
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:২৭
বরিশাল আদালত কম্পাউন্ডে আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহারিয়ার সাচিব রাজিব ওরফে পন্ডিত রাজিবকে গণপিটুনি নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনগণ। রাজধানী ঢাকায় গ্রেপ্তার সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের এমপি জাহিদ ফারুক গ্রেপ্তার হলে তাকে আজ রোববার অপরাহ্নে আদালতে তোলার প্রস্তুতি নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এর আগ থেকেই বরিশাল আদালত চত্ত্বরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে আসার আগেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাস বরিশাল সিটির ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নালসহ বেশ কয়েকজন। বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মী ও উত্তেজিত জনতা একত্রিত হয়ে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী অনুসারী শাহারিয়ার সাচিব রাজিব এবং পরবর্তীতে জয়নালকে হাতের কাছে পেয়ে বেধম পিটুনি দেয়। এমনকি পেটাতে পেটাতে তাদের আদালত বাউন্ডারির অভ্যন্তরে রাস্তায় ফেলেও পিটিয়েছে। এবং তাদের মারধরের পাশাপাশি স্বৈরাচ্চার শেখ হাসিনার প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের আরেক অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকিরকেও খুঁজতে থাকেন বিক্ষুব্ধরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাউন্সিলর জয়নাল এবং ছাত্রলীগ নেতা রাজিবকে পিটুনি দেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা জাকির কই আছে, এমন শ্লোগান দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। অবশ্য এই সময় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকিরকে দেখা না গেলেও এর আগেই কাউন্সিলর জয়নাল এবং রাজিবকে বেদম পিটুনি দিলে তাদের দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এই মারধর এবং শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী জাকিরকে খোঁজার বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।
এই জয়নাল, জাকির এবং শাহারিয়ার সাচিব রাজিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুকের অনুসারী। তবে তাদের মধ্যে জয়নাল এবং জাকির এর আগে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শেখ হাসিনার ভাতিজা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে তাদের বিরুদ্ধে অতীতে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ আছে। বিশেষ করে জয়নালের বিরুদ্ধে দখল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির একাধিক উদাহরণ আছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি জয়নাল বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের কাছে গাড়িপ্রতি ৫০০/১০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেই ঘটনায় সংগঠনের নেতারা বিষয়টি অভিযোগ আকারে সেনাবাহিনীকে অবহিত করে এবং কর্মবিরতির ডাক দেয়। একদিন বাদে এই কর্মবিরতি পালনকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের শান্ত থাকতে বলেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর জয়নালকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের শেষের দিকে জয়নাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে কেডিসিতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করে। এমনকি তৎকালীন তার বিরুদ্ধে খোদ আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এছাড়া কেডিসি এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক জয়নালের ছেলে-সন্তানদের বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। বেলসপার্ক মাঠে তার এক ছেলের গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় জয়নাল বাহিনী ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টের স্ত্রীর ওপর হামলা করেছিল। সেই ঘটনায়ও একটি মামলা বিচারাধীন আছে।
বরিশাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, জয়নাল এবং রাজিবসহ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা আদালত কম্পাউন্ডে অস্ত্রসমেত অবস্থান নেয়। এবং তারা আদালত কম্পাউন্ডে একটি অরাজক পরিস্থিতিতি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছে। তখন তাদের প্রতিরোধ করা হয়েছে, উত্তেজিত জনতার পিটুনি খেয়ে পালিয়ে গেছে।
জানা গেছে, এই রাজিবও সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়াসহ গত ৫/৭ বছর ব্যাপক ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করেছেন।
এছাড়া বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকিরও অনুরুপ সুবিধা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বরিশাল বেলস পার্কসংলগ্ন জেলা প্রশাসনের শত কোটি টাকার ভূমি নিজের এবং স্ত্রীর নামে ইজরা নিয়ে সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সেখানে বহুতল ভবন করেছে এবং কয়েক বছর ধরে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণা চালানো হতো।
সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্থলোভী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসএম জাকির শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভূমিটি হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আবার এও শোনা যায়, তৎকালীন জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান না কী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নির্দেশে ভূমিটি বরাদ্দ দিয়েছেন। অবশ্য ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাস জাকির এবং তার স্ত্রীকে বরাদ্দ দেওয়া ভূমিটি উদ্ধারের জোর দাবি উঠেছে।
সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অফিসার্স ক্লাবের ভূমি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো ইখতিয়ার ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা আইনের কোনো তোয়াক্কা করেনি। যে যার মতো করে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমি নিজের কব্জায় নিয়ে যায়। আ’লীগ নেতা এবং তার স্ত্রীর নামে নেওয়া ভূমিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাছাড়া কোনো ব্যক্তি বিষয়টি অভিযোগ আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরেছেন। এছাড়া অফিসার্স ক্লাবের ভূমি ইজারা দেওয়ায় জেলা প্রশাসনের অনেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংক্ষুব্ধ। তাদের পক্ষ থেকে এই ইজারা বাতিল করে ভূমি উদ্ধারের জোর দাবি উঠেছে।
ধারনা করা হচ্ছে, এতসব বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং রোববার আদালত চত্ত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণেই জয়নাল ও রাজিব গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। এবং আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস জাকিরও আদালতে আছেন, এমন খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা শ্লোগান দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে আদালতে নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যদিও এর আগেই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, দুদিন পূর্বে বরিশাল শহরের চিহ্নিত মাদকবিক্রেতা বাবুলকে ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকিরের সাথে মাদকবিক্রেতা বাবুলের গভীর সখ্যতা রয়েছে। আছে, দুজনার পাশাপাশি তোলা ছবিও, যা কয়েকদিন ধরে বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের মুঠোফোনে চালাচালি হচ্ছে।

