বিতর্কের মুখে বিক্রির টাকায় নতুন পশু কিনে ছেড়ে দিলেও দল থেকে পেলেন শোকজ নোটিস
বরিশালের শায়েস্তাবাদ পল্লীতে মানতের পশু জবাই করাসহ গোশত বিক্রি করে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ। গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় আটহাজার গ্রামে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ষাঁড়টি জবাই করে বিক্রির ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ফরহাদকে দলীয়ভাবে শোকজ অর্থাৎ কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল পশুটির মালিক দাবি করে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেন চরকাউয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পত্র-পত্রিকা এবং ফেসবুকে ফরহাদের ছবিসংবলিত বিভিন্ন নেতিবাচক লেখালেখি হয়। বিতর্কের এড়াতে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা নতুন একটি ষাঁড় ক্রয় করে ছাড়লেও এনিয়ে দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকরা নেপথ্যে থেকে তাকে ঘায়েল করতে নানান তৎপরতায় চালানোয় বিষয়টি নিয়ে এখন সর্বত্র চর্চা হয়, হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে গত ২৪ এপ্রিল সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদের নেতৃত্বে স্থানীয় আটহাজার গ্রামে ষাঁড়টিকে জবাই করা হয়। এবং পরবর্তীতে ভাগা দিয়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। মানতের ষাঁড় বিক্রির ৯৩ হাজার টাকা তার কাছে রেখে দিলে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যেকার বিতর্ক তৈরি হয়।
সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার এই নীতিবিবর্জিত কর্মকান্ডটি আলোচনায় আসলে চরকাউয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার ষাঁড়টির মালিক দাবি করে কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে চাপের মুখে পড়ে যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরহাদ। এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ দেখে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে তিনি ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় কিনে ছেড়ে দেন। কিন্তু এরপরেও কিছুতেই যেনো বিতর্ক থামছে না। এবার তাকে খোদ দল থেকে শোকজ নোটিস বা কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল জেলা শাখার তরফ থেকে নোটিসটি দেওয়া হয়।
অবশ্য নোটিসে মানতের ষাঁড় জবাই করে বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদের বিরুদ্ধে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা তৈরির কথা বলা হয়। এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নোটিসের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া অভিযোগ তদন্তে গিয়ে কাউনিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্ত ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে মানতের পশু জবাইকান্ড নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদ যে পুলিশ এবং শীর্ষস্থানীয়দের চাপে আছেন তা সহজেই অনুমেয়।
তবে মানতের ষাঁড় ধরে জবাই করা এবং পরবর্তীতে মাংস বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন স্বেচ্ছাসেক দলনেতা সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন, ষাঁড়টি তারা ক্রয় করেছিলেন এবং সেটি রোগাক্রান্ত হওয়ায় গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জবাই করে বিক্রি করেন।
তাহলে আপনার বিরুদ্ধে মানতের ষাঁড় বিক্রির অভিযোগ কেনো উত্থ্যাপিত হলোÑ এমন প্রশ্ন রাখা হলে তিনি তার কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। বরং টেলিআলাপের একপর্যায়ে তিনি নিজের বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোনসংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। অবশ্য এর আগেই তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, দলীয় ঘরনার বিরোধী একটি পক্ষ তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে।
কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদ যে মানতের পশু জবাই করেছেন তা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি সন্জিৎ চন্দ্র দাসও নিশ্চিত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে, আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সেক্ষেত্রে ধারনা করা হচ্ছে, মানতের ষাঁড় খাইতে গিয়ে মামলার পাশাপাশি দলীয় পদটিও সামছুল কবির ফরহাদ হারাতে পারেন, যা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শোকজ নোটিস দেখলে কিছুটা অনুমান করা যায়।
ইউনিয়নপর্যায়ের নেতার পশু জবাইকান্ড সম্পর্কে জানতে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনিকে বরিশালটাইমসকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩৭
