‘সে এক বিষম জানকবুল জনযুদ্ধ/ ওরা প্রাণপণ যুদ্ধ করেছিল/ ওরা কিন্তু বিজয় দেখে যেতে পারেনি!/...যারা বিজয় দেখে যায়নি/ যাদের জীবন বিজয় বলে কিছু আসেনি/ যারা এ বাংলার জন্য যুদ্ধ করেছিল/ জয় বাংলা বলে/ তাদের এসো আমরা স্মরণ করি/ এই বিজয় দিবসে।’
সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেটির উদয় ঘটে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে। বহু শতাব্দীর স্বপ্ন-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। বাঙালির আঘাত খেয়েছে বারবার, কিন্তু কখনো আহত পাখির মতো আর্তনাদ করেনি। ভেঙে পড়েনি ব্যর্থতার ক্রন্দনে। সমস্ত আঘাত সে বুক পেতে সহ্য করেছে. সর্বাঙ্গ রুধির মেখে অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। অবর্ণনীয় দুর্যোগে ল-ভ- হওয়া বাংলাদেশের বঞ্চিত ও শোষিত মানুষ রুখে দাঁড়ায় সর্বশক্তি দিয়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালি আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে উৎসর্গ করে নিজ ও স্বজনকে। ছিনিয়ে আনে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকা সংবলিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
রক্তনদী পেরিয়ে আসা আনন্দ-বেদনায় মিশ্র মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বিজয়ের গৌরবের বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। একই সঙ্গে লাখো স্বজন হারানোর শোকে ব্যথাতুর-বিহ্বল হওয়ারও দিন। তীব্র শোষণের কুহেলী জাল ভেদ করে একাত্তরের এই দিনটিতে প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকিয়ে উঠেছিল বাংলার শিশির ভেজা মাটি, অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়।
নয় মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ঝড়ের ভেতরে বিকশিত অটল বৃক্ষের জীবন্ত প্রতীক স্বাধীনতা নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আজও প্রচ- ঝাঁকি দেয় রক্তে, শাণিত করে চেতনা। ঝড়ের ভেতরে বিকশিত অটল বৃক্ষের জীবন্ত প্রতীক স্বাধীনতা নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আজও প্রচ- ঝাঁকি দেয় রক্তে, শাণিত করে চেতনা।
পূর্বাচলে আজ উদিত যে-সূর্য, প্রতিদিনের হয়েও সে প্রতিদিনের নয়; তার রক্তিমতায় তিরিশ লাখ শহীদের রক্ত আমাদের মনে পড়বে; আকাশ যে-কোমলতায় আজ উদ্ভাসিত, একাত্তরের সম্ভ্রমহারা দশ লাখ মা-বোন-জায়ার ক্রন্দনধোয়া সে-উদ্ভাস। দেন-দরবার নয়, কারও দয়ার দানে নয়, সাগর-সমান রক্তের দামে বাংলাদেশ অর্জন করেছে স্বাধীনতা, রক্ত-সাগর পেরিয়ে বাঙালি জাতি পৌঁছেছে তার বিজয়ের সোনালি তোরণে। বিজয়ের চুয়ান্ন বছর পূর্তিতে তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ।
৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই সবুজ দেশে ৫৪ বছর আগে আজকের এই দিনে উদয় হয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সূর্য। সেদিনের সেই সূর্যের আলোয় ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন, যে স্বপ্ন অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল এ দেশের ৩০ লাখ মানুষ। ৫৪ বছর পরও সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায়নি, শেষ হয়নি মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কুয়াশায় জড়ানো হাল্কা শীতের বিকেলে রমনার রেসকোর্স ময়দানে দাম্ভিক পাকিস্তানি সেনারা যে অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বাঙালির বুকে, হাতের সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর নেতাদের সামনে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল বৃহস্পতিবার। এদিনের সকালে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের কর্মকর্তা জন আর কেলি পৌঁছান সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে। সেখানে নিয়াজী নেই, ফরমান আলীকে পাওয়া গেল বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত অবস্থায়। নিচু কণ্ঠে ফরমান আলী জানান, আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত ভারতীয় বাহিনীর প্রস্তাব তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভারতে সেই সংবাদ পাঠাতে পারছেন না। কেলি প্রস্তাব দিলেন, জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে তিনি বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন।