এই জাকিরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রগতিশীল ধারার বহু সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ আছে। তিনি এক নারী সাংবাদিককেও হয়রানি করেছেন, যার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ শাসনামলে দখলবাজি, সন্ত্রাস করারও একাধিক অভিযোগ হয়, জাকিরের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার লাগাম টানা যাচ্ছিল না।

রোববার আদালত চত্ত্বরে জয়নালকে পিটুনির প্রত্যক্ষদর্শী এমন একজন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি জানান, উত্তেজিত জনতা, জাকির কই, এই জাকির কই শ্লোগান দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকে দেখা যায়নি। অভিযোগ আছে, জাকির আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকেছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আ’লীগের পরিচয়ে নয়, সাংবাদিক নেতা হিসেবে শীর্ষ প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে চাইছেন। স্বৈরাচ্চার আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা জাকিরের নিজেকে সাংবাদিক নেতা পরিচয় দেওয়ায় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। জাকিরের এই দৌড়ঝাঁপে পেশাদার সাংবাদিকেরাও সংক্ষুব্ধ-বিব্রত বলে জানা গেছে।’
বরিশাল আদালত কম্পাউন্ডে আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহারিয়ার সাচিব রাজিব ওরফে পন্ডিত রাজিবকে গণপিটুনি নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনগণ। রাজধানী ঢাকায় গ্রেপ্তার সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের এমপি জাহিদ ফারুক গ্রেপ্তার হলে তাকে আজ রোববার অপরাহ্নে আদালতে তোলার প্রস্তুতি নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এর আগ থেকেই বরিশাল আদালত চত্ত্বরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে আসার আগেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাস বরিশাল সিটির ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নালসহ বেশ কয়েকজন। বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মী ও উত্তেজিত জনতা একত্রিত হয়ে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী অনুসারী শাহারিয়ার সাচিব রাজিব এবং পরবর্তীতে জয়নালকে হাতের কাছে পেয়ে বেধম পিটুনি দেয়। এমনকি পেটাতে পেটাতে তাদের আদালত বাউন্ডারির অভ্যন্তরে রাস্তায় ফেলেও পিটিয়েছে। এবং তাদের মারধরের পাশাপাশি স্বৈরাচ্চার শেখ হাসিনার প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের আরেক অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকিরকেও খুঁজতে থাকেন বিক্ষুব্ধরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাউন্সিলর জয়নাল এবং ছাত্রলীগ নেতা রাজিবকে পিটুনি দেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা জাকির কই আছে, এমন শ্লোগান দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। অবশ্য এই সময় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকিরকে দেখা না গেলেও এর আগেই কাউন্সিলর জয়নাল এবং রাজিবকে বেদম পিটুনি দিলে তাদের দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এই মারধর এবং শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী জাকিরকে খোঁজার বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।
এই জয়নাল, জাকির এবং শাহারিয়ার সাচিব রাজিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুকের অনুসারী। তবে তাদের মধ্যে জয়নাল এবং জাকির এর আগে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শেখ হাসিনার ভাতিজা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে তাদের বিরুদ্ধে অতীতে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ আছে। বিশেষ করে জয়নালের বিরুদ্ধে দখল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির একাধিক উদাহরণ আছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি জয়নাল বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের কাছে গাড়িপ্রতি ৫০০/১০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেই ঘটনায় সংগঠনের নেতারা বিষয়টি অভিযোগ আকারে সেনাবাহিনীকে অবহিত করে এবং কর্মবিরতির ডাক দেয়। একদিন বাদে এই কর্মবিরতি পালনকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের শান্ত থাকতে বলেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর জয়নালকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের শেষের দিকে জয়নাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে কেডিসিতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করে। এমনকি তৎকালীন তার বিরুদ্ধে খোদ আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এছাড়া কেডিসি এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক জয়নালের ছেলে-সন্তানদের বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। বেলসপার্ক মাঠে তার এক ছেলের গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় জয়নাল বাহিনী ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টের স্ত্রীর ওপর হামলা করেছিল। সেই ঘটনায়ও একটি মামলা বিচারাধীন আছে।
বরিশাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, জয়নাল এবং রাজিবসহ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা আদালত কম্পাউন্ডে অস্ত্রসমেত অবস্থান নেয়। এবং তারা আদালত কম্পাউন্ডে একটি অরাজক পরিস্থিতিতি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছে। তখন তাদের প্রতিরোধ করা হয়েছে, উত্তেজিত জনতার পিটুনি খেয়ে পালিয়ে গেছে।
জানা গেছে, এই রাজিবও সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়াসহ গত ৫/৭ বছর ব্যাপক ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করেছেন।
এছাড়া বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকিরও অনুরুপ সুবিধা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বরিশাল বেলস পার্কসংলগ্ন জেলা প্রশাসনের শত কোটি টাকার ভূমি নিজের এবং স্ত্রীর নামে ইজরা নিয়ে সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সেখানে বহুতল ভবন করেছে এবং কয়েক বছর ধরে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণা চালানো হতো।
সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্থলোভী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসএম জাকির শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভূমিটি হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আবার এও শোনা যায়, তৎকালীন জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান না কী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নির্দেশে ভূমিটি বরাদ্দ দিয়েছেন। অবশ্য ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাস জাকির এবং তার স্ত্রীকে বরাদ্দ দেওয়া ভূমিটি উদ্ধারের জোর দাবি উঠেছে।
সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অফিসার্স ক্লাবের ভূমি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো ইখতিয়ার ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা আইনের কোনো তোয়াক্কা করেনি। যে যার মতো করে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমি নিজের কব্জায় নিয়ে যায়। আ’লীগ নেতা এবং তার স্ত্রীর নামে নেওয়া ভূমিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাছাড়া কোনো ব্যক্তি বিষয়টি অভিযোগ আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরেছেন। এছাড়া অফিসার্স ক্লাবের ভূমি ইজারা দেওয়ায় জেলা প্রশাসনের অনেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংক্ষুব্ধ। তাদের পক্ষ থেকে এই ইজারা বাতিল করে ভূমি উদ্ধারের জোর দাবি উঠেছে।
ধারনা করা হচ্ছে, এতসব বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং রোববার আদালত চত্ত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণেই জয়নাল ও রাজিব গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। এবং আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস জাকিরও আদালতে আছেন, এমন খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা শ্লোগান দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে আদালতে নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যদিও এর আগেই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, দুদিন পূর্বে বরিশাল শহরের চিহ্নিত মাদকবিক্রেতা বাবুলকে ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকিরের সাথে মাদকবিক্রেতা বাবুলের গভীর সখ্যতা রয়েছে। আছে, দুজনার পাশাপাশি তোলা ছবিও, যা কয়েকদিন ধরে বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের মুঠোফোনে চালাচালি হচ্ছে।

এই জাকিরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রগতিশীল ধারার বহু সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ আছে। তিনি এক নারী সাংবাদিককেও হয়রানি করেছেন, যার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ শাসনামলে দখলবাজি, সন্ত্রাস করারও একাধিক অভিযোগ হয়, জাকিরের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার লাগাম টানা যাচ্ছিল না।

রোববার আদালত চত্ত্বরে জয়নালকে পিটুনির প্রত্যক্ষদর্শী এমন একজন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি জানান, উত্তেজিত জনতা, জাকির কই, এই জাকির কই শ্লোগান দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকে দেখা যায়নি। অভিযোগ আছে, জাকির আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকেছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আ’লীগের পরিচয়ে নয়, সাংবাদিক নেতা হিসেবে শীর্ষ প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে চাইছেন। স্বৈরাচ্চার আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা জাকিরের নিজেকে সাংবাদিক নেতা পরিচয় দেওয়ায় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। জাকিরের এই দৌড়ঝাঁপে পেশাদার সাংবাদিকেরাও সংক্ষুব্ধ-বিব্রত বলে জানা গেছে।’
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৯
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২২
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০০
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৩২

