারী হেলেনা বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, 'আমার স্বামী ২০২৩ সালে গোপনে আরেকটি বিয়ে করে আমাকে ত্যাগ করে সেই বউ নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করে। এরপরে আমার আর কোনো ভরণপোষণ বা খোঁজ-খবর নেয়নি। ছোট দুটি সন্তান নিয়ে আমি অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকি। থানা বা আদালতে গিয়ে পুলিশ আর উকিল-মহুরি খরচ চালিয়ে মামলা করার মতো আর্থিক অবস্থা আমার ছিল না। শেষে এক সাংবাদিকের পরামর্শে আমি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করি। সেখান থেকে আমি খরচ, দৌড়াদৌড়ি আর হয়রানি ছাড়াই স্বামীর কাছ থেকে আমার এবং বাচ্চাদের ভরণপোষণ আদায় করার রায় পাই। যা আমাকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়।'
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের বাবুগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ পারভেজ মারুফ জানান, বিগত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অদ্যাবধি বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মোট ৫৮৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ৩২টি। মামলা নিষ্পত্তির হার ৯৮.৮০%। বিভিন্ন মামলা থেকে বাদীর অনুকূলে মোট ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাম আদালতের রায় বাস্তবায়নের হার ৯৬.৩৫%। মামলার বাদীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১৭৪ জন, যা মোট আবেদনকারীর ২৯.৬০%। এই চিত্রই প্রমাণ করে গ্রাম আদালতের বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরো সক্রিয় এবং গতিশীল করা গেলে প্রায় বিনা খরচে ছোটখাটো অনেক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে আদালতে মামলার জট কমবে এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে। বিচারপ্রার্থীর অর্থ অপচয়, হয়রানি আর ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টুলু, চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী জীবন প্রমুখ।
গ্রাম আদালত থেকে সুফলভোগী নারী হেলেনা বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, 'আমার স্বামী ২০২৩ সালে গোপনে আরেকটি বিয়ে করে আমাকে ত্যাগ করে সেই বউ নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করে। এরপরে আমার আর কোনো ভরণপোষণ বা খোঁজ-খবর নেয়নি। ছোট দুটি সন্তান নিয়ে আমি অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকি। থানা বা আদালতে গিয়ে পুলিশ আর উকিল-মহুরি খরচ চালিয়ে মামলা করার মতো আর্থিক অবস্থা আমার ছিল না। শেষে এক সাংবাদিকের পরামর্শে আমি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করি। সেখান থেকে আমি খরচ, দৌড়াদৌড়ি আর হয়রানি ছাড়াই স্বামীর কাছ থেকে আমার এবং বাচ্চাদের ভরণপোষণ আদায় করার রায় পাই। যা আমাকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়।'
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের বাবুগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ পারভেজ মারুফ জানান, বিগত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অদ্যাবধি বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মোট ৫৮৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ৩২টি। মামলা নিষ্পত্তির হার ৯৮.৮০%। বিভিন্ন মামলা থেকে বাদীর অনুকূলে মোট ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাম আদালতের রায় বাস্তবায়নের হার ৯৬.৩৫%। মামলার বাদীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১৭৪ জন, যা মোট আবেদনকারীর ২৯.৬০%। এই চিত্রই প্রমাণ করে গ্রাম আদালতের বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরো সক্রিয় এবং গতিশীল করা গেলে প্রায় বিনা খরচে ছোটখাটো অনেক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে আদালতে মামলার জট কমবে এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে। বিচারপ্রার্থীর অর্থ অপচয়, হয়রানি আর ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।' #
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাইদুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ডা. নাজমুস সাকিব ও ডা. নাজমুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের চিকিৎসকরা দিন-রাত নিরলসভাবে মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হেনস্তার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়বে। তাই কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করা হয়।
শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আগামী ৫ জুন রক্ত রোগ, হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট চালুর ঘোষণা দিলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: এ কে এম মশিউল মুনীর।
আজ বুধবার (২০ মে) বিশ্ব হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘এই ডে কেয়ার ইউনিটে হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।’
পরিচালক বলেন, ‘বর্তমানে হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আলীর ঐকান্তিক প্রচেস্টায় হেমাটোলজি বহির্বিভাগ ও হেমাটোলজি ল্যাবরেটরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টারটি চালু করা হলে রোগীরা এখান থেকে আরো সেবা পাবেন।’
বেলা ১২টায় হাসপাতালের মেডিসিন কনফারেন্স রুমে বিশ্ব হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত তিন হাজার ৩০০ রোগীর মধ্যে বরিশালেই রয়েছে ৩৪৭ জন। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত এই বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন ১২০৬ জন রোগী। এছাড়া ৩১ এপ্রিল থেকে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৪৪ রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভ্রমণ
হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা: আবদুল মুনয়েম সাদের সঞ্চালনায় মেডিসিন কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা: কামরুদ্দোজা হাফিজউল্লাহ, শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: তৈহিদুর রহমান, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আরিফ ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন।
উপস্থিত ছিলেন, হাপসাতালের উপ-পরিচালক ডা: একেএম নজমূল আহসান, মিড লেভেল ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: ফয়সাল আহম্মেদ, সিনিয়র ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট ডা: আশিক দত্ত, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ বরিশাল অঞ্চল আহ্বায়ক রাহাত কাজী, যুগ্ম আহ্বায়ক মহাসিন চৌধুরী, সদস্য সচিব শাহিন চৌধুরী, জাহিদুল ও তৈশিক সহ সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব ও যুব রেড ক্রিসেন্ট এর শিক্ষার্থীরা।