আত্মসমর্পণের জন্য বেঁধে দেওয়া সময় সকাল সাড়ে নয়টা থেকে আরও ছয় ঘণ্টা বাড়ানো ছাড়া ভারতীয় বাহিনীর সব প্রস্তাব মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণের বার্তা পৌঁছানো হয় জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে। ভারতে তখন সকাল নয়টা ২০ মিনিট। কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডের (বর্তমান শেক্সপিয়ার সরণি) একটি দোতালা বাড়ি। বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবালয় আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল। বরাবরের মতো সেদিনও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কক্ষের দরজা একটু খোলা। উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী অভ্যাসবশে ডান হাতের আঙ্গুল কামড়াচ্ছেন।
আনুমানিক সকাল ১০টায় তাজউদ্দীন আহমদের ফোনটি বেজে উঠল। ওই ফোনে গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছাড়া ফোন করতে পারে না। কী কথা হলো বোঝা গেল না। কিন্তু ফোন রেখে, চোখেমুখে সব পাওয়ার আনন্দ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেনÑ ‘সবাইকে জানিয়ে দাও, আজ আমরা স্বাধীন। বিকেল চারটায় আত্মসমর্পণ।’ প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবশ্য খবরটি সবাইকে শোনালেন। আর বললেন, কাজের প্রথম পর্যায় শেষ হলো কেবল। এবার দ্বিতীয় পর্যায় দেশ গড়ার কাজ এগিয়ে আসতে সবাইকে।
এদিকে ঢাকায় পাকা খবর এসে পৌঁছেছে কিছুক্ষণ আগে। আত্মসমর্পণ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়। ঢাকাবাসী কী করবে আর কী করবে না বুঝে উঠতে পারছে না। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করল। এর আগেই মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়েছে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী। পৌষের এক পড়ন্ত বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রস্তুত হলো ঐতিহাসিক এক বিজয়ের মুহূর্তের জন্য। ঠিক যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের সাতই মার্চ বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।
বেলা একটা নাগাদ কলকাতা থেকে ঢাকা এসে পৌঁছান ইস্টার্ন কমান্ডের যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব, মুক্তিবাহিনীর উপ-অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার (সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী)। দুপুর একটার পর জেনারেল হেড কোয়ার্টারে বসে আত্মসমর্পণের দলিল তৈরির বৈঠক হয়। এক পক্ষে নিয়াজী, রাও ফরমান আলী ও জামশেদ। অপর পক্ষে জ্যাকব, নাগরা ও কাদের সিদ্দিকী।
সিদ্ধান্ত হয়, দলিলের স্বাক্ষর করবেন বিজয়ী বাহিনীর পক্ষে ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড ও বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর জয়েন্ট কমান্ডিং ইন চিফ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পরাজিত বাহিনীর পক্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি। ঘন্টা খানেকের মধ্যেই জেনারেল অরোরা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছান। নিয়াজী অভ্যর্থনা জানান যৌথ বাহিনীর কমান্ডারকে। এরপর আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। পরাজিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি রেসকোর্স ময়দানে এলেন। সামরিক বিধি অনুসারে বিজয়ী ও বিজিত সৈনিকরা শেষবারের মত জেনারেল নিয়াজীকে গার্ড অব অনার জানায়।
বিকেল চারটায় নিয়াজী ও অরোরা এগিয়ে গেলেন ময়দানে রাখা একটি টেবিলের দিকে। জেনারেল অরোরা বসলেন টেবিলের ডান দিকের চেয়ারে। বাঁ পাশে বসলেন জেনারেল নিয়াজী। দলিল আগে থেকেই তৈরি ছিল। জেনারেল অরোরা স্বাক্ষর করার জন্য দলিল এগিয়ে দেন নিয়াজীর দিকে। তখন বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। অবনত মস্তকে জেনারেল নিয়াজি দলিলে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলেন স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে। মুজিবনগর সরকারের পক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
দীর্ঘ ৯ মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, লাল-সবুজের অহঙ্কৃত পতাকা, বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে নিজেদের গর্বিত পরিচয়। বিজয়ের মুক্তির নিশান ওড়ে বাংলার সর্বত্র। রক্ত লাল পতাকায় সিঞ্চিত হয় বাঙালির চেতনা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে এবারের বিজয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপনে দেশের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের প্রদর্শনীসহ হবে বিজয়মেলা।
আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সময় ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৫৪
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’