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০০
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৪
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সৈয়দ মোশারফ রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সভাপতি এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভায় সকল সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলার রহমতপুরে কামিনী রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ওই সুজন সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও সুজন-এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং সুজন বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার দত্ত।
সুজন বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি-১ প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তালেব, সহ-সভাপতি-২ প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, যুগ্ম-সম্পাদক হারুন অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকন, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আ.জ.ম সামসুল আলম, প্রভাষক মহিদুল ইসলাম জামাল, শিক্ষক আল-আমিন শেখ, ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জহির, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা, সাংবাদিক রোকন মিয়া, মহিউদ্দিন খান রানা, আরিফ হোসেন মাস্টার, সাব্বির হাসান ও ইয়ুথ লিডার শাম্মী আক্তার সাথী।
উল্লেখ্য, এর আগে বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব এবং সম্পাদক ছিলেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। গত ২৭ নভেম্বর খালেদা ওহাবের মৃত্যু হলে সভাপতির পদ শূন্য হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সুজন-এর আজীবন সদস্য এবং সাবেক কমিটির ১নং সহ-সভাপতি ছিলেন। সম্পাদক সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না বিগত ২০১৮ সাল থেকেই সুজন সম্পাদক এবং বরিশাল-৩ আসনের পিস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সৈয়দ মোশারফ রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সভাপতি এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভায় সকল সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলার রহমতপুরে কামিনী রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ওই সুজন সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও সুজন-এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং সুজন বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার দত্ত।
সুজন বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি-১ প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তালেব, সহ-সভাপতি-২ প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, যুগ্ম-সম্পাদক হারুন অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকন, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আ.জ.ম সামসুল আলম, প্রভাষক মহিদুল ইসলাম জামাল, শিক্ষক আল-আমিন শেখ, ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জহির, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা, সাংবাদিক রোকন মিয়া, মহিউদ্দিন খান রানা, আরিফ হোসেন মাস্টার, সাব্বির হাসান ও ইয়ুথ লিডার শাম্মী আক্তার সাথী।
উল্লেখ্য, এর আগে বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব এবং সম্পাদক ছিলেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। গত ২৭ নভেম্বর খালেদা ওহাবের মৃত্যু হলে সভাপতির পদ শূন্য হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সুজন-এর আজীবন সদস্য এবং সাবেক কমিটির ১নং সহ-সভাপতি ছিলেন। সম্পাদক সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না বিগত ২০১৮ সাল থেকেই সুজন সম্পাদক এবং বরিশাল-৩ আসনের পিস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। #

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৮
ভারতের দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর জিগানিসংলগ্ন পোডু গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শারবানু খাতুন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার নারীর নাম শারবানু খাতুন, তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। তখন শারবানু খাতুন তার পরিবর্তে ‘জয় বাংলা’ বলেন। যদিও কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিন্তু ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পরই এলাকার মানুষদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ওই ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে হেব্বাগোডি থানার হেড কনস্টেবল ভূষা বেন্দ্র গত ১১ জানুয়ারী একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশের মতে, একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। তা ছাড়া ভারতে থেকে অন্য একটি দেশের স্লোগান তোলাটা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে দাবি করে তারা।
শারবানু খাতুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২ ধারা (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কাজ), ১৯৬ ধারা (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর কাজ করা), ১৯৭ ধারা (জাতীয় সংহতির জন্য ক্ষতিকর অভিযোগ, দাবি) এবং ৩৫৩ ধারা (জনসাধারণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন বিবৃতি)-এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।’
ভারতের দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর জিগানিসংলগ্ন পোডু গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শারবানু খাতুন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার নারীর নাম শারবানু খাতুন, তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। তখন শারবানু খাতুন তার পরিবর্তে ‘জয় বাংলা’ বলেন। যদিও কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিন্তু ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পরই এলাকার মানুষদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ওই ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে হেব্বাগোডি থানার হেড কনস্টেবল ভূষা বেন্দ্র গত ১১ জানুয়ারী একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশের মতে, একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। তা ছাড়া ভারতে থেকে অন্য একটি দেশের স্লোগান তোলাটা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে দাবি করে তারা।
শারবানু খাতুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২ ধারা (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কাজ), ১৯৬ ধারা (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর কাজ করা), ১৯৭ ধারা (জাতীয় সংহতির জন্য ক্ষতিকর অভিযোগ, দাবি) এবং ৩৫৩ ধারা (জনসাধারণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন বিবৃতি)-এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।’

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.