বিতর্কের মুখে বিক্রির টাকায় নতুন পশু কিনে ছেড়ে দিলেও দল থেকে পেলেন শোকজ নোটিস
বরিশালের শায়েস্তাবাদ পল্লীতে মানতের পশু জবাই করাসহ গোশত বিক্রি করে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ। গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় আটহাজার গ্রামে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ষাঁড়টি জবাই করে বিক্রির ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ফরহাদকে দলীয়ভাবে শোকজ অর্থাৎ কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল পশুটির মালিক দাবি করে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেন চরকাউয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পত্র-পত্রিকা এবং ফেসবুকে ফরহাদের ছবিসংবলিত বিভিন্ন নেতিবাচক লেখালেখি হয়। বিতর্কের এড়াতে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা নতুন একটি ষাঁড় ক্রয় করে ছাড়লেও এনিয়ে দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকরা নেপথ্যে থেকে তাকে ঘায়েল করতে নানান তৎপরতায় চালানোয় বিষয়টি নিয়ে এখন সর্বত্র চর্চা হয়, হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে গত ২৪ এপ্রিল সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদের নেতৃত্বে স্থানীয় আটহাজার গ্রামে ষাঁড়টিকে জবাই করা হয়। এবং পরবর্তীতে ভাগা দিয়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। মানতের ষাঁড় বিক্রির ৯৩ হাজার টাকা তার কাছে রেখে দিলে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যেকার বিতর্ক তৈরি হয়।
সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার এই নীতিবিবর্জিত কর্মকান্ডটি আলোচনায় আসলে চরকাউয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার ষাঁড়টির মালিক দাবি করে কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে চাপের মুখে পড়ে যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরহাদ। এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ দেখে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে তিনি ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় কিনে ছেড়ে দেন। কিন্তু এরপরেও কিছুতেই যেনো বিতর্ক থামছে না। এবার তাকে খোদ দল থেকে শোকজ নোটিস বা কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল জেলা শাখার তরফ থেকে নোটিসটি দেওয়া হয়।
অবশ্য নোটিসে মানতের ষাঁড় জবাই করে বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদের বিরুদ্ধে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা তৈরির কথা বলা হয়। এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নোটিসের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া অভিযোগ তদন্তে গিয়ে কাউনিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্ত ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে মানতের পশু জবাইকান্ড নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদ যে পুলিশ এবং শীর্ষস্থানীয়দের চাপে আছেন তা সহজেই অনুমেয়।
তবে মানতের ষাঁড় ধরে জবাই করা এবং পরবর্তীতে মাংস বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন স্বেচ্ছাসেক দলনেতা সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন, ষাঁড়টি তারা ক্রয় করেছিলেন এবং সেটি রোগাক্রান্ত হওয়ায় গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জবাই করে বিক্রি করেন।
তাহলে আপনার বিরুদ্ধে মানতের ষাঁড় বিক্রির অভিযোগ কেনো উত্থ্যাপিত হলোÑ এমন প্রশ্ন রাখা হলে তিনি তার কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। বরং টেলিআলাপের একপর্যায়ে তিনি নিজের বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোনসংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। অবশ্য এর আগেই তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, দলীয় ঘরনার বিরোধী একটি পক্ষ তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে।
কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফরহাদ যে মানতের পশু জবাই করেছেন তা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি সন্জিৎ চন্দ্র দাসও নিশ্চিত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে, আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সেক্ষেত্রে ধারনা করা হচ্ছে, মানতের ষাঁড় খাইতে গিয়ে মামলার পাশাপাশি দলীয় পদটিও সামছুল কবির ফরহাদ হারাতে পারেন, যা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শোকজ নোটিস দেখলে কিছুটা অনুমান করা যায়।
ইউনিয়নপর্যায়ের নেতার পশু জবাইকান্ড সম্পর্কে জানতে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনিকে বরিশালটাইমসকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