১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:১৩
‘সে এক বিষম জানকবুল জনযুদ্ধ/ ওরা প্রাণপণ যুদ্ধ করেছিল/ ওরা কিন্তু বিজয় দেখে যেতে পারেনি!/...যারা বিজয় দেখে যায়নি/ যাদের জীবন বিজয় বলে কিছু আসেনি/ যারা এ বাংলার জন্য যুদ্ধ করেছিল/ জয় বাংলা বলে/ তাদের এসো আমরা স্মরণ করি/ এই বিজয় দিবসে।’
সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেটির উদয় ঘটে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে। বহু শতাব্দীর স্বপ্ন-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। বাঙালির আঘাত খেয়েছে বারবার, কিন্তু কখনো আহত পাখির মতো আর্তনাদ করেনি। ভেঙে পড়েনি ব্যর্থতার ক্রন্দনে। সমস্ত আঘাত সে বুক পেতে সহ্য করেছে. সর্বাঙ্গ রুধির মেখে অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। অবর্ণনীয় দুর্যোগে ল-ভ- হওয়া বাংলাদেশের বঞ্চিত ও শোষিত মানুষ রুখে দাঁড়ায় সর্বশক্তি দিয়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালি আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে উৎসর্গ করে নিজ ও স্বজনকে। ছিনিয়ে আনে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকা সংবলিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
রক্তনদী পেরিয়ে আসা আনন্দ-বেদনায় মিশ্র মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বিজয়ের গৌরবের বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। একই সঙ্গে লাখো স্বজন হারানোর শোকে ব্যথাতুর-বিহ্বল হওয়ারও দিন। তীব্র শোষণের কুহেলী জাল ভেদ করে একাত্তরের এই দিনটিতে প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকিয়ে উঠেছিল বাংলার শিশির ভেজা মাটি, অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়।
নয় মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ঝড়ের ভেতরে বিকশিত অটল বৃক্ষের জীবন্ত প্রতীক স্বাধীনতা নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আজও প্রচ- ঝাঁকি দেয় রক্তে, শাণিত করে চেতনা। ঝড়ের ভেতরে বিকশিত অটল বৃক্ষের জীবন্ত প্রতীক স্বাধীনতা নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আজও প্রচ- ঝাঁকি দেয় রক্তে, শাণিত করে চেতনা।
পূর্বাচলে আজ উদিত যে-সূর্য, প্রতিদিনের হয়েও সে প্রতিদিনের নয়; তার রক্তিমতায় তিরিশ লাখ শহীদের রক্ত আমাদের মনে পড়বে; আকাশ যে-কোমলতায় আজ উদ্ভাসিত, একাত্তরের সম্ভ্রমহারা দশ লাখ মা-বোন-জায়ার ক্রন্দনধোয়া সে-উদ্ভাস। দেন-দরবার নয়, কারও দয়ার দানে নয়, সাগর-সমান রক্তের দামে বাংলাদেশ অর্জন করেছে স্বাধীনতা, রক্ত-সাগর পেরিয়ে বাঙালি জাতি পৌঁছেছে তার বিজয়ের সোনালি তোরণে। বিজয়ের চুয়ান্ন বছর পূর্তিতে তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ।
৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই সবুজ দেশে ৫৪ বছর আগে আজকের এই দিনে উদয় হয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সূর্য। সেদিনের সেই সূর্যের আলোয় ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন, যে স্বপ্ন অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল এ দেশের ৩০ লাখ মানুষ। ৫৪ বছর পরও সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায়নি, শেষ হয়নি মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কুয়াশায় জড়ানো হাল্কা শীতের বিকেলে রমনার রেসকোর্স ময়দানে দাম্ভিক পাকিস্তানি সেনারা যে অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বাঙালির বুকে, হাতের সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর নেতাদের সামনে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল বৃহস্পতিবার। এদিনের সকালে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের কর্মকর্তা জন আর কেলি পৌঁছান সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে। সেখানে নিয়াজী নেই, ফরমান আলীকে পাওয়া গেল বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত অবস্থায়। নিচু কণ্ঠে ফরমান আলী জানান, আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত ভারতীয় বাহিনীর প্রস্তাব তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভারতে সেই সংবাদ পাঠাতে পারছেন না। কেলি প্রস্তাব দিলেন, জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে তিনি বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন।
আত্মসমর্পণের জন্য বেঁধে দেওয়া সময় সকাল সাড়ে নয়টা থেকে আরও ছয় ঘণ্টা বাড়ানো ছাড়া ভারতীয় বাহিনীর সব প্রস্তাব মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণের বার্তা পৌঁছানো হয় জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে। ভারতে তখন সকাল নয়টা ২০ মিনিট। কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডের (বর্তমান শেক্সপিয়ার সরণি) একটি দোতালা বাড়ি। বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবালয় আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল। বরাবরের মতো সেদিনও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কক্ষের দরজা একটু খোলা। উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী অভ্যাসবশে ডান হাতের আঙ্গুল কামড়াচ্ছেন।
আনুমানিক সকাল ১০টায় তাজউদ্দীন আহমদের ফোনটি বেজে উঠল। ওই ফোনে গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছাড়া ফোন করতে পারে না। কী কথা হলো বোঝা গেল না। কিন্তু ফোন রেখে, চোখেমুখে সব পাওয়ার আনন্দ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেনÑ ‘সবাইকে জানিয়ে দাও, আজ আমরা স্বাধীন। বিকেল চারটায় আত্মসমর্পণ।’ প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবশ্য খবরটি সবাইকে শোনালেন। আর বললেন, কাজের প্রথম পর্যায় শেষ হলো কেবল। এবার দ্বিতীয় পর্যায় দেশ গড়ার কাজ এগিয়ে আসতে সবাইকে।
এদিকে ঢাকায় পাকা খবর এসে পৌঁছেছে কিছুক্ষণ আগে। আত্মসমর্পণ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়। ঢাকাবাসী কী করবে আর কী করবে না বুঝে উঠতে পারছে না। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করল। এর আগেই মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়েছে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী। পৌষের এক পড়ন্ত বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রস্তুত হলো ঐতিহাসিক এক বিজয়ের মুহূর্তের জন্য। ঠিক যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের সাতই মার্চ বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।
বেলা একটা নাগাদ কলকাতা থেকে ঢাকা এসে পৌঁছান ইস্টার্ন কমান্ডের যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব, মুক্তিবাহিনীর উপ-অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার (সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী)। দুপুর একটার পর জেনারেল হেড কোয়ার্টারে বসে আত্মসমর্পণের দলিল তৈরির বৈঠক হয়। এক পক্ষে নিয়াজী, রাও ফরমান আলী ও জামশেদ। অপর পক্ষে জ্যাকব, নাগরা ও কাদের সিদ্দিকী।
সিদ্ধান্ত হয়, দলিলের স্বাক্ষর করবেন বিজয়ী বাহিনীর পক্ষে ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড ও বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর জয়েন্ট কমান্ডিং ইন চিফ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পরাজিত বাহিনীর পক্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি। ঘন্টা খানেকের মধ্যেই জেনারেল অরোরা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছান। নিয়াজী অভ্যর্থনা জানান যৌথ বাহিনীর কমান্ডারকে। এরপর আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। পরাজিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি রেসকোর্স ময়দানে এলেন। সামরিক বিধি অনুসারে বিজয়ী ও বিজিত সৈনিকরা শেষবারের মত জেনারেল নিয়াজীকে গার্ড অব অনার জানায়।
বিকেল চারটায় নিয়াজী ও অরোরা এগিয়ে গেলেন ময়দানে রাখা একটি টেবিলের দিকে। জেনারেল অরোরা বসলেন টেবিলের ডান দিকের চেয়ারে। বাঁ পাশে বসলেন জেনারেল নিয়াজী। দলিল আগে থেকেই তৈরি ছিল। জেনারেল অরোরা স্বাক্ষর করার জন্য দলিল এগিয়ে দেন নিয়াজীর দিকে। তখন বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। অবনত মস্তকে জেনারেল নিয়াজি দলিলে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলেন স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে। মুজিবনগর সরকারের পক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
দীর্ঘ ৯ মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, লাল-সবুজের অহঙ্কৃত পতাকা, বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে নিজেদের গর্বিত পরিচয়। বিজয়ের মুক্তির নিশান ওড়ে বাংলার সর্বত্র। রক্ত লাল পতাকায় সিঞ্চিত হয় বাঙালির চেতনা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে এবারের বিজয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপনে দেশের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের প্রদর্শনীসহ হবে বিজয়মেলা।
আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সময় ